free hit counter
First Man In Space: ইউরি গাগারিনের মহাকাশ বিজয়ের ৬০ বছর আজ
ইতিহাস

First Man In Space: ইউরি গাগারিনের মহাকাশ বিজয়ের ৬০ বছর আজ

আজ থেকে ঠিক ৬০ বছর আগে ১৯৬১-এর ১২ এপ্রিল মহাকাশে হিয়েছিলেন গাগারিন।

মানুষ চূর্ণিল আজ নিজ মর্ত্যসীমা’ – ১৩ এপ্রিল, ১৯৬১। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় আট কলম জুড়ে ব্যানার হেডিং। মানুষ বিস্মিত, হতচকিত – মহাকাশে পৌঁছে গিয়েছে মানুষ?

তখনকার দিনে ঘরে ঘরে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার সব চেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। রেডিও ছিল, তবে তা ঘরে ঘরে ছিল না। আর টিভি তো ক’টা দেশে ছিল, তা হাতে গোনা যায়। তাই সংবাদপত্রই মূলত পৌঁছে দিল সেই খবর।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার প্রত্যেকটি কাগজে সে দিন প্রথম পাতার খবর – মানুষের মহাকাশ জয়। মানব-ইতিহাসে সব চেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।

দিনটা ছিল ১২ এপ্রিল, ১৯৬১। সোভিয়েত নভশ্চর ইউরি গাগারিন মহাকাশযান ভস্তক ১-এ চেপে মর্ত্যের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পৌঁছে গেলেন মহাকাশে। মহাকাশজয়ী প্রথম মানব হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকলেন গাগারিন।

যুদ্ধবিমানের বিমানের পাইলট গাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। তাঁর মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল অধুনা কাজাখস্তানের বৈকনুর কসমোড্রোম থেকে। পশ্চিম রাশিয়ার সিটি অফ এঞ্জেলস-এর কাছে গাগারিনের মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। মহাকাশযান থেকে প্যারাশ্যুটে লাফিয়ে পড়েন গাগারিন, নিরাপদে পৌঁছে যান ভূপৃষ্ঠে।

৬০ বছর আগে গাগারিনের সেই মহাকাশ-অভিযান মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে মানুষের গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল। এর পর থেকে মানুষ মহাকাশ নিয়ে কী করল, সে সব আজ আর কোনো অজানা তথ্য নয়।

ভস্তক ১ মিশন নিয়ে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য
(১) বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে যে মুহূর্তে ভস্তক ১ যাত্রা শুরু করেছিল, সেই মুহূর্তে গাগারিনের মুখ থেকে একটা শব্দ বেরিয়ে এসেছিল – “পোয়েখালি!” (যাওয়া যাক)।

(২) যে ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ঠিক সেই ভাবে চালিত হয়নি মিশন। যে উচ্চতায় কক্ষপথে ভস্তক ১-এর প্রবেশ করার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রবেশ করেছিল। এর অর্থ মহাকাশযানটির ব্রেক ফেল করতে পারত। তা হলে আরও বেশি ক্ষণ গাগারিনকে মহাকাশে থাকতে হত। তবে তা হয়নি। ব্রেক ভালো ভাবেই কাজ করেছে এবং ফেরার সময় গাগারিন পরিকল্পনামাফিকই পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছেন।

(৩) জানা যায়, ভূপৃষ্ঠ ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাগারিনকে প্রথম দেখেছিলেন এক কৃষক ও তাঁর কন্যা। সেই সময়টা ছিল ঠান্ডা যুদ্ধের। গাগারিনকে তাঁরা মার্কিন গুপ্তচর মনে করেছিলেন। তাঁদের বোঝাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল গাগারিনকে।

(৪) গোটা মিশনটা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করেছিল। গাগারিন পৃথিবীতে নিরাপদে পৌঁছে যাওয়ার পরে ইউরি গাগারিনের এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের খবর প্রকাশ করা হয়। সারা বিশ্ব যেন একটা ধাক্কা খায়, বিশ্বাস করে উঠতে পারে না ঘটনাটা – মনে মনে ভাবে, এমনও হয়!

(৫) গাগারিনের মহাকাশ-বিজয় উপলক্ষ্যে উৎসব-সমারোহের আয়োজন করা হয় সেন্ট পিটার্সবার্গে। হাজার হাজার লোক তাতে যোগ দেন। অসংখ্য মডেল রকেট আকাশে ছোড়া হয়। সেই সঙ্গে চলে আতসবাজির নানা খেলা।