free hit counter
চীন-তালেবানের মিল যেসব স্বার্থে
আন্তর্জাতিক

চীন-তালেবানের মিল যেসব স্বার্থে

পশ্চিমা বিশ্বের সরকারগুলো যখন তাড়াহুড়ো করে আফগানিস্তানে থাকা তাদের দূতাবাসের কর্মী ও নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে সেখানে রাশিয়া ও চীনের দূতাবাস এখনও খোলা আছে। চীনের কর্মকর্তারা সময় হাতে রেখে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছিলেন। কিন্তু জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস এমন দিন যে আসতে চলেছে, তা আগে দেখতে ব্যর্থ হয়েছেন।আফগান বন্ধুদেরও তিনি জার্মানিতে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সারা বিশ্বের একনায়কদের মধ্যে অনেক মিল আছে। তারা কেউই স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়গুলো পছন্দ করেন না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগানিস্তানে গত ২০ বছর থাকাকালীন এই দুইটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এখন সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মস্কো ও বেইজিংয়ের একনায়কেরা বিজয়ীর হাসি হাসছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গতমাসে তালেবানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে তাদেরকে অত্র অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে আখ্যায়িত করেন। বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আফগানিস্তানে চীনের উপস্থিতি সীমান্ত অঞ্চল এবং চীনের পশ্চিমের জিনজিয়াং প্রদেশে যেখানে দশ লাখের বেশি উইগুর মুসলিমকে বন্দি রাখা হয়েছে সেখানে শান্তি বজায় রাখবে।

তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে চীন। বিনিময়ে চীনের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা না করার অঙ্গীকার করেছে তালেবান। এছাড়া বন্দি উইঘুরদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে কোনো তালেবান যোদ্ধা যেন প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা না করে সেই বিষয়টিও দেখার অঙ্গীকার করেছে তালেবান।

আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সেখান থেকে অল্প দূরেই আছে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের’ করিডোর। এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে চীন ঋণ দেয়ার বিনিময়ে অত্র অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতার কারণে যদি এই করিডোর বিপদের মুখে পড়ে তাহলে পাকিস্তানে চীনের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া আফগানিস্তানে চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত আছে। দেশটির তেলের খনিতে অনুসন্ধান চালানোর কাজ ইতোমধ্যে পেয়ে গেছে চীন। এছাড়া আফগানিস্তানে আছে এমন সব বিরল খনিজ যেগুলো স্মার্টফোন, ট্যাবলেট আর এলইডি স্ক্রিন শিল্পের জন্য জরুরি।

কম্পিউটার চিপের ক্ষেত্রে এখনও তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি চীন। তবে আফগানিস্তানের এক ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ রিজার্ভের নিয়ন্ত্রণ নেয়া গেলে চিপ তৈরির ক্ষেত্রে চীন অন্যতম শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠতে পারে।

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত ও একনায়ক বিশ্বের মধ্যে ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে স্থায়ী পরিবর্তন এনেছে। একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, হিন্দু কুশে এখন স্বাধীনতা নয়, স্বৈরশাসকদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।

Related posts

খুলনায় আরও ৩৫ চীনা নাগরিক করোনায় আক্রান্ত

News Desk

এশিয়ার প্রথম অন্ধ ব্যক্তির এভারেস্ট জয়

News Desk

৮০ বছর পর ফের আটলান্টিক চার্টারে বাইডেন-জনসনের স্বাক্ষর

News Desk