free hit counter
স্বাস্থ্য

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর যত গুণাগুণ

প্রাচীনকাল থেকেই অ্যালো ভেরা বা ঘৃতকুমারী তার ঔষুধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এর ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো নানা উপকারী যৌগ ত্বক ও চুলের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। অ্যালো ভেরা হল ‘অমরত্বের গাছ’। এটি ত্বক পরিচর্যার জগতে একেবারেই অচেনা নয়। যদিও মাত্র কয়েক দশক আগে আমরা এই আশ্চর্য উপাদানটির নানা উপকারী গুণাগুণ আবিষ্কার করেছি, এটি কিন্তু রূপচর্চার বইতে জায়গা করে নিতে পেরেছে কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই। ‘ফেমিনা ডট ইন’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘দ্য হেল্থ রেঞ্জার’ হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের মাইক অ্যাডামসের উদ্ধতি দিয়ে জানায়, বহু ভেষজ উপাদানের মধ্যে অ্যালো ভেরার পুষ্টি গুণ ও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সবচেয়ে চমকপ্রদ।

এখন তো প্রত্যেকেই জানেন যে, অ্যালো ভেরা পাতার আঠালো, চটচটে রস বা জেল সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন গুণে সমৃদ্ধ এবং আপনার প্রায় সব ধরনের ত্বকের সমস্যার ক্ষেত্রে মুশকিল আসানের কাজ করে, তবু এ নিয়ে খানিক বিশদে আলোচনা করা যাক। ত্বকের ধরন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা সংবেদনশীল যেমনই হোক, যে কোনও ধরনের ত্বকেই অ্যালো ভেরা ম্যাজিকের মতো কাজ করে আর দাগহীন খুঁতহীন ত্বকের মালিকানা পেতে গেলে এটি চাই-ই চাই। হয়তো আপনার বাড়ির পিছনের বাগানেই আছে এই কাঁটাওয়ালা ত্রিভুজের আকারের গাছটি, কিন্তু আপনি ওয়াকিবহালই নন যে এই গাছ আপনার ত্বকের ঠিক কী কী উপকার করতে পারে! দুশ্চিন্তা করবেন না, আমরা আজ সে বিষয়েই আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি।

অ্যালো ভেরা জেল আপনার মুখের ত্বকের পক্ষে দারুণ উপকারী এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনি দাগহীন, নিখুঁত মসৃণ ত্বক পেতে পারেন। পড়ুন এবং জানুন, কী কী কারণে এই অ্যালো ভেরা আপনার ত্বকের প্রতিদিনের নিয়মিত পরিচর্যায় অপরিহার্য। অ্যালো ভেরা দিয়ে সহজেই বানিয়ে নিন ঘরোয়া ফেস মাস্ক আর ত্বককে দিন অ্যালো ভেরার পুষ্টি।

উপকারিতা

শারীরিক নানা সমস্যা এড়াতে কিংবা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকরী। প্রতিষেধক হিসেবেও দারুণ কার্যকরী এই অ্যালোভেরা।গ্রীষ্মে অ্যালো ভেরা ত্বকে খুব ভালো কাজ করে কারণ এর ৯৮ শতাংশই পানি। অ্যালো ভেরা ‘অ্যাণ্টিমাইক্রোবিয়াল’, ‘অ্যান্টিসেপ্টিক’, ‘অ্যান্টি ইনফ্লামাটরি’, ‘অ্যান্টি অক্সিডাইজিং’, ‘অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল’ ও ‘অ্যাস্ট্রিজেন্ট’ সমৃদ্ধ অ্যালো ভেরা ব্যবহারে চোখের চারপাশের কালো দাগ, ব্রণের দাগ, বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দূর হয় এবং লোমকূপও সংকুচিত হয়।

অ্যালো ভেরা ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও খুব ভালো কাজ করে।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর যত গুণাগুণ

রোদ প্রদাহ প্রতিরোধ

রোদের তেজ ত্বকের নাজেহাল অবস্থা দূর করতে মুখ ভাল করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে তারপর অ্যালো ভেরা পাতা থেকে জেল বের করে নিয়ে মুখে বেশ কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখতে হবে, ফের পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এইভাবে সানবার্ন খুব সহজেই দূর করা যায়।

হজম শক্তি বাড়ায়

হজম শক্তি বাড়াতে অ্যালোভেরার বেশ কার্যকরী। এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে এবং গ্যাসের সমস্যা দূর করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি বা গুড়ের শরবতের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে খেলে উপকার মিলবে দ্রুত।

ডায়াবেটিস দূরে রাখতে

ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভেতরেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যারা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে আনতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

