Image default
লাইফ স্টাইল

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হলে যা করণীয়

করোনা মহামারিতে অনলাইনে কেনাকাটা বেড়েছে অনেকাংশে । অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেকে শিকার হচ্ছেন প্রতারণার। হরহামেশাই শোনা যায় ফেসবুক কিংবা কোনো গ্রুপের পেজে পণ্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিলো। আগাম অর্থ নিয়ে তারা উধাও হয়ে গেছে। আবার অনেক সময় অনলাইনে যে মানের পণ্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিলো তার চেয়ে তার চেয়ে নিম্ন মানের পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

এ রকম প্রতারণার কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। কেউ এ রকম প্রতারণায় পড়লে আইনি সহায়তা নিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে আইনি কি প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।

একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সচেতনতাই সর্ব উৎকৃষ্ট পন্থা। আইনে ‘ক্রেতা সাবধানতা নীতি’বা ক্যাভিয়েট এম্পটর একটা মতবাদ আছে। যেখানে ক্রেতাকে প্রতারণার শিকার হতে রক্ষার জন্য সচেতনতার উপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ক্রেতা যদি অনলাইন কিংবা অফলাইনের প্রতারণার শিকার হন তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ ক্ষতিপূরণের মামলা করা যেতে পারে; ফৌজদারি আদালতে ৪২০ ধারার আওতায় প্রতারণার মামলা করা যেতে পারে; দ্যা সেলস অফ গুডস অ্যাক্টস এর আওতায় প্রতিকার পাওয়া যায়; চুক্তি আইনে প্রতিকার পাওয়া যায়; প্রতিটি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।

তবে বর্তমান সামগ্রিক দিক পর্যালোচনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করাটাই সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা। অনলাইনে প্রতারিত হলে সংশ্লিষ্ট সাইট বা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগটি লিখিত আকারে ক্রয়ের রশিদসহ যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত করে ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ে ফ্যাক্স বা ই-মেইলে দিতে হবে। ঢাকা ছাড়া অন্য বিভাগের ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পণ্য কেনার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিকট অভিযোগ জানাতে হবে।

অধিদপ্তরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিরূপণে দুই পক্ষ থেকে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আদেশ দিবেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় শেষে ২৫ শতাংশ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা বা ক্রেতাকে প্রদান করা হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৪ ধারা মতে ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দেন এক্ষেত্রে তাকে অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

Related posts

অতিরিক্ত কেনাকাটা ডিপ্রেশনের লক্ষণ

News Desk

যেসব উপসর্গে বুঝবেন ইস্কেমিক স্ট্রোক হয়েছে

News Desk

জীবনসঙ্গী মানে কেবল সুখের ভাগাভাগি নয়, থাকতে হবে যেসব গুণ

News Desk

Leave a Comment