free hit counter
প্রযুক্তি

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তা

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং এটির প্রয়োজনীয়তাই বা কি? এই প্রশ্নটি এখন সবার। উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সবাই এখন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে চায়। বর্তমান যুগ ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগ। এখন ঘরে বসে অনলাইনে কেনা কাটা থেকে শুরু করে, অনলাইনে ইনকাম করা সবটাই এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর নির্ভর করে।

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে মানুষ মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় পন্যের বিজ্ঞাপনকেই বুঝে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা কি তাই? আসুন আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা জানার চেষ্টা করি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং এর সাথে আরো কি কি ব্যাপার জড়িত আছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপগুলোই বা কি? কি কি উপায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়? এই সব বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। কথা না বাড়িয়ে আসুন জেনে নেই ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

বর্তমান প্রচারের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। তবে এটা বোঝার আগে আপনাকে অবশ্যই মার্কেটিং কি বুঝতে হবে।
মার্কেটিং কাকে বলে?

মার্কেটিং, বিপণন বা বাজারজাতকরণ একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক কাজ। এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যবসায়ী বা কোম্পানি তাদের পণ্য বা সেবা ভোক্তাদের নিকট পৌছে দেন। একজন ক্রেতা বা ভোক্তার অথবা সেবা গ্রহীতার ঠিক কি প্রয়োজন, কতটুকু প্রয়োজন, কিভাবে প্রয়োজন, কেন প্রয়োজন এইসবগুলো ধারাবাহিকতার উত্তরের সমীক্ষেই একটি কোম্পানি পণ্য বা সেবা দিয়ে থাকেন এবং যখনই পণ্য বা সেবাটি ভোক্তার নিকট পৌছে যায় তখনই বিপণন বা মার্কেটিংয়ের কাজ শেষ হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং মানে অনলাইনে পন্য বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন প্রচার করাকেই বুঝায়। এখন সেটা হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, হতে পারে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর মাধ্যমে, হতে পারে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে, আবার হতে পারে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

আবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া যেমন, টিভি, রেডিও ইত্যাদির মাধ্যমে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করাটাও এক ধরণের ডিজিটাল মার্কেটিং। এছাড়া মোবাইলে ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জিং, ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড, মোবাইল এপ্লিকেশনের মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণাকেও ডিজিটাল মার্কেটিং বলা যেতে পারে।

বুঝতেই পারছেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেকে ও নিজের ব্যবসার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কোনো বিকল্প নেই।

ডিজিটাল শব্দটির অর্থটাই এমন যে সবকিছু আধুনিক প্রক্রিয়ায় হবে। সময়, শ্রম, লোকবল কম লাগবে। ডিজিটাল বিপণনের ক্ষেত্রে কোনো পণ্যের জন্য একজন বিক্রেতাকে ঘরে ঘরে পণ্য হাতে নিয়া অবিশ্বাস্য অফার বলে ছুটতে হয় না। বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ বলা হয়। যোগাযোগ মাধ্যমটা খুবই সহজ এখন। এখন খুবই দ্রুতই পৃথিবীর যে কারো সাথে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। যোগাযোগের এই সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়েছে ডিজিটাল বিপণন বা মার্কেটিং। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন, ওয়েবসাইটসহ আরো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়েই একটি কোম্পানি বা একজ বিক্রেতা সহজে তার ঘরে বসে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে তার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সকলকে ধারণা দিয়ে দেন। এতে সময়ের অপচয় কমে। পরিশ্রম কম লাগে। লোকবলও খুবই কম লাগে তবে কাজ হয় আগের তুলনায় বেশী। মুনাফা আর বিক্রয় তবে বেশীই হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন প্রয়োজন?

