free hit counter
আন্তর্জাতিক

এমপিদের সমর্থনে সুনাক এগিয়ে, টোরিদের ট্রাম্প কার্ড বরিস

ঋষি সুনাক

ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়িতে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক। আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। এবার সুনাকই প্রথম প্রার্থী যিনি ১১৪ জন কনজারভেটিভ এমপির সমর্থন পেয়েছেন সবার আগে। এখন শুধু ব্যালটের অপেক্ষা।

ঋষি সুনাকের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ক্যারিবিয়ানে লম্বা ছুটি সংক্ষিপ্ত করে লন্ডনে ফিরে এসেছেন। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে নামার পর জনসন সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বলেন, আমি আসছি। এখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার সর্বশেষ দৌড়ে তিনি ঋষি সুনাক এবং পেনি মর্ডান্টের বিরুদ্ধে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে তিনি মিত্রদের বলেছিলেন ডাউনিং স্ট্রিটের বিশৃঙ্খলা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও দলটিকে চ্যালেঞ্জের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি আসবেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেল টুইট করেছেন, বরিসের কাছে আমাদের নির্বাচিত ইশতেহার এবং বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার একটি প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড আছে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এখনো ৫২ জনের উপরে উঠতে পারছে না বরিসের সমর্থন।

এছাড়া পেনি মর্ডান্ট প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও এখন বলছেন একটি নতুন শুরুর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে তিনি টোরি এমপিদের সমর্থনে পিছিয়ে আছেন।

অন্য টোরি নেতারা বলছেন, আমরা পিছিয়ে যেতে পারি না। আজকের এই অবস্থার জন্য বরিসই দায়ী। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। দলের কিছু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব জনসনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আতঙ্কের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাবেক নেতা লর্ড হেগ সতর্ক করেছেন যে তিনি এলে পার্টির মৃত্যু ঘটবে।

বিবিসি বলছে, সুনাকের বর্তমানে ১১৪ জন সমর্থক রয়েছে। তার সমর্থকদের মধ্যে সাজিদ জাভিদ, টম টুগেনধাত ও ডমিনিক রাব। রাব বলেছেন, তিনি খুব আত্মবিশ্বাসী। এখানে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো অর্থনীতি। ঋষির সঠিক পরিকল্পনা ছিল এবং আছে।

পেনি মর্ডান্ট গত নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন। বিবিসির গবেষণা অনুসারে তার ২৩ জন সমর্থক রয়েছে। সংসদীয় দলের অর্ধেকের বেশি এখনো বলতে পারেনি তারা কোন পথে ভোট দেবে।
স্কাই নিউজ জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনসন ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে এলে দল থেকে পদত্যাগ করবেন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে কমন্সে বসবেন বলে সতর্ক করেছেন কিছু এমপি।

ঋষিকে সরে যেতে বললেন বরিস: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে আছেন ঋষি সুনাক। কিন্তু বরিস জনসন তাকে দলের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যমের। সাবেক ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী সুনাক এখন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশিত হলেও কনজারভেটিভ এমপিদের সামনে জনসন গুরুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে একমাত্র তিনিই দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন। বরিস জনসন ঋষি সুনাককে তার সঙ্গে হাত মেলাতে চাপ দিচ্ছেন।

মূলত কনজার্ভেটিভ দলের পরাজয়ের কথা বলেই টোরিদের সমর্থন নেয়ার চেষ্টায় আছেন বরিস। ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, ঋষি এগিয়ে আছেন এবং নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় ঋষিবিরোধীরা ট্রাম্প কার্ড হিসেবে বরিসকে সামনে নিয়ে এলো। কারণ রক্ষণশীলরা নেতা নির্বাচনে অনেক বেশি রক্ষণশীল। বিশেষ করে, গত সেপ্টেম্বরে কট্টর টোরিরা তাদের নেতা নির্বাচনে আরো বেশি কট্টরপন্থি ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের চোখ: সবকিছুর পর এখন ব্যবসায়ীদের চোখ কোটিপতি আর্থিক পরামর্শক ও ব্যবসায়ী ঋষি সুনাকের ওপর। যিনি কোভিড মহামারীর সময় যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাকে ঘিরেই ব্রিটেনের জনগণের বর্তমান জল্পনা।

সবশেষে ঋষি বনাম যে কোনো এক: ব্রিটেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে কারণে গত সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ঋষি হেরে যান একই কারণে এবারেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ঋষি সুনাক উপরোক্ত দুজনের মধ্যে যে কোনো একজনের। কারণ দুজনের যে কোনো একজন আরেকজনকে সমর্থন দিয়ে দিতে পারে।

সুনাক ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিতামাতার সন্তান। তারা কয়েক দশক আগে আফ্রিকা থেকে যুক্তরাজ্যে যান। তিনি ভারতের প্রযুক্তি কোম্পানি ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এনআর নারায়না মূর্তির কন্যা অক্ষয়া মূর্তির স্বামী।

Source link

Bednet steunen 2023