free hit counter
খেলা

গল্পের শেষটা এমন না হোক

আধুনিক ক্রিকেটে রেকর্ড গড়া এবং ভাঙ্গা নিজের নিত্যনৈমত্তিক কাজে পরিণত করেছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি। রান মেশিন খ্যাত এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫০- এর বেশি ব্যাটিং গড়ে ২৩৬৯৩ রান করেছেন। কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বেশি গড় নেই, ইনিংস প্রতি তার রান ৪৮.৫২। এমনকি সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মাঝে ৫০- এর বেশি ব্যাটিং গড় আছে কেবল কোহলির।

এমন পারফরম্যান্স হয়তো কারো নেই বললেই চলে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর মতো ক্রিকেটের সব সীমানা নিজের করে নেওয়াটা নিয়মে পরিণত করে ফেলেন কিং কোহলি। হবেই না কেন, ক্রিকেটটাকে আপন করে নিয়েছেন সেই ছোটবেলা থেকে। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ক্রিকেটের প্রতি ছেলের প্রবল ইচ্ছা শক্তি দেখে দিল্লির ক্রিকেট কোচিং একাডেমিতে পাঠাতেন বাবা প্রেম কোহলি। একাডেমিতে বিরাট কোহলি কোচ রাজ কুমার শর্মার অধীনে ক্রিকেট শেখেন। সুমিত দোগারা একাডেমিতে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ওই সময় শারীরিক গঠন ছোট ছিল বলে বিরাটকে তার কোচ চিকু নামে ডাকত।

শারীরিক গঠন দিয়ে কি আর কোহলির মতো জাত ক্রিকেটারকে দমিয়ে রাখা যায়? যার ধমনি জুড়ে শুধুই ক্রিকেট।

২০০৪ সালে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে দুই ম্যাচে গড়ে ৪৭০ রান করে নজর কেড়ে ছিলেন। পরের বছরও কোহলি তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ধরে রাখেন এবং ২০০৪-২০০৫ মৌসুমে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফি জেতার জন্য দিল্লিকে সহায়তা করেন। ২০০৬ সালটা ছিল তার জীবনের সব চাইতে ঘটনা বহুল সময়। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর  দিল্লির হয়ে খেলার সময় তার বাবা প্রেম কোহলি ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন বিরাট। তবু, তমে যাননি। সেই শোক শক্তিতে রুপান্তর করে পরের দিন দলের হয়ে খেলতে নামেন। জীবনের ঐ কঠিন মুহূর্তেও যেন নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ করতে এতটুকু পিছপা হন নাই বিশ্ব ক্রিকেটের উজ্জ্বল তারাটি।



কিন্তু হঠাৎ করেই উজ্জ্বল তারাটি এখন অমব্যসার কালো মেঘে হারিয়ে নিজেকে খুঁজছে। কোনোভাবেই কালো মেঘ সরিয়ে নিজের আলোর ঝলকানি দেখাতে পারছেন না, আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিছুতেই ফেরা হচ্ছে না আগের অবস্থানে। সেই অপ্রতিরোধ্য আলোকরশ্মি এখন বড্ড বেশি মলিন। কতশত প্রশ্নবাণে আহত। একটা লড়াই করার চেষ্টা। নিজেকে ফিরে পাওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি। প্রায় তিন বছর ধরে ফর্মে নেই। সেঞ্চুরির দেখা পান না ৭০- এর অধিক ইনিংস হয়ে গেছে। বিরাটের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখার জন্য ভক্তকুল উন্মুখ হয়ে আছে। তিনি ক্যারিয়ারে শেষবার শতকের দেখা পেয়েছিলেন ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর থেকে তিন অঙ্কের ফিগার করতে যেন ভুলেই গেছেন কিং কোহলি। সবদিক থেকে শুনতে হচ্ছে দুয়োধ্বনি। ভক্ত থেকে শুরু করে ভারতের সাবেক ক্রিকেটারা পর্যন্ত বিরাটকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ বলেন, ‘ফর্মে না থাকলে, কেবল সুনামের ভিত্তিতে দলে টিকে থাকা যায় না। অতীতে অফ ফর্মে থাকার জন্য সৌরভ গাঙ্গুলি, বীরেন্দ্র শেবাগ, যুবরাজ সিং, জহির খান, হরভজন সিংকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কোহলির ক্ষেত্রে কেন নিয়ম ব্যতিক্রম হবে।’ সম্প্রতি ভারতকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেওয়া কিংবদন্তি অধিনায়ক কপিল দেব বলেছেন, ‘টেস্টে সাড়ে চারশ উইকেট শিকার করার পরও একাদশ থেকে বাদ পরতে হয় রবীচন্দ্রন অশ্বিনকে। তাহলে টি-টোয়েন্টি থেকে বিরাটকে কেন বাদ দেওয়া যাবে না।’
 
তবে কি এসব সমালোচনা কোহলিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সব সমালোচনা সব সময় নেতিবাচক দিক ছাড়া কিছু বয়ে আনে না। তাই বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মাসহ সতীর্থরা কোহলির পাশে দাড়িয়েছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররাও তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার বলেন, ‘কোহলি নিশ্চয়ই বাড়ির উঠানে করে নাই ৭০টা সেঞ্চুরি। তাই সমালোচনা না করে পাশে থেকে সহযোগিতা করা দরকার। কোহলি জানে কিভাবে নিজের জায়গায় ফিরে আসতে হয়।’ দেশটির বর্তমান অধিনায়ক ও সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজমও টুইটে কোহলির প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

এই মুহূর্তে ক্রিকেট ভক্তদের চাওয়া পুরোনো সৌরভে ফিরে আসুক কিং কোহলি। তার ব্যাটে রানের ফুলঝুড়ি ফুটুক, বাইশ গজে দৃষ্টিনন্দন সব শটের ঝড় বয়ে যাক। হোক আরও রেকর্ড সৃষ্টি। অফ ফর্মের জন্য কোহলি বাদ পড়ুক, তার এভাবে বিদায় চাই না। সে রাজার মতো ফিরে আসুক, হয়তো ফিরবে শিগগিরই। প্রত্যাবর্তন হোক রাজসিক। তার সেরাটা যে এখনো দেখার বাকি।

Source link