free hit counter
ইসলাম

ঈমান ও আকীদা সম্পর্কে জেনে নিন

ঈমান আরবি শব্দ ঈমান অর্থ বিশ্বাস। মৌখিক স্বীকৃতি, অন্তরের বিশ্বাস এবং তদনুযায়ী কাজের নামই হচ্ছে ঈমান। মনে-প্রাণে আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয়া। ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা এবং শিরক ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্কে ছিন্ন করা।

ঈমানের ব্যাখ্যা

সৃষ্টির সেরা মানবজাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্ত হল ঈমান গ্রহন করা। যে কেউ মুসলিম হতে হলে তাকে অবশ্যই ঈমান আনতে হবে, আল্লাহ তা’আলা, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং বিশ্বাস স্থাপন করা তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি। আর নতুন মুসলিম কে কলেমা শাহাদাতের মৌখিক স্বীকৃতি দিয়ে, কাফির থেকে ইসলামে প্রবেশ করান হয়। আল্লাহর প্রতি ও তার বান্দা মুহাম্মাদ সাল্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মৌখিক স্বীকৃতি দেওয়ার সাথ সাথে সে ইসলামে প্রবেশ করল। ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করা মাত্রই ইসলামের যাবতীয় হুকুম আহকাম মানা ফরজ হয়ে গেল। ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করতে হয়, আর ইসলামের হুকুম তামিল করে ঈমানের পূর্ণতা প্রদান করতে হয়। তাই বান্দা ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন না করে ঈমানের চুড়ান্ত স্তর পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।

ঈমান আনার পরই কিন্তু ইসলামে প্রবেশ, যার অর্থ দাড়ায় ইসলাম ও ঈমানে পার্থক্য আছে। যদি ইসলাম ও ঈমানকে একইস্থানে একত্রে উল্লেখ করা হয়। তাহলে ইসলাম দ্বারা উদ্দেশ্য হবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা সম্পাদিত বাহ্যিক আমল। যেমন: সালাত, সাওম, হজ্জ্ব, জাকাত ইত্যাদি। অপর পক্ষে, তখন ঈমানের অর্থ হবে, অন্তর দ্বারা সম্পাদন যোগ্য ও বিশ্বাসগত আমল। আর এই বিশ্বাসগত আমল বলতে উপরের হাদিসে বর্ণিত ঈমানের ছয়টি মূলভিত্তির উপর বিশ্বাস স্থাপন করা বুঝায়।

কারন সহিহ মুসলিমের প্রথম হাদিসে বলা হয়েছে:

আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমাদের দেখা হলে বলে দিও যে, তাদের সাথে আমার কোন সস্পর্ক নেই এবং আমার সঙ্গে তাদেরও কোন সম্পর্ক নেই । আল্লাহর কসম! যদি এদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনার মালিক হয় এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, তাকদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না । তারপর তিনি বললেন, আমাকে আমার পিতা উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হাদীস শুনিয়েছেন যে, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর খিদমতে ছিলাম । এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন । তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে । তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না । আমরা কেউ তাঁকে চিনি না । তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী করীম (সাঃ)-এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী (সাঃ)-এর দুই উরুর উপর রাখলেন । তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সস্পর্কে অবহিত করুন ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ইই মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল, নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ পৌছার সামর্থ্য থাকলে হজ্জ পালন করবে । আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন । তার কথা শুনে আমরা বিষ্মিত হলাম যে,তিনিই প্রশ্ন করেছেন আর তিনিই-তা সত্যায়িত করছেন । আগন্তুক বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন ।

রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে । আগন্তুক বললেন,আপনি ঠিকই বলেছেন ।তারপর বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন ।আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সস্পর্কে অবহিত করুন ।

রাসুল (সাঃ) বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন । আগন্তুক বললেন, আমাকে এর আলামত সস্পর্কে অবহিত করুন । রাসুল (সাঃ) বললেনঃ তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে । উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেন যে,পরে আগন্তুক প্রস্হান করলেন । আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম । তারপর রাসুল (সাঃ) আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি জান, এই প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সম্যক জ্ঞাত আছেন । রাসুল (সাঃ) বললেনঃ তিনি জিবরাঈল । তোমাদের তিনি দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন ।বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম। হাদীসের ভাষ্য ইমাম মুসলিমের।

কুরআন ও সুনআহ মোতাবেগ কি কি বিষয়ের উপর ঈমান আনতে হবে।

উপরে বর্ণিত হাদিসটিকে হাদিসে জিবরাঈল বলা হয়। হাদিসটিতে হাদিসে জিবরাঈল (আ:) বলা হয়। হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে যখন জিবরাঈল (আ:) ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন তখন রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে।

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা পবিত্র কুরআনের সুরা নিসায় বলেন:

يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَـٰبِ ٱلَّذِى نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلۡڪِتَـٰبِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ مِن قَبۡلُ‌ۚ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓٮِٕكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأَخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَـٰلاَۢ بَعِيدًا (١٣٦)

হে ঈমানদারগণ ! ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি, আল্লাহ তাঁর রসূলের ওপর যে কিতাব নাযিল করেছেন তার প্রতি এবং পূর্বে তিনি যে কিতাব নাযিল করেছেন তার প্রতি ৷ যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাবর্গ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ ও পরকালের প্রতি কুফরী করলো সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহুদূর চলে গেলো, (সুরা নিসা :১৩৬)।

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা আরও বলেন:

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ‌ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓٮِٕكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٍ۬ مِّن رُّسُلِهِۦ‌ۚ

রাসূল তাঁর প্রভুর নিকট থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে ঈমান এনেছে এবং মুমিনগণও ! এরা প্রত্যেকে আল্লাহতে, তাঁর ফিরিশতাগণে, তাঁর কিতাবে, তাঁর রাসূলগণে বিশ্বাস স্থাপন করে, (সুরা বাকারা ২:২৮৫)

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা আরও বলেন:

وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ.

