free hit counter
জীবনী

খালেদ মাসুদ পাইলট: বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম সিরিজ সেরা

খালেদ মাসুদ পাইলট

একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম উইকেট রক্ষক। ১৯৭৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরেন্দ্রভূমি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা: শামসুল ইসলাম। মা: নার্গিস আরা। তার স্থায়ী ঠিকানা: রাজশাহী। তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। খালেদ মাসুদ পাইলটকে অপছন্দ করে এমন লোক খুব কমই আছেন ।

ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম
খালেদ মাসুদ পাইলট
ডাকনাম পাইলট
জন্ম তারিখ ১৯৭৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি
জন্ম স্থান রাজশাহী
পেশা ক্রিকেটার
ভূমিকা উইকেট-রক্ষক
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডান হাতি
ধর্ম ইসলাম

তবে অনেকেই তার ক্রিকেটীয় জীবনের ব্যাটিং পরিসংখ্যান দেখে গড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। টেস্টে ১৯.০৪, ওয়ানডেতে ২১.৯০ গড়ধারী এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের হয়ে কিছু এমন অবদান রেখেছেন যেগুলো কখনই ভুলার মত নয়।
পাইলটের ক্রিকেটে আসাটা ছিল অনেক অভাবনীয়। পাইলটের বাবারা ছিলেন ৭ ভাই। সবাই খেলতেন ফুটবল। পাইলটের বাবা শামসু মাসুদ ১৯৭৭ সালে আবাহনীকে ঢাকা লিগ জিতাতে রেখেছিলেন ভূমিকা। এসবের জন্য স্বাভাবিকভাবেই পাইলটের টান ছিল ফুটবলের প্রতিই বেশি। তবে ১৯৮৭ সালে হঠাৎই যেন বদলে গেলো সব। ১৯৮৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় রাজশাহীর জেলখানা মাঠে অনুষ্ঠিত মিঠু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সবাইকে চমকিয়ে দিয়ে ক্লাস সেভেনে পড়া পাইলট রাজশাহী স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পেলেন৷ এই টুর্নামেন্টটা ছিল সেসময় অনেক জনপ্রিয়। সুযোগ পেয়ে কাজেও লাগিয়েছিল সদ্য কৈশোরে পা ফেলা পাইলট। প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। এবং সে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছিলেন। ডুমিন্ডা নামের শ্রীলঙ্কার একজন বোলার ছিলেন সেসময় জনপ্রিয়। ঢাকার ব্যাটসম্যানরা তার সামনে নাকানিচুবানি খেতো। সেই ডুমিন্ডাকেই এক ম্যাচে নাকানিচুবানি খাইয়ে ৯৪ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলে পাইলট তখনই সর্বত্র উচ্চারিত হতে লাগলো তার নাম। ডাক পেলেন ঢাকা থেকে। ঢাকার ক্রিকেটে শুরুটা ওয়ারীর হয়ে করলেও পরে তিন বছর তিনি মাঠ মাতান কলাবাগানের হয়ে। সাথে খেলেছিলেন জনপ্রিয় দুই ক্লাব মোহামেডান এবং আবাহনীর হয়েও।

 

ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর
দল
১৯৯৭ রাজশাহী বিভাগ

১৯৯৩ সালে ডাক পান অনুর্ধ ১৯ দলে। এরপর ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তুলে নজরে আসেন জাতীয় দলের নির্বাচকদের। ১৯৯৫ সালের শারজাহ কাপে ওয়ানডেতে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় পাইলটের। এরপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ছোট-বড় প্রায় সব অর্জনেই নাম ছিল পাইলটের। ১৯৯৭ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সব থেকে বড় অর্জন আইসিসি ট্রফি জেতার পিছনেও আছে এই পাইলটের অবদান। সেই ম্যাচের লাস্ট ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ৬ মেরে ম্যাচটাকে বাংলাদেশের হাতের নাগালে নিয়ে আসেন পাইলট। শেষ পর্যন্ত ৭ বলে ১৫ রান করে ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে অপরাজিত থাকেন পাইলট। এছাড়াও সে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচে ৭০ রানের এক ইনিংস খেলে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
বাংলাদেশ
টেস্ট অভিষেক ১০ নভেম্বর ২০০০ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট ২৮ জুন ২০০৭ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক ৫ এপ্রিল ১৯৯৫ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই ৫ই ডিসেম্বর ২০০৬ বনাম জিম্বাবুয়ে

