free hit counter
খেলা

সিরিজের প্রাপ্তি সোহান ও নাসুম

শেষ ভালো যার সব ভালো তার। বহুলচর্চিত প্রবাদকে অবলম্বন করে স্বস্তি অনুভব করতেই পারে বাংলাদেশ দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে কঠিন একটি সফর শেষ করেছেন টাইগাররা। টেস্ট ও টি-২০তে স্বাগতিকদের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে সফরকারী দল। সফরের শেষ প্রান্তে ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তামিম ইকবালের দল। এবার হোম কন্ডিশনেই ক্যারিবিয়ানদের গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তামিম বাহিনী।

প্রথম ম্যাচে ৬, দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ এবং শনিবার রাতে উইন্ডিজদের ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ দল। স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে ধুঁকেছেন স্বাগতিকরা। নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামরা মাথা তুলেই দাঁড়াতে দেননি শাই হোপ-কাইল মেয়ার্সদের।



এমন কন্ডিশন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খুব চেনা। ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের গায়ানা যেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পিচ, লো বাউন্সের উইকেটের সৌরভই উপহার দিয়েছে টাইগারদের। কন্ডিশন সহায়ক বলেই তিনটি জয়কে খুব উঁচুতে রাখছেন না অধিনায়ক তামিম। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি এ জয়গুলোকে খুব উঁচুতে রাখতে চাই না। এটা নিয়ে খুব বেশি রোমাঞ্চিত না। কারণ স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল। এ কারণে দুনিয়া জিতে ফেলেছি, (ব্যাপারটা অমন) না। ভালো উইকেটে খেললে আমাদের আরো ভালো খেলতে হবে।’

তবে ওয়ানডে সিরিজের বড় প্রাপ্তি হিসেবে নুরুল হাসান সোহান ও নাসুমের কথা উল্লেখ করেছেন তামিম। প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাসুম যেভাবে বল করেছে এবং সোহান যেভাবে ব্যাট করেছে, এই দুজন (প্রাপ্তি)। মিরাজ তো আমাদের হয়ে সব সময়ই ভালো করছে। তবে ওরা দুজন ছিল অন্য পর্যায়ের।’

এবারের সফরে তিন ফরম্যাটেই উজ্জ্বল ছিলেন সোহান। টেস্টে চার ইনিংসে দুটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১৩১ রান করেছেন, কিপিংয়ে নিয়েছেন ৮ ক্যাচ। টি-২০ তে ৩ ম্যাচে ৩৪ রান করেছেন। ওয়ানডে সিরিজে ৩ ম্যাচে ৫২ রান করেন, সঙ্গে কিপার হিসেবে ২টি ক্যাচ নেন, ২বার স্ট্যাম্পিং করেছেন। গত শনিবার রাতেই তৃতীয় ম্যাচে তাইজুলের বলে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শাই হোপ ও কিমু পলকে স্ট্যাম্পিং করেন তিনি।


তিন ফরম্যাটেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান

তিন ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। গায়ানায় আগে ব্যাট করে উইন্ডিজরা ১৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ। ১৪৭ রানে ৬ উইকেট পতনের পর মিরাজকে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন সোহান। দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ৩৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলেন সোহান, মিরাজ অপরাজিত ১৬ রান করেন। ২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তাইজুল ম্যাচ-সেরা এবং ১১৭ রান করে তামিম সিরিজ সেরা হন।

সাকিব, মুশফিক, সাইফউদ্দিনের মতো ওয়ানডের নিয়মিত তিন ক্রিকেটার এবার দলে ছিলেন না। তারপরও অনায়াসেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল।

তাদের অনুপস্হিতিতে সুযোগ পাওয়া তরুণদের প্রশংসা করে ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিং লাইন আপের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের তিন জনকেই পাইনি আমরা। অন্যদের জন্য এটি ছিল দারুণ সুযোগ। আমার মনে হয় ওরা দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে। বিশেষ করে সোহান। যখনই সুযোগ পেয়েছে, সে ঠান্ডা মাথায় ও ধীরস্হির হয়ে খেলেছে। আজকেও যেমনটি দেখিয়েছে। খুব ভালো ব্যাট করেছে।’

Source link