free hit counter
সাকিবের হাফ সেঞ্চুরি
খেলা

সাকিব আল হাসানের হাফ সেঞ্চুরি

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

জিম্বাবুয়ে: ২৪০/৯ (৫০ ওভার) (মাধেভেরে ৫৬, টেলর ৪৬, চাকাভা ১৬, মারুমানি ১৩, মেয়ার্স ৩৪, রাজা ৩০; শরিফুল ৪/৫৪ সাকিব ২/৪২)

বাংলাদেশ: ১৩৭/৫ (ওভার ২৯) (তামিম ২০, লিটন ২১, সাকিব ৫২*)

সাকিবের হাফ সেঞ্চুরি

বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিলো না সাকিব আল হাসানের। অবশেষে রানের দেখা পেলেন সময়ের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি।

সিকান্দার রাজার বলে চার মেরে ৫৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। তাতে চার ম্যাচ পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন সাকিব।

ফিরলেন মাহমুদউল্লাহও

সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অর্ধশত রানের জুটির গড়ার পর বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। মুজাাবানির বলে ফেরার আগে ৩৫ বলে ২৬ রান করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের ১২ হাজার রান

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছেন সাকিব আল হাসান। তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এদিন ৬ হাজার ৫০০ ওয়ানডে রানও স্পর্শ করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।

এদিকে টেস্টে ৫৮ ম্যাচে ৩৯৩৩ রান করেছেন সাকিব। টি-টোয়েন্টিতে ৭৬ ম্যাচ খেলা সাকিব করেছেন ১৫৬৭ রান। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৪টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।

ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলে চাপে বাংলাদেশ

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করলেও পরবর্তীতে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। যার সর্বশেষ সংযোজন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৯ বলে মাত্র ৫ রান করে রান আউট হয়েছেন তিনি।

মোসাদ্দেকের বিদায়ে বেশ খানিকটা চাপে বাংলাদেশ। ১৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৭ রান। সাকিব ১৯ রানে এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ১ রানে।

আবারও ব্যর্থ মিঠুন, বিপাকে বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে থিতু হলেও ১৯ রান করে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। যে কারণে এদিন বড় ইনিংস খেলার বিকল্প ছিল না তাঁর হাতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চু্রি তুলে নেয়ার পর থেকেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ মিঠুন।

এদিন জ্বলে ওঠার বদলে আবারও ব্যর্থ তিনি। ওয়েসলে মাধেভেরের সহজ এক ক্যাচে জংওয়ের বলে সাজঘরে ফিরেছেন ৩ বলে ২ রান করা মিঠুন। তাতে ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।

তামিমের পথেই হাঁটলেন লিটন

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ‍তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন লিটন দাস। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। রিচার্ড এনগারাভার বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে থাকা ব্রেন্ডন টেলরের হাতে ক্যাচ দেন লিটন।

তাতে তামিম ইকবালের পথেই হাঁটতে হলো তাঁকে। অর্থাৎ তামিমের মতো থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। এদিন ৩৩ বলে ২১ রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না তামিম

প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেও এদিন থিতু হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় ম্যাচ শুরুর আগেরদিন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক জানিয়েছিলেন, দলের জন্য বড় ইনিংস খেলতে চান। সেই লক্ষ্যে সাবধানী শুরুও করেছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

কিন্তু এদিনও বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না তামিম। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দাঁড়িয়ে থাকা সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩৪ বলে ২০ রান করা বাঁহাতি এই ওপেনার। লুক জংওয়ের বলে রাজা অবশ্য দুর্দান্ত এক ক্যাচই নিয়েছেন।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে নাগালে রাখলেন শরিফুল

দারুণ বোলিংয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে নাগালেই রেখেছেন টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম। এদিন এই পেসার মাত্র ৫৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। এর ফলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থেমেছে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানে।