 

ক্রিকেট খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ বলতে আমরা কী বুঝি? একটা ম্যাচে সব খেলোয়াড়ের মাঝে সবচেয়ে ভালো খেলেছেন এমন কিছু। ম্যান অব দ্য সিরিজ বলতে আমরা কী বুঝি? একজন খেলোয়াড় কোনো একটি সিরিজে সবচেয়ে ভালো খেলেছেন।

তবে ভালো-খারাপ যা-ই খেলুক না কেন, সচরাচর খুব এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু না করলে পরাজিত দল থেকে কাউকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ অথবা ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরষ্কার দেওয়া হয় না। ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরষ্কার পাওয়া এমনিতেই খুব কঠিন কাজ। আর ছোট দলে খেলে সেটা পাওয়া তো আরো বেশি কঠিন। বিশেষ করে ২০০০ সালের বাংলাদেশ দলের কথা চিন্তা করলে সেটা অসম্ভবের পর্যায়েই পড়ে।

বাংলাদেশের পক্ষে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরষ্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান, পাঁচবার। কেউ কি জানেন, বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন কোন খেলোয়াড়?

ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেই খেলোয়াড়টি হচ্ছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০২ সালের সেই সিরিজ ছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফর্মেন্স আগে বেশ খারাপই ছিলো। সেই সিরিজটাও ভালো কাটেনি। তবে এর মাঝেও মাসুদ ব্যতিক্রম ছিলেন।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৮৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর তুষার ইমরানকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি করেন। ১৭৬ রানে তুষারও তাকে ছেড়ে চলে যান। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গী করে শেষ পর্যন্ত ২২৬ রান পর্যন্ত করতে পারে বাংলাদেশ, যাতে পাইলটের ৫৪ রান বড় অবদান রাখে। ম্যাচ অবশ্য শ্রীলঙ্কা জিতে নেয় ৫ উইকেটে।

সিরিজ সেরা হবার পেছনে অধিনায়কত্ব একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল; Image Source: YouTube

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের আরো জঘন্য অবস্থা হয়। মাত্র ৭৬ রানে অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। পাইলট দলীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন। মাত্র ১৫ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জিতে যায় শ্রীলঙ্কা।

সিরিজের ৩য় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে দাঁড় করায় ২৫৮ রানের এক শক্ত স্কোর। বাংলাদেশ অল আউট হয় ২০০ রানে। এর মাঝে পাইলট করেন ৩৭ রান।

সিরিজের প্রাপ্তি ছিল অধিনায়ক পাইলটের ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরষ্কার পাওয়া। এরপর আরো কতজনে কত কিছু হবে, কিন্তু প্রথমজনের তো আলাদা কিছু মর্যাদা প্রাপ্য থাকে।

সিরিজের একটি ম্যাচেও নিজের দল জয় পায়নি। ব্যক্তিগতভাবে একটি ম্যাচেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ হননি। সিরিজের সর্বোচ্চ রান করেননি কিংবা সবচেয়ে বেশি উইকেটও পাননি। এরপরেও ম্যান অব দ্য সিরিজ পাওয়ায় ভূমিকা রেখেছিল অধিনায়কত্ব আর লড়াকু মানসিকতা। এভাবে বিশ্বের আর কেউ সম্ভবত ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরষ্কার পাননি।

যেকোনো একটি দেশের জনগণের মনে খেলাধুলায় উম্মাদনা তৈরির জন্য একটি বড় ধরনের সফলতার প্রয়োজন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেই সফলতা আনতে পেরেছিল ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। ফাইনাল ম্যাচের শেষ বলে যখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের ১ বলে ১ রান প্রয়োজন ছিল, তখন উত্তেজনায় ফুটছিল বাংলাদেশের মানুষ। হাসিবুল হোসাইন শান্তর দৌড়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতে গেলেও সেই ম্যাচ জয়ের পেছনে পাইলট রেখেছিলেন বেশ বড় ভূমিকা। একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল শেষ ৬ বলে ১১ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ম্যাচটা হাতের নাগালেই নিয়ে আসেন পাইলট। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে, মাত্র ৭ বলে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় ছিল (৯২) তারই।

সেমি ফাইনালের ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে ৭০ রানের এক ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন।

