free hit counter
জানা অজানা প্রযুক্তি

কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের জনক কে? কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস ।

আধুনিক সময়কে বলা হয় তাকে বিজ্ঞানের যুগ আরেকটু সহজ ভাষায় বলে কম্পিউটারের যুগ বলা হয়ে থাকে এখনও আপনি বুঝতে পারছেন একটি যৌগের ক্ষেত্রে কম্পিউটার শব্দটি যুক্ত হওয়ায় কম্পিউটার আমাদের কতটা প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে । আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে আমরা সকলেই কম্পিউটার চিনি কিন্তু কম্পিউটার আসলে কি? কিভাবে এটা দিয়ে কটিন ও জটিল জটিল কাজ সমাধান করা হয় তা অনেকেই ভালভাবে জানি না। সাধারণভাবে কম্পিউটার বলতে এক ধরণের সুক্ষ গণনাকারি যন্ত্রকে বুঝায়। গ্রিক (compute) শব্দ থেকে কম্পিউটার শব্দের উদ্ভব হয়েছে। যে ডিভাইজের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অডিও, ভিডিও কাজ ,বিভিন্ন অস্বাভাবিক ও সুক্ষ কাজ স্বাভাবিক ও নিখুতভাবে করা যায় থাকে কম্পিউটার বলে।

আজকে আমরা জানবো আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে এবং কম্পিউটারের জনক কে এছাড়াও সুপার কম্পিউটারের জনক কে তো চলুন এ সম্পর্কে নানান তথ্য জেনে নেই ।

কম্পিউটার আবিষ্কার এর ইতিহাস:

বহুকাল পুর্বে গননার জন্য ঝিনুক, নুরি, দরির গিট ব্যাবহার করা হত। কিন্তু এতেও অনেক সময় ভুল হয়ে যেত। সেই সমস্যা সমাধান এর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিস্কার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি করা হয় অ্যাবাকাস নামক গননা যন্ত্র। একেই ইতিহাসের প্রথম গননা যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়। এর আবিস্কার হয় ব্যাবিলনে। (খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০সালে) পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে ক্যালকুলেটর আবিস্কার হয়।

কম্পিউটার এর সত্যিকার বিকাশ ঘটতে শুরু করে মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবনের ফলে(১৯৭১সালে) তারপর এর দ্রুত বিকাশ ঘটতে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত আছে বিভিন্ন প্রকৃতি ও আকারের কম মূল্যের অনেক রকম (Personal Computer) বা পিসি (PC)। সে সঙ্গে উদ্ভাবিত হয়েছে অনেক রকম ব্যাবহার এর সাথে ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে কম্পিউটার ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক এর এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সেবা ও পরিসেবার।

কম্পিউটার শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটার শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান। বর্তমান কালে (Information Technology) বা আইটি (IT) ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরাট অংশ দখল করে রয়েছে।ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে উদ্ভাবন করে। এর পর থেকে বাজারে আসতে শুরু করে মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক কম্পিউটার। তখন থেকে কম্পিউটারের আকৃতি ও কার্যক্ষমতায় এক বিরাট বিপ্লব ঘটে। আই বি এম এর পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারে আসে ১৯৮১সালে।

এর পর একের পর এক উদ্ভাবিত হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোপ্রসেসর এবং তৈরি হতে হচ্ছে শক্তিশালী pc আই.বি.এম কোম্পানি প্রথম থেকে (IBM compatible computer) তৈরির ক্ষেত্রে কোনো বাধা-নিষেধ না রাখায় এ ধরনের কম্পিউটারগুলির মূল্য ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে এবং এর ব্যবহারও ক্রমাগত হারে বাড়ছে। একই সময় আই.বি.এম কোম্পানির পাশাপাশি (Apple Computer Inc) তাদের উদ্ভাবিত (Apple-Macintosh) কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে। কিন্তু কোম্পানিটি তাদের কমপ্যাটিবল কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে কোনোরূপ উদারতা প্রদর্শন না করায় ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের মূল্য থেকে যায় অত্যধিক বেশি, যার ফলে এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে নি।

বাংলাদেশে কম্পিউটারের ইতিহাস:-

আমরা কম্পিউটার সম্পর্কে জানার আগে যেটা জানার বিশেষ প্রয়োজন সেটা হল বাংলাদেশে কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। নিচের পাঠ গুলো ভাল করে পড়ে বাংলাদেশে কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিন। সাধারণত ষাট দশকের দিকে বাংলাদেশে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয় এবং নব্বই দশকের দিকে বাংলাদেশে কম্পিউটারের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার ঢাকা-তে স্থাপিত হয়।

চিন্তা করলে দেখা যায় কম্পিউটারের ইতিহাস খুব বেশী দিনের পুরোনো না কম্পিউটার আমাদের হাতে আসছে এখনও ১০০ বছরও হয়নি। আর এই সীমিত সময়ের মধ্যে কম্পিউটারের ইতিহাস বাংলাদেশ এক আমুল পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহারের পেচনে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে নিচে বিস্তারিত জানুন।

কম্পিউটারের জনক কে ?