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অপরিহার্য অংশ। কারণ মানুষ এখন যেকোন পণ্য ক্রয় করার আগে ইন্টারনেটে ওই পন্য সম্পর্কে জেনে বুঝে তারপর ক্রয় করে। তাছাড়া মানুষ এখন দোকানে ঘুরে ঘুরে না কিনে, অনলাইন থেকেই বেশিরভাগ কেনা কাটা করে থাকে।

তাই আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন, তাহলে আপনার উচিত ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে নিজের ব্যবসাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। আসুন আমরা বর্তমান যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তাগুলো জেনে নেই।

সমগ্র বিশ্বে মোট প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। আর এই সংখ্যাটি নিয়মিতভাবে বেড়ে চলেছে। মানুষ যত বেশি ইন্টারনেটে ব্যবহার করবে তত বেশি মানুষের সামনে আপনি আপনার পণ্যের মার্কেটিং করতে পারবেন। আর ইন্টারনেটে পণ্যের মার্কেটিং এ ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব কতখানি তা আপনি আমাদের উপরের আলোচনা পড়লেই বুঝতে পারার কথা।

বর্তমান বিশ্বে মোট প্রায় ৫.১১ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। আর এই সংখ্যা খুবই দ্রুত গতির সাথে বেড়ে চলেছে। এখন অনেক মানুষ আছে যারা একাধিক মোবাইল ব্যবহার করেন তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্যে। আর এই মোবাইল ফোন হচ্ছে ক্রেতার তথ্য কালেকশনের অন্যতম মাধ্যম। কারণ প্রায় সকল মোবাইল ব্যবহারকারীই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। তাই এই ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়বে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।

আপনি জেনে অবাক হবে যে, একটা স্ট্যাটিসটিক্সের মাধ্যমে ইউজার সার্ভে রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, প্রায় ৮৪% বিক্রেতা, মার্কেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্রেতার তথ্য সংগ্রহ করার জন্যে।

এছাড়া আরো একটি সার্ভে রেজাল্ট দেখিয়েছে যে, সারা বিশ্বে ৫৫% মানুষ যেকোন পন্য ক্রয়ের জন্যে সামাজিক মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। মানে হচ্ছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাদের পছন্দের পণ্য সম্পর্কে তথ্য এবং রিভিউ জানতে পারে। আর ক্রেতা যার প্রেজেন্টেশন ও পণ্যকে পছন্দ করবে তার কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই ক্রয় করে ফেলে।

৪৩% ই-কমার্স ক্রেতা গুগলে সার্চ করে তাদের পছন্দের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আসে।
বিশ্বে প্রায় ৫১% ক্রেতা তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা অনলাইন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করে থাকে। এই সংখ্যাটিও দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
৭০% ক্রেতা যেকোন পণ্য কেনার আগে ইন্টার্নেটে সার্চ দিয়ে সেই পণ্য সম্পর্কে যাচাই বাছাই করেন। পণ্যটি পচ্ছন্দ হলে সাথে সাথেই ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করে ফেলেন।

আরো একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে, ৮২% ক্রেতা মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই বিক্রেতার সাথে তাদের লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলতে চান।
আপনি হয়ত এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন, আপনার ক্রেতারা কিভাবে অনলাইনে তাদের কেনাকাটা সম্পন্ন করেন। তাই আপনি যদি এই ডিজিটাল যুগে, ডিজিটাল মার্কেটে টিকে থাকতে চান, তাহলে আপনার এখনই ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ভাবা উচিত।

কারণ আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু বসে নেই, সে কিন্তু তার ব্যবসাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন। Coca-Cola, Unilever, Nestlé এর মতো বড় বড় কোম্পানীগুলোও কিন্তু বেশ তোড়জোড়ের সাথেই বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়াতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

এতো গেল ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে আমরা কি বুঝি। কিন্তু এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপগুলো কি কি? কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই ধাপগুলো কি হতে পারে? আসুন আমরা এবার এই ধাপগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপসমূহ

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেকগুলো ধাপ আছে। যেগুলো প্রয়োগ করে মূলত ডিজিটাল মার্কেটাররা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল মার্কেটিং করে থাকেন। নিচের লিস্টে আপনি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো ধাপ সম্পর্কে জানতে পারবেন। আসুন লিস্টটা দেখে নেই।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
এসইএম বা সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং
কন্টেন্ট মার্কেটিং
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা এসএমএম
এফিলিয়েট মার্কেটিং
ইমেইল মার্কেটিং
ই-কমার্স প্রোডাক্ট মার্কেটিং
সিপিএ মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রসূমহ