অর্থঃ বরং প্রকৃতপক্ষে সত্কাজ হলো- ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিবসের উপর, ফিরিশ্তাদের উপর, এবং সমস্ত নবী-রাসূলগণের উপর, (সূরা আল-বাক্বারা ২:১৭৭)।

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা আরও বলেন:

إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ.

অর্থঃ আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি, (সূরা আল-ক্বামার :৪৯)।

ঈমানের রুকন কত

কুরআনুল কারীমের আয়াত ও সহিহ হাদিস পর্যালোচনা করে আলেমগর হাদীসে জিবরাঈলে বর্ণিত ছয়টি বিষয় কে ঈমানের মূল ভিত্তি উল্লেখ করেছেন । সুতারং বলা যায় ঈমানের মূল ভিত্তি ছয়টি। যথা:-

(১) আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস

(২) ফিরিশতাগণের প্রতি বিশ্বাস

(৩) কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস

(৪) রাছূলগণের প্রতি বিশ্বাস

(৫) শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস

(৬) তাক্বদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস।

আমাদের ঈমান মাপকাঠি

আমদের ঈমান হবে সাহাবাদের (রাদি) ঈমানের মত। সেই সময়কার মুশরিক মুনাফিকদের আল্লাহ সাহাবাদের (রাদি) ঈমানের মত ঈমান আনকর নির্দেষ দিয়েছেন। সাহাবাদের (রাদি) ঈমান কেই ঈমানের মাপকাঠি নির্ধারন করেছেন।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَإِنۡ ءَامَنُواْ بِمِثۡلِ مَآ ءَامَنتُم بِهِۦ فَقَدِ ٱهۡتَدَواْ‌ۖ وَّإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا هُمۡ فِى شِقَاقٍ۬‌ۖ فَسَيَكۡفِيڪَهُمُ ٱللَّهُ‌ۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ (١٣٧)

তোমরা যেমনি ঈমান এনেছো তারাও যদি ঠিক তেমনিভাবে ঈমান আনে, তাহলে তারা হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলতে হবে ৷ আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে সোজা কথায় বলা যায়, (সুরা বাকারা ২:১৩৭)

আরও আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ ءَامِنُواْ كَمَآ ءَامَنَ ٱلنَّاسُ قَالُوٓاْ أَنُؤۡمِنُ كَمَآ ءَامَنَ ٱلسُّفَهَآءُ‌ۗ أَلَآ إِنَّهُمۡ هُمُ ٱلسُّفَهَآءُ وَلَـٰكِن لَّا يَعۡلَمُونَ (١٣)

আর যখন তাদের বলা হয়েছে , অন্য লোকেরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো তখন তারা এ জবাবই দিয়েছে- আমরা কি ঈমান আনবো নির্বোধদের মতো? সাবধান !আসলে এরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা জানে না ৷ (সুরা বাকারা ২:১৩)

ঈমানদারদের ঈমান ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধিপায়

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা বলেনঃ

هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ وَلِلَّهِ جُنُودُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

তিনিই তো সে সত্তা যিনি মু’মিনদের মনে প্রশান্তি নাযিল করেছেন যাতে তারা নিজেদের ঈমান আরো বাড়িয়ে নেয়৷ আসমান ও যমীনের সমস্ত বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন৷ তিনি মহাজ্ঞানী ও কৌশলী, (সুরা ফাতহা:৪)

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুয়াতালা বলেনঃ

وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آَمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ

যখন কোন নতুন সূরা নাযিল হয় তখন তাদের কেউ কেউ (ঠাট্রা করে মুসলমানদের ) জিজ্ঞেস করে, বলো, এর ফলে তোমাদের কার ঈমান বেড়ে গেছে? (এর জবাব হচ্ছে) যারা ঈমান এনেছে (প্রত্যেকটি অবতীর্ণ সুরা) যথার্থই ঈমান বাড়িয়েই দিয়েছে এবং তারা এর ফলে আনন্দিত, (সুরা তাওবা :১২৪)।

এই ঈমানের হ্রাস ও বৃদ্ধি তিনটি পর্যায় হয়।

ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায় না: ফিরেস্তাদের ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায় না। আগেই আলোচনা করা হয়েছে, বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা আসে অদৃশ্যের সংবাদের জন্য। তারা সব সময় আল্লাহকে দেখে, সকল নির্দেশই মান্য করে। তাদের যা বলা হয় তাই তারা বাস্তবায়ন কর। সুতারং তাদের ঈমানের হ্রাস ও বৃদ্ধি পায় না। তবে তারা সকলে একই শ্রেণীভুক্ত নয় বরং তাঁদের মধ্যে স্তর ও মর্যাদায় বিভিন্নতা রয়েছে।

ঈমান হ্রাস পায় না ও বৃদ্ধি পায়: নবী ও রাসূলগণের ঈমান অন্যদের ঈমানের মত নয়। তাহাদের ঈমান হ্রাস পায় না শুধুই বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীতে অবস্থান কালে আল্লাহর বিভিন্ন নিদর্শন দোখে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। তাদেরকে আল্লাহ বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন আর তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান ছিল সবদিক থেকে পরিপূর্ণ। আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসা দিন দিন প্রগাঢ় ও শক্তিশালী হয়েছে ফলে দিন দিন ঈমানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়: সাধারণ মুসলমানদের ঈমান হ্রাস পায় আবার বৃদ্ধি ও পায়। তাদের ঈমান, ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় আর পাপ ও অবাধ্যতার কারণে হ্রাস পায়। ঈমানের ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণীভুক্ত। আর ঈমানও বিভিন্ন স্তর বিশিষ্ট। যখনই ঈমান বৃদ্ধি পাবে ইয়াক্বীন ও নেকআমলও বৃদ্ধি পাবে। ইবাদতের মাধ্যমে মজা পায় এবং সর্ব প্রকার ইবাদত সর্বাত্মক সংরক্ষণ করে।

কুরআনে প্রদত্ত ঈমানের পুরস্কার ও প্রতিশ্রুতির বর্ণনা:

১. ঈমান আনলে আল্লাহ হেদায়েত দিবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِلَىٰ صِرَٲطٍ۬ مُّسۡتَقِيمٍ۬ (٥٤)

