free hit counter
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমা এককেন্দ্রিক বিশ্বের যুগ শেষ: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

যুক্তরাষ্ট্রের একমুখী আচরণই বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে। পশ্চিমা সেই এককেন্দ্রিক বিশ্বের যুগ শেষ হয়েছে। অভিযোগের পাশপাশি এমন স্বস্তিও প্রকাশ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রাশিয়া বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটবে না।

সেন্ট পিটার্সবুর্গে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুন) ‘ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক ফোরাম’ এর বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। খবর সিএনএনের

পুতিন বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধে জিতে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে পৃথিবীতে ঈশ্বরের নিজস্ব প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করে। শুধু নিজেদের স্বার্থরক্ষা ছাড়া যাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই। আর নিজেদের সেই স্বার্থকে তারা পবিত্র বলেও ঘোষণা করে। তাদের সেই একমুখী আচরণই আজ বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে।

পুতিনের বক্তৃতার আগমুহূর্তে বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয় রাশিয়া। তাই নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট পর বক্তৃতা দেন তিনি।

কারা এই সাইবার হামলা চালিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেইনের সেনাবাহিনীর আইটি দলের হ্যাকাররা এটা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

চারমাস আগে ইউক্রেইনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে পুতিন কী বক্তব্য দেন তার দিকে তাকিয়ে ছিল বিশ্ব। ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে পুতিন আসলে কী ভাবছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাষণের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

পুতিন বলেন, ‘পশ্চিমারা নিজস্ব বিভ্রমের ভেতর বাস করে। তারা মনে করে তারা জিতেছে। বাকি সবকিছু উপনিবেশ, পেছনের উঠান এবং সেখানে বাসকারীরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক।

এ সময় রাশিয়ার অর্থনীতিকে আঘাত করার চেষ্টা করার জন্য পশ্চিমাদের দোষারোপ করেন পুতিন। মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ‘পাগলামো’ এবং ‘বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তবে নিষেধাজ্ঞা এখনও কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্যই বেশি ক্ষতিকর যারা তা আরোপ করে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪০ কোটি ডলারের লোকসান হতে পারে বলে উল্লেখ করেন পুতিন। তার মতে, ইউক্রেইন যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে ইইউ তার রাজনৈতিক কর্তৃত্বও খুইয়েছে।

পুতিন বলেন, ইইউ দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার পরিণতিতে অসমতা কেবলই আরও বেড়ে যাবে। এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইউরোপের মানুষের বাস্তবিক স্বার্থের দিকটিকে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার বোমাবর্ষণ একেবারে গোঁড়া থেকেই সফল হওয়ার কোনও সুযোগ নেই দাবি করে পুতিন বলেন, রুশরা শক্ত মানুষ। যে কোনও চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করে চলার ক্ষমতা রাখে তারা।
তিনি বলেন, রাশিয়া শক্তিশালী এবং সার্বভৌম জাতি হিসাবে যাত্রা শুরুর প্রবেশদ্বারে পা রেখেছে। বর্তমান সময়ে ধরা দেয়া ব্যাপক সুযোগ নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগানো হবে। আরও শক্তিশালী হবে রাশিয়া। রাশিয়া উন্মুক্ত অর্থনীতির দেশ হবে এবং নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটবে না। পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রাশিয়া কাজ করে যাবে। নতুন নতুন রুটে গ্যাস প্রবাহও চলতে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভ্লাদিমির পুতিন। যারাই অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাইবে রাশিয়া তাদেরকে তা দিয়ে এই পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার জন্য পুতিন রাশিয়ায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার দেশে অপার সম্ভাবনা আছে। পশ্চিমারা মস্কোকে জোর করেও নিচে নামাতে পারেনি।

Source link