free hit counter
খেলা

পুতিন আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে: রুশ নারী ফুটবলার

নাদইয়া কারপোভার আরেক নাম নাদেজদা, রুশ ভাষায় এর অর্থ ‘আশা‌’। তার গলার সামনের অংশে ইংরেজিতে এই শব্দটির একটি ছোট্ট ট্যাটু রয়েছে। যখন ২১ বছর বয়স ছিল তখন সেটা এটা করেছিল। কিন্তু ওই সময় তার কী আশা ছিল তা নাদইয়া জানতো না। এখন শব্দটির অর্থ তার কাছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে খুবই অল্পসংখ্যক রুশ ক্রীড়াবিদ যুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলেছে। দেশটির বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে সংখ্যাটা মাত্র ৩ জন। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পুরুষ ফুটবল দলের সদস্য ফেদর স্মোলভ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘যুদ্ধকে না বলুন’। এরপর থেকে তিনি এ ব্যাপারে চুপ। আরেক ফুটবলার আলেক্সান্ডার সোবোলেভ ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের বিপক্ষে একটি বার্তা লিখেছিলেন। ঘণ্টাখানের মধ্যেই সেটি আবার মুছে ফেলেন তিনি।

স্পেনের ইসপানিওল ক্লাবের হয়ে খেলেন রাশিয়া নারী ফুটবল দলের সদস্য নাদইয়া কারপোভা। তিনি রুশ ফুটবলারদের মধ্যে তৃতীয় এবং নারী দলের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি যুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলেছেন এবং এখনো বলছেন। হামলা শুরুর পর থেকে এখনো ইন্সটাগ্রামে নিয়মিত যুদ্ধবিরতি বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।



সম্প্রতি বার্সেলোনায় ২৭ বছর বয়সী এই নারী ফুটবলারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি। নাদইয়া কারপোভা বলেন, ‘আমি এমন অমানবিক কার্যকলাপের দিকে কেবল নীরবে তাকিয়ে থাকা এবং চুপ থাকতে পারবো না। আমি জানি না, যদি আমি রাশিয়ায় থাকতাম, আমার সঙ্গে কী ঘটতো। আমি যুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলার বিশেষ দায়িত্ব অনুভব করি।’

২০১৭ সালে স্পেনে পাড়ি জমান এই রুশ কন্যা। রাশিয়ার হয়ে ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন। গত ইউরো কাপের দলেও ছিলেন। আগামী ৬-৩১ জুলাই ইংল্যান্ডে আরও একটি ইউরো কাপের আসর বসছে। কিন্তু এবার টুর্নামেন্টে রাশিয়া নেই। ইউক্রেনে হামলার জের ধরে রাশিয়াকে বাদ দিয়েছে উয়েফা। রুশ সেনাদের বিপক্ষে কথা বললে ১৫ বছরের জেলের আইন রয়েছে। তবে কথা বলার সময় সেসব নিয়ে মোটেই ভয় পাননি নাদইয়া কারপোভা।


নাদইয়া কারপোভা

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রোপাগান্ডা হলো, তারা রুশ নাগরিকদের এটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আমরা বিশেষ জাতি এবং পুরো বিশ্ব আমাদের ও আমাদের বিশেষ অভিযানের বিপক্ষে। কিসের বিশেষ অভিযানের কথা আপনি বলছেন? রাশিয়ানরা বিশেষ কিছু এটা আমি মনে করি না। একই সঙ্গে আমি রাশিয়ান হিসেবে মোটেই লজ্জিত নই। রাশিয়া মানেই কিন্তু সরকার ও ভ্লাদিমির পুতিন নয়।’

‘পুতিন আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে, আমাদের ভবিষ্যতও। রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ কেবল চোখ বন্ধ করে আছে এবং ভাবছে এটা (ইউক্রেনে রুশ হামলা) তাদের সমস্যা নয়,’ যোগ করেন নাদইয়া।

Source link