free hit counter
প্রযুক্তি

মোবাইলে সর্বপ্রথম কথা বলেছিলেন কোন দুইজন, কি কথা হয়েছিলো তাদের মধ্যে?

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রযুক্তির বয়স খুব বেশি দিন না হলেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব অবিশ্বাস্য। মোবাইলবিহীন একটি দিনও আমরা কল্পনা করতে পারিনা। মোবাইল আমাদের সমাজ – সংস্কৃতিই বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে আমাদের জীবনধারা। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কেও এনে দিয়েছে পরিবর্তন। কিন্তু মোবাইল ফোনে প্রথম কোন দুটো মানুষের সাথে কথা হয়েছিলো? কি কথা হয়েছিলো তাদের মধ্যে? আজকে আমরা সেই গল্পই শুনবো।

মার্টিন কুপার কাজ করতেন তখনকার এক ছোট টেলিকম কোম্পানি মোটরোলায়। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল, এমন একদিন আসবে যখন সবার হাতেই তার নিজস্ব ফোন থাকবে, আর সেই ফোনে যে কোন সময় তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। কারন, এর আগে একশ’ বছর ধরে টেলিফোন মানেই ছিল এমন একটা জিনিস যা কাজের টেবিল বা বাড়িতে একটা তারের সাথে যুক্ত থাকে। আমেরিকান কমিক সিরিজ ডিক ট্রেসি চরিত্রেরা পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের জন্য হাতঘড়ির মতো টু ওয়ে রিস্ট রেডিও ব্যবহার করতেন। সেটা দেখেই আসলে মার্টিনের মাথায় প্রথম মোবাইল ফোনের চিন্তা করেছিলেন।

১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাস। মার্টিন কুপার এবং তার দল প্রথম হাতে-ধরা ফোনের মডেলটি উপস্থাপন করলেন নিউইয়র্কের হিলটন হোটেলে। সেটা কিন্তু দেখতে ছিল একেবারেই অন্যরকম। এ যুগের মোবাইলের সাথে তার কোন মিলই ছিল না। প্রথম মোবাইল ফোন ছিল ১০ ইঞ্চি লম্বা, দু ইঞ্চি চওড়া, এবং ৪ ইঞ্চি উঁচু। জিনিসটা ছিল অনেক ভারি। ওজন এক কিলোরও বেশি। মাত্র ২০ মিনিট কথা বললেই তার ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতো। সেই ফোন দেখে লোকে হেসেছিল। কিন্তু তখনকার দিনে এর চেয়ে ভালো কিছু তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তবে মোবাইল ফোনে প্রথম কলটি করা হয়েছিলো এর আগেই।

সেই ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসের তিন তারিখে – নিউ ইয়র্কের সিক্সথ এভিনিউ থেকে মার্টিন কুপার মোবাইল ফোনে প্রথম কলটি করেছিলেন। ব্যাপারটা দেখতে তার সামনে উপস্থিত ছিলেন একজন সাংবাদিক। তিনি ছিলেন নিউইয়র্কের একটি রেডিও চ্যানেলের একজন রিপোর্টার। তারা রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। মার্টিন আসলে আগে থেকে ভেবে রাখেননি যে কাকে ফোন করবেন। তিনি সাংবাদিকটিকে বললেন, “এটিএন্ডটি কোম্পানিতে আমার পরিচিত একজন ইঞ্জিনিয়ার আছে, আমি তাকে ফোন করছি। তার নাম জোয়েল ইঙ্গল।”

এটিএন্ডটি তখন আমেরিকার তো বটেই এমন কি সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকম কোম্পানির একটি। আর কুপারের মোটরোলা ছিল একটা ছোট কোম্পানি। তাদের মধ্যেই হলো মোবাইল ফোনের প্রথম কথোপকথন। মার্টিন তার বন্ধু জোয়েলের অফিসের নাম্বারটি ডায়াল করলেন। জোয়েল নিজেই ফোন ধরলো। মার্টিন বললেন, হাই জোয়েল, আমি মার্টিন কুপার বলছি। আমি তোমাকে ফোন করেছি একটা সেলফোন থেকে। একটা সত্যিকারের সেলফোন, একটি হাতে ধরা, ব্যক্তিগত ফোন – যা সাথে নিয়ে চলাফেরা করা যায়।” ওপাশ থেকে জোয়েল কোন কথা বলেননি। মার্টিনের মনে হয়েছিলো জোয়েল ভেবেছিলো তার সাথা ঠাট্টা করছেন মার্টিন। এইভাবেই সাধারণ কথার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিলো মোবাইল ফোনের অগ্রযাত্রা।

ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কুপারকে বলা হয় মোবাইল ফোনের জনক। তিনিই এটই আবিষ্কার করেন।।এবং কথা বলেন। কয়েকটি সাধারণ কথার মাধ্যমে শুরু হয় পৃথিবী বদলে দেওয়া প্রযুক্তির শুভ সূচণা। প্রতিদিন এমন অজানা গল্প জানতে সাবস্ক্রাইব করুন বাংলা ডায়েরি।