আর যারা ঈমান এনেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করে থাকেন,(সুরা : আল-হজ: ৫৪)।

২. ঈমান আনলে আল্লাহ নিরাপত্তা ও হেদায়েত দিবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَـٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَـٰٓٮِٕكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ

যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনিম তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। [সূরা আনআম : ৮২।]

৩. আল্লাহ তায়ালার সাহায্য :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَٱنتَقَمۡنَا مِنَ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْ‌ۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

তারপর যারা অপরাধ করে, তাদের থেকে আমি প্রতিশোধ নিই আর মুমিনদেরকে সাহায্য করা ছিল আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত, (সূরা আর-রূম ৩০:৪৭)।

৪. আল্লাহ তায়ালা সফলতা দিবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ (١)

নিশ্চতভাবে সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, (সূরা মুমিনুন ২৩:১)।

৫. আল্লাহ তায়ালা মুমিনকে সম্মান ও মর্যাদা দিবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

‌ۚ وَلِلَّهِ ٱلۡعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ

অথচ সম্মান ও মর্যাদা তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মু’মিনদের জন্য, (সূরা মুনাফিকুন : ৮)।

৬. পৃথিবীতে খিলাফত বা শ্বাসনভার দান করবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِى ٱلۡأَرۡضِ ڪَمَا ٱسۡتَخۡلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِينَہُمُ ٱلَّذِى ٱرۡتَضَىٰ لَهُمۡ وَلَيُبَدِّلَنَّہُم مِّنۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ أَمۡنً۬ا‌ۚ يَعۡبُدُونَنِى لَا يُشۡرِكُونَ بِى شَيۡـًٔ۬ا‌ۚ وَمَن ڪَفَرَ بَعۡدَ ذَٲلِكَ فَأُوْلَـٰٓٮِٕكَ هُمُ ٱلۡفَـٰسِقُونَ (٥٥)

আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যাকে আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন ৷ তারা শুধু আমার বন্দেগী করুক এবং আমার সাথে কাউকে যেন শরীক না করে৷ আর যারা এরপর কুফরী করবে তারাই ফাসেক ৷ (সুরা নুর-৫৫)

৭. আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদেরকে রক্ষা করেন এবং কোন বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না, (সূরা আল হজ্ব :৩৮)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ‌ۚ كَذَٲلِكَ حَقًّا عَلَيۡنَا نُنجِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ (١٠٣)

এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে রক্ষা করি৷ এটিই আমার রীতি৷ মুমিনদের রক্ষা করা আমার দায়িত্ব, (সূরা ইউনুস : ১০৩)।

৯. ঈমান আনলে আল্লাহ উত্তম জীবন দান করবেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

مَنۡ عَمِلَ صَـٰلِحً۬ا مِّن ذَڪَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٌ۬ فَلَنُحۡيِيَنَّهُ ۥ حَيَوٰةً۬ طَيِّبَةً۬‌ۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا ڪَانُواْ يَعۡمَلُونَ (٩٧)

পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকাজ করবে, সে যদি মুমিন হয়, তাহলে তাকে আমি দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন দান করবে এবং (আখেরাতে) তাদের প্রতিদান দেবো তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুসারে, (সূরা নাহল ১৬: ৯৭)।

১০. ঈমান আনলে আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর রবকত সমূহের দুয়ার খুলে দিতেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَوۡ أَنَّ أَهۡلَ ٱلۡقُرَىٰٓ ءَامَنُواْ وَٱتَّقَوۡاْ لَفَتَحۡنَا عَلَيۡہِم بَرَكَـٰتٍ۬ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَـٰكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذۡنَـٰهُم بِمَا ڪَانُواْ يَكۡسِبُونَ (٩٦)

যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করতো, তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর রবকত সমূহের দুয়ার খুলে দিতাম৷ কিন্তু তারা তো প্রত্যাখ্যান করেছে৷ কাজেই তারা যে অসৎকাজ করে যাচ্ছিলো তার জন্যে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি৷ লাভ। [১১৩] (সূরা আ’রাফ ৭:৯৬)।

১১. নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ

আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন, (সূরা আনফাল:১৯)।

১২. আল্লাহ মুমিনদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন :: আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَـٰتِ جَنَّـٰتٍ۬ تَجۡرِى مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيہَا وَمَسَـٰكِنَ طَيِّبَةً۬ فِى جَنَّـٰتِ عَدۡنٍ۬‌ۚ وَرِضۡوَٲنٌ۬ مِّنَ ٱللَّهِ أَڪۡبَرُ‌ۚ ذَٲلِكَ هُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ (٧٢)

এ মুমিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে৷ এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে৷ এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য, (সূরা তাওবা ৯:৭২)।

১৩. অমুসলিম ব্যক্তিবর্গ ঈমান গ্রহণ করার পর যদি নিয়মিত নেক আমল সম্পাদন করে যায়, তাহলে পূর্বেকৃত অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে :: আল্লাহ তা’আলা বলেন,

قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ

‘হে নবী আপনি অমুসলিমদের বলে দিন যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তাহলে পূর্বে সংঘটিত সব ক্ষমা করে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে আবারও যদি তাই করে তাহলে পূর্ববর্তীদের পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে, ( আনফাল :৩৮)।

১৪. সকল তাগুতকে অস্বীকার ও অমান্য করা এবং মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনাকে ফরয করে দেওয়া হয়েছে। সুমহান আল্লাহ বলেন:

فَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ ٢٥٦

‘‘যে তাগুতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহর উপর ঈমান আনবে সে এমন এক মযবুত অবলম্বন আঁকড়ে ধরলো যা ভাঙ্গবে না’’, বাকারা ২:২৫৬)।

হাদিসে প্রদত্ত ঈমানের পুরস্কার ও প্রতিশ্রুতির বর্ণনা:

১. আবু বকর ইবনআবু শায়বা ও যুহায়র ইবন হারব (র)………উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি -লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ–এর নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে ইন্তিকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে,(সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩৯; শুনাহগার হলেও ক্ষমা লাভ অথবা শাস্তিভোগের পর সে জান্নাতে যাবে)।

