free hit counter
আন্তর্জাতিক

কক্ষপথের জঞ্জাল পরিষ্কার করবে নাসা

ফাইল ছবি

কক্ষপথের ১৬০ কিলোমিটার থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চক্কর খাচ্ছে প্রায় চার হাজার ৮০০ স্যাটেলাইট। এর বাইরেও কক্ষপথে রয়েছে লাখ লাখ নাট-বোল্ট। এসব জঞ্জাল দিন দিন বেড়েই চলেছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে মাথাব্যথা।

তাই আপাতত অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্যাটেলাইটগুলো সরিয়ে ফেলার সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর মধ্যে যেগুলোর মেয়াদ শেষের দিকে, সেগুলোকেই বায়ুমণ্ডলের কাছাকাছি নামিয়ে ধ্বংস করার প্রস্তাব তুলেছে দেশটির ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন-এফসিসি।

এ কাজে স্যাটেলাইট অপারেটরদের পাঁচ বছর সময় বেঁধে দিতে চায় সংস্থাটি। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার আলোচনা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর।

যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্স করা স্যাটেলাইট তো বটেই, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের অনুমতি নিয়েছিল, সেগুলোর ব্যাপারেও এফসিসির সময়সীমা কার্যকর হবে বলে জানা গেল স্পেস নিউজ-এর খবরে।

অকেজো স্যাটেলাইট ধ্বংস তথা ডি-অরবিটিং করতে এফসিসির আগের লাইসেন্সিং সিস্টেমে উল্লেখ আছে ২৫ বছরের কথা। অর্থাৎ কক্ষপথটাকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পর সেটাকে ধ্বংস করতেই হবে। ওই সময়সীমাটাকে পাঁচ বছরে নামাতে চায় এফসিসি।

নাসা এর আগে বলেছিল, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ যে হারে বাড়ছে, তাতে স্যাটেলাইট-মিশনের মেয়াদ ২৫ বছর থেকে নামিয়ে ৫ বছর করা হলে আগামী দুইশ বছরে কক্ষপথের জঞ্জাল কমবে মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ দুইশ বছর পর দেখা যাবে, কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ৯০ ভাগ স্যাটেলাইটই কাজ করছে না।

এফসিসির যুক্তি হলো, মিশনের সময়সীমা কমালে দীর্ঘ মেয়াদে সেটার সুফল পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে চালু থাকা স্যাটেলাইটগুলোর চলার পথ নিরাপদ রাখতে অপারেটরদের যে পরিমাণ সময় ব্যয় করতে হয়, সেটাও কমবে।

গত আগস্টে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ন্যাশনাল স্পেস কাউন্সিলের চেয়ার কমলা হ্যারিস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্পেস নীতিমালাটির নবায়ন প্রয়োজন।

তার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে ভাইস প্রেসিডেন্টকে এক চিঠিতে সিনেটর ডায়ান ফাইনস্টাইন অনুরোধ জানিয়েছেন, তিনি যেন কাউন্সিলের সভায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্পেস ইন্ডাস্ট্রির নীতিমালা আরও পরিষ্কার করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট পাঠানো নিয়েও যেন একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সূত্র : স্পেস নিউজ, নাসা ডট গভ ও সায়েন্স ডিরেক্ট

এমকে

Source link