free hit counter
আন্তর্জাতিক

আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন যুক্তরাজ্যের রানী

শোক বইতে স্বাক্ষর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

৭০ বছর শাসনের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হলেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানির রাজত্বকাল ও তার কূটনৈতিক খ্যাতি এত অতুলনীয় ছিল যে, এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আজ আয়োজন করা হয়েছে বিশাল এই শোকাবহ অনুষ্ঠান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সুক্ষ্ম নিখুঁত পরিকল্পনার সঙ্গে রানি নিজেও জড়িত ছিলেন। শ্রমসাধ্য, সুসংগঠিত এই আয়োজনের সম্ভাব্য শক্তি যে কী, সম্ভবত কেউই তা প্রয়াত রানির মতো করে অনুধাবন করতে পারবেন না।

রানির শেষকৃত্য- অতুলনীয় এই শোকাবহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আজ সোমবার লন্ডনে বিশ্বনেতা ও রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় সমাবেশে পরিণত হবে। এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে থাকছেন দুই হাজার অতিথি। ৫০০ বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তি। চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক। আর টেলিভিশনে সেই অনুষ্ঠান দেখবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে এমনই আগ্রহ যে বিবিসি একে ২১ শতকের ‘অতুলনীয়’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করছে।

বিয়োগান্তক এই আনুষ্ঠানিকতা আর শোকাবহ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আজ লন্ডনের বাসিন্দারা বিশ্বনেতা ও রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলাও দেখতে যাচ্ছেন। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজা-রানি, প্রিন্স-প্রিন্সেস, প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রীরা এখন লন্ডনে আছেন। প্রধানত, রানিকে শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, যে অনুষ্ঠানে বিশ্ব একসঙ্গে এমন এক নারীকে বিদায় জানাবে, বিশ্বনেতা হিসেবে যিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বীকৃত ছিলেন।

প্রত্যেকেই রানির শেষকৃত্যে আসতে চান। কারণ, তিনি ছিলেন রাজপরিবারের অন্যতম। এক কূটনীতিক বলেছেন, এটি শতাব্দীর (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ) শেষকৃত্য। প্রত্যেক বিশ্বনেতা এটি দেখতে এবং তাকেও যেন দেখা যায়, তা চাইবেন। যারা এখানে থাকবেন না বা যাদের দেখা যাবে না, তারা আমাদের সময়ের সেরা ফটোসেশনের সুযোগ হারাবেন। বিবিসির প্রতিবেদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি অনেকবারই রানির সঙ্গে ছবি তুলতে অনেককে হুড়োহুড়ি, ছোটাছুটিও করতে দেখেছেন। রানির কাছাকাছি যেতে প্রধানমন্ত্রীদের কার্যত একে অন্যকে কনুই দিয়ে গুঁতা মারতেও দেখার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই শেষকৃত্য বিশ্বের জন্য, এমনকী নেতাদের জন্যও বড় সুযোগ, একে অন্যকে খুব কাছ থেকে দেখার।

বিবিসি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টদের এই হুড়োহুড়ি আজ ওয়েস্টমিনস্টারের পথে বাসেও হতে পারে। হতে পারে বিয়োগান্তক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও। অনুষ্ঠান যাই হোক না কেন, নীরব চোখাচোখি, নতুন যোগাযোগ, আলাপচারিতা, উদ্বেগ জানানোর সুযোগ- এরকম নানা উছিলায় রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিকরা সব জায়গাতেই নিজেদের সুবিধা হাসিলে তৎপর থাকেন। রানির শেষকৃত্য যে তার বাইরে থাকবে না, তা তো বলাই বাহুল্য।

শেষকৃত্যের আমন্ত্রণ তালিকায় রাজনীতি আর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ আছে। অল্পসংখ্যক দেশকে অতিথির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও বেলারুশ আমন্ত্রণ পায়নি। সিরিয়া, মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও ভেনিজুয়েলাও তালিকায় নেই।

উত্তর কোরিয়ার মতো কিছু দেশের নেতাদের বাদ দিয়ে কেবল রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানিয়ে শীতল সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কি হচ্ছে না, গত সপ্তাহে এ নিয়ে নানা টানাহেঁচড়ার পর জানা গেছে, রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে চীনা নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে কিছু এমপি বলেছিলেন, বেইজিংয়ের প্রতিনিধিদলকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে স্বাগত জানানো হবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে এক রাষ্ট্রদূত বিবিসিকে বলেছেন, রানির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের খুব বেশি সুযোগ থাকবে না। বিশ্বনেতারা এখানে আসবেন এবং রানির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানাবেন।

রানির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে লন্ডনে জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন হাজির হয়েছেন।

ডি- এইচএ

Source link