২. সাহাবী উবাদা ইবনে সামেত (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (স:) এরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দান করল যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরিক নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর এমন এক কালিমা যা তিনি মরিয়াম (আঃ) এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তাঁরই পক্ষ থেকে প্রেরিত রুহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য জাহান্নাম সত্য। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা জান্নাত দান করবেন, তার আমল যাই হোক না কেন। (বুখারি ও মুসলিম)

৩. সাহাবী ইতবানের হাদিসে বর্ণিত আছে, ইমাম বুখারি ও মুসলিম হাদিসটি সংকলন করেছেন,

“আল্লাহ তা’আলা এমন ব্যক্তির উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছে।

৪. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতিরা জান্নাতে ও জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: বের কর যার অন্তরে সর্ষে পরিমাণ ঈমান রয়েছে, ফলে তারা সেখান থেকে বের হবে এমতাবস্থায় যে কালো হয়ে গেছে, অতঃপর তাদেরকে বৃষ্টির নহর অথবা সঞ্জীবনী নহরে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তারা নতুন জীবন লাভ করবে যেমন নালার কিনারায় ঘাস জন্মায়। তুমি দেখনি তা হলুদ আঁকাবাঁকা গজায়?,(বুখারি ও মুসলিম: হাদিসটি সহিহ)।

৫. বিখ্যাত সাহাবী আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘আমি রাসূল (স:) কে এ কথা বলতে শুনেছি, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে আদম সন্তান, তুমি দুনিয়া ভর্তি গুনাহ নিয়ে যদি আমার কাছে হাজির হও, আর আমার সাথে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো, তাহলে আমি দুনিয়া পরিমান মাগফিরাত নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসবো”। (তিরমিজী)

৬. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্(সা) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ, (সহিহ বুখারী,হাদিস-২৫)।

৭. মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর গাধা উফায়রের পিঠে তার পিছনে বসা ছিলাম । রাসুল (সাঃ) বললেন, হে মু’আয !তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন । রাসুল (সাঃ) বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনকিছু শরীক করবে না । আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো, যে তাঁর সঙ্গে শরীক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দিবেন না । মু’আয (রাঃ) বললেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি লোকদের এ সংবাদ জানিয়ে দেব ? তিনি বললেন, না, লোকদের এ সংবাদ দিও না, দিলে এর উপরই তারা ভরসা করে থাকবে,(সহিহ মুসলিম, হাদিস-৪৭)।

৮. আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর ইব্ন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সবার সামনে নাজাত দিবেন, তার সামনে নিরানব্বইটি দফতর খোলা হবে, প্রত্যেক দফতর চোখের দৃষ্টি পরিমাণ লম্বা। অতঃপর তিনি বলবেন: তুমি এর কিছু অস্বীকার কর? আমার সংরক্ষণকারী লেখকরা তোমার ওপর যুলম করেছে? সে বলবে: না, হে আমার রব। তিনি বলবেন: তোমার কোন অজুহাত আছে? সে বলবে: না, হে আমার রব। তিনি বলবেন: নিশ্চয় আমার নিকট তোমার একটি নেকি রয়েছে, আজ তোমার ওপর কোন যুলম নেই, অতঃপর একটি বেতাকা/কার্ড বের হবে, যাতে রয়েছে:

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

তিনি বলবেন: তোমার (কাজের) ওজন প্রত্যক্ষ কর। সে বলবে: হে আমার রব এতগুলো দফতরের সাথে একটি কার্ড কি (কাজে আসবে)? তিনি বলবেন: নিশ্চয় তোমার ওপর যুলম করা হবে না। তিনি বলেন: অতঃপর সবগুলো দফতর এক পাল্লায় ও কার্ডটি অপর পাল্লায় রাখা হবে, ফলে দফতরগুলো ওপরে উঠে যাবে ও কার্ডটি ভারী হবে। আল্লাহর নামের বিপরীতে কোন জিনিস ভারী হবে না”।[তিরমিযি, আহমদ ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।

কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি শুনলে মন ভরে যায়। আবার ঈমানের দিকে তাকালে প্রপ্তি শুন্যের কোটায় চলে যায়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত ইহকালে আল্লাহ তায়ালার দেয়া অধিকাংশই প্রতিশ্রুতি আজ মুমিনদের জীবনে অনুপস্থিত। এটি আমাদের ঈমানের দুর্বলতার কথাই প্রমাণ করছে। সুতরাং কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত প্রতিশ্রুত নিয়ামতের আশা করলে আমাদের বর্তমান ঈমানকে আরো মজবুত করে কাংক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা ছাড়া বিকল্প রাস্তা নেই। যদি উভয় জগতে লাভবান হতে চাইলে সহজ উপায় হচ্ছে, আমাদের ঈমান ও আমলসমূহকে নবী ও সাহাবাদের ঈমান ও আমলসমূহের সদৃশ করে তোলা। এই জন্য সর্বোউত্তম পথ হল ঈমান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে আকিদা/বিশ্বাস সঠিক করে আমলসমুহে ঝাপিয়ে পড়া। সুতারং ঈমন বা বিশ্বাস কি? কি বিশ্বাস করব? এর কি কোন রুকন আছে? ঈমনের ভ্রান্তি কি? কোন ইমান আল্লাহ গ্রহন করবেন? নবী বা সাহাবিদের ঈমান কেমন ছিল?

