free hit counter
আন্তর্জাতিক

পতনের মুখে ইসরাইল সরকার, ফের কট্টরপন্থি নেতানিয়াহু!

ইসরাইলের জোট সরকার সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্ট ভেঙে দেবে।

অর্থাৎ পতন হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সরকারের। আর সরকার ভেঙে গেলে গত তিন বছরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

ঠিক কোন পরিস্থিতিতে পড়ে ইসরাইল সরকার পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? আর সরকার ভেঙে দিতে চাইছে?

নাফতালি বেনেটের পতনের পর ইসরাইলের ভবিষ্যত কী?

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণ এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরোধিতা করতেই সেখানে গঠিত হয় ৮ দলের জোট। এ জোটে ডানপন্থী, মধ্যপন্থী, এমনকি ইসরাইলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলও রয়েছে। মাত্র এক বছর আগে ক্ষমতায় আসে এ জোট সরকার। নাফতালি বেনেট ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ জোট ক্ষমতায় বসায় দীর্ঘ ১২ বছর পর প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়তে হয় নেতানিয়াহুর।

বলা হচ্ছে, নেতানিয়াহু সরকারের বিরোধিতা করলেও নিজেদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে জোট সদস্যদের। সাম্প্রতিক সময়ে জোটের দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ চরমে ওঠে। রাষ্ট্র, ধর্ম, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারির মতো বিষয়ে জোট সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এসব বিষয়ে মতের মিল না ঘটলে শুরু হয় জোট ভাঙন।

গত এপ্রিলে বেনেটের ডানপন্থী ইয়ামিনা পার্টির সদস্য ইদিত সিলমান দলত্যাগ করেন। গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজনের জোটত্যাগ করে। ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় ক্ষমতাসীন জোট। এতে পার্লামেন্টে আইন পাসের ক্ষমতা হারিয়েছে বেনেট সরকার।

এদিকে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের হামলা প্রতিবাদে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় ইউনাইটেড আরব লিস্ট।

সম্প্রতি জোটের পক্ষে ভোট দেবেন না বলে চলতি মাসের শুরুতে বেঁকে বসেন ইয়ামিনা পার্টির এক সদস্য।

সবমিলিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারি জোটে বড় ধরনের ফাটলের দেখা দিয়েছে। যার কারণে সরকারকে সামনে এগিয়ে নিতে অক্ষম হয়ে পড়েছে জোট।

তাই এখন, সরকার ভেঙে দেওয়া ছাড়া উপায় দেখা যাচ্ছে না। সোমবার এটি হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর এই সময়টায় চুক্তি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবেন নাফতালি বেনেট। তখন নতুন নির্বাচনের আগপর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন ইয়াইর লাপিদ।

আগামী ২৫ অক্টোবর নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ধরা হচ্ছে ইসরাইলে। আর নির্বাচন হলে ফের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কুখ্যাত ইহুদিপন্থি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জনমত জরিপে তিনি এগিয়ে।

ক্ষমতায় ফের আসছেন জানিয়ে ইতিমধ্যে ঘোষণাও দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

অবশ্য নতুন নির্বাচনের পথে না হেঁটে পার্লামেন্ট সদস্যদের বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের।

তারা জানিয়েছেন, সরকার ভেঙে না দিয়ে বিকল্প আরেকটি সরকার গঠন করা যেতে পারে।পার্লামেন্টে সরকার ও বিরোধীপক্ষে থাকা ডানপন্থী দলগুলো জোট গড়লে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা। এতে করে নতুন ডানপন্থী জোট সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হবে।

তাছাড়া আরেকটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজন ও এটিতে ভোট দেওয়ার আগ্রহ সাধারণ ইসরাইলিদের নেই।