কিপিংয়ে বাংলাদেশ দলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না; Image Source: WN.com

পাইলটের সবচেয়ে বড় যে গুণটা ছিল সেটা হচ্ছে দলের জন্য আত্মনিবেদন। দলের প্রয়োজনে অনেকসময় ব্যক্তিস্বার্থকেও জলাঞ্জলি দিয়েছেন। তার সময়ে দলের একমাত্র উইকেট কিপার ছিলেন তিনি। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল না সেই সময়। অথচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি টেস্ট সিরিজে নিজে না খেলে মুশফিকুর রহিমকে খেলার সুযোগ দেন। মুশফিক সেই ম্যাচে ৮০ রানের এক ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে পাইলটকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন,

“শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে উইকেট যেহেতু ফ্ল্যাট, এখানে দেড়-দুই দিন ব্যাটিং করে ফেলতে পারলে টেস্ট ড্র করার একটা সুযোগ তৈরি হবে। আমার কাছে মনে হয়েছিল আমার বদলে মুশফিক ম্যাচটাতে ভালো খেলবে।”

মাশরাফির সাথে; Image Source: The Daily Star

শুধু এটাই নয়, দলের ভেতর এমন কোনো কাজে সায় দিতেন না যাতে অন্তর্কলহ তৈরি হয় অথবা দলের কারো মনে আঘাত লাগে। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন দুর্জয়। কিন্তু টেস্ট সিরিজ শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ানডে সিরিজের অধিনায়ক হবেন পাইলট। যেখানে অন্য সবাই অধিনায়কত্ব পাবার জন্য লালায়িত থাকে, সেখানে পাইলটের অভিব্যক্তি ছিল ভিন্ন রকম। বিনয়ের সাথে প্রস্তাবটা প্রত্যাখান করেন পাইলট এবং বলেন,

আমি খুব খুশি হব, যদি এই সিরিজে দুর্জয়কে রেখে পরের সিরিজে আমাকে অধিনায়ক করা হয়। কারণ এভাবে সিরিজের মাঝপথে কাউকে ছুড়ে ফেলাটা ভীষণ অসম্মানজনক।

যদিও নির্বাচকরা পাইলটের সেই অনুরোধ রাখেননি। ওয়ানডে সিরিজটাতে তাই পাইলটকেই অধিনায়কত্ব করতে হয়েছিল। শুধু সেই সিরিজেই নয়, ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরের শেষ টেস্টের আগেও খালেদ মাহমুদ সুজনের পরিবর্তে পাইলটকে অধিনায়ক হবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু সেবার দৃঢ় কন্ঠে প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন পাইলট। বলেছিলেন,

আমি আর নেব না। কারণ আমাকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্জয়কে বাদ দেওয়ার সময় আমার খুব খারাপ লেগেছিল। আপনাদের কাছে অনুরোধ, পারলে সুজনকে এই অসম্মানটা করবেন না।

এই যুগে এই ধরনের মানুষ খুজে পাওয়াটাই তো প্রায় অসম্ভবের মতো।

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের সময় দলের প্রয়োজনে পাইলট ঠেকিয়ে খেলছিলেন। সেই সময় টিকে থাকাটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য, রানটা ভাবার বিষয় ছিল না। তখন সৌরভ গাঙ্গুলী এসে বললেন, “এত বিরক্তিকর ব্যাটিং কোথা থেকে শিখেছ?” উত্তরে পাইলটও কম যান না। বললেন,

তোমাদের সুনীল গাভাস্কারের কাছ থেকে। তিনি তো ৬০ ওভার মাঠে টিকে ১৭৪ বল খেলে তুলেছিলেন মাত্র ৩৬ রান! মনে নেই?

লড়াকু মানসিকতার পাইলট মাঠে প্রতিপক্ষকেও ছাড় দেননি।

দেশের হয়ে একটি টেস্ট সেঞ্চুরিও করেছেন Image Source: Dhaka Tribune

দেশের হয়ে একটি টেস্ট সেঞ্চুরিও করেছেন, সেটাও দলের খুব প্রয়োজনের সময়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের মাঠেই সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ যখন ২য় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলো তখন লিড পেয়েছিল ৫২ রানের। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে যেন পিচটা ব্যাটসম্যানদের জন্য বধ্যভূমিতে রুপান্তরিত হলো। মাত্র ৭৯ রানেই স্বীকৃত প্রথম ৬ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর পাইলট মাঠে নামলেন। তার সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ দাঁড় করালো ২৭১ রানের একটি স্কোর। সেই টেস্ট ড্র করতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

খালেদ মাসুদ কি আসলেই পাইলট?

জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন খুব অল্প বয়সেই Image Source: gettyimages.ca

বাংলাদেশের ক্রিকেট টা যদি তিন ভাগে ভাগ করা যায় তাহলে ২০০০ সালের আগের সময়টাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাচীনকাল বলা চলে। ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল যদি মধ্যযুগ হয় তাহলে ২০১০ থেকে ২০২০ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আধুনিক যুগ। বাংলাদেশের মধ্যযুগের ক্রিকেটারদের মাঝে মোহাম্মদ রফিক, আফতাব আহমেদ, হাবিবুল বাশার সহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের চলে আসে খালেদ মাসুদ পাইলটের নামও। আমরা যারা ২১ শতকের শুরুর দিক থেকে ক্রিকেট বুঝতে শুরু করেছি তাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, খালেদ মাসুদের নাম পাইলট কেন? অনেকের মনেই অনেক সংশয় ছিল তিনি কি কোনও কালে পাইলট ছিলেন?

তার নামের শেষের পাইলট শব্দের মর্মার্থ অনেকেরই জানা থাকতে পারে। কিন্তু যাদের জানা নেই তাদের জন্য নতুন করে জানানোর প্রচেষ্টা। তার নামের মর্মার্থ তিনি নিজেই জানিয়েছেন। রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ খেলতে বাংলাদেশের লিজেন্ডসরা এই মুহূর্তে অবস্থান করছে ভারতের রায়পুরে। বাংলাদেশের একাদশে সুযোগ হয়েছে খালেদ মাসুদ পাইলটের।

ধারাভাষ্যকার খালেদ মাসুদের কাছে জানতে চাইলেন, তার ডাক নাম পাইলট কেন, তিনি কি সত্যিই পাইলট? খালেদ মাসুদ বলেন,

“আমার ডাক নাম পাইলট। আমার মামা আমাকে এই নামটি দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন পাইলট হই। একজন বিমান চালক পাইলট। এজন্যই এই নাম। কিন্তু আমি সেটি হইনি। হয়েছি ক্রিকেটার।”

এর আগেও তিনি তার ডাক নাম পাইলট হবার বিষয়টি জানিয়েছিলেন, “আমার নাম ‘পাইলট’ হওয়ার পেছনে ছোট একটি গল্প আছে। আমার মামাই আমাকে এই নাম দিয়েছিলেন। ছোটবেলায় আমি অনেক ট্যালেন্ট ছিলাম। মামা আমাকে পাইলট বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি আমাকে ‘পাইলট-পাইলট’ বলেই ডাকতেন। তারপর খেলোয়াড় জীবনে এলাম। সাংবাদিকরা আমার নামে যখন নিউজ করত তখন তারাও নামের পাশে পাইলট জুড়ে দিতেন। তো এভাবেই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছে।”

ক্যারিয়ারে ৪৪টি টেস্টে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ সেঞ্চুরি হাকিয়ে ১ হাজার ৪’শ ৯ রান করেন পাইলট। আর ১২৬টি ওয়ানডে ম্যাচে ৭টি হাফ সেঞ্চুরিতে ১ হাজার ৮’শ ১৮ রান করেন তিনি। পাইলটকে পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝতে চাওয়াটা বোকামি। কিন্তু যারা প্রকৃত ক্রিকেট ফ্যান তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাইলটের অবদানের কথা কখনোই ভুলতে পারবে না।

ভুলে যাওয়া সম্ভবও না।

খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান:-

প্রতিযোগিতা
টেস্ট
ওয়ানডে
এফসি
এলএ
ম্যাচ ৪৪ টি ১২৬ টি ১০১ টি ১৮৪ টি
রানের সংখ্যা ১৪০৯ ১৮১৮ ৩৯৩৩ ২৫৭৮
ব্যাটিং গড় ১৯.০৪ ২১.৯০ ২৪.৮৯ ২০.৪৬
সেঞ্চুরি 0 0
হাফ সেঞ্চুরি ১৮ ১০
সর্বোচ্চ রান ১০৩ ৭১ ২০১ ৭১
বল করেছে ৫০