free hit counter
খেলা

চার গোল দিয়েও সিটিতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ব্রাজিলিয়ান তারকার

নিখুঁত পেপ গার্দিওলার পছন্দের খেলোয়াড় বের করা সবসময়ই কঠিন। তবে গ্যাব্রিয়েল হেসুস ঠিকই চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্স দিয়ে কোচের হৃদয় জয় করেছেন বহুবার। ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে তার চার গোলের পর আলোচনাটা আরও সামনে চলে আসছে।

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

কঠোর পরিশ্রমী, নিঃস্বার্থ এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই ব্রাজিলিয়ানকে প্রায়শই দলে তার সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি চলতি সপ্তাহে ইংলিশ গণমাধ্যমে এসেছে, তিনি এই গ্রীষ্মেই ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে চলে যেতে পারেন। তারপরও হেসুস যখন যতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন, প্রতিনিয়ত ক্লাবের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেই চলেছেন।

তার নৈপুণ্য হয়তো অনেক সময়ই ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু ২০১৬ সালে টিনেজ বয়সে ক্লাবে যোগদানের পর থেকে সিটি সবসময় তার উপর কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করেছে।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে হেসুস সিটির হয়ে ২৩০ ম্যাচে ৯৩টি গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট আছে ৪১টি। তার ট্রফির শোকেসটাও একদম ফাঁকা নয়। চলতি মৌসুমে নিজের চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার দিকে ছুটছেন এবং ইতিমধ্যে চারটি ঘরোয়া কাপ ঘরে তুলেছেন।

শনিবার ওয়াটফোর্টের বিপক্ষে লিগে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করা হেসুসকে রীতিমত প্রশংসায় ভাসালেন গার্দিওলা। তার মতে, ব্রাজিলিয়ান তারকা যে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সেটা প্রমাণ করতে এমন পারফরম্যান্সকে সামনে আনার প্রয়োজন নেই।

গার্দিওলা বলেন, ‌‘আমরা তাকে নিয়ে খুশি কারণ সে দলকে জিতিয়েছে। তবে এমন নয় যে দলের জন্য গ্যাবির আজকের মতো পারফরম্যান্স করতে হবে অথবা চার গোল করতে হবে।’

সিটি কোচ যোগ করেন, ‘লিভারপুলের বিপক্ষে (এফএ কাপ সেমি) সে দুটি সুযোগ নষ্ট করেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সে দলে আছে এটাই। তার অবিশ্বাস্য সামর্থ্য আছে। দলকে সেরা কিছু দিতে তার সবসময়ই চিন্তা থাকে।’

আর হেসুস পারফর্ম করলে কোচ হিসেবে তিনিই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন, জানালেন গার্দিওলা। তার ভাষায়, ‘সে এমন রাত কাটালে আমিই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি হই। কারণ সে ট্রেনিংয়ে কঠোর পরিশ্রম করে, খেলুক আর না খেলুক। সামনে তার আরও ভালো দিন আসবে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি কারণ আমার বয়স তার চেয়ে বেশি। আমি জানি আমি কী বলছি।’

তবে ম্যান সিটি কোচের এমন প্রশংসার পরও ক্লাবে হেসুসের থাকার বিষয়টি অনিশ্চিতই। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের সঙ্গে ২০২৩ সালেই চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে সিটির।

হেসুসের দিকে পাখির চোখ করে রেখেছে আর্সেনাল। তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বেশ লোভনীয় অফার দিতে পারে। আর হেসুসেরও আরও বেশি সময় মাঠে নিজেকে মেলে ধরার ব্যাপারটি মাথায় চলে আসতে পারে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ৩৩টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন।

যদিও এখন তাকে রাখার ব্যাপারে গার্দিওলাকে বেশ আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনিও জানেন, ৯০ মিনিট খেলার নিশ্চয়তা না পেলে ক্লাব ছাড়তে পারেন হেসুস।

গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা গ্যাব্রিয়েলের জন্য যা দরকার করব, সে অন্যতম সেরা। তবে প্রতিটি খেলোয়াড়ই চায় ৯০ মিনিট খেলতে। মৌসুমের শেষে আমি হয়তো তার চুক্তি বাড়ানোর কথা বলব। তাকে রাখতে চাইব। তবে সেও বলতে পারে, আরও বেশি মিনিটের জন্য ক্লাব ছাড়তে চায়।’