০৯. আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দাবি নিয়ে দুনিয়াতে তোমাদের যেমন ঝগড়া হয়, তা মুমিনগণ কর্তৃক তাদের ভাইদের সম্পর্কে যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে, তাদের রবের সাথে ঝগড়ার চেয়ে অধিক কঠিন নয়। তিনি বলেন, তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত ও আমাদের সাথে হজ করত, কিন্তু আপনি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন, যাও তাদের থেকে যাকে তোমরা চিনো তাকে বের কর। তিনি বলেন, তাদের নিকট তারা আসবে, তাদের চেহারা দেখে তাদেরকে তারা চিনবে, তাদের কাউকে আগুন পায়ের গোছার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। কাউকে পায়ের টাকনু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে, তাদেরকে তারা বের করবে অতঃপর বলবে: হে আমাদের রব, যাদের সম্পর্কে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা বের করেছি। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন, বের কর যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। অতঃপর বলবেন: যার অন্তরে অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। এক সময় বলবেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান রয়েছে”। [নাসায়ি ও ইব্ন মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।

১০. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছে, “কিয়ামতের দিন ইবরাহিম তার পিতা আযরের সাথে দেখা করবে, তার চেহারার ওপর থাকবে বিষণ্ণতা ও ধুলো-বালি (অবসাদ)। ইবরাহিম তাকে বলবে: আমি কি তোমাকে বলিনি আমার অবাধ্য হয়ো না? অতঃপর তার পিতা তাকে বলবে, আজ তোমার অবাধ্য হব না। অতঃপর ইবরাহিম বলবে: হে আমার রব, আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যেদিন উঠানো হবে আমাকে অসম্মান করবেন না, আমার পতিত পিতার অপমানের চেয়ে বড় অপমান কি! অতঃপর আল্লাহ বলবেন: নিশ্চয় আমি কাফেরদের ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর বলা হবে: হে ইবরাহিম তোমার পায়ের নিচে কি? সে দেখবে তার পিতা আচমকা রক্ত-ময়লায় নিমজ্জিত হায়েনায় পরিণত হয়েছে, তখন তার পা পাকড়াও করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।

আকীদা

আকীদা (আরবি: عقيدة‎‎, বহুবচন: আরবি: عقائد‎‎, আকা’ইদ, কখনো কখনো উচ্চারণ করা হয় আকীইদাহ, আক্বিদাহ) এটি একটি ইসলামী পরিভাষা যার অর্থ ‘কিছু মূল ভিত্তির উপর বিশ্বাস’।

বিশ্বাস বা ধর্মবিশ্বাস বুঝাতে মুসলিম সমাজে সাধারণত দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়: ঈমান ও আকীদা। কুরআন কারীম ও হাদীস শরীফে সর্বদা ‘ঈমান’ শব্দটিই ব্যবহার করা হয়েছে। ‘আকীদা’ ব্যবহৃত হয় নি। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকে তাবিয়ী (সাহাবীদের ছাত্র) ও পরবর্তী যুগের ঈমামগণ (ধর্মীয় নেতা) ধর্মবিশ্বাসের খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার জন্য ‘ঈমান’ ছাড়াও অন্যান্য কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেন। এসকল পরিভাষার মধ্যে রয়েছে ‘আল-ফিকহুল আকবার’, ‘ইলমুত তাওহীদ’, ‘আস-সুন্নাহ’, ‘আশ-শরীয়াহ’, ‘উসূলুদ্দীন’, ‘আল-আক্বীদাহ’ ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে ‘আকীদাহ’ শব্দটিই অধিক প্রচলিত।

ইসলামী আকীদার উৎস

ইসলামী আকীদার একমাত্র উৎস হচ্ছে ওহী। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে দু প্রকারের ওহী প্রেরিত হয়েছে : কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাত (হাদীস)। কুরআন অনুসারে আল্লাহ রাসূলের প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন। হিকমতকে রাসূলের সুন্নাহ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কুরআনের সাথে সুন্নাহর পার্থক্য হল, সুন্নাহর শব্দাবলী আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তবে উভয়টিরই তথ্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত।

কর্ম বা আমলের বিষয়ে ইসলামের বিধান নির্ণয়ে কিয়াস বা অনুমানের উপরে নির্ভর করা যায়। কিন্তু ইসলামী বিশ্বাস গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ের উপর নয়। মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, এ সকল বিষয়ে মানুষ ওহীর নির্দেশনা ছাড়া অনুমান করে অথবা গবেষণা করে কোনো সমাধান দিতে সক্ষম নয়। এছাড়া ওহীর ব্যাখ্যা সেভাবেই করতে হয়, যেভাবে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ব্যাখ্যা করেছেন।

হাদীসের প্রকারভেদ

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যে হাদীসের মধ্যে ৫টি শর্ত পূরণ হয়েছে তাকে সহীহ হাদীস বলা হয় –

হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সৎ ও বিশ্বস্ত
বর্ণনাকারীদের নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা পূর্ণরূপে বিদ্যমান
প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী থেকে হাদীসটি স্বকর্ণে শুনেছেন বলে প্রমাণিত
অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণিত
সনদগত বা অর্থগত কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি নেই বলে প্রমাণিত
দ্বিতীয় শর্তে সামান্য দুর্বলতা থাকলে হাদীসটি হাসান বলে গণ্য হতে পারে। শর্তগুলোর অবর্তমানে হাদীসটি যয়ীফ বা দুর্বল অথবা মাউযূ বা বানোয়াট হাদীস বলে গণ্য হতে পারে।[১] ইসলামে দুর্বল ও বানোয়াট হাদীস আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

সহিহ হাদীসের প্রকারভেদ

বর্ণনাকারীদের সংখ্যার দিক থেকে মুহাদ্দিসগণ সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীসকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন –

যেসকল হাদীস সাহাবীগণের যুগ থেকে সংকলন পর্যন্ত সকল স্তরে অনেক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে মুতাওয়াতির বা অতি প্রসিদ্ধ হাদীস বলা হয়।
যেসকল হাদীস সাহাবীগণের যুগ থেকে সংকলন পর্যন্ত কোনো যুগে অল্প কয়েকজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে আহাদ বা খাবারুল ওয়াহিদ হাদীস বলা হয়।
আকীদার ক্ষেত্রের মুতাওয়াতির বা অতি প্রসিদ্ধ হাদীস দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায়। অন্যদিকে খাবারুল ওয়াহিদ হাদীস দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা না গেলেও তা কার্যকর ধারণা প্রদান করে। কর্ম বিষয়ক বৈধ, অবৈধ ইত্যাদি বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এই ধরনের হাদীসের উপরে নির্ভর করা হয়। আকীদার মূল বিষয় প্রমাণের জন্য সাধারণত এরূপ হাদীসের উপর নির্ভর করা হয় না। তবে মূল বিষয়ের ব্যাখ্যায় এর উপর নির্ভর করা হয়।

