free hit counter
ক্লাউড কম্পিউটিং: কি, কিভাবে কাজ করে, প্রকারভেদ , সুবিধা এবং অসুবিধা এবং এর ভবিষ্যৎ
প্রযুক্তি

ক্লাউড কম্পিউটিং : কি, কিভাবে কাজ করে, প্রকারভেদ, সুবিধা এবং অসুবিধা এবং এর ভবিষ্যৎ

ক্লাউড কম্পিউটিং: কি, কিভাবে কাজ করে, প্রকারভেদ , সুবিধা এবং অসুবিধা এবং এর ভবিষ্যৎ

ক্লাউড কম্পিউটিং:

সফটওয়্যারের জগতে ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) একটি পরিচিত নাম। তবে প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে, এর সঙ্গে ক্লাউড বা মেঘের কোনো সম্পর্ক নেই। ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিশেষ পরিসেবা বা একটা ব্যবসায়িক মডেল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্স শেয়ার, কম্পিউটিং সেবা, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার প্রভৃতি সেবা সহজে ক্রেতার সুবিধা মতো, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করা বা ভাড়া দেওয়া হয়।

ক্লাউড নামকরণ কেন?

“ক্লাউড” শব্দটি একটি নেটওয়ার্ক ডিজাইন থেকে এসেছে যা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ডিভাইসের অবস্থান এবং সেখানে আন্তঃসংযোগের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই নেটওয়ার্ক ডিজাইনের আকারটি ক্লাউড বা মেঘের মতো ছিল। যার ফলশ্রুতিতে এরূপ নামকরণ।

ক্লাউড সার্ভার :

ক্লাউড সার্ভার হচ্ছে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাছ থেকে সার্ভার ভাড়া নেয়া। ক্লাউড সার্ভার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটারের ডাটা স্টোরেজ কি তার সুবিধা মত ভাড়া দিয়ে থাকে। ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্লাউড সার্ভার কে মূলত তিনটি বৈশিষ্ট্য ফলো করতে হয়

  • প্রতিষ্ঠানকে ক্রেতার ছোট বা বড় যে কোন স্টোরেজে চাহিদাই মেটাতে হবে।
  • অন ডিমান্ড মানে ক্রেতা যখন চাইবে তখনই তাকে ক্লাউড সার্ভার এর সেবা প্রদান করতে হবে।
  • ক্লাউড সার্ভার এর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পে এজ ইউ গো । এটি মূলত পেমেন্ট মডেল। ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস রেজাল্ট করতে হবে না। এটা যা ব্যবহার করবে কেবল মাত্র তাঁর জন্যই ক্লাউড সার্ভার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কে পেমেন্ট দিতে হবে।

ক্লাউড সার্ভার এবং ডেডিকেটেড সার্ভারের (নরমাল সার্ভার) মধ্যে পার্থক্য:

১. প্রাপ্যতা : ক্লাউড সার্ভারগুলি কোনও সমস্যা হলে একেবারে ডাউন হয়ে যায় না, একাধিক নোডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ নোডের ওয়্যারলোডটি ধরে নেয় এবং এটি আপনার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশনের জন্য শূন্য ডাউনটাইম এবং সর্বাধিক নেটওয়ার্ক আপটাইম নিশ্চিত করে।

ডেডিকেটেড সার্ভারগুলির সাথে, ডাউনটাইম এবং হার্ডওয়্যার ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকে কারণ তাদের লোড ভাগ করার জন্য একাধিক নোড নেই।

২. রিসোর্স বৃদ্ধিকরণ : উড সার্ভারে বরাদ্দকৃত রিসোর্স বৃদ্ধি বা হ্রাস — কম্পিউটিং কোর, র‍্যাম, এবং স্টোরেজ ও সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি খুব সহজ এবং সময় কম লাগে ।

ডেডিকেটেড সার্ভারে রিসোর্স বৃদ্ধি করা কঠিন এবং সময় ব্যয়কারী টাস্ক ।

৩. তথ্য সুরক্ষা নিরাপত্তা :  ক্লাউড সার্ভারে আপনার পরিষেবার জন্য আপনার প্রোভাইডারকে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেডিকেটেড আইটি সাপোর্ট, সুরক্ষা এবং এনক্রিপশন, ফায়ারওয়াল এবং ডেটা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারীরা তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ।

ডেডিকেটেড সার্ভারে আপনাকে আপনার সংবেদনশীল এবং গোপনীয় ব্যবসায়িক তথ্য নিরাপদ করার জন্য আপনার ডেডিকেটেড সার্ভার আপগ্রেড করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি নিতে হবে।

