free hit counter
খেলা

লেওয়ান্ডভস্কির ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সার

লন্ড-ভন্ডস্কি! হ্যা, ভুল পড়েননি, ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের রক্ষণভাগকে লন্ডভন্ড করেই বার্সার জার্সিতে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন পোলিশ স্ট্রাইকার লেওয়ান্ডভস্কি। বায়ার্ন থেকে এই মৌসুমেই বার্সায় আসা এই গোলমেশিনের হ্যাটট্রিকেই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের (উচল) প্রথম ম্যাচে চেক রিপাবলিকের ক্লাবটিকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করলো বার্সেলোনা।

বিগত কয়েক মৌসুম থেকেই উচল ব্যর্থতা যেন জেঁকে বসেছে বার্সেলোনার উপর। তার ওপর গত মৌসুমে তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে খেলতে হয়েছে উয়েফা ইউরোপা লিগেও। মৌসুমের শুরুতে ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়াসহ অর্থনৈতিক টানাপোড়নে বার্সার অবস্থা ছিলো যাচ্ছেতাই। সেখান থেকে মৌসুমের মাঝে বার্সা কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজকে কোচের দায়িত্ব দিয়ে নিয়ে আসা হয় ন্যু ক্যাম্পে। তারপরেই যেন কাতালান ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। গত মৌসুমের বাকিটা সময় দলটাকে ঠিকমতো সাজিয়ে নিতেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন জাভি। আর এই মৌসুম শুরুর আগে দলবদলের বাজারে বড় বড় বাজির দর ফেলে ক্লাবে নিয়ে এসেছেন নির্ভরযোগ্য কিছু খেলোয়াড়কে। বার্সার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিলো যেই স্ট্রাইকার, সেখানেই বায়ার্ন থেকে উড়িয়ে এনেছে লেওয়ান্ডভস্কির মতো গোলমেশিনকে। এছাড়াও লিডস থেকে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহাসহ করেছেন আরো কার্যকরী কিছু সাইনিং।

এতোসব প্রচেষ্টার ফলই যেন এবার হাতেনাতে পাচ্ছে বার্সা, উচলের ব্যর্থতা কাটিয়ে এবার যে তারা শিরোপা জিততে কতটা উন্মুখ তাই যেন বুঝিয়ে দিলো প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই। আর দলে লেওয়ান্ডভস্কির মতো একজন গোল মেশিন থাকলে প্রতিপক্ষের জাল যে অক্ষত থাকবে না সেটিও যেন প্রমাণিত।



উচলের বার্সার ‘সি’ গ্রুপে অন্য দুই প্রতিপক্ষের নাম অবশ্য বেশ শক্ত। জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ আর ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে নিয়ে গ্রুপ অব ডেথই এই গ্রুপকে বলাই যায়। তবে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের বিপক্ষে আজকের ম্যাচের ৫-১ গোলের জয়ে সামনের ম্যাচগুলোর জন্য দারুণ মহড়া সেরে রাখলো কাতালান ক্লাবটি।

ন্যু ক্যাম্পে আজ পরিষ্কার ফেবারিট ছিলো বার্সেলোনায়। দলের কোচ জাভিও আগেরদিন বলেছিলেন, এবার উচলের শিরোপা জিততে চান তিনি। আজ ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সার খেলার ছন্দে স্পষ্ট দেখা গেছে শিরোপা জেতার সেই ক্ষুধা।

ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ডিফেন্ডার জুলস কুন্দের অ্যাসিস্টে হেড করে ন্যু ক্যাম্পের দর্শকদের উল্লাসে মাতান ফ্রাঙ্ক কেসি। বলে রাখা ভালো, দুজনই এই মৌসুমে বার্সার নতুন সাইনিং, দলটির হয়ে এটিই ছিলো তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ।

প্রথম গোলের মিনিট বিশেক পর নিজের গোল উৎসবের সূচনা করেন লেওয়ান্ডভস্কি। সার্জি রবার্তোর পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকেই নিঁখুত বাকানো এক শটে প্লাজেনের জালে বল জড়িয়ে বার্সাকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন বার্সার নাম্বার নাইন।

প্রথমার্ধ্বের ৪৪ মিনিটে এসে অবশ্য একটি গোল শোধ করে ভিক্টোরিয়া প্লাজেন। ভ্যাসলেভ জামেলকার অ্যাসিস্টে সফরকারীদের একমাত্র গোলটি করেন জ্যান সিকোরা।

গোল শোধ দিয়েও রেহাই নেই প্লাজেনের। প্রথমার্ধ্বেরই যোগ করা সময়ে আবারও বার্সার হয়ে ব্যবধান বাড়ান লেওয়া। জাভির অধীনে নতুন জীবন পাওয়া ওসমানে ডেম্বেলের মাপা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে একটুও ভুল করেননি এই পোলিশ স্ট্রাইকার। ৩-১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

বিরতি থেকে ফিরেও প্লাজেনের রক্ষনভাগে একের পর এক আছড়ে পড়েছে বার্সার আক্রমণের ঢেউ। সেই ঢেউয়ের তোড়েই দ্বিতীয়ার্ধ্বের ৬৭ মিনিটের সময় বদলি নামা ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান লেওয়ান্ডভস্কি। আরও একবার তার পায়ের মাপা শটে বল জড়ায় প্লাজেনের জালে। নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের সঙ্গে ন্যু ক্যাম্পকে যেন উন্মাতাল করে তোলেন এই গোলমেশিন। আর এই হ্যাটট্রিকেই একটি ইতিহাসও তৈরি করে ফেলেন লেওয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি আলাদা দলের হয়ে হ্যাটট্রিক নেই আর কারও, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বায়ার্ন মিউনিখ হয়ে বার্সার জার্সিতে তো প্রথম ম্যাচেই  হ্যাটট্রিক পেয়ে গেলে এই পোলিশ স্ট্রাইকার।

মিনিট পাঁচেক পর বার্সার হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তার গোলের সহকারী সেই ডেম্বেলে। 

ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের দু্র্দান্ত এক জয় নিয়েই চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন যাত্রা শুরু করলো জাভির বার্সেলোনা। অন্যদের কি একটা বার্তাও দিয়ে দিলো এমন পারফরম্যান্সে? বার্সা কি তাহলে এবার ছেড়ে কথা বলবে না কোন প্রতিপক্ষকেই?

 

Source link