free hit counter
খেলা

‘টেস্টে আমাদের দুর্বলতা অনেক, এটাতে সন্দেহ নেই’

ওয়ানডেতে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে বড্ড অচেনা তারা। বিশেষ করে টেস্টে যেন এখনো খেলতে নামে তারা পরাজয়ের জন্য। যদিও ম্যাচ শুরুর আগে জয়ের লক্ষ্যের কথাই শোনান অধিনায়ক। কিন্তু মাঠে নামার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

এইতো সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কথাই বলা যায়। দাপট দেখিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতার পর টেস্টে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। দ্বিতীয় টেস্টে তো অবস্থা আরও খারাপ। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার কেশাভ মহারাজ ও হার্মারের বল যেন বাংলাদেশি ব্যাটারদের কাছে এক গোলকধাঁধা! দুই টেস্টে ১৬ উইকেট শিকার করে সিরিজসেরা হয়েছেন মহারাজ। অথচ ওয়ানডে সিরিজে তাকে বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছিল টাইগাররা। তাইতো আবারও প্রশ্ন ওঠেছে মুমিনুল বাহিনীর টেস্ট খেলার সামর্থ নিয়ে।

আগামী মাসেই ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। তার আগে তাই ঘুরেফিরে আসছে এসব প্রশ্নই। শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। বিসিবি সভাপতিও স্বীকার করে নিয়েছেন দুর্বলতার কথা।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এতদিন ধরে আমার ধারণা ছিল, আমরা স্পিন ভালো খেলি এবং পেসে আমাদের দুর্বলতা আছে। বিশেষ করে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এসব জায়গায় গিয়ে তাদের পেস বল সামলানো নিয়ে বেশি চিন্তাভাবনা করতাম। এইবারই আসলে প্রথম আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের পেসের বিপক্ষে যে দুর্বলতা ছিল সেটা এখন আর চোখে পড়ে না। বরং এখন মনে হচ্ছে যে, স্পিনের দিকে একটু নজর দিতে হবে।’



তবে একটা সিরিজ দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ তিনি। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘একটা সিরিজ দেখে বলাটা খুব কঠিন। কারণ, আপনারা যদি দেখেন, ওদের (প্রোটিয়া) যে স্পিনার ছিল কেশাভ মহারাজ। মহারাজকে কিন্তু ওরা (টাইগাররা) ওয়ানডেতে ভালোই খেলেছে। কিন্তু হঠাৎ করে টেস্টে এসে কী হলো, এটা বোঝার জন্য আসলে এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। সে জন্য আমরা আজকে সাড়ে চারটার সময় একটা মিটিং কল করেছিলাম, সব প্লেয়ারদের ডেকেছিলাম। আমার একটা ইচ্ছা ছিল যে টেস্ট টিমের সঙ্গে একটু বসবো, আলাদা করে। দুর্ভাগ্যবশত, ট্রাফিক জ্যামের জন্য আজকে ৬টার সময়েও অনেকে এসে পৌঁছাতে পারেনি। দুই-একদিনের মধ্যে আশা করছি ওদের সঙ্গে বসবো। ওদের কাছ থেকেও একটু শোনা দরকার, ওরা কী মনে করে। কী কারণে হঠাৎ করে এরকম একটা পারফরম্যান্স হলো। যারা খেলেছে, এরা কেউ এমন পারফরম্যান্স করার কথা না।’

এ সময় আলাদা টেস্ট টিম গঠন করার ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাপন বলেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করি, আমাদের অলমোস্ট একটা আলাদা টেস্ট টিম দরকার। কারণ, টেস্টের জন্য যে মাইন্ডসেট দরকার। একটা জিনিস খেয়াল করবেন, যেকোনো টেস্ট টুর্নামেন্টে আমরা যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি, তার ৯০ শতাংশ দেখবেন আমরা চতুর্থ দিনে গিয়ে কোলাপস করেছি। প্রথম ইনিংসে কিন্তু আমরা কিছুটা লড়াই করি, সাহস দেখাই। কিন্তু আস্তে আস্তে এটা যতদিন যায়, চতুর্থ ইনিংসে গিয়ে আমরা একদম হঠাৎ করে একেবারে ভেঙে পরি। এটা কেন, এটা শুধু প্লেয়ার না, কোচদের সঙ্গেও কথা বলে কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। সাইকোলজিক্যাল ইস্যুও থাকে, থাকতে পারে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যাদের করণীয় দরকার, সেটাও আমরা চেষ্টা করবো।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেটা সম্ভব। যে খেলাটা আমরা শেষ টেস্টে দেখেছি, এটা দেখে আসলে আমার বিচার করতে কষ্ট হচ্ছে। সত্যি কথা বলি। এটা আমার বিশ্বাসই হয় না। আর যেহেতু এটা হোম গ্রাউন্ড, এবং নিজেদের গ্রাউন্ডে কিন্তু আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও পারিনি। টেস্টে আমাদের দুর্বলতা অনেক। এটাতে সন্দেহ নেই। সবসময় শেষের দিকে গিয়েই আমরা হেরে যাচ্ছি। সাড়ে তিনদিন কিন্তু আমরা ডমিনেট করি। তারপর হঠাৎ করে কেন যেন আমরা কলাপস করি। শ্রীলঙ্কা অবশ্যই ভালো টিম। আমাদের দলটাও ভালো। আমার ধারণা প্রতিযোগিতামূলক খেলা হবে।’

Source link