৪. খরচ ও কর্মদক্ষতা : ক্লাউড সার্ভারে ঘন্টাভিত্তিক,রিসোর্স-ভিত্তিক বিলিং ক্লাউড সার্ভার হোস্টিং এর বড় বেনিফিটগুলির মধ্যে অন্যতম । সাধারণতঃ আপনি র‍্যাম, ব্যান্ডউইথ, এসকিউএল স্টোরেজ এবং ডিস্ক স্পেস এর ইউজ হিসাবে অর্থ প্রদান করবেন, অর্থাত আপনি শুধুমাত্র সেই কম্পিউটিং রিসোর্স গুলির জন্য অর্থ প্রদান করেন যা আপনি আসলে ব্যবহার করেন। এসব সার্ভিস একইসাথে দেওয়া বেশ ব্যয়বহুল, কিন্তু ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডারেরা তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং ডেডিকেটেড সার্ভারের চেয়ে তুলনমূলক কম দামে আপনার কাছে বিক্রি করে দেয় ।

ডেডিকেটেড সার্ভারে সাধারণত মাসিক বিল দেওয়া হয় এবং আপনি কতগুলি স্পেস ব্যবহার করেন তার পরিমাণ অনুসারে পরিশোধ করতে হবে এদের মুল্য তুলনামুলক ভাবে বেশি ।

৫. নিয়ন্ত্রণ : ক্লাউড সার্ভারে ইউজারের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল নেই এবং অনেক কিছু ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার কর্তৃক প্রদত্ত

ডেডিকেটেড সার্ভারে ইউজারের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল থাকে । যেমন একটি অ্যাপ্লিকেশন, প্রোগ্রাম এবং কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা যোগ করতে পারে ।

ইউজার এর উপর ভিত্তি করে ক্লাউড কম্পিউটিং মূলত ৪ ধরনের হয়ে থাকে:

১. পাবলিক : পাবলিক ক্লাউড বলতে বোঝায় যেখানে একই রিসোর্স কয়েকজন থেকে শুরু করে, কয়েক হাজার কিংবা কয়েক লাখ গ্রাহক শেয়ার করতে পারে। পাবলিক ক্লাউডে সাধারণত সফটওয়্যার সেবা দেয়া হয়। যেমনঃ গুগল এর জিমেইল একটি পাবলিক ক্লাউড এর উদাহরণ। যেখানে প্রতিটি জিমেইল একাউন্ট আলাদা পাসওয়ার্ড এর সাহায্যে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু যেখানে এই সফটওয়্যারটি স্টোর করা আছে সেটি ১ বিলিয়ন মানুষ শেয়ার করছে। এটাই মূলত পাবলিক ক্লাউড সেবার মূল ধারণা।

২. প্রাইভেট : এটা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর বাইরে কারো সাথে শেয়ার করার সুযোগ নেই।

৩. হাইব্রিড : এটাতে পাবলিক এবং প্রাইভেট দুইটাই আছে। যেমন, একটা কোম্পানি তাদের কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পাবলিক ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে, আবার কাস্টমারদের ডাটা রাখার জন্য প্রাইভেট ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে।

৪. কমিউনিটি : এটা একাধিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার করতে পারে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কারো এর একসেস নেই।

সার্ভিসের উপর ভিত্তি করে ক্লাউড কম্পিউটিং কে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:

IaaS: Infrastructure-as-a-Service: এতে অবকাঠামো বা Infrastructure ভাড়া দেয়া হয়। যেমন, কারো যদি একটা মেশিন লাগে তার কাজের জন্য তাহলে ভার্চুয়ালি সেই মেশিন ভাড়া দেয়া হল কিংবা নেটওয়ার্কিং সেবা দেয়া হল। যদিও গ্রাহকের কাছে এর কোনো হার্ডওয়্যার রূপ নাই তবে এটি একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার এর মতই কাজ করে। এখানে ইউজার নিজের মত করে সেই মেশিনে দরকারী কাজ করতে পারেন।এবং পুরো নিয়ন্ত্রণ ইউজারের হাতে থাকে এই সিস্টেমে।

আর খুব সহজ করতে বলতে গেলে, ধরুন আপনি এক কাপ চা বানাবেন। ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে চা-পাতা, দুধ এবং চিনি দিবে। সেসব ক্লাউড থেকে ভাড়া করে আপনি নিজের মত করে চা বানাতে পারবেন। গাড় লিকার, হালকা লিকার যেমন খুশি। ক্লাউড কোম্পানির কাজ হবে আপনাকে শুধু উপাদান ভাড়া দেয়া। এর বাইরে কিভাবে বানাবেন, কতটুকু আগুন দিবেন, পানি কতটুকু গরম হবে সেসব নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে।