অনেকের ধারণা ডিজিটাল মার্কেটিং বা যে কোনো ব্যবসায়ই যদি ডিজিটাল শব্দটা ব্যবহার করে তবেই নতুন কিছু হবে বা সবার জন্য সহজ না এমন কিছু। এইরকম ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অনলাইন বিজনেস অনেক বৃহৎ কিছু। তবে এর মানে এটা না যে সবকিছুই নতুন। আপনার ব্যবসায়ের ধারাটা আগের মতনই থাকবে তবে পদ্ধতিগুলোতে পরিবর্তন আসবে। আপনি ঘানি থেকে সরিষার তেল উৎপাদন করুন বা অনলাইনে ব্যবসা করুন, যাই করুন না কেনো ডিজিটাল বিপণন বা মার্কেটিং হচ্ছে সবার জন্যই।

প্রশ্ন : আমি ডিজিটাল মার্কেট ব্যবস্থাকে আমার ব্যবসায়ে ব্যবহার করতে চাই। এই বিষয়ে আমার ধারণা অল্প সল্প। এখন আমি কিভাবে শুরু করবো?

উত্তর : প্রথমত আপনাকে নতুনত্ব গ্রহন করার মানসিকীতায় নিজেকে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপরের সবটুকু বলছি
ডিজিটাল মার্কেটিং কন্সেপ্ট ব্যবহার করার উপায়

বেশী কিছু উপায় রয়েছে। আপনি চাইলে সবগুলো উপায়কে কাজে লাগিয়ে নিতে পারেন। আবার চাইলেই যে কোনো একটি বা দুটি উপায়কে কাজে লাগাতে পারেন। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বেশ কিছু উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

এসইও : SEO এর পূর্ণরূপ Search Engine Optimization. আমরা যেকোনো কাজেই কিছু জানতে হলে খুঁজতে হলে প্রথমেই গুগলে তা খুঁজে নেই। দিনে অন্তত ১০(নূন্যতম) এরও অধিক খোঁজ গুগলে করে থাকেন। তবে কেমন হয় যদি আপনার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপনটি গুগলে সার্চ করলেই ভেসে উঠলে? নিশ্চয়ই ভালো হয়। একবার ভাবুন প্রতিনিয়ত প্রতিমুহূর্তে কি পরিমান মানুষ গুগলে কিছু না কিছু খোঁজে। আর যতবারই খুঁজুক না কেনো প্রতিদিন একবার হলেও সে আপনার পণ্যের একটি ছোট্ট বিজ্ঞাপন দেখবেই। এতে আপনার লাভ হবে কি পরিমান আন্দাজ করা যায়? ঠিকই এই কাজটিকেই বলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এর জন্য গুগলের Adword অপশনটি আপনাকে সাহায্য করবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

আমরা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিনই আমরা একবার করে হলেও আমাদের সোশ্যাল একাউন্টায় একটু করে টু মেরে আসি। এখন ভাবুন আপনার সোশ্যাল একাউন্টে যদি আপনি আপনার পন্য সম্পর্কিত তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরতে পারেন তবে কেমন হবে? ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ এইরকম আরো বহু সোশ্যাল মিডিয়া আছে যা আপনাকে সুযোগ করে দেয় আপনার ব্যবসাকে সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য। ফেসবুকের বিজনেস পেজ ফিচারকে আপনি আপনার নিজের একটি ব্যবসায়ের একটি ব্যবসায়িক পেইজ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। ফেসবুক আপনাকে আরো বহু সুবিধা দিবে। আপনি চাইলে পেইড এ্যাড সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে কাস্টম অ্যাড দিতে পারেন। এতে আপনার নির্ধারিত এলাকায়, নির্ধারিত বয়সের মাপকাঠিতে, নির্ধারিত সংখ্যক ব্যক্তিদেরই ফেসবুক আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখাবে। যেমনটা আপনি চাইবেন ঠিক তেমনটাই। আর সোশ্যাল মিডিয়াকে এইভাবে ব্যবহার করাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে।