ত্বক ময়শ্চারাইজ

অ্যালো ভেরা স্কিনকে যথেষ্ট পরিমাণে ময়শ্চারাইজ করে। এর এনজাইম আর ভিটামিন সি ত্বককে গ্লো করতে সাহায্য করে। তাই নির্জীব ত্বক থেকে মুক্তি পেতে এটি ব্যবহার করতেই পারো। মুখের জেল্লা বৃদ্ধিতে, মসৃণ ও নরম রাখতে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য আদর্শ কসমেটিক্স অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্র ও সতেজ রাখে। চোখের নীচে ফোলা ভাব থাকলে, তা দূর করতেও অ্যালোভেরা জেলের বিকল্প নেই। ত্বকের উপর মৃতকোষ দূর করতে অ্যালোভেরা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এক চা চামচ অ্যালোভেরার জেলের সঙ্গে ওটমিল গুঁড়ো ও হাফ চা চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি পুষ্টিকর ফেসপ্যাক তৈরি করুন।৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১-২ দিন করলে উপকার পাবেন।

কম বয়সে ত্বকের উপর বার্ধক্যের ছাপ পড়লে, বলিরেখা দেখা দিলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা ত্বকের গভীরে গিয়ে ভিটামিন ও খনিজের পুষ্টি যোগান দেয়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক নিয়মিত পনেরো মিনিট ধরে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন, এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে ত্বকের উপর রোদের পোড়া দাগ দূর হয়ে যায়।

ব্রণ দূর করে

এটি স্কিন ক্লিনজার হিসেবেও বেশ ভাল। এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ ব্রণ বা পিম্পল কমাতে সাহায্য করে। এতে বেশি মাত্রায় অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকার জন্য, ব্রণয় জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া দূর করে। সঙ্গে নতুন ত্বককোষ তৈরি করতেও সাহায্য করে। ত্বকের উপর জ্বালাভাব হলে অ্যালোভেরা জেল আইস কিউব ট্রেতে অ্যালোভেরা আইস কিউব দিয়ে ত্বকের উপর ঘষতে পারেন। এতে ত্বক নরম ও ঠান্ডা থাকে। এছাড়া ব্রণ হলে তার উপর আলতো করে ঘষলে ব্রণ ও অ্যাকনের সমস্যা দূর হবে।

কাটা জায়গায় ব্যবহার

যে-কোনও কাটা জায়গা বা শেভিং করার পর ছোট-ছোট কাটায় এটি ব্যবহার করা যায়। এটি সহজেই সতেজ ভাব আনতে সাহায্য করে।

সোরিয়াসিস দূর করে

এটি একটি বেশ জটিল চর্মরোগ। এতে দেহের বা মুখের নানা জায়গায় লাল ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়। বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে এটি হয়, সেখানে অ্যালো ভেরা নির্যাস লাগালে ভাল কাজ হয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে, এটি লাভজনক হবে।

পা ফাটা দূর করে

শীতের শুরুতে এবং শেষে পা ফাটা বেশ কমন ব্যাপার। অ্যালো ভেরা এবং ঠান্ডা চায়ের লিকার মিশিয়ে হালকা হাতে মাসাজ করলে পা ফাটা কমতে কিন্তু বেশি সময় লাগে না।

চুলের জন্য

অ্যালো ভেরায় থাকে প্রোটিয়োলাইটিক উৎসেচক, যা স্ক্যাল্পের মৃতকোষকে সারাতে সাহায্য করে। আবার চুলের কন্ডিশনার হিসেবেও দারুণ কাজ করে। চুলের গ্রোথ বাড়ায়, স্ক্যাল্পের চুলকানি কমায়। খুসকি দূর করতে মাথার ত্বকের পিএইচের ব্যালান্স সঠিক রাখতে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে সারারাত মাথায় রেখে পরদিন সকালে পছন্দের শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ওজন কমাতে

ওজন কমানোর চেষ্টা করে থাকেন অনেকেই। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরার জুস অনেক অনেকটাই কার্যকরী। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি নিয়মিত পান করতে পারেন।

হার্ট ও দাঁত ভালো রাখতে

নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে অনেক উপকার মেলে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এটি দূষিত রক্ত শরীর থেকে বের করে দেয় এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা ও ইনফেকশন নিবারণে সাহায্য করে।

সতর্কতা

ক্ষত বা আক্রান্ত স্থাণে অ্যালো ভেরার জেল ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে সংক্রমণ ও এমনকি প্রদাহ বাড়তে পারে।

অ্যালো ভেরা ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো উপায় হল পাতার তাজা জেল ব্যবহার করা।