এই ম্যাচে টসে হেরে আগে বোলিং করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই বল হাতে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ওভারের শেষ বলে জিম্বাবুয়ের ওপেনার তিনাশে কামুনহুকামেকে পয়েন্টে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ক্যাচ বানিয়ে বানিয়েছেন তিনি।

এরপর ১৩ রান করা তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করে আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই উইকেট পতনের পর জিম্বাবুয়ের ইনিংসের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর ও রেজিস চাকাভা। এই দুজনে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৭ রান। চাকাভাকে ব্যক্তিগত ২৬ রানে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান।

একপ্রান্ত আগলে রেখে জিম্বাবুয়ের ইনিংস টানছিলেন অধিনায়ক টেলর। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে তিনি হিট আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। শরিফুলের করা বল শট খেলতে গিয়ে মিস করেছিলেন টেলর। এরপর শটের শ্যাডো করতে গিয়ে তার ব্যাট স্টাম্পে লেগে বেইলস পড়ে যায়। টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখে টেলরকে আউট ঘোষণা দেন।

এর খানিক বাদেই দুর্ভাগ্যজনক চোট পেয়ে ওভার অসমাপ্ত রেখেই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল মিরাজকে। এই অফ স্পিনার বল করেছিলেন ওয়েসলি মাধেভেরেকে। তিনি ব্যাট ঠেকিয়ে দিলে তা নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ডিওন মেয়ার্সের ব্যাটের কাছে যায়। মিরাজ ফিল্ডিং করতে গেলে তার ডান হাতের একটি আঙুল পড়ে যায় ব্যাট ও বলের মাঝে। তাতেই মাঠে রক্তাক্ত হয় মিরাজের আঙুল।

এরপর সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়েন মিরাজ। তার অসমাপ্ত ওভার শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অবশ্য ফিজিওর সেবা শুশ্রূষা নিয়ে আবারও মাঠে ফেরেন তিনি। এর আগে সীমানায় ফিল্ডিং করতে গিয়ে পেসার তাসকিন আহমেদের ডান হাত কেটে যায়। মাঠেই সেই হাত থেকে রক্ত ঝড়তে দেখা যায়।

ডিওন মায়ার্সকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব। লং অন দিয়ে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন মেয়ার্স। তবে ঠিক মতো ব্যাটে বলে না হলে তা টপ এজ হয়ে ধরা পড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। এর ফলে মাধেভেরের সঙ্গে তার ৩৫ রানের জুটি ভাঙে।

এরপর মাধেভেরে জুটি বাধেন সিকান্দার রাজার সঙ্গে। এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। এই টাইগার পেসারকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া মাধেভেরে। লং অফ থেকে দৌড়ে এসে সেই বল মুঠোয় জমান তামিম ইকবাল। আর তাতেই শেষ হয় মাধেভেরের ৫৬ রানের ইনিংস।

এর মধ্যে দিয়ে রাজার সঙ্গে তার ৬৩ রানের জুটিও ভাঙে। এরপর লুক জাঙ্গোকেও (৮) নিজের শিকার বানিয়েছেন শরিফুল। ডিপে তার ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক। আর মুজারাবানি শরিফুলের শর্ট বলে পরাস্ত হয়ে শূন্য রানে উইকেটের পেছনে টপ এজ হয়ে আউট হয়েছেন।

দারুণ খেলতে থাকা সিকান্দার রাজা ব্যক্তিগত ৩০ রানে সাইফউদ্দিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত রিচার্ড এনগারাভা ৭ ও টেন্ডাই চাতারা ৪ রান করে অপরাজিত থেকে জিম্বাবুয়েকে অল আউট হতে দেননি।

Related posts

ম্যাচে বাংলাদেশের আর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না ইমরান

News Desk

লোকে সাকিবকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস পায় কীভাবে: মুশফিক

News Desk

সাকিবের ব্যাটে চড়ে আবাহনীকে ১৪৬ রানের চ্যালেঞ্জ মোহামেডানের

News Desk