ই-মেইল মার্কেটিং

আমরা প্রায়ই দেখি আমাদের ইমেইলে কিছু এ্যাড থাকে অথবা কিছু ব্র্যান্ড থেকে ইমেইল এসে থাকে। এই মেইল গুলো চেক করলে দেখা যায় কোনো একটি ব্র্যান্ড তাদের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে একটা মেইল করেছেন। মূলত এটিকেই ইমেইল মার্কেটিং বলে। ঠিক এইভাবে আপনি বহু মানুষকে আপনার পন্য, ব্র্যান্ড বা সেবা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে আপনার মেইলটি জুড়ে দিতে পারেন। ব্যাস এভাবেই হয়ে গেলো ইমেইল মার্কেটিং।
ভিডিও দ্বারা মার্কেটিং

আমরা প্রায়ই বিভিন্ন পণ্যের কিছু এ্যাড ভিডিও দেখি যা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা থাকে। ভিডিও মার্কেটিংয়ে সবথেকে বেশী উপকার করে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ইউটিউব। ইউটিউবে চ্যানেল খুলার মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের ভিডিও আপলোড করতে পারেন। তাছাড়া ইউটিউব এখানে আপনাকে যেভাবে সাহায্য করে তা শুনলেই সত্যিই আপনি অবাক হয়ে যাবেন। ইউটিউবে একজন ইউজার যা যা কিওয়ার্ড বেশী সার্চ করে বা খোঁজে ঠিক ঐ বিষয় সম্পর্কিত ভিডিওগুলোই একজন ইউজার বেশী পান। ধরুন আপনি একজন ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী। যদি কেউ একজন কোনো একটি ইলেকট্রনিক পণ্যের রিভিউ বা অন্য কিছু ইউটিউব সার্চ করে তবে ইউটিউব আপনার তৈরী করা চ্যানেলের ভিডিওটিও দেখাবে যদি ইউটিউবে আপনার নিজস্ব কোনো চ্যানেল থেকে থাকে। এতে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণাও পাওয়া যায় পাশাপাশি পণ্যের মার্কেটিংও হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল বা অনলাইন মার্কেটিংয়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সাবলীল ভাষায় বুঝানোটা সোজা হবে না, একটু ব্যাখা করা যাক। ধরুন আপনি আপনার পাশের মুদি দোকান থেকে কিছু জিনিস কিনলেন। দোকানদার আপনাকে জানালেন যে নিয়মিত তার দোকান থেকেই যেন আপনি কেনাকাটা করেন এবং আপনি যেম আপনার বন্ধু বান্ধবদেরও এই দোকান থেকেই কেনাকাটা করার জন্য বলেন। প্রয়োজনে দোকানদার আপনাকে প্রতি কাস্টমারের জন্য কিছু কমিশন দিবেন। অর্থাৎ আপনি যাদের রেফার করে দিবেন বা যারা আপনার কথা বলে দোকান থেকে কেনাকাটা করবে তাদের এই দোকানে পাঠানোর জন্য আপনি কমিশন পাবেন। ঠিক এটাতে একটু ডিজিটালাইজেশন আনুন আপনার পণ্যটিকে কিছু মানুষদের কিনতে বলুন। সেই মানুষদের বলুন তারা যেন আপনার পণ্যটি অন্য কিছু মানুষদের ক্রয় করায়। প্রতি ক্রয়ে তাদের কিছু কমিশনের কথা বলুন। আপনি যদি আপনার এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তবে অভিনন্দন। আপনিও শিখে গেলেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে আপনাকে অবশ্যই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ইউটিউব চ্যানেল কিনবা টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। মূলত এইগুলো ব্যবহার করেই আপনি আপনার পণ্যের ব্যাপারে মানুষদের মাঝে ধারণা পাঠাবেন এবং এভাবেই মার্কেটিং বৃদ্ধি পাবে।