১৮২২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ যার ইংরেজী নাম Charles Babbage গণিত বিষয়ক হিসাবের নিমিত্তে উন্নত ধরনের ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরির আংশিক কাজ করেন। কিন্তু অধিক পরিমাণ যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিখুঁতভাবে তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায় ডিফারেন্স ইঞ্জিনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারপর ১৮৩৩ সালে তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামক যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরির প্লান করেন এবং ইঞ্জিনের নকশা তৈরি করেন।

কিন্তু তাঁর যন্ত্র তৈরি করতে দেরি হওয়ায় সরকার ১৭০০০ পাউন্ড ব্যয় করার পর এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্ধ বন্ধ করে দেয়। চার্লস ব্যাবেজের বাবা ছিলেন স্বচ্ছল ব্যবসায়ী । তার বাবার মৃত্যুর পর চার্লস ব্যাবেজে উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার সম্পত্তির মালিক হন এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজ করচে এই প্রকল্পে গবেষণা চালিয়ে যান। ব্যাবেজের অ্যাালিটিক্যাল ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনায় আধুনিক কম্পিউটারের ধারণা বদ্ধমূল ছিল বিধায় চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে।

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে

আমরা এখন যে কম্পিউটার দেখতে পাচ্ছি এটা কিন্তু প্রথম অবস্থায় এরকম ছিল না প্রাথমিক অবস্থায় কম্পিউটারটি ছিল অনেকটা বৃহৎ আকারের বর্তমানে যে কম্পিউটার গুলো ব্যবহার করা হয় এগুলো হচ্ছে আধুনিক সংস্করণ আধুনিক কম্পিউটারের জনক জন ভন নিউম্যান।

আধুনিক কম্পিউটার

সুপার কম্পিউটারের জনক কে

সুপার মাইক্রো কম্পিউটার ল্যাপটপ কম্পিউটার আবার দুই ভাগে … আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে? Computer কম্পিউটারের জনক কে আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা বিজ্ঞানের পুজারি ..সুপার কম্পিউটারের উদ্ভাবক কে? উত্তর : সেসুর ক্রে।

পার্সোনাল কম্পিউটারের জনক কে

আধুনিক পার্সোনাল কম্পিউটার বা ছোট কম্পিউটারের জনক বলা হয় জন ভন নিউম্যান কে জন ভন নিউম্যান কম্পিউটারকে মানুষের ব্যবহারের জন্য একেবারে পারছনা মিনি কম্পিউটার এ পরিণত করেছে আমরা এখন যে ল্যাপটপ বা মিনি কম্পিউটার গুলো দেখতে পাই এগুলোকে পার্সোনাল কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে

ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক কে

জন ভন নিউম্যান- একজন হাঙ্গেরীয় বংশদূত ও মার্কিন গণিতবিদ ছিলেন। তাকে ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক বলা হয়। জন ভন নিউম্যান কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় অপারেটর তত্ত্ব ব্যবহারের অগ্রদূত সেটতত্ত্ব, জ্যামিতি, প্রবাহী গতিবিদ্যা, অর্থনীতি, যোগাশ্রয়ী প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান সহ আরো অনেক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার এই অসামান্য অবদানের জন্য আধুনিক কম্পিউটারের মূল স্থাপত্যকে তাঁর নাম অনুসারে ভন নিউম্যান স্থাপত্য বলা হয়ে থাকে।

বর্তমান কম্পিউটারের জনক কে

এই প্রশ্নের উত্তরটি জানতে আর্টিকেল এর উপরের অংশ লক্ষ্য করুন আর্টিকেলটির উপরের অংশে এই প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন।

মিনি কম্পিউটারের জনক কে

এটির উদ্ভাবক ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেড হফ, স্ট্যান মেজর, ফেডরিকো ফ্যাগিন এবং জাপানের মাসাতোশি শিমা। মিনি কম্পিউটার সংজ্ঞাটি ব্যবহার করা হত এমন একটি মেশিনকে বোঝাতে যা কম্পিউটার জগতে মধ্যম সারির, যা মাইক্রোকম্পিউটার এবং মেইনফ্রেম কম্পিউটারের মাঝে রয়েছে।

কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যাবহার হয়?

কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যাবহার হয় এর চাইতে বেশি সহজ হয় কম্পিউটার কি কাজে ব্যাবহার হয় না এর উত্তর দেয়া। আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে ? (চার্লস ব্যাবেজ) এর কম্পিউটার আবিষ্কার করার পর এর ব্যাবহার বেরেই চলেছে। নিচে এর কিছু ব্যাবহার দেয়া হলোঃ
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার-
১. ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখা-লেখির জন্য
২. অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থা
৩,চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে।
৪.গবেষণা মুলক কাজে
৫. একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদ প্রেরণের জন্য
৬. বিনোদনের জন্য যেমন ,টিভি দেখা, ভিডিও দেখা, গান বাজানো, উপস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যাবহার হয়।
৭. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এর জন্য
৮. শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজে
৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনার কাজে
১০. আধুনিক সামরিক বাহিনীতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কম্পিউটার ব্যাবহার হয়
১১. ব্যাংকিংয়ের কাজে
১২.ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে
১৩. কল-কারখানার কাজে
১৪. প্রকাশনার কাজে
১৫.সংবাদপত্র
১৬. টেলি কমিউনিকেশনের কাজে
১৭.চিকিৎসাবিজ্ঞানে
১৮. মহাকাশ গবেষণার কাজে
১৯,বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ
২০, শিক্ষার কাজে
২১, আবহাওয়ার কাজে

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, আজকের পোষ্টটিতে ”কম্পিউটারের জনক কে কেন তাকে জনক বলা হয়” এই বিষয়টি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আজকের পোষ্টটি সম্পর্কে ভালো ধারনা লাভ করেছেন। তাই আশা করছি, ”কম্পিউটারের জনক কে কেন তাকে জনক বলা হয়” নিয়ে লিখা এই পোষ্টটি আপনাদের উপকারে আসবে।