free hit counter
খেলা

অজি বধের লঙ্কান কাব্যে নিশাঙ্কা বন্দনা

পাঁচ-ছয় বছর আগেও ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল শ্রীলঙ্কা। এর পরই ঘটে ছন্দপতন। একে একে অবসর নিয়ে ফেলেন দেশটির সোনালী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা। অনভিজ্ঞ ও তারুণ্য নির্ভর দল হয়ে উঠে তারা। আট-দশটি সাধারণ দলে পরিণত হয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে শ্রীলঙ্কা।

সেটিরই প্রতিফলন ঘটলো ঘরের মাঠে চলমান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। প্রথম ওয়ানডেতে লড়াই করে হারার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে জিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়েছে লঙ্কানরা। গতকাল কলম্বোতে অজি বধের নায়ক পাথুম নিসাঙ্কা। তার ওপর এতদিন ধরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড যে বিনিয়োগ করে আসছে সেটিরই ফল দিলেন এই ওপেনার। ১৩৭ রানের দারুণ এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৯২ রানের লক্ষ্য সহজেই তাড়া করতে সক্ষম হয়েছে স্বাগতিকরা।

গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে নিসাঙ্কার। এরপর ২০২১ সালে তিনি মোট ৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। একটিতেও ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস ছিল না। ২০-এর ঘরে যেতে পেরেছেন দুবার, ছয়বারই আউট হয়েছেন এক অঙ্কে এবং একবার শূন্য রানে। তবুও তার ওপর থেকে ভরসা হারায়নি টিম ম্যানেজম্যান্ট। নিসাঙ্কার প্রতিভার কারণে বিনিয়োগ করে গেছে বোর্ড। এখন সেটিরই প্রতিদান দিচ্ছেন এই তরুণ। ২০২২ সালে এসে দুর্দান্ত ধারাবাহিক তিনি। গতকাল পেয়ে গেলেন প্রথম শতকের দেখা।



নিসাঙ্কার ব্যাটিংয়ের ধরণ ক্লাসিক, চোখে দেখা তৃপ্তিদায়ক। সফরকারীদের দেওয়া ২৯২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪২ রানের সময় ডিকওয়েলাকে হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। এরপর কুশাল মেন্ডিসের সঙ্গে ১৭০ রানের বড় জুটি গড়ে তোলেন নিসাঙ্কা। জুটি আরও বড় হতে পারতো, যদি মেন্ডিস আহত হয়ে মাঠ ছেড়ে না যেতেন। তবু, একটিবারের জন্য ধৈর্য্য হারা হননি নিসাঙ্কা। কুশাল মেন্ডিস ৮৫ বলে ৮৭ রান করে ফিরে গেলেও ক্রিজে থেকে যান নিসাঙ্কা। দলকে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি নিয়ে যান। যখন আউট হন তখন দলের স্কোর ৪৭.১ ওভারে ২৮৪ রান। অর্থাৎ, জয়ের জন্য দরকার ১৭ বলে ৮ রান। বাকি কাজটা আনায়াসে করে ফেলেন আসালাঙ্কা ও চামিকা করুণারাত্নে। আউট হওয়ার আগে ১৪৭ বল মোকাবিলায় ১৩৭ রান করেন নিসাঙ্কা।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রানের স্কোর দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। অ্যারন ফিঞ্চ ৬২, ট্রাভিস হেড ৭০ ও অ্যালেক্স ক্যারি ৪৯ রান করেন।

Source link