free hit counter
বিনোদন

সাবিনা ইয়াসমিনের মিষ্টি প্রেম কাহিনী

যে মধুর ঘটানাটি মিলিয়ে দিয়েছিলো দুই দেশের দুই কিংবদন্তীকে

১৯৭০ সাল। পুর্ব পাকিস্তান তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তাল। এর মাঝেই মুক্তি পেলো একটি সিনেমা, ” জীবন থেকে নেওয়া”। তুমুল আলোচিত এই সিনেমায় একটি রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার হয়। গানটি হচ্ছে, ” আমার সোনার বাংলা”। কলকাতায় বসে সিনেমাটি দেখছিলেন আকাশবাণী কলকাতার তরুণ কর্মী সুমন চট্টোপাধ্যায়। গানটি শুনতে শুনতে হঠাৎই তিনি থমকে গেলেন। একজন ব্যাকগ্রাউন্ড সিংগারের কন্ঠ তার কানে লেগে গেলো। তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবলেন, কে এই শিল্পী? তার এই প্রশ্নটিই জন্ম দেয় এক মিষ্টি প্রেম কাহিনীর। আসুন শুনি সেই গল্পই।

সুমন চট্টোপাধ্যায় নিজেও টুকটাক গান করতেন। তাই তার জানাশোনা ভালো ছিলো। যখনই তিনি কোনও বাংলাদেশি কারও দেখা পেতেন জিজ্ঞেস করতেন, বলুন তো এই শিল্পীটির নাম কি? সবাই আমতা আমতা করতো। ব্যাকগ্রাউন্ড শীল্পির খোজ আর কে রাখে। কারও কাছেই তাই উত্তর পেলেন না সুমন। একসময় পড়াশুনা করতে পশ্চিম জার্মানি চলে যান তিনি। সেখানে ভয়েস অফ আমেরিকায় চাকরি নেন।

আবার কলকাতায় ফিরে আসেন। সেখান থেকে আবার যান পশ্চিম জার্মানি। সেখান থেকে আমেরিকা। এই দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রবাস জীবনে তিনি গান ছাড়েননি। গান লিখা, সুর করা, টুকটাক স্টেজ শো আর চাকরি এভাবেই চলছিলো। আর যেটা ছাড়েননি সেটা হলো, ঐ প্রশ্নটা। যেখানেই বাংলাদেশি কাউকে পান, জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা বলুন তো ঐ শিল্পীটা কে ছিলো। উত্তরটা তখনও অজানা।

এরপর নব্বই দশকের শুরুতে সুমন কলকাতায় ফিরে এলেন। এবার তিনি গানে পুর্ণ মনোযোগ দিলেন। প্রথমে তার ব্যতিক্রমী গান কেউ প্রকাশ করতে চাইলো না। কিন্তু স্টেজে তার গানগুলো দারুন জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। একসময় তার আলবাম বের হলো। বাংলা গানে তৈরি হলো নতুন এক ধারা, জীবনমুখী গান। দুই বাংলাতেই সুমন হয়ে উঠলেন দারুন জনপ্রিয়। এরই মধ্যে ১৯৯৭ সালে সুমন প্রথমবার বাংলাদেশে করসার্ট করতে আসলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আমত্রণে।

” জীবন থেকে নেওয়া” মুক্তি পাওয়ার ২৭ বছর পর। কনসার্ট শুরু আগে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশের কিংবদন্তী গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনের। বরাবরের মতোই সুমন প্রশ্ন করলেন , আপনি কি ঐ শিল্পীটি কে জানেন? প্রশ্ন শুনে সাবিনা এক মুহুর্ত থমকালেন, তারপর চোখ নামিয়ে বললেন, শিল্পীটি আমিই ছিলাম।

এরপরে দুইজনের বন্ধুত্ব শুরু। তারপর প্রেম এবং বিয়ে। এভাবেই ছোট্ট একটা প্রশ্ন এক করে দিয়েছিলো দুই বাংলার দুই কিংবদন্তিকে।

Bednet steunen 2023