free hit counter
বিনোদন

বৈঠকের মধ্যেই একদিকে উঠছে দেয়