free hit counter
খেলা

এক রাতের অভিসারে, প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছিলেন রোনালদো

রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার গোল স্কোরিং দক্ষতা বিস্ময়কর। যেকোনও পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে আনার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি ভক্তদের নয়নমণি। খেলার মাঠে তিনি যেমন সপ্রতিভ তেমনি খেলার মাঠের বাহিরেও তার উদ্দাম জীবন। গাড়ি থেকে গার্লফ্রেন্ড, নানা কারনেই পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন সিআর সেভেন। আজকে আমরা মাঠের বাহিরে রোনালদোর বিতর্কের গল্পই শুনবো।

রোনালদোর জীবনে সবচেয়ে বড় বিতর্ক সম্ভবত তার প্রথম সন্তানের মাকে নিয়ে। এই সন্তানের মা কে তা কখনই প্রকাশ করেননি রোনালদো। জানা যায়, এক রাতের অভিসারে এক অজানা তরুণী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন। এরপর মেয়েটি বারবার রোনালদোকে ফোন দেন ছেলেটির পিতৃত্ব স্বীকার করে নিতে। নিজের পরিচয় কখনও প্রকাশ করবেন না এর বিনিময়ে বিপুল অর্থ নিয়ে সন্তানকে রোনালদোর কাছে দিয়ে দেয় মেয়েটি। যদিও তার সিদ্ধান্তের জন্য পরে মেয়েটি অনুশোচনায় ভোগেন। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন রোনালদো। ধর্ষণের অভিযোগকারী মেয়েটি জানান, তার সাথে রোনালদোর একটি নাইটক্লাবে পরিচয় হয়। সেখানে থেকে তারা একসাথে হোটেলে আসেন এবং রোনালদো জোরপুর্বক সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে পুলিশি তদন্তে ধর্ষণের কোনোও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সেটিই রোনালদোর বিপক্ষে ওঠা একমাত্র ধর্ষণের অভিযোগ নয়। আমেরিকান নারী ক্যাথেরিন মায়োগেরা অভিযোগ করেন ২০০৯ সালে সানসিটি হোটেলে তাকে ধর্ষন করেন। রোনালদো দাবী করেন, দুইজনের সম্মতিতেই তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিলো। তবে অভিযোগ আছে, ক্যাথেরিনের মুখ বন্ধ রাখার জন্য রোনালদো দুই লাখ সাতাশি হাজার পাউন্ড দেন।

মাঠের খেলায় সবচেয়ে বড় বিতর্ক জন্ম দেন ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে। সেসময় ওয়েইন রুনি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাটেডে একসাথে খেলতেন। কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো ইংল্যান্ড এবং পর্তুগাল।সে ম্যাচে রুনি একটি ফাউল করার পর রোনালদো দৌড়ে রেফারির কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান। জবাবে রুনি হালকা ধাক্কা দেন রোনালদোকে। রেফারি লাল কার্ড দেখান রুনিকে। এরপরে রোনালদোকে ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে চোখ মারতে দেখা যায়। ম্যাচটি ইংল্যান্ড হেরে যায়। রোনালদো পরিণত হোন ইংল্যান্ডের জাতীয় ভিলেনে। ম্যানচেস্টারে ফিরলে দর্শকরা তাকে দুয়ো দিতে থাকেন। সতীর্থ রুনির সাথেও তার সম্পর্কে ফাটল ধরে। সেসময় ইংল্য্যান্ডও ছাড়তে চেয়েছিলেন রোনালদো। স্যার আলেক্স ফার্গুসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়। সতীর্থদের সাথে সেবারই একমাত্র ঝামেলা নয়। ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় টিমদের নিয়ে করা একটি মন্তব্য ড্রেসিং রুমে ঝড় তোলে। তিনি বলেছিলেন, দলের বাকি সবাই যদি আমার মতো দুর্দান্ত হতো তাহলে আমরা শীর্ষে থাকতাম। তার এই মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদের অনেক খেলোয়াড়ই পছন্দ করেননি। এছাড়াও একবার তিনি বার্সেলোনার বিখ্যাত মেসি-সুয়ারেজ- নেইমার ত্রয়ী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। রোনালদো বলেন, তিনি এমএসএন এর বন্ধুত্ব নিয়ে ঈর্ষান্বিত নন- তিনি একা থাকতেই পছন্দ করেন। তার ভালো খেলার জন্য সতীর্থদের আলিঙ্গণ করা বা চুমু দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেসময় তার এই মন্তব্য প্রবল আলোচনা – সমালোচনার সৃষ্টি করে।

রোনালদো কেবল ফুটবল মাঠেই অসাধারণ নন, তিনি একজন ভালো-মন্দে – তর্ক- বিতর্কে মেশানো তারকা। তার সব বিতর্কই মুছে যায় বল পায়ে অসাধারণ পারফোমেন্সে। তিনি আরও অনেকদিন এমন খেলতে থাকুন ভক্তদের সেটাই কামনা। প্রতিদিন এমন মজার সব গল্প জানতে সাবস্ক্রাইব করুন বাংলা ডায়েরি।