free hit counter
খেলা

চেয়েছিলাম ফর্য়োয়াড হতে, হলাম গোলকিপার: জিকু

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকু। সমুদ্রকন্যা কক্সবাজার থেকে উঠে আসা এ গোলকিপারের ধারাবাহিক সাফল্যের ইতি কথা জানতে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত তেব্রিছ ছামি।

ইত্তেফাক অনলাইন: বর্তমানে ফুটবলার হিসেবে সবাই চেনে। কিন্তু ছোট বেলা থেকে কি ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন?

জিকু: সত্যি বলতে, তেমন কোনো স্বপ্ন নিয়ে খেলা শুরু করিনি। এলাকায় আট-দশজন যেভাবে ফুটবল খেলতো আমি তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। আমার পছন্দের পজিশন ছিল ফর্য়োয়াড। কিন্তু শারীরিকভাবে মোটা হওয়ার কারণে সবাই আমোকে গোলকিপার থাকতে বলতো। তখন থেকে আমি নিয়মিত গোলকিপার খেলা শুরু করি। তবে আজকের এই পজিশনে আসার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি এলাকার বড় ভাই (জমির)। তিনি আমাকে সর্বপ্রথম ঢাকায় ট্রায়ালে নিয়ে আসেন। তখন থেকে মূলত ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখি।

ইত্তেফাক অনলাইন: সচারাচর আমরা জানি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খেলাধুলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ হয় না। আপনার ক্ষেত্রে কেমন ছিল যখন খেলা শুরু করেন, পরিবারের সাপোর্ট কেমন পেয়েছেন?

জিকু: ফুটবল খেলার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বাধা দিতো পরিবার। এলাকার বাইরে গিয়ে খেলা আমার জন্য খুব কষ্ট হতো। কারণ মাগরিবের আগে বাড়িতে চলে আসতে হতো। তবে এমনও অনেক দিন গেছে, মিথ্যা বলে ঢাকা চলে এসেছি। মাঝে মাঝে ১০ থেকে ১৫ দিন থাকতে হতো। তখন প্রায়ই আর্থিকভাবে সংকটে পড়ে যেতাম। অনেক প্রতিকূল অবস্থা পাড়ি দিয়ে আজকের এই পর্যায়ে (আলহাদুদিল্লাহ)।

ইত্তেফাক অনলাইন: বর্তমানে জাতীয় দল হয়ে খুব ভালো পারফরম্যান্স করছেন, এখন কেমন রিয়্যাকশন পান ফ্যামিলি ও বন্ধুদের কাছ থেকে?



জিকু: যখন আমি অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে ডাক পাই, তখন থেকে মোটামুটি পরিবার সাপোর্ট করতে শুরু করে। আর এখন পরিবার বলেন, আর বন্ধু বলেন সবাই সব সময় সাপোর্ট করে। এটা আমাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে।

ইত্তেফাক অনলাইন: ফুটবল খেলে প্রথম কয় টাকা ইনকাম করেছিলেন?
জিকু: আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট হতো। এরকম এক টুর্নামেন্টে ৫০ টাকা পেয়েছিলাম। যেটা আমার প্রথম ইনকাম।

ইত্তেফাক অনলাইন: জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও ভরসার প্রতীক হয়েছেন। বসুন্ধরা কিংসের মতো এলিট ক্লাবের হয়ে একশত ম্যাচ খেলেছেন, ব্যাপারটা নিয়ে কতটুকু রোমাঞ্চিত?

জিকু: বসুন্ধরা কিংসের মতো এলিট ক্লাবে নিয়মিত পারফরম্যান্স করে জায়গা ধরে রাখা খুবই কষ্টের কাজ। তবে আমি বেশ রোমাঞ্চিত, কারণ ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমার ওপর ভরসা রেখেছে।

ইত্তেফাক অনলাইন: গোলকিপার হিসেবে আপনার আইডল কে?

জিকু: আমি দুই-তিন জন কিপারকে অনুসরণ করি। জর্ডান পিকফোর্ড্, ম্যানুয়েল নয়ার, অ্যালিসন বেকার। আমার আইডল জর্ডান পিকফোর্ড্।

ইত্তেফাক অনলাইন: ফুটবল বিশ্বে আপনি কোন দল সাপোর্ট করেন?

জিকু: ব্রাজিল আমার পছন্দের দল। কারণ ব্রাজিলের খেলায় আলাদা একটা ছন্দ আছে, যেটা অন্যদলের  বিপক্ষে সহজে সফলতা আনতে সাহায্য করে।

ইত্তেফাক অনলাইন: খেলাধুলার বাইরে যখন অবসর পান, সময়টা কিভাবে উপভোগ করেন?

জিকু: বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো হয় বেশিরভাগ সময়। সুযোগ পেলে কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি।
 
ইত্তেফাক অনলাইন: এবার একটু ব্যক্তিগত প্রশ্নের দিকে যাই, এখন পর্যন্ত আপনি ব্যাচেলর আছেন। পছন্দের কেউ আছে, যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন?  না কি ব্যাপারটা পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন?

জিকু: তেমন কেউ নেই। আসলে আমি এসব ব্যাপারে তেমন চিন্তা করি না। পরিবার যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত ।

ইত্তেফাক অনলাইন: ভক্তদের উদ্দেশে কী বলবেন?

জিকু: ভক্তরা হচ্ছে আমাদের প্রাণ। ভক্তরা যেভাবে আগের মতো সমর্থন করেছেন, ভবিষ্যতেও যেন এভাবে সমর্থন করেন। ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে আমরা ভালো কিছু উপহার দেবো।

Source link