free hit counter
খেলা

পিএসজি খেদানো, আর্সেনাল তাড়ানো এমেরিই লিভারপুলের হুমকি

সেবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের ভেন্যু ছিল প্যারিস।

সেবারও সেমিফাইনালে ভিয়ারিয়ালের প্রতিপক্ষ ছিল একটা ইংলিশ ক্লাব।

সেবারের সঙ্গে এবারের এইটুকু মিল থাকলেই খুশি হয় ভিয়ারিয়াল।

সেবার, মানে ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেমিফাইনালে থিয়েরি অঁরির আর্সেনালের মুখোমুখি হয়েছিল ভিয়ারিয়াল, ইয়োলো সাবমেরিনদের জার্সিতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন আর্জেন্টাইন ‘অলস জাদুকর’ হুয়ান রোমান রিকেলমে। আর্সেনালের মাঠে ১-০ গোলে হারের পর নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্রতে সেমিতেই স্বপ্নের সমাধি। তার চেয়েও যে ক্ষতটা বেশি পোড়ায়, তা হলো নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ রিকেলমে। গোলটা হলে হয়তো প্যারিসের ফাইনালে ভিয়ারিয়ালই যেত!

এবারও ফাইনাল প্যারিসে, এবারও সেমিফাইনালে ভিয়ারিয়ালের প্রতিপক্ষ একটা ইংলিশ ক্লাব—লিভারপুল। এবার গল্পটা ভিন্ন হবে? এক উনাই এমেরি আছেন বলেই এবার হয়তো ভিয়ারিয়াল সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধতে পারেন!

বায়ার্ন মিউনিখকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করার পর এমেরির ভিয়ারিয়ালের উদ্‌যাপন
বায়ার্ন মিউনিখকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করার পর এমেরির ভিয়ারিয়ালের উদ্‌যাপনছবি: রয়টার্স
অন্য কোনো সময় হলে হয়তো ডেভিড বনাম গোলিয়াথের গল্পে লিভারপুলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে দেওয়া যেত। কিন্তু এই মৌসুমে নকআউট পর্বে যেভাবে চমকের পর চমক দেখিয়েছে ভিয়ারিয়াল, তাদের বিরুদ্ধে বাজি ধরার সাহস করবে কে! শেষ ষোলোতে জুভেন্টাসকে রীতিমতো গুঁড়িয়েই দিয়েছে, জুভেন্টাসেরই মাঠে দ্বিতীয় লেগে ভিয়ারিয়াল জিতেছে ৩-০ গোলে। তা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে হারানো, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির অধীনে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকা জুভেন্টাসকে কেউ চাইলে এই মৌসুমে গোনায় না-ও ধরতে পারেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ভিয়ারিয়ালের জয়টাকে কী বলবেন!

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

দুটি জয়ের পেছনের গল্প হয়তো ভিয়ারিয়ালের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞার জয়গানই গাইবে। ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার দানি পারেহোর সৌজন্যে বায়ার্নকে হারানোর পরের গল্পটা তো সবার জানা। বায়ার্ন কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান চেয়েছিলেন প্রথম লেগেই দফারফা করে ফেলতে। চাওয়ায় সমস্যা নেই, সেটি সংবাদমাধ্যমে মুখ ফুটে বলেও ফেলেছিলেন নাগলসমান। ভিয়ারিয়াল কড়া জবাব দিল বায়ার্নকে বাড়ি পাঠিয়ে, যা কথা শোনানোর শুনিয়ে দিল দ্বিতীয় লেগের পর! আর জুভেন্টাস? লিভারপুলে কিছুটা ভয় ধরাতে পারে সে গল্প। গল্পটাতে জড়িয়ে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ!

ওদের দলে সম্ভবত বিশ্ব ফুটবলে সফলতম কাপ টুর্নামেন্ট কোচ আছেন, তিনি জানেন তিনি কী করতে চান। উনাই এমেরি হচ্ছেন কাপ টুর্নামেন্টের রাজা। যা করছেন, সেটা অবিশ্বাস্য
ইয়ুর্গেন ক্লপ, লিভারপুল কোচ
বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে জুভেন্টাস সুপার লিগের মূল হোতা, এখনো এই তিনটি ক্লাবই পরিকল্পনাটা আঁকড়ে পড়ে আছে। তবে এর বাইরে ইউরোপের আরও বিখ্যাত, কিন্তু লোভী যে ১২ ক্লাব জড়িয়ে গিয়েছিল, তাদের একটি তো লিভারপুলও। জুভেন্টাস, বায়ার্নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে যে অবিশ্বাস্য গল্পের জন্ম দিয়েছে ভিয়ারিয়াল, সুপার লিগে তেমন কিছুর সম্ভাবনাই নেই। এটিকেই যুক্তি বানিয়ে সুপার লিগের পরিকল্পনার সময় জুভেন্টাস সভাপতি আন্দ্রেয়া আনিয়েল্লির কাছে গিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের মালিক ফের্নান্দো রচ। বলেছিলেন, যে পরিকল্পনায় তাঁর ক্লাবের মতো ছোট ক্লাবগুলোর খেলার সুযোগই সেভাবে থাকছে না, সে পরিকল্পনা ‘আবর্জনা!’ আনিয়েল্লি কানে তোলেননি রচের কথাগুলো। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর পর কি কথাগুলো মনে পড়েছে আনিয়েল্লির?

লিভারপুল জুভেন্টাসের মতো সুপার লিগের মূল হোতাও নয়, বায়ার্নের মতো লিভারপুলকে খাটো করেও দেখছে না। অন্তত সংবাদমাধ্যমে বলছে না। বরং উল্টো, লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের কথায় মনে হতে পারে, তাঁর দলই বুঝি আন্ডারডগ! ‘ওদের দলে সম্ভবত বিশ্ব ফুটবলে সফলতম কাপ টুর্নামেন্ট কোচ আছেন, তিনি জানেন তিনি কী করতে চান। উনাই এমেরি হচ্ছেন কাপ টুর্নামেন্টের রাজা। যা করছেন, সেটা অবিশ্বাস্য’—ক্লপের এমেরি মুগ্ধতা। একটুখানি কি ভয়ও আছে?