free hit counter
আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভাগাভাগি

মার্কিন নির্বাচন। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৮ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ক্ষমতার পাল্লার কাঁটা ঠিক মাঝামাঝিতে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাই ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি ও প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টি এখন প্রায় সমানে সমান হয়ে গেল বলে বিশ্ব গণমাধ্যমে বিশ্লেষণ হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল বলছে, দুই ভাগ হয়ে গেল ওয়াশিংটন। অপরদিকে বিবিসি বলছে, ভারসাম্যের দিকে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী গতকাল বুধবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানরা এগিয়ে আছে।

মঙ্গলবারের এ নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোয় ভোট হয়েছে। তবে কিছু আসনে ভোটগ্রহণ চলছিল। পাশাপাশি এদিন ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদেও ভোট হয়েছে।

নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনেটে দুই পক্ষের উভয়েরই ৫০টি করে আসন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের টাই-ব্রেকিং ভোটের কারণে উচ্চ এ কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতেই ছিল। এবারো সিনেটে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ৫০ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয়েই ৪৮টি করে আসন পেয়েছে। সিএনএনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে সিনেটে দুপক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট। তবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা অনেকটা এগিয়ে। তারা ২০১ আসনে জয় পেয়েছে। আর বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টি পেয়েছে ১৮২টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে দরকার ২১৮টি আসন। গভর্নর নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলেও রিপাবলিকানরা সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে।

প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্রেটদের হাতছাড়া হয়ে গেলে মেয়াদের বাকি দুই বছর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ডেমোক্রেটদের চাহিদা অনুযায়ী আইন পাসে বাধার মুখে পড়তে হবে তাকে।

হয়নি লাল ঢেউ: তবে এ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ‘লাল ঢেউ’ হওয়ার সম্ভাবনা ম্লান হয়ে গেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নকক্ষের কিছু রিপাবলিকান প্রতিনিধি এবারের নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন, এমন সম্ভাবনা থাকায় প্রতিনিধি পরিষদ দলটির নিয়ন্ত্রণে গেলেও তাদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান খুব বেশি হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।

সুবিধা হলো না ট্রাম্পের: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালটে কোথাও নাম ছিল না সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু ট্রাম্প ছায়া হয়ে বড় ভূমিকায় ছিলেন এ নির্বাচনে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে ‘লাল ঢেউ’ তোলার যে আহ্বান ট্রাম্প করেছিলেন, তা বাস্তবে ফলেনি। কিছু প্রার্থীর পক্ষে জোরেশোরে প্রচারে নেমেছিলেন ট্রাম্প। তাদের কেউ কেউ হেরে গেছেন বা হেরে যাওয়ার পথে আছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল ট্রাম্পের নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

নির্বাচনের পর মঙ্গলবার রাতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে হওয়া পার্টিতে ব্যাপক বিজয়ের দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও গণমাধ্যমের সামনে সবসময় উচ্চকিত ট্রাম্প কিছুটা ম্রিয়মাণ ছিলেন। এর কারণ হয়তো এটাই, যে বিজয়ের দাবি তিনি করেছেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার অমিল রয়েছে। যেসব বড় বড় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছিলেন ট্রাম্প, তাদের অনেকেই সুবিধাজনক অবস্থায় নেই।

পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মেহমেত ওজ সিনেটের পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জন ফিটারম্যানের কাছে হেরেছেন। পেনসিলভানিয়ার এ হার সিনেটে রিপাবলিকানদের কাক্সিক্ষত শক্ত অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে খানিকটা। আবার গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির জোস সাপিরোর কাছে হেরেছে রিপাবলিকান প্রার্থী ডাগ মাস্ট্রিয়ানো। অ্যারিজোনায় ট্রাম্প অনুসারী ক্যারি লেক ও ব্লেক মাস্টার্স পিছিয়ে আছেন। তবে এত হতাশার মধ্যে কিছুটা আশা জাগিয়েছেন ওহাইওর সিনেটর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী জে ডি ভেনস। এখানে তিনি জিতেছেন।

পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে ২০২৪ সালে। সেই নির্বাচনে আবারো রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চান সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই নির্বাচনে যেন দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে না শামিল হন, সে জন্য দলের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী রন ডিস্যান্টিসকে রীতিমতো হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার জন্য এখন আবার খারাপ খবর হল- ফ্লোরিডার গভর্নর পদে রিপাবলিকান পার্টির এই প্রার্থী বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন।

Source link

Bednet steunen 2023