PaaS: Platform-as-a-Service: এতে প্লাটফর্ম ভাড়া দেয়া হয়। যেমনঃ অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা কোনো সার্ভার বা মনিটরিং সিস্টেম। ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেয়ার পর হয়ত ইউজার দেখল তার কাজের জন্য কিছু বাড়তি এপ্লিকেশন বা প্লাটফর্ম লাগবে। তখন চাইলে সেটা ইউজার নিজেও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তৈরি করতে পারে কিংবা রেডিমেড ক্লাউড থেকে প্রয়োজনীয় সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা এপ্লিকেশান ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে একটা সমস্যা হল, উক্ত সিস্টেম, ডাটাবেজ কিংবা এপ্লিকেশান এর নিয়ন্ত্রণ ইউজারের থাকবে না যেটা শুধু ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ ছিল।

আগের চা এর উদাহরণ টা দিয়ে বলতে গেলে এই পর্যায়ে ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে চা বানানোর জন্য রেডিমেড গরম পানি কিংবা আরো রেডিমেড চাইলে লিকার ও দিয়ে দিবে। আপনার কাজ হবে দুধ, চিনি মিক্স করে কাপে ঢালা। এক্ষেত্রে আপনি নিজের ইচ্ছেমত পানির তাপমাত্রা বা লিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আপনাকে যেটা দেয়া হবে সেটা দিয়েই চা বানাতে হবে।

SaaS: Software-as-a-Service: এটা হচ্ছে ক্লাউডে চলা কোনো সফটওয়ার যেটা ইউজাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন তাদের মোবাইল ফোন কিংবা পিসির সাহায্যে। এদের এক কথায় ওয়েব সার্ভিস ও বলা যায়। এখানে ইউজারকে উক্ত সফটওয়্যার নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়না। যেমন, মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫।

ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে দিবে। সেটা র-টি, মিল্ক-টি, ব্ল্যাক-টি, কোল্ড-টি, আসাম-

টি যা ই হোক না কেন। এখানে আপনার কাজ শুধু আরাম করে খাওয়া। কিভাবে চা বানাতে

হবে, বানানোর পর পরিবেশন করতে হবে কিছু নিয়েই আর আপনার মাথাব্যাথা নাই। এই

মাথাব্যাথা রেস্টুরেন্ট এর বা ক্লাউড কোম্পানির।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা:

১. কম খরচ : যেহেতু এতে আলাদা কোন সফটওয়্যার কেনার প্রয়োজন হয় না বা কোন হার্ডওয়্যার এর প্রয়োজন হয় না। তাই স্বাভাবিক ভাবে খরচ কম হবেই।

২. সহজে ব্যবহার : ক্লাউড কম্পিউটিং এর কাজ গুলো যেকোনো স্থানে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা যায় তাই এটা সহজে ব্যবহার যোগ্য।

৩. অটো সফটওয়্যার আপডেট : ক্লাউড কম্পিউটিং এর সফটওয়্যার গুলো আপনার আপডেট করার প্রয়োজন নেই। এগুলো অটো ভাবে আপডেট হয়ে থাকে। তাই আলাদা ভাবে এটা মেইনটেন্স এর খরচ লাগে না।

৪. যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচ : ক্লাউড কম্পিউটিং এ আপনি যত টুকু ব্যবহার করবেন শুধু মাত্র ততটুকুর জন্য পয়সা আপনাকে গুনতে হবে। যেটা কিনা ডেস্কটপ কম্পিউটিং এ সম্ভব না।

৫. ডকুমেন্ট কন্ট্রোল : মনে করুন কোন একটা অফিসে যদি ক্লাউড কম্পিউটিং না ব্যবহার করে তবে সেই অফিসের ডকুমেন্ট সমূহ কন্ট্রোল করতে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেবার জন্য আলাদা লোকের প্রয়োজন হবে কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এ সেই ধরনের কোন সমস্যা নেই। অতিরিক্ত লোক ছারাই সকল ডকুমেন্ট কন্ট্রোল করা যায়।

৬. সম্পূর্ণ সিকিউ : ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পূর্ণ সিকিউর কারন এতে আপনার ডাটা হারানোর বা নষ্ট হবার কোন চান্স থাকে না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার হারিয়ে যায়। হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে যায় ইত্যাদি সমস্যা থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পূর্ণ মুক্ত।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর অসুবিধা:

এটা তেমন কিছু না কেননা সব সার্ভিস এর কিছু না কিছু সুবিধা অসুবিধা

Related posts

গুগলের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির মামলা

News Desk

২৪৫ টাকায় গুগলের ডোমেইন কিনেছিলেন তিনি

News Desk

কন্নড় ভারতের সবচেয়ে কুৎসিত ভাষা, বিপাকে গুগল

News Desk