Image default
বিনোদন

আফজাল হোসেনের আক্ষেপ, অপি করিমের মুগ্ধতা

কিংবদন্তি নির্মাতা-অভিনেতা আফজাল হোসেন সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে বেশ ব্যস্ত। যেমনটা ছিলেন না মাঝের দীর্ঘ সময়। ওয়েব সিরিজ হয়ে সিনেমায় দারুণ সব চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা।

২৮ নভেম্বর থেকে ব্যস্ত রয়েছে রাজবাড়িতে ‌‘যাপিত জীবন’ সিনেমার শুটিংয়ে। সেখান থেকে আক্ষেপের সুর ভেসে এলো অভিনেতার কণ্ঠে। উপলক্ষ তার অভিনয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সহশিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা। কারণ, আজ (২ ডিসেম্বর) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন।

দিনটিকে সামনে রেখে আফজাল হোসেন বলেন, ‘একজন সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনয়ে শুরু থেকেই পরিণত। সুবর্ণা মুস্তাফার মতো একজন শিল্পীর অভিনয়ে আনলিমিটেড ক্ষমতা থাকে। কিন্তু তা থাকলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিল্পীদের অসহায়ত্বও থাকে। একটা সময় গেছে যখন সুবর্ণার অভিনয় দেখে দর্শক আনন্দিত হয়েছে। সুবর্ণাও কাজে নিয়মিত ছিল। কিন্তু এখন সময়টা এমন হয়ে গেছে, যারা অভিনয়ে অভিজ্ঞ, আরও বেশি পরিপূর্ণ তাদের নিয়ে দর্শকের মনে রাখার মতো কাজ হয় না।’

অভিনেতার প্রত্যাশা, ‘এটা যে কত বড় দুঃখজনক এবং কতটা হতাশার, তা আসলে বলে বুঝানোর মতো নয়। আমি চাই সুবর্ণা মুস্তাফাকে ভালো কাজের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়কে দর্শক মনে আরও বাঁচিয়ে রাখার জন্য আরও ভালো ভালো কাজ হোক। জন্মদিনে তাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।’

এদিকে প্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দেশের আরেক অন্যতম অভিনেত্রী অপি করিম খানিক ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। বললেন, ‘কতো কথা যে লেখা যায় আপনাকে নিয়ে, আপনাকে প্রথম দেখা, আপনার সাথে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সম্প্রতি আমার মেয়েও আপনার স্নেহযুক্ত আশীর্বাদ পাবার ভাগ্য। কোনটা লিখবো কোনটা ছাড়বো। তবে একটা কথা বলতেই হয়, অনেককে দেখেছি অনেক বড় বড় কথা বলেন, আদর্শের কথা বলেন। কিন্তু কাজের বেলায় কিংবা নিজের প্র্যাকটিসের বেলায় লেজেগোবরে! কিন্তু আপনি একজন মানুষ, যিনি তার কথায় ও কাজে আদর্শ একসুতায় গেঁথেছেন! তাই বোধহয় আপনি অন্য সবার চাইতে আলাদা। অনেক অনেক ভালোবাসা আপা!’

সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৬০ সালের এই দিনে (২ ডিসেম্বর) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে। তার বাবা গোলাম মুস্তাফা ছিলেন একজন প্রখ্যাত অভিনেতা ও আবৃত্তিকার। তার মাতা হোসনে আরা পাকিস্তান রেডিওতে প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন। মায়ের সহায়তায় মাত্র ৫-৬ বছর বয়সে বেতার নাটকে কাজ করেন। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭১ সালের আগে পর্যন্ত তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে নিয়মিত টেলিভিশনে কাজ করেছেন।

৭০ দশকে সুবর্ণা ঢাকা থিয়েটারে নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাটক ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’-এ অভিনয় করেন। ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন। ১৯৮৩ সালে ‘নতুন বউ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘নয়নের আলো’ (১৯৮৪) ছবিতে তার অভিনয় সব শ্রেণির দর্শককে নাড়া দিয়েছিল।

নব্বই দশকে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘আজ রবিবার’ এবং ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। তার অভিনয়ে মঞ্চ ও টিভি নাটকের সংখ্যা অসংখ্য। তবে নাটকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দুই ডজন চলচ্চিত্রে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ফাখরুল আরেফীন খান পরিচালিত ‘গণ্ডি’ ছবিতে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন সুবর্ণা মুস্তাফা এমপি।

Related posts

আবীর-শুভশ্রীর সিনেমায় গাইলেন মিনার রহমান

News Desk

আবারও ইমতিয়াজের ছবিতে কাজ করবেন রণবীর

News Desk

আক্ষেপে পুড়ছেন তারা সুতারিয়া

News Desk

Leave a Comment