free hit counter
আন্তর্জাতিক

রুটির কারিগর ধার্মিক ছেলেটিই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

সারা বিশ্বে ৩০টিরও বেশি দেশ আছে যেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা শাসন করেছেন বা ক্ষমতার শীর্ষে রয়েছেন। এবার যুক্ত হয়েছে ২০০ শত বছর ভারতীয় উপমহাদেশকে শাসন করা দেশ যুক্তরাজ্য। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ব্রিটেনের রাজনীতিতে খুব দ্রুতই উত্থান হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাকের। ২০১৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে পার্লামেন্ট সদস্য হন সুনাক। তার মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই হলেন প্রধানমন্ত্রী।

জন্ম ও বেড়ে উঠা: তার পরিবার তিন প্রজন্ম ধরেই ভারতের বাইরে বসবাস করে। দাদা-দাদি দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগেই পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে পূর্ব আফ্রিকায় চলে গিয়েছিলেন। অনেক বছর পরে তারা যুক্তরাজ্যের সাদাম্পটন শহরে এসে বসবাস করতে থাকেন। ১৯৮০ সালে জন্ম হয় সুনাকের। সেখানেই বড় হয়েছেন। সুনাককে চিনেন এমন অনেককেই সাদাম্পটনে পাওয়া গেল যারা তাকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন, এখনো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। সাদাম্পটনে বৈদিক সোসাইটির একটা বড় মন্দির আছে। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে সুনাকের পরিবারও আছে। তার ছোটবেলা কাটত ওই মন্দিরে। মন্দিরের ৭৫ বছর বয়সি নরেশ সোনচাটলা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত মন্দিরে আসতেন। কখনো দাদা-দাদি, কখনো বাবা-মার সঙ্গে।

রুটির কারিগর: সঞ্জয় চন্দারাণা মন্দিরের সভাপতি। তিনি প্রায়ই মন্দিরে রুটি বানাতে দেখেছেন ঋষি সুনাককে। তিনি বলেন, রান্না করতে পছন্দ করেন ঋষি। সুনাক বলেন, রান্না করতে তার ভালো লাগে।

দীপাবলির প্রদীপ: ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ডাউনিং স্ট্রিটে দীপাবলির প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন ঋষি সুনাক। আর ২০২২ সালের দীপাবলির রাতেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হলেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় পর ভারতের অনেক মানুষ উল্লাসে মেতেছে। হিন্দি ভাষার পত্রিকা দৈনিক ভাস্কর লিখেছে, ‘জাতির জন্য দীপাবলির আরেকটি উপহার, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি শ্বেতাঙ্গদের শাসন করবে’। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঋষি সুনাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। ঠিক যে রকমটা হয়েছিল ২০০৮ সালে বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাবা মার অনেক ত্যাগ: নিজের ওয়েবসাইটে সুনাক লিখেছেন, আমার বাবা-মা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন যাতে আমি একটা ভালো স্কুলে পড়াশোনা করতে পারি। আমি ভাগ্যবান যে উইনচেস্টার কলেজ, অক্সফোর্ড আর স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। ঋষি সুনাকের বাবা যশবীর সুনাক চিকিৎসক আর তার মা ঊষা সুনাক কিছুদিন আগে পর্যন্তও একটা ওষুধের দোকান চালাতেন। তারা সাদাম্পটনেই থাকেন এখনো। অন্যান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের ওপরেই নজর দিতেন তার পরিবার।

প্রতিভার স্বাক্ষর : করোনা মহামারির ঠিক আগে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। এটা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মাইলফলক ছিল। এটা অনেক বড় দায়িত্ব ছিল। ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীর পরেই অর্থমন্ত্রীর সব থেকে বেশি গুরুত্ব। সে সময় সুনাকের কাজে অনেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছিলেন। নিশ্চয়ই তাদের সেই আশা পূর্ণ হয়েছে।

Source link

Bednet steunen 2023