free hit counter
আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মিয়ানমারকে অস্ত্র দিচ্ছে কারা

প্রতীকী ছবি

অং সান সুচির দল নির্বাচনে বিজয়ের পর ক্ষমতায় দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর ঠিক আগেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যে কারণে মিয়ানমার এক রকম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তা সত্ত্বেও সামরিক সামর্থ্য কমেনি কিংবা সমরাস্ত্র কেনা থেমে নেই দেশটির।

গত সপ্তাহেই জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে অর্থ সাহায্য এবং অস্ত্র সরবরাহ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সামরিক শক্তির দিক থেকে মিয়ানমার তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের ১৪২টি রাষ্ট্রের সামরিক শক্তির একটি সূচক প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার নামে একটি সংস্থা। এতে মিয়ানমারের অবস্থান ৩৯ এবং বাংলাদেশের অবস্থান ৪৬ নম্বরে দেখানো হয়েছে।

সূচক অনুযায়ী, সামরিক সামর্থ্যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এরপরে রাশিয়া, চীন, ভারত এবং জাপান। এশিয়ায় সামরিক শক্তির দিক থেকে ১৮তম অবস্থানে আছে মিয়ানমার। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র থেকে শুরু করে সাবমেরিন এবং নজরদারি করার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সবই রয়েছে। প্রতি বছর দেশটি তাদের সামরিক সামর্থ্য বাড়িয়েই যাচ্ছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স বলছে, ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা খাতে মিয়ানমারের বরাদ্দ সাড়ে ২২৮ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির সেনাবাহিনীতে এখন আনুমানিক সাড়ে চার লাখ এবং প্যারামিলিটারি সদস্য আছে ৫০ হাজার। আকাশপথেও সামরিক সামর্থ্য বেড়েছে গত কয়েক বছরে। রয়েছে ২৮০ বিমানের এক বহর। এর মধ্যে ফাইটার বা ইন্টারসেপ্টর এয়ারক্রাফট ৫৫টি। প্রশিক্ষণ বিমান ৯৩টি এবং সংরক্ষিত বিমানের সংখ্যা ২১টি। এছাড়া যুদ্ধবিমান পরিবাহী যানের সংখ্যা ২৬টি। হেলিকপ্টার ৮০টি এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৯টি। সামরিক যানের মধ্যে ট্যাংক রয়েছে ৬৬৪টি। সাঁজোয়া যান ১৫৮৭টি। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি গান বা কামান ১৯০টি। টানা কামান আছে ১৮৬৯টি। রকেট প্রজেক্টর ৪৮৬টি।

নৌযান ১৫৫টি। এর মধ্যে ফ্রিগেট ৫টি, ছোট যুদ্ধ জাহাজ কর্ভেটসের সংখ্যা ৩টি। টহল জাহাজ ১৩৩টি। একটি সাবমেরিন আছে ও মাইন ওয়ারফেয়ার ক্রাফট দুইটি।

এছাড়া জনগণের ওপর নজরদারি করার জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে পেগাসাস নামের একটি সফটওয়্যারও কিনেছে যা দিয়ে মোবাইল ফোন হ্যাক করে গোপনে নজরদারি চালানো যায় যেকোনো ব্যক্তির ওপর।

কারা দেয় অস্ত্র: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স ২০২২ এর তথ্য অনুযায়ী মিয়ানমার ভারি অস্ত্রের পুরোটাই বিদেশ থেকে কিনে। তবে হালকা অস্ত্র তৈরির জন্য তাদের নিজস্ব সমরাস্ত্র কারখানা আছে। যদিও ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন টিম মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

ওই টিমের রিপোর্টে মিয়ানমারের কাছে কোন কোন দেশ অস্ত্র বিক্রি করে সে সম্পর্কে বলা হয়েছিল। সামরিক জান্তার নিপীড়নে দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যখন মানবিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তখনো সাতটি দেশ মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবারহ করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সাল থেকে চীন, উত্তর কোরিয়া, ভারত, ইসরায়েল, ফিলিপাইনস, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের ১৪টি কোম্পানি যুদ্ধ বিমান, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধজাহাজ, মিসাইল এবং মিসাইল লঞ্চার সরবারহ করেছে।

কোন দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহার হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে, সেখানে অস্ত্র বিক্রি বা সরবারহ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি আইসিসিপিআরের পরিপন্থি।

সমর বিশেষজ্ঞ এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেছেন, চীন এবং ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার কারণে দেশটির সমরাস্ত্রের বড় অংশটি এই দুই দেশ থেকে কিনে। অধ্যাপক আলী বলেছেন, দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেতা অং সান সুচিকে গৃহবন্দির সময় পশ্চিমা দেশগুলো যখন তৎকালীন বার্মার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখনো চীন ও ভারত দেশটিকে সমর্থন যুগিয়েছে। ভারত ২০১৮ সালে একটি রুশ নির্মিত সাবমেরিন উপহার দিয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চীন, রাশিয়া, ভারত, ইসরাইল এবং ইউক্রেন ছিল প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। বেশিরভাগ ফাইটার বিমান, সাঁজোয়া যান, বন্দুক এবং যুদ্ধজাহাজ আসে চীন থেকে। আর যুদ্ধবিমান দিচ্ছে রাশিয়া। এছাড়া সাঁজোয়া যানও বিক্রি করছে। রকেট এবং কামানের গোলা আসে সার্বিয়া থেকে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক জান্তা মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর চীন, রাশিয়া এবং সার্বিয়া দেশটিকে অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে গেছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বিমান, সাঁজোয়া যান, রকেট এবং কামান। ওই বিবৃতিতে দেশটির সরকারের অস্ত্র পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।

Source link