কুরআনে উল্লেখিত বা মুতাওয়াতির হাদীসের মাধ্যমে জানা কোনো বিষয় অস্বীকার করলে তা কুফরী হিসেবে গণ্য হয়। আর খাবারুল ওয়াহিদের মাধ্যমে জানা বিষয় অস্বীকার করলে তা বিভ্রান্তি হিসেবে গণ্য হয়। মুসলিমরা বিশ্বাস করে কুরআন পুরোপুরিই মুতাওয়াতির ভাবে বর্ণিত। কেউ একটি শব্দকেও সমার্থক কোনো শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করেন নি। অন্যদিকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবী তাবিয়ীগণ অর্থের দিকে বেশি লক্ষ্য রাখতেন। তারা প্রয়োজনে একটি শব্দের পরিবর্তে সমার্থক অন্য শব্দ ব্যবহার করতেন।

বিশুদ্ধ হাদীসের উৎস

অল্প সংখ্যক মুহাদ্দিস কেবলমাত্র সহীহ হাদীস সংকলনের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও আলিম সনদসহ হাদীস উল্লেখ করলেও হাদীসটি কোন স্তরের তা বলার প্রয়োজন মনে করতেন না।

আল্লামা ইবনুস সালাহ বলেন –

বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থের বাইরে সহীহ হাদীস খুঁজতে হবে মাশহুর হাদীসের গ্রন্থগুলোতে, যেমন – আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু খুযাইমা, দারাকুতনী ও অন্যান্যদের সংকলিত গ্রন্থ। তবে এ সকল গ্রন্থে যদি কোনো হাদীস উদ্ধৃত করে তাকে সুস্পষ্টত ‘সহীহ’ বলে উল্লেখ করা হয় তবেই তা সহীহ বলে গণ্য হবে, শুধুমাত্র এ সকল গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে বলেই হাদীসটিকে সহীহ মনে করা যাবে না। কারণ এ সকল গ্রন্থে সহীহ এবং যয়ীফ সব রকমের হাদীসই রয়েছে।

আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী বলেন –

দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দী থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল যুগের অধিকাংশ মুহাদ্দিসের রীতি ছিল যে, সহীহ, যয়ীফ, মাউযূ, বাতিল সকল প্রকার হাদীস সনদসহ সংকলন করা। তাঁদের মূলনীতি ছিল যে, সনদ উল্লেখ করার অর্থই হাদীসটি বর্ণনার দায়ভায় বর্ণনাকারীদের উপর ছেড়ে দেয়া, সংকলকের আর কোনো দায় থাকে না।

ইসলামী আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ

ইসলামী আকীদা বিষয়ে প্রথম বই লেখেন ইমাম আবু হানিফা। বইটি আল ফিকহুল আকবার নামে পরিচিত। আকীদা বিষয়ে অসংখ্য বই লেখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীন কয়েকটি বই হল – ইমাম আহমাদ লিখিত “আস-সুন্নাহ”, ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান লিখিত “আস-সুন্নাহ”, ইমাম আবু জাফর ত্বহাবী লিখিত “আকীদাতু আহলিস সুন্নাহ”, ইমাম ইবনু রজাব হাম্বালী লিখিত “কিতাবুত তাওহীদ” ইত্যাদি। ইমাম ইবনে আবীল ইয আল-হানাফী ইমাম ত্বহাবীর লেখা আকীদার বইয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যা “শারহুল আকীদা আত্-ত্বহাবীয়া” নামে পরিচিত।

বিশ্বাসের ছয়টি স্তম্ভ

ইসলামী দৃঢ় বিশ্বাস বা বিশ্বাসের ছয়টি স্তম্ভ এসেছে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে (আরকান আল-ঈমান)। যা সব মুসলমানদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে। বিশ্বাসের স্তম্ভগুলো হল:

আল্লাহকে বিশ্বাস
ফেরেস্তাগণকে বিশ্বাস
আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক প্রেরিত কিতাবসমূহে বিশ্বাস (কুরআনসহ)
আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক প্রেরিত সকল নবী এবং রাসুলকে বিশ্বাস
আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস
তাকদীরে বিশ্বাস

উমার (রা.) বলেন,

একদিন আমরা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয় ..এরপর বলল: “আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”। তিনি বললেন: “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাতের উপর ঈমান আনা এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।”… [সহীহ্ মুসলিম]

আল্লাহ সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ্ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। কুরআনে বলা হয়েছে,

“তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারাই স্রষ্টা? তারা কি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।”[কুরআন ৫২:৩৫–৩৬]

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ্ একমাত্র রব। রব (আরবি: ﺭﺏ‎‎) বলা হয় তাকে যিনি সৃষ্টি করেন, পরিচালনা করেন এবং মালিকানা যাঁর জন্য। কুরআনে বলা হয়েছে,

“…জেনে রাখুন, সৃষ্টি করা ও হুকুমের মালিক তিনি। বরকতময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”[কুরআন ৭:৫৪]

একমাত্র উপাস্য

আরও তথ্যের জন্য দেখুন: শিরক
মুসলিমরা আরও বিশ্বাস করে আল্লাহ্ই একমাত্র ইলাহ্ তথা সত্য উপাস্য। ইলাহ্ (আরবি: ﺍﻻﻟﻪ‎‎) অর্থ হলো: সম্মান ও বড়ত্বের কারণে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় যার ইবাদত করা হয়। আর ইবাদত বা উপাসনা সেই সব কাজকে বলা হয়, যা কোনো ইলাহ্-র সন্তুষ্টি লাভের আশায় অথবা তার অসন্তুষ্টির ভয়ে করা হয়। কুরআনে বলা হয়েছে,

” আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।”[কুরআন ২:১৬৩]

মক্কার মূর্তিপুজারিরা লাত, মানাত, উজ্জাসহ বিভিন্ন মূর্তির উপাসনা করত। এগুলোর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

“এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে।…”[কুরআন ৫৩:২৩]

