free hit counter
আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কা এখনও অগ্নিগর্ভ

সোমবার শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বাসভবনে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রীলঙ্কায় এক মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপর প্রাণে বাঁচতে সপরিবারে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার রাতে ‘হেলিকপ্টারে’ তিনি শ্রীলঙ্কা ত্যাগ করেন বলে গুজব উঠেছে।

মাহিন্দার পদত্যাগের পর এখন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশটির বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, তারা পরবর্তী সরকার গঠন করবেন। কিন্তু তাদের শর্ত হলো গোটাবায়াকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে।

এদিকে, কলম্বোসহ শ্রীলঙ্কার একাধিক শহরে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা মাহিন্দাসহ ৩৮ জন নেতার বাসভবনে আগুন দিয়েছেন। বিশৃঙ্খলা আরও চরম রূপ নিতে পারে।

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে পরোয়ানা ছাড়াই যে কোনো বেসামরিক লোককে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দিয়ে দেয়। এদিকে শ্রীলঙ্কার জনসাধারণের দাবি, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই প্রথম ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সরকার উদাসীন।

২২ মিলিয়ন লোকের এই দ্বীপরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দেশটিতে লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মার্চ থেকেই সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রীলঙ্কার জনগণ। এরই ধারবাহিকতায় মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার রাতে একটি নৌঘাঁটি থেকে দেশটির সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে।

অপরিণামদর্শী উন্নয়ন আর অদূরদর্শী প্রকল্পে হাত দেয়ার কারণে শ্রীলঙ্কায় এ দূরাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গে এখন দেশটি অগ্নিগর্ভ হয়েছে। থমকে গেছে অর্থনীতি। এর আগে ২০১৯ সালের সন্ত্রাসী হামলা ও করোনা মহামারির কারণে পর্যটন খাতে দেখা দেয় গভীর শূন্যতা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়। এরই প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে থাকে। এতে অসন্তোষ চরমে ওঠে। দেশটির সরকার টানা ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিলে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদে ও বিক্ষোভে শ্রীলঙ্কা এখন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

ডি- এইচএ

Source link