Image default
খেলা

ডারবানে প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিং, দ্রুতই নিরপেক্ষ আম্পায়ার চায় বিসিবি

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ ২-১-এ হেরে যাওয়াটা বড়সড় লজ্জাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। অকল্পনীয় ফল প্রোটিয়াদের জাত্যাভিমানেই আঘাত করেছিল বলা যায়। টেস্টে তাই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ছিল স্বাগতিকরা। ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাদের মিশনও সফল হয়েছে। তবে ২২ গজের পারফরম্যান্সের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাত্রাতিরিক্ত স্লেজিংয়ে নাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল ডিন এলগার বাহিনী। যা ছিল দৃষ্টিকটু।

মাঠে স্বাগতিকদের উপযু‌র্পরি স্লেজিংয়ে কর্নপাত করেননি ম্যাচ পরিচালনা করা দুই প্রোটিয়া আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস ও আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক। করোনাকালের নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক আম্পায়ার দিয়েই দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো পরিচালনা করছে আইসিসি।

অবশ্য ডারবানের কিংসমিডে দুই জনের আম্পায়ারিংই কাঠগড়ায় উঠে গেছে। জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। ম্যাচের চতুর্থ দিনে আম্পায়ারদের ভূমিকা দেখে চুপ থাকতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাকিব আল হাসান।

টুইট করে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিংয়ের দাবি তুলেছেন সাকিব। একই দাবি ছিল বাংলাদেশের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের কণ্ঠেও। এলগার-বাভুমাদের স্লেজিং, আম্পায়ারদের ভূমিকা নিয়ে আইসিসির কাছেও অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ দল। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দ্রুতই নিরপেক্ষ আম্পায়ার চালুর দাবি জানিয়েছে বিসিবি।



গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এমনটাই জানিয়েছেন। ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানে চড়ার আগে বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘আমরা আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছি। ওরা মাত্রাতিরিক্ত স্লেজিং করেছে। আম্পায়ারদের ভূমিকা তখন সন্তোষজনক ছিল না। তারা উল্টো আমাদের খেলোয়াড়দের ধমকেছে। আমরা বিষয়টা তুলে ধরেছি। আর আমরা দ্রুত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিরপেক্ষ আম্পায়ার পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছি।’

ডারবানে ম্যাচের চতুর্থ দিন বেশকিছু সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই আম্পায়াররা জোরালো আবেদনেও আঙুল তুলেননি। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। চতুর্থ দিনের বিকালে হার্মারের বলটা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট ছুঁয়ে কিপারের গ্লাভসে জমা হয়েছে। বোলার, কিপারের আবেদনেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। স্বাগতিকরাও রিভিউ নেয়নি। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে রিভিউ নিলে বা আম্পায়ার সাড়া দিলেই ফিরতে হতো শান্তকে।

তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আবেদনেই যেন আঙুল তুলতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন আম্পায়াররা। ম্যাচের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় ওভারে এলগারের বিপক্ষে জোরালো আবেদন করেন মিরাজ। আউট দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। তবে আম্পায়ার আউট দিলে অবশ্যই ফিরতে হতো এলগারকে।

ওপেনার সারেল এরউই ও এলগারকে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েই। কারণ, দুই বারই আম্পায়ার আউট দেননি। কিগান পিটারসেনকে আউট করেছিলেন মিরাজ। যদিও খালেদের করা ২৬তম ওভারে বল পিটারসেনের প্যাডে লাগে। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার। খালেদ আত্মবিশ্বাস দেখালেও অধিনায়ক মুমিনুল রিভিউ নেননি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, রিভিউ নিলে আউট হতেন পিটারসেন।

যদিও আইসিসির প্যানেলে থাকা বাংলাদেশের শীর্ষ আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত পক্ষপাতের সুযোগ দেখছেন না। এরাসমাস ও হোল্ডস্টকের সিদ্ধান্তগুলোকে ‘ভুল’ হিসেবেই দেখছেন সৈকত। গত মাসে নিউজিল্যান্ডে আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং শেষে এখন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন এই বাংলাদেশি আম্পায়ার।

ডারবান টেস্টে দুই আম্পায়ারের ভূমিকা সম্পর্কে গতকাল সৈকত বলেছেন, ‘আমি ভুলই বলবো। এরাসমাস কিন্তু বর্ষসেরা আম্পায়ার। আমাদের অধিনায়করাও তাকে ভোট দিয়েছে। পক্ষপাত বা এমন কিছু আমাদের মাথায় নাই। এভাবে আমরা প্রশিক্ষিত নই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরাসমাস এমন আম্পায়ার নয়। আর একদিনের পারফরম্যান্স দিয়ে কাউকে বিচার করা ঠিক না। ও এলিট আম্পায়ার। ভুল হতেই পারে। সিদ্ধান্ত ওভারটার্ন হওয়া মানেই ভিন্ন কিছু নয়।’

Source link

Related posts

2023 ফ্রি এজেন্সিতে জায়ান্টদের জন্য 5 গোল

News Desk

7 সমর্থককে জরিমানা করা হয়েছে

News Desk

আশা বাঁচিয়ে রাখার মিশনে বাংলাদেশ নারী দল

News Desk

Leave a Comment