free hit counter
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ ইউরোপের জন্য বুমেরাং?

প্রতীকী ছবি

গত শনিবার হয়ে গেল লাটভিয়ার নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী ক্রিজোনিস কারিন্স নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসছেন। ভোটের আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে নাগরিকরা যে বহুমুখী সংকটের মধ্যে পড়েছে, সে সংকট থেকে উদ্ধারে নাগরিকদের সুরেই সুর মিলিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটে জনগণ যে ক্ষুব্ধ সেই ক্ষুব্ধতায় নিজেও গলা উঁচু করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মার্সিস ক্র্যাস্টিনস বলেন, শনিবারের সাধারণ নির্বাচনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশেষ করে উচ্চ বিদ্যুতের দামসহ দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে লাটভিয়ানরা ভোট দিয়েছে। তিনি মনে করেন রাশিয়ানরা লাটভিয়ায় ভোটারদের প্রভাবিত করেছে এবং কারিন্সের পতাকা তলে সমবেত হতে সাহায্য করেছে। একই সমান্তরালে ইতালির নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করা যায়। রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদানকারী জর্জিয়া মেলোনির জয়ের পেছনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতালির জনগণের সংকটের কথাই তিনি নির্বাচনে ইস্যু করেছিলেন।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। এই নিষেধাজ্ঞা উল্টো ইউরোপকেই বিপাকে ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি। নিজ দেশের পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে এমন কথাই বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ফলে উল্টো ইউরোপকেই বিপাকে ফেলে দিয়েছে। জ্বালানির অভাবে মরার দশায় পড়া হাঙ্গেরি ইতোমধ্যেই বলেছে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রকারান্তরে হাঙ্গেরির ওপর ‘পারমাণবিক বোমা’ ফেলা হয়েছে। হাঙ্গেরির নেতা মনে করছেন, সামনের দিনগুলো আরো খারাপ হতে পারে। বুমেরাং হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

এর আগে রয়টার্স জানায়, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিল। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও সামরিক জোট ন্যাটোর বিরোধিতাও করেন। শুধু তাই নয়, তারা রাশিয়াসহ গ্যাস সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে সরকারের প্রতি দাবি করেন।

ভয়াবহ শীতকালের অপেক্ষায় আগামীর ইউরোপ : সুইডেন ও ডেনমার্কের অর্থনৈতিক অঞ্চলে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের চারটি ছিদ্র এবং জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণায় বিশাল বিপদে পড়েছে জার্মানি। তারা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানির জন্য ধরণা দিয়েও নাগরিকদের আগামী শীতের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় তাপের ব্যবস্থা করতে পারছে না। যে কারণে জার্মানিসহ ইউরোপের নাগরিকরা একটি ভয়াবহ শীতের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। ইউরোপীয় রাজনীতিতে বড় ঘটনা লক্ষ্য করছে যুক্তরাজ্য। মূল্যস্ফীতিসহ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে বিভিন্ন অভিযোগের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে বরিস জনসনকে।

ব্যর্থ হতে চলেছে কি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা? আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে বাদ দেয়া হয়। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিদেশে মজুত সম্পদের অর্ধেকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর পরিমাণ প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়। দৃষ্টান্ত হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার কাছে ডুয়েল ইউজ ও অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া শিল্প খাতে নানা পণ্য রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাঠ, লোহা, ইস্পাত ও অন্য ধাতব পণ্য এবং কাঁচ ও কাঠের তৈরি শিল্প ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম রয়েছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেছেন, রাশিয়ার ওপর এমন কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, বিশ্ব যা আগে দেখেনি। স্ট্রাসবুর্গে গত সপ্তাহে কমিশনের এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং রাশিয়ার আর্থিক খাত লাইফ সাপোর্টে চলে গেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছে ইউরোপ। নিষেধাজ্ঞার খেসারত হিসেবে আগামী শীতে ব্রিটেনের অন্তত ৬০ লাখ পরিবার হাড়হিম করা ঠাণ্ডায় সকাল-সন্ধ্যা, যখন-তখন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাবে। শুধু ব্রিটেন নয়, গোটা ইউরোপেও একই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যে কারণে ব্রাসেলসে ইইউ একটি কূটনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তাতে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

এটি কার্যকর করা গেলে হাঙ্গেরি ও জার্মানি গ্যাস সংকট থেকে বাঁচতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত প্রস্তাব হিসেবে রূপ পায়নি। এর কারণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইইউর নিজেদের মধ্যে বিতর্ক আছে। রাশিয়া বলছে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর ওপর স্পষ্টভাবে বুমেরাং হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এই ক’দিনে স্পষ্ট হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়াকে ইউক্রেন থেকে তার বাহিনী গুটিয়ে আনতে বাধ্য করার যে লক্ষ্য ছিল, তা অর্জিত হয়নি।

আকাশছোঁয়া দাম ইউরোপে: নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছে এবং ইতোমধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। এসব বন্দর থেকে ইউক্রেনের লাখ লাখ টন শস্য বহির্বিশ্বে যায়। রাশিয়ার কারণে ইউক্রেনের খাদ্যবাহী জাহাজ বের হতে পারছে না। এতে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে। আফ্রিকাজুড়ে খাদ্যশস্যের দাম ৪৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য চড়া দামে বিক্রি করছে। ফলে খাদ্য ও জ্বালানির সংকটে ইউরোপজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ভুগবে।

Source link

Bednet steunen 2023