নাম ও গুণাবলী

কুরআনে বা হাদীসে আল্লাহর অনেকগুলো সুন্দর নাম ও গুণের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমরা আল্লাহ্-র নাম ও গুণগুলোর কোনোটি অস্বীকার করে না, সৃষ্টবস্তুর সাথে সাদৃশ্য দেয় না, গুণগুলোর ধরন নির্ধারণ করে না।

ফেরেশতাদের সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নূর বা আলো দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালনে রত আছেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

“তারা অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্তও হয় না।”[কুরআন ২১:১৯–২০]

হাদীস অনুসারে জিব্রাইলের দিগন্ত জুড়ানো ছয়শত ডানা রয়েছে। কয়েকজন ফেরেশতার কাজ সম্পর্কে হাদীসে জানা যায়। যেমন- ওহী বহনের দায়িত্বে আছেন জিব্রাইল, শিংগায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে আছেন ইস্রাফিল, বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্বে আছেন মিকাইল, জাহান্নামের দায়িত্বে আছেন মালিক, মৃত্যুর দায়িত্বে আছেন মালাকুল মাউত। এছাড়াও মুসলিমরা বিশ্বাস করে প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে দুইজন করে ফেরেশতা থাকে। এ ফেরেশতাদ্বয় ব্যক্তির আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করেন।

নবী-রসূল সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির জন্য একজন মানুষকে রাসূল (বার্তাবাহক) করে পাঠিয়েছেন যারা তাদেরকে তাওহীদের আহ্বান জানান। আল্লাহ তাদেরকে যে বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন তারা তার কোনো অংশ গোপন বা পরিবর্তন করেননি। ভিন্ন রাসূলের ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও আইন-কানুন ভিন্ন হতে পারে। এক রাসূলের উম্মতের উপর যে ইবাদাত ফরজ করা হয়েছে তা অন্য রাসূলের উম্মতের উপরে ফরজ করা হয়নি। আবার এক রাসূলের উম্মতের উপরে যে বিষয়গুলো হারাম করা হয়েছে তা অন্য রাসূলের উম্মতের জন্য হয়তো হালাল করা হয়েছে। কুরআন ও হাদীসে রাসূলদের মধ্যে কারো কারো নাম জানা যায়। যেমন- মুহাম্মদ, ঈসা, দাউদ, মূসা, ইব্রাহিম, নূহ। তবে সব নবী-রাসূলদের নাম ও তাদের বর্ণনা জানানো হয়নি।

কুরআন অনুসারে সর্বশেষ রাসূল হচ্ছেন মুহাম্মদ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তাকে অন্য নবীদের উপর বেশ কিছু বিশেষত্ব দিয়েছেন। তাকে সমস্ত জিন ও মানুষের নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন।

আসমানী গ্রন্থ সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, আসমানী কিতাবসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে,

“কোনো মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোন দূত পাঠানো ছাড়া। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই ওহী প্রেরণ করেন। তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়।”[কুরআন ৪২:৫১]

“আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন।”[কুরআন ৪:১৬৪]

তাওরাতের ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে,

“আর আমি তার জন্য ফলকসমূহে লিখে দিয়েছি প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।”[কুরআন ৭:১৮৫]

কিতাবসমূহের মধ্যে কয়েকটির নাম কুরআনে বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কুরআন, তওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর, সহিফায়ে ইব্রাহিম ও সহিফায়ে মূসা।

মুসলিমদের বিশ্বাস অনুসারে, শেষ আসমানী কিতাব কুরআন পূর্বের কিতাবসমূহের সত্য বিষয়গুলোর সত্যায়ন করে, ঐ কিতাবগুলোতে যেসব বিকৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে।

তাকদীর সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

আরও তথ্যের জন্য দেখুন: তাকদির
এ মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বজ্ঞান অনুসারে সেসব কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন এরূপ বিশ্বাসকে তাকদীর বলা হয়। মুসলিমরা বিশ্বাস করে,

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে জানেন এবং তিনি লওহে মাহফুজে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে সবকিছু লিখে রেখেছেন।
কোনো কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ঘটে না।
সবকিছুর জাত-বৈশিষ্ট্য আল্লাহরই সৃষ্টি।
মানুষের ইচ্ছা ও ক্ষমতা আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অনুবর্তী।
আখিরাত/পরকাল সম্পর্কে ইসলামী আকীদা
মূল নিবন্ধ: আখিরাত
মুসলিমরা বিশ্বাস করে, পার্থিব জীবন শেষ হয়ে মৃত্যু ও কবর জীবনের মাধ্যমে অন্য জগত শুরু হবে। একসময় কিয়ামত সংঘটিত হবে, তারপর পুনরুত্থান, হাশর ও হিসাব-নিকাশের পর ফলাফল প্রাপ্ত হয়ে জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাবে।

কবর

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তাকে তার রব, দীন ও শেষনবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করা হবে। মানুষ তাদের কর্ম অনুসারে কবরে শাস্তি বা শান্তি ভোগ করবে। মৃত ব্যক্তি কবর জীবনের শাস্তি অথবা শান্তি প্রাপ্ত হবে, যদিও তাকে ভূগর্ভস্থ করা না হয়।

কিয়ামতের পুর্বাভাস

ইসলাম অনুসারে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের পূর্বে এর পুর্বাভাস বা আলামত প্রকাশ পাবে। আলেমগণ এ আলামতগুলোকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন:

1. ছোট আলামত: ছোট পুর্বাভাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, বড় বড় অট্টালিকা নিয়ে রাখালদের গর্ব করা, নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অধিক হত্যা হওয়া, ব্যভিচার ও অন্যায় কাজ অধিক মাত্রায় হওয়া, নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ, ইউফ্রেটিস নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় আবিষ্কৃত হওয়া ইত্যাদি।