ওয়েব অ্যানালাইটিক্স

আমরা দিনের অর্ধেক সময় ব্যস্ত থাকি ফোনের সাথে। সারাদিনে আমারা কতকিছুই না আমাদের ফোনে সার্চ করি। আমাদের ফোনের মাধ্যমে ওয়েবে কিন্তু আমাদের দৈনন্দিনের অনেক তথ্যই থাকে। ধরুন আপনি কয়েকদিন যাবত ফাস্টফুড সম্পর্কে ওয়েবে সার্চ করছেন। ওয়েব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওয়েব এনালিটিক্স আপনাকে ফাস্টফুড রিলেটেড তথ্যগুলোই বেশী দিবে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন বিভিন্ন ফাস্টফুডের নাম আপনার সার্চইঞ্জিন গুলো বেশী দেখাবে। ঠিক এটাকেই বলা হয় ওয়েব এনালিটিক্স। এটাও এক প্রকারের ডিজিটাল মার্কেটিং। এভাবেই পণ্যের প্রচারও বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি পণ্যের বিক্রয়প্রচারও বাড়ে।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট মার্কেটিং

যাক ভালো! আপনি একটি ব্যবসায় দাঁড় করিয়েই ফেললেন। তবে আপনার গ্রাহক বা ভোক্তারা কি শুধু আপনার দোকান বা শপে এসেই আপনার থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহন করবে? আপনার একার পক্ষেও সম্ভব না একসাথে বহু ভোক্তা বা ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করা। তাই আপনার এমন একটা কিছু করতে হবে যেন আপনার ক্রেতা বা ভোক্তারা মুহূর্তের মধ্যেই কান্ক্ষিত সেবা পেতে পারেন। এই কাজটিতে আপনি সাহায্য পেতে পারেন নিজের ব্যবসায়িক একটি ওয়েবসাইট তৈরীর মাধ্যমে। আপনার ওয়েবসাইট আপনার ব্যবসায়িক তথ্য থাকবে যেখানে একজন ক্রেতা আপনার পণ্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। আপনার পণ্যটি অর্ডারও করতে পারবে। এমনকি ক্রেতারা যদি নির্দিষ্ট কোনো পণ্য গুগল করেন যা আপনার ওয়েবসাইটেও আছে তখন গুগল আপনার ওয়েবসাইটটি তাদের সার্চে প্রথমে রাখবে। আপনার ওয়েবসাইটটি যত বেশী তথ্যবহুল হবে ততবেশীই ক্রেতারা আগ্রহ পাবে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সুবিধাসূমহ

ডিজিটাল মার্কেট হচ্ছে মার্কেটিং ধারার এক যুগান্তকারী বিপ্লব। আধুনিক এই পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে যা আমরা প্রত্যক্ষ ভাবেই উপলব্ধি করতে পারি। নিচে ডিজিটালভাবে মার্কেটিংয়ের কিছু সুবিধা তুলে ধরা হলো :
১. এই পদ্ধতির ব্যবহারে পণ্যের যথাযথ মার্কেটিং নিশ্চিত করা যায় এবং এটি খুবই গ্রহনযোগ্য ও সুবিধাজনক।
২. সনাতন বা প্রথাগত মার্কেটিং ব্যবস্থার তুলনায় এই পদ্ধতি অধিক সফলতা বহন করে এবং এতে মুনাফা বেশী হয়।
৩. ডিজিটাল মার্কেট পদ্ধতি ব্যবহারে আপনি আপনার নির্ধারিত কাস্টমার বা গ্রাহকের নিকট আপনার পণ্য পৌছে দিতে পারেন যা প্রথাগত মার্কেটিং পদ্ধতিতে মটেই সম্ভব নয়।
৪. এই মার্কেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আপনার আহামরি কর্মচারীর প্রয়োজন পরে না। অল্পকিছু সংখ্যক ডিজিটাল মার্কেটার নিয়েই আপনি এগিয়ে যেতে পারেন তবে এমন কিছু লোকবল আপনার অবশ্যই প্রয়োজন পড়বে যারা কম্পিউটার চালনায় দক্ষ।
৫. ডিজিটাল মার্কেট করার ক্ষেত্রে সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই বহু মানুষের নিকট পণ্যের ধারণা পৌছে দেওয়া যায়। এতে বহু সময়ের অপচয় রোধ হয়।
৬. প্রথাগত মার্কেটিং ব্যবহারে মধ্যস্থ ব্যবসায়ী বেড়ে যায়। এর বিপরীত প্রভাবটাই ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগ করতে হয়। তবে ডিজিটাল মার্কেট এর ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটার কোনো সুযোগ বিন্দুমাত্র নেই। আপনার পণ্যটি একজন ক্রেতা নিজে পছন্দ করবেন এবং নিজেই অর্ডার করবেন। এতে শুধুমাত্র দুটি পক্ষই থাকে। এই ক্রেতা ন্যায্য ভ্যালু পায়।
কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করবেন?

