free hit counter
আন্তর্জাতিক

অজানা কথা: বৈচিত্র্যে ভরা রানির জীবন

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৯৬ বছর বয়েসে মারা গেছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার দীর্ঘ জীবন ছিল নানা বৈচিত্র্যে ভরা। এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা জানলে পাঠক বিস্মিত হবেন।

গ্রামের গৃহিণী হতে চেয়েছিলেন:

এলিজাবেথ এবং তার বোন মার্গারেট রোজ দুজনেই লেখাপড়া শিখেছেন বাড়িতে। মার্গারেটের জন্ম হয় ১৯৩০ সালে। পরিবারের ভালোবাসার আবহে বেড়ে উঠেছিলেন দুই বোন। বাবা অ্যালবার্ট এবং দাদা পঞ্চম জর্জ দুজনেরই খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন এলিজাবেথ। রানির যখন ৬ বছর বয়স তখন তার ঘোড়ায় চড়া বিষয়ক প্রশিক্ষককে তিনি বলেছিলেন তিনি ‘গ্রামের গৃহিণী হতে চান যার অনেকগুলো ঘোড়া ও কুকুর থাকবে।’ বলা হয় খুবই ছোটবেলা থেকেই তিনি অসাধারণ দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন। ব্রিটেনের ভাবী প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন ‘তার চরিত্রে যে কর্তৃত্ববোধ ছিল, তা একজন শিশুর পক্ষে ছিল খুবই আশ্চর্যজনক।’

রেশনের কুপনে বিয়ের পোশাক:

ব্রিটিশ ঐতিহ্য অনুসারে রেশন কুপন ব্যবহার করে নিজের বিয়ের পোশাকের সামগ্রী কিনেছিলেন এলিজাবেথ। পরে তা অন্য নারীদের দিয়ে দেন তিনি। খুব ছোটবেলায় পিতামহ পঞ্চম জর্জ রানিকে প্রথম একটি ঘোড়া উপহার দেন। যার নাম ছিল পেগি। তখন থেকে তিনি ঘোড়ায় চড়া শুরু করেন।
কর্গি প্রজাতির কুকুর রানির খুবই প্রিয় ছিল। সারা জীবনে ৩০টিরও বেশি কর্গির মালিক হয়েছিলেন তিনি। তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা ছিল। তবে সেই প্রশিক্ষকই জানাচ্ছেন, এলিজাবেথ নিজেই একজন দক্ষ কুকুর প্রশিক্ষক ছিলেন। ব্রিটেনে রানিই হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যার গাড়ি চালানোর জন্য কোনো লাইসেন্স লাগত না।

ট্রাক ও লরি চালক রানি:

ব্রিটেনের রানি হওয়ার আগে রাজকুমারী থাকাকালীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রাক চালানো শিখেছিলেন এলিজাবেথ। এমনকি লরি মেরামতের কাজ শেখার পাশাপাশি মেকানিক হিসেবেও স্বেচ্ছায় কাজ করেছেন তিনি। ১৯৩৬ সালে তার বাবা যখন রাজা হন, সেই সময় থেকে সংবিধানের ইতিহাস এবং আইন নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন এলিজাবেথ। তিনি ফরাসি এবং জার্মান ভাষার পাশাপাশি সংগীত নিয়েও পড়াশুনা করেন। তিনি যখন ফ্রান্স সফরে গিয়েছিলেন, তখন ঝরঝরে ফরাসিতেই কথা বলেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলে শিক্ষা না পেলেও ভাষার প্রতি এলিজাবেথের ভালো দখল ছিল, তিনি সাংবিধানিক ইতিহাস পড়েছিলেন বিস্তারিতভাবে। সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে যাতে তিনি সামাজিকভাবে মেলামেশা করতে পারেন তার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল গার্ল গাইডের বিশেষ একটি সংস্থা।

সেনাবাহিনীতে কাজ করেন:

এলিজাবেথ হলেন রাজ পরিবারের প্রথম নারী, যিনি সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। রানি তার ৭০ বছরের রাজত্বকালে ২১ হাজারেরও বেশি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সারা জীবনে ২০০টি সরকারি পোর্ট্রেটের জন্য শিল্পীদের সামনে বসেছিলেন। মাত্র ৭ বছর রাজ পরিবারের সদস্য হিসেবে এলিজাবেথই প্রথম রেডিও ও টিভির অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন অ্যাপেলো ১১ এর নভোচারীরা, এমনটা ধরে নিয়ে রানি আগে থেকে রেকর্ড করা একটি অডিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন তাদেরকে। সেই বার্তাটি একটি ধাতব পাত্রের মধ্যে চাঁদের মাটিতে রেখে আসেন নভোচারীরা। রাণী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯৫২ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি রেডিওতে ভাষণ দেন এলিজাবেথ। সেটিই রেডিওর মাধ্যমে তার দেয়া প্রথম বার্তা।

রাণীর দেশভ্রমণের তালিকাও বেশ লম্বা। নিজের সময়কালে এলিজাবেথ ১০০টি দেশ সফর করেন। এর মধ্যে কানাডা ২২ বার এবং ফ্রান্স ১৩ বার ভ্রমণ করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালের ২০ অক্টোবর তিনি অস্ট্রেলিয়ার দর্শনীয় সভাকক্ষ সিডনি অপেরা হাউসের উদ্বোধন করেন।

নগদ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে তাই রানির নিজস্ব এটিএম বুথ ছিল বাকিংহ্যাম প্যালেসের নিচতলায়। যেখানে থেকে শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যরাই টাকা তুলতে পারেন।

নিজেই বাসন ধুতেন:

খাওয়ার পর রাণী নিজের ডিশ নিজেই পরিষ্কার করতেন। এক সাক্ষাৎকারে রাজপরিবারের বিশেষজ্ঞ এবং লেখক হ্যারি মাউন্ট বলেন, ‘রাজপরিবারে খাওয়া-দাওয়া শুটিং চলছিল। খাওয়া শেষে রানি বলেন, ‘আমি বাসন ধুতে যাচ্ছি।’ ঘুরে দেখি হলুদ গøাভস পরে রানি বাসন ধুচ্ছেন।’

ডি- এইচএ

Source link