2. বড় আলামত: বড় পুর্বাভাস দশটি। যেগুলো এখনো প্রকাশিত হয় নি। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী ও দাজ্জালের আগমন ঘটবে। ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি খৃষ্টানদের ক্রুশ ভেঙ্গে দিবেন, দাজ্জাল ও শুকর হত্যা করবেন। জিযিয়া করের আইন রহিত করবেন। ইসলামী শরী‘আত অনুসারে বিচার পরিচালনা করবেন। একসময় ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে। তাদের ধ্বংসের জন্য তিনি দুআ করবেন, তারপর তারা মারা যাবে। তিনটি বড় ভূমিকম্প হবে। পূর্বে একটি, পশ্চিমে একটি, জাযিরাতুল আরবে একটি। আকাশ থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া নেমে এসে সকল মানুষকে ঢেকে নিবে। পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হবে। একটি অদ্ভুত চতুস্পদ জন্তু বের হবে। ইয়ামানের আদন থেকে ভয়ানক আগুন বের হয়ে মানুষদের শামের দিকে নিয়ে আসবে।

কিয়ামত, হাশর, হাউয

ইসলামী আকীদা অনুসারে, ইসরাফীল শিঙ্গায় ফুৎকার দিলে কিয়ামত হবে, অর্থাৎ বিশ্বজগৎ ধ্বংস হবে। প্রথম ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ যা জীবিত রাখবেন তাছাড়া সকল সৃষ্টজীব মারা যাবে। দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই পৃথিবী সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত সৃষ্টজীবের আর্বিভাব হয়েছিল, তারা সকলেই জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে।

এরপর তাদের হিসাব-নিকাশের জন্য ময়দানে একত্রিত করা হবে। এই একত্রিত করাকে হাশর বলা হয়। ময়দানে অবস্থানকালে সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে। এ উত্তপ্ত ও কঠিন অবস্থান দীর্ঘ হওয়ায় শরীর থেকে নির্গত ঘামে হাবু-ডুবু খাবে তাদের (ভালো-মন্দ) কর্ম অনুপাতে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, হাউয নামের একটি সুপ্রশস্ত পানির ধারা আল্লাহ্ নবীকে হাশরের মাঠে দান করেছেন। হাউযের পানি দুধের চেয়ে সাদা, বরফের চেয়ে ঠাণ্ডা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি, মিশকের চেয়ে সুগন্ধি। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পানি পান করবে, সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না।

শাফায়াত

আরও তথ্যের জন্য দেখুন: শাফায়াত
মানুষ বিচার দিবসের ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে তাদের রবের নিকট সুপারিশ পেশ করার চেষ্টা করবে। শেষনবী তাদের জন্য সুপারিশ করবেন। কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা করা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হবে। নবী-রাসুল, ফেরেশতা ও নেককার ব্যক্তিরা সুপারিশ করার অনুমতি পাবে। কুরআন ও সিয়াম সুপারিশ করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। যে ব্যক্তিদের প্রতি স্বয়ং আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন, তাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য কেউ সুপারিশ করবে না।

মীযান, পুল সিরাত, কানত্বারাহ্

আল্লাহ বিচার দিবসে মীযান স্থাপন করবেন, বান্দাদের আমল মাপার ও তাদের কর্মের প্রতিদান প্রদানের জন্য। এর দুটি পাল্লা ও রশি রয়েছে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী পুল সিরাত হলো জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুল, যা অন্ধকারাছন্ন ভয়ের পথ। এর উপর দিয়ে মানুষ জান্নাতের দিকে অতিক্রম করবে। কেউ অতি দ্রুত অতিক্রম করবে আবার কেউ অনেক ধীর গতিতে তাদের কর্ম অনুসারে। পুল সিরাতের দুই ধারে হুকের মত অসংখ্য কাঁটা থাকবে। পুল সিরাত হবে তরবারীর চেয়ে ধারালো, চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম ও পিচ্ছিল জাতীয়। অনেকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের তলদেশে নিক্ষিপ্ত হবে।

মুমিনেরা পুলসিরাত অতিক্রম করে কানত্বারাতে অবস্থান করবে। এখানে জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে একে অপরের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে পরিশুদ্ধ হবে। এরপর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

জান্নাত, জাহান্নাম

মুসলিমরা বিশ্বাস করে জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং সর্বদা থাকবে। জান্নাতবাসীদের নি‘আমত শেষ হবে না, অনুরূপ জাহান্নামীদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহ চিরস্থায়ী শাস্তির ফায়সালা করেছেন তার শাস্তি কখনও শেষ হবে না।

ইসলাম অনুসারে, জান্নাত হলো অতিথিশালা, যা আল্লাহ মুত্তাকীদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে রয়েছে প্রবাহিত নদী, সুউচ্চ কক্ষ, মনোলোভা রমণীগণ। আরো রয়েছে এমন সব সামগ্রী যা কোনো দিন কোনো চক্ষু দেখে নি, কোনো কর্ণ শ্রবণ করে নি, আর কোনো মানুষের অন্তরেও কোনো দিন কল্পনায় আসে নি। জান্নাতে মুমিনদের জন্য সব চাইতে বড় নি‘আমত হলো আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখা। সবচেয়ে উন্নত ও উত্তম জান্নাত হল, জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ‘লা। এর ছাদ হলো আল্লাহর ‘আরশ। জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বৎসর দূরত্বের রাস্তা থেকে পাওয়া যাবে। জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, প্রত্যেক দরজার পার্শ্বের দৈর্ঘ্য ‘মক্কা’ থেকে ‘হাজর’ এর দূরত্বের সমান। জান্নাতে নূন্যতম মর্যাদার অধিকারী যে হবে তার জন্য দুনিয়া ও আরো দশ দুনিয়ার পরিমাণ জায়গা হবে।

আর জাহান্নাম হল শাস্তির ঘর যা আল্লাহ কাফির ও অবাধ্যদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। তার পাহারাদার হবে নিষ্ঠুর ও নির্দয় ফিরিশতারা। কাফিরদের খাদ্য হবে যাক্কুম (কাঁটাযুক্ত) আর পানীয় হবে পুঁজ, দুনিয়ার আগুনের তুলনায় ৭০ গুণ তাপমাত্রার আগুনে তাদের শাস্তি দেয়া হবে। জাহান্নামের সাতটি দরজা হবে।

Bednet steunen 2023