free hit counter
রূপচর্চা

ত্বক সুস্থ রাখতে যেসব ভিটামিনযুক্ত খাবার খাবেন

সুন্দর ত্বক কার না ভালো লাগে। সুন্দর ত্বক সকলেরই কাম্য। এই সময়ের আবহাওয়ায় শীতের আগমনী গান! শীতকালে ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। যত্ন নেওয়ার পরও কিছুটা নির্জীব লাগে দেখতে। তার কারণ পুষ্টির অভাব। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া না করলে প্রতি দিন যত্ন নিলেও ত্বক দেখতে শুষ্ক লাগবে। তবে কিছু খাবার আছে, যা খেলে শীতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল।

ত্বক ভালো রাখতে চাই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। কিছু ভিটামিনও ত্বক ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে, যা আপনি পাবেন খাবার থেকে।

সুস্থ ত্বক ছবি: সংগৃহীত
আসুন জেনে নিই ত্বক ভালো রাখতে কী খাবেন-

১. অনেকেই জানেন না সানস্ক্রিন ও অ্যান্টি-এজিং ক্রিমের অন্যতম উপাদান ভিটামিন এ। ভিটামিন এ ত্বক আর্দ্র রাখে, ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে আনে। এ ছাড়া ব্রণর সমস্যা থেকেও ত্বককে বাঁচায় ভিটামিন এ। প্রতিদিন খাবারের প্লেটে রাখুন গাজর, কুমড়ো, বেল পেপার, কমলালেবু, পেঁপে, ব্রকোলি, পালং শাক। এছাড়া কড মাছের তেল ও ডিমেও প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে। প্রতিদিনের একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ৭০০ মাইক্রোগ্রাম ও একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর ৯০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ রাখা উচিত।

২. ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ভিটামিন সি। ত্বকের যেকোনও দাগ বা ক্ষত সারাতে এর কোনও বিকল্প নেই। ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির ফলে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তা থেকেও বাঁচাতে পারে এই ভিটামিন। এছাড়া টানটান রাখে ভিটামিন সি। প্রতিদিন আঙুর, কমলালেবু, স্ট্রবেরির মতো ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া টমেটো,ক্যাপসিকাম, রেড বেলপেপার, ব্রকোলিতে ভিটামিন সি রয়েছে। ত্বক ভাল রাখতে প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ৯০ মিলিগ্রাম ও পূর্ণবয়স্ক মহিলার ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন।

৩. উজ্জ্বল ত্বক পেতে হলে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার রাখতেই হবে। ভিটামিন ‘ই’ খুব ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা ত্বককে উন্মুক্ত রেডিকেল থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। এ ভিটামিন ত্বককে রোদ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে, কোলাজেনের ভাঙন রোধেও ভূমিকা রাখে। ত্বকের জ্বালা ভাব, শুষ্কতার সমস্যা কমিয়ে ত্বককে আর্দ্র রাখে ভিটামিন ই। ত্বকের কালো দাগ ও বলিরেখা দূর করে ভিটামিন ই। চিনাবাদাম,ভেজিটেবল অয়েল ভিটামিন ই এর অন্যতম উৎস। বীজ ও বাদাম– আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ ও তিসির বীজে পাবেন ভিটামিন ই। এই ভিটামিন সূর্যালোক থেকে রক্ষা, আর্দ্রতা রক্ষা ও ত্বক মসৃণ রাখে।

৪. ত্বককে জীবাণু ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের হাত থেকে বাঁচায় ভিটামিন ডি। এর পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করতেও ভিটামিন ডি-র ভূমিকা অনেক বেশি। প্রতিদিনের খাবারে ২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি রাখা দরকার। ডি এর অভাব পূরণে দুগ্ধজাত খাবার যেমন মাখন,চিজ খেতে পারেন। এছাড়াও পাতে রাখুন মাছ, ডিম ও মাছের লিভারের তেল।

৪. জিংক ত্বকের ক্ষত দূর করে ও নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। জিংকসমৃদ্ধ খাবার ত্বককে ব্রণ ও দাগ মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ ও ব্রকলিতে পাবেন জিংক।

৫. ত্বক ভালো রাখে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে আর্দ্র রাখে ও ত্বকের সুরক্ষার স্তর নিশ্চিত করে। এর প্রদাহনাশক উপাদান ব্রণ, লালচেভাব ও এরিথিমা কমাতে সাহায্য করে। ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ যেমন- স্যামন। এ ছাড়া তিসির বীজ ও অ্যাভোকাডো।

পরামর্শ

* জিংক ত্বকে নতুন কোষ গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেস্টুরেন্টের খাবারের প্রতি যাঁদের ঝোঁক আছে, ত্বক সুন্দর রাখতে সেগুলো বাদ দিতে হবে।

* কী খাবেন, তার পাশাপাশি কী খাবেন না, সেটা জানাও জরুরি। তেল–মসলায় তৈরি খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি সব দিক থেকেই ক্ষতিকর।

* প্রখর রোদ এড়িয়ে চলুন।

* প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

* খাবারের সময়টা নির্দিষ্ট রাখার চেষ্টা করুন।

* প্রতিদিন খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত পানি ও দুটি করে ফল রাখার চেষ্টা করুন।

এসব ভিটামিনযুক্ত খাবারগুলো প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন।এর ফলে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।

তথ্য সূত্র: কালেরকণ্ঠ, প্রথমআলো , উইকিপিডিয়া