free hit counter
খেলা

সিটি বনাম রিয়াল, জিতেও অস্বস্তিতে গার্দিওয়ালার শীষ্যরা

এই ম্যাচটিতে যে হাড্ডাহাড্ডির লড়াই হতে যাচ্ছে তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হলোও তাই। এক দল গত মৌসুমের রানার্সআপ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) শিরোপাধারী। চলতি মৌসুমেও শিরোপার রেসে তারাই শীর্ষে। অন্যদল, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল এবং চলতি মৌসুমে লা লিগার শিরোপা প্রায় নিশ্চিত। দুই দলের লড়াই যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে, তখন রোমাঞ্চ তো ছড়াবেই!

আজ ইত্তেহাদ স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ। গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা পরেছে স্বাগতিক দল সিটি। সফরকারী রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে তারা। অবশ্য প্রতিপক্ষের জালে তাদের গোলসংখ্যা আরও বেশি হতে পারতো। সে জন্য কেবল নিজেদের ভাগ্যকেই দোষারোপ করতে পারে তারা। নয়তো গোলবারে লেগে ও আশপাশ দিয়ে বল এতবার বাইরে চলে যায় কীভাবে!



ম্যাচের দুই মিনিটেই রিয়াদ মাহরেজের এসিস্টে ম্যানচেস্টার সিটিকে এগিয়ে নেন কেভিন ডি ব্রুইনা। মাহরেজের বাড়িয়ে দেওয়া বলটি দারুণ এক ড্রাইভে হেড করে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। ১১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এবার এসিস্টের ভূমিকায় ডি ব্রুইনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার একই ম্যাচে গোল ও এসিস্ট করলেন বেলজিয়াম তারকা। অন্যদিকে, আগের ম্যাচেই চার গোল করেছিলেন জেসুস। সেই ফর্ম আজও ধরে রাখলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়াতেই যেন ঘুম ভাঙলো রিয়াল মাদ্রিদের। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের যে এমনই রীতি যাচ্ছে! প্রথমে পিছিয়ে পড়া, এরপর ঘুরে দাঁড়ানো। ৩৩ মিনিটে করিম বেনজেমার গোলের পর সেটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া চলতি মৌসুমে রিয়ালের প্রায় সব প্রত্যাবর্তনের গল্পের নায়ক যে এই ফরাসি তারকা। মেন্দের এসিস্টে গোল আদায় করে নেন বেনজেমা। প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে আবারও গোল। এবার ফার্নানদিনহোর সহায়তায় স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফিল ফোডেন। সেটি দেখেই যেন জ্বলে উঠলেন তারই প্রায় সমবয়সী রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুই মিনিট পরই ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন তিনি। তার গোলটি ছিল দেখার মতো, অসাধারণ! মধ্যমাঠেরও আগে, সিটির সাইড থেকে দারুণ এক ড্রিবলিংয়ে বল নিজের কাছে নেন। এরপর সেখান থেকে টেনে নিয়ে বলটিকে সরাসরি জালে পাঠিয়ে দেন। ভিনিসিয়ুসের দৌড়ের সঙ্গে কোনোভাবেই পাল্লা দিতে পারেননি সিটির খেলোয়াড়রা।


বের্নার্দো সিলভা ও ফিল ফোডেন, দুজনই আজ গোল করেছেন। ছবি: টুইটার

৭৪ মিনিটে আবারও স্কোরবোর্ডকে মজবুত করে ম্যানচেস্টার সিটি। গোল করেন বের্নার্দো সিলভা। এতে ব্যবধান হয় ৪-২। এর ৮ মিনিট পর পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেটিতে গোল আদায় করতে ভুল করেননি করিম বেনজেমা। এতে শেষ পর্যন্ত পার্থক্যটা কেবল এক গোলই থাকলো।

ভাগ্যিস, উয়েফা ‘অ্যাওয়ে গোল’-এর নিয়মটা বাতিল করেছে। নইলে প্রতিপক্ষের মাঠে তিন গোল দেওয়ায় আজ হেরেও এগিয়ে থাকতো রিয়াল মাদ্রিদ। সেই নিয়ম এখন আর নেই। তাই এক গোলে এগিয়ে থাকায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ম্যানচেস্টার সিটি। অবশ্য খুব একটা সুবিধাও বলা যাবে না। ফিরতি লেগ যে রিয়ালের মাঠে। আর সেই মাঠে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে খুব কমই ভুল করে রিয়াল মাদ্রিদ।

Source link