free hit counter
লাইফ স্টাইল

ব্যাগ নিয়ে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া

১০ হাজার টাকায় একটি বড় কোম্পানির জন্য ছয়টি ডায়েরি তৈরি দিয়ে ২০০৫ সালে শুরু। হাজারীবাগের সেই তানিয়া ওয়াহাব এখন চামড়াজাত পণ্যের সফল উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত নাম। এখন তিনি রয়েছেন ভারতের মুম্বাইয়ে। ১৮ অক্টোবর তানিয়া তাঁর প্রতিষ্ঠান ট্যানের হাতে আঁকা চামড়ার হাতব্যাগ নিয়ে অংশ নিয়েছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল গ্ল্যাম আইকন’-এর ফ্যাশন শোতে।

অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এটা মূলত প্রতিভাবান মডেল খুঁজে বের করার একটা রিয়েলিটি শো। কয়েক বছর ধরে চলছে। সাধারণত ফ্যাশন শোতে ব্যাগ নিয়ে হাঁটার সংস্কৃতি সেভাবে জনপ্রিয় নয়। কিন্তু পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা জানিয়ে এখানে আমার তৈরি কিছু ব্যাগের ছবি পাঠিয়েছিলাম। আয়োজকেরা সেগুলো পছন্দ করেন। আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আমার ব্যাগগুলো নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুটও হয়েছে। তাঁরা খুবই পছন্দ করেছেন আমার ব্যাগ।’

চামড়ার তৈরি ব্যাগের ওপর হাতে আঁকা নকশার ব্যাগ রয়েছে কিছু। কারিগর ব্যাগের ওপর এঁকেছেন শাপলা, কাঠগোলাপ, কদমের মতো সব দেশি ফুল।

তানিয়া ওয়াহাবের ব্র্যান্ড ট্যানে করপোরেট গিফট, মানিব্যাগ, কম্পিউটার ব্যাগ, অফিশিয়াল ব্যাগ, মেয়েদের ফ্যাশনেবল ব্যাগ, বেল্ট, ডায়েরি, জ্যাকেট ইত্যাদি তৈরি হয়। এ ছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী চামড়াজাত যেকোনো পণ্যও তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বাইরেও ট্যানের পণ্যের চাহিদা আছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও দিয়ে থাকেন তানিয়া।

তানিয়ার দাদা-বাবা কেউই কখনো ব্যবসা করেননি। তাঁর বাবা মারা যান ২০০২ সালে। সেই পরিবারের মেয়ে ব্যবসা করবেন, তা কেউ মেনে নিতে পারেননি। ব্যবসা করার জন্য কোনো দিকনির্দেশনাও পাননি তানিয়া। লেদার টেকনোলজিতে স্নাতক হওয়ার পর নিজের মতো করে শুরু করেছেন ট্যান। পেয়েছেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-ডিএইচএলের ‘আউটস্ট্যান্ডিং উইমেন ইন বিজনেস’ শীর্ষক অ্যাওয়ার্ড। এর আগেও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা পুরস্কারসহ পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার। সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে ২০১১ সালে ভারত এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেন তিনি। ট্যানের পণ্য ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে—এমনটাই স্বপ্ন দেখেন তানিয়া।