এক্ষেত্রে মূলত আপনাকে সনাতন বিপণন পদ্ধতিকে বাদ দিতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে হাটতে হবে। নিজিকে মানিয়ে নিতে হবে। কোনো ভাবেই এমন ধারণা রাখা যাবে না যে আপনি ডিজিটাল মার্কেট গ্রহন করলে পিছিয়ে পড়বেন। ইন্টারনেট এবল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার।

অবশ্যই যেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে

অনলাইন মার্কেটিং আপনার পণ্য বা সেবাকে একদম ক্রেতার নিকটবর্তী নিয়ে এসেছে। এখন আর আপনার অহেতুক সময় নষ্ট করতে হবে না। ব্যবসা যেহেতু সহজলভ্য হচ্ছে ঝুঁকি এবং অনৈতিক কাজের সম্ভাবনাও বেড়েই চলছে। আপনাকে ব্যবসা শুরু করার পূর্বে ধৈর্য্য ধরার কথা অনেকেই হয়তো বলেছে। হাল ছাড়তে নিষেধও করেছে। আপনি তা করেছেন এবং এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও আপনাকে এই ধৈর্য্য ধারণ করতেই হবে। ঠিক একদিনেই আপনি সফল হবেনা না। তবে একদিন না একদিন ঠিকই সফল হবেন। কেউই সফলতাকে নিজের বানিয়ে নিয়ে আসতে পারিনি। তাই আপনাকেও সফলতার জন্য নিজেই সফলতার কাছে যেতে হবে। আপনি কোনো ভাবেই আপনার ক্রেতাদের নষ্ট পণ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না। এতে আপনার ব্যবসায়ের জন্য অভিশাপ বয়ে আসতে পারে। এমন কিছু অসাধু চক্র আছে যারা ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণাকে অনৈতিক কাজের হাতিয়ার হিসেবে ধরে নিয়েছে। মনে রাখতে হবে উপকারটুকুই যেখানে কষ্টসাধ্য, অপকারটুকু সেখানে ক্ষণস্থায়ী। তাই যদি কেউ এমন ধারণা পোষণ করেও থাকেন যে উনি ডিজিটাল বিপণন বা মার্কেটিংয়ের ধারণাকে সম্পূর্ণ বেআইনি কাজে ব্যবহার করবেন তবে তা তার জন্য মস্ত ভুল হিসেবপ ধারণ করবে। যাই হোক, শুধুমাত্র অসাধু ব্যক্তিবর্গদের জন্যই মানুষ ডিজিটাল মার্কেটকে ভুল ভেবে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

যেকোনো ব্যবসায় শুরু পূর্বেই আমরা একটা বাজেট বরাদ্দ করি। বরাদ্দকৃত বাজেটে অনেক কিছু বিষয় হাইলাইট করা থাকে। আচ্ছা আমরা কি মার্কেটিং বিভাগটার জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখি। হয়তো আমরা নিজেরাও জানি না তবে মার্কেটিংয়ের এই অংশটাই আমাদের সম্পূর্ণ বাজেটকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এতেই আমাদের ব্যবসা সঠিকভাবে এগিয়ে উঠে। আমাদের উচিত ডিজিটাল মার্কেটিং কে প্রমোট করা। নিজারও উৎসাহিত হওয়া অন্যদেরও উৎসাহিত করা। এই ডিজিটাল মার্কেটকে এখন এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয় যে কলেজ থেকে শুরু করে ভার্সিটি, অনার্স অবদি মার্কেটিং সাবজেক্টের সাথে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া থাকে। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণাকে এগিয়ে নেই। তবেই আমাদের গতানুগতিক মার্কেটিং ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আমাদের একটি ইচ্ছাই পারে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে।
আশাকরি আজকের আর্টিকেল থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এই বিষয়ে যদি আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবনে। আমি আপনাদের সঠিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো।