free hit counter
প্রথমবার জীবিত ব্যক্তির দেহ থেকে ফুসফুস প্রতিস্থাপন
আন্তর্জাতিক

প্রথমবার জীবিত ব্যক্তির দেহ থেকে ফুসফুস প্রতিস্থাপন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো জীবিত ব্যক্তির দেহ থেকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে দুনিয়াজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় ধরনের এ সাফল্য পেয়েছে জাপান। দেশটিতে করোনায় ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এক নারীর শরীরে তার স্বামী-সন্তানের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু জাপানের এ ঘটনায় জীবন্ত ব্যক্তির ফুসফুস করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

সম্প্রতি ওই নারীর শরীরে করোনা সংক্রমণের ফলে তার ফুসফুস দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। তবে ওই নারীর স্বামী ও ছেলের সুস্থ ফুসফুস তার দেহে প্রতিস্থাপন করতে সফল হন চিকিৎসকরা। জটিল এ অস্ত্রোপচার করতে সময় লেগেছে প্রায় ১১ ঘণ্টা।

ডোনার দুজনই সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। করোনা আক্রান্ত ওই নারী আপাতত রয়েছেন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউতে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যেই তাকে রিলিজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডোনার জীবিত অবস্থায় সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

করোনাভাইরাস যে ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তা আগেই জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে ব্রেন ডেথ রোগীর দেহ থেকে করোনা রোগীর দেহে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলেছে। কিন্তু জীবিত সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুস প্রতিস্থাপন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাপান।

করোনা সংক্রমণের ফলে জাপানি ওই নারীর আর বাঁচার আশা ছিল না। চিকিৎসকরা সবাই জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন। হাসপাতালের তরফে বলা হয়েছিল, একমাত্র ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা গেলে তবেই এ যাত্রায় তিনি প্রাণে বাঁচতে পারেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে কোনো ব্রেন ডেথ রোগীও পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ফুসফুস ডোনেট করার সিদ্ধান্ত নেন রোগীর স্বামী ও তার ছেলে। ছেলেটির ডান ফুসফুসের কিছু অংশ এবং ওই নারীর স্বামীর বাম দিকের পুরো ফুসফুসটাই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বয়সজনিত বা শারীরিক সমস্যার অন্য কোনো উপাদান প্রতিস্থাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি।

পুরো অপারেশনটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ড. হিরোশি ডেট। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চিকিৎসায় অনেক আশা আছে।’ করোনার ফলে ওই নারীর নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দুটি ফুসফুসই এর ফলে শক্ত হয়ে যাচ্ছিল।