free hit counter
খেলা

লাগেজ চুরির কূলকিনারা করতে পারছে না পুলিশ

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নারী ফুটবলার দলের দুই খেলোয়াড়ের লাগেজ থেকে ডলার, কাপড়চোপড় ও অন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ঘটনার কুলকিনারা করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া সাধারণ ডায়ারির (জিডি) সূত্র ধরে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তবে ঠিক কোন জায়গা থেকে কে বা কারা চুরি করেছে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এক্ষেত্রে বিমান থেকে লাগেজ নামিয়ে বেল্ট পর্যন্ত নেওয়া এবং সেখান থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে কথা বলা হতে পারে ডলার ও টাকা খোয়ানো দুই নারী ফুটবলার কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহারের সঙ্গে।

এরই মধ্যে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, বিমানবন্দরে দুই নারী ফুটবলারের লাগেজ থেকে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তারা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে, মতিঝিল থানায় দায়ের করা জিডির তদন্তের ব্যাপারে মতিঝিল থানার ওসি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমরা সব বিষয় মাথা রেখে জিডির তদন্ত কাজ শুরু করেছি। যেহেতু ঘটনার সম্ভাব্য সূত্রপাত বিমানবন্দর থেকে, সে ক্ষেত্রে ঐসব এলাকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ আমরা তদন্ত করব।



ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কথা সত্য হয়, সেখানে যদি চুরি না হয়ে থাকে তাহলে সেখান থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত কোনো এক জায়গায় চুরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে বিমানবন্দর থেকে লাগেজগুলো রিসিভ করা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দুই প্রটোকল অফিসারসহ চার কর্মীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কিছু ঘটেছে কি না, সেটিও পুলিশের পক্ষ থেকে আবারও যাচাই করে দেখা হবে। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটিলিয়ন (এপিবিএন) বলে আসছে বিমানবন্দরে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে কেউ কেউ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) উপ-কমিশনার (ডিসি) হাইয়াতুল ইসলাম খান বলেন, বাফুফের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার মতিঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি টিম বাফুফে ভবন পরিদর্শন করেছে। কিন্তু তদন্তের জন্য বাফুফে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরো কিছু তথ্য প্রয়োজন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সেটি করা সম্ভব হয়নি। তবে, বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে অর্থ খোয়ানো দুই ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলে হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আমরা গোড়া থেকে তদন্ত শুরু করতে চাই। এজন্য প্রয়োজনে বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পুনরায় পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তদন্তের বিষয়ে র্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, চুরির খবর পাওয়ার পর আমরা বিমানবন্দরের ভেতর ও বাইরের বেশকিছু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। কিন্তু চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। যারাই চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে।

চুরির ঘটনায় কোনো অগ্রগতি আছে কি না? জানতে চাইলে বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আগেই জানিয়ে দিয়েছে চুরির ঘটনার প্রমাণ পায়নি তারা। এরপরেও আমরা পুনরায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করি। এতেও চুরি প্রমাণ পাইনি। এতটুকু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কিছু হয়নি।

Source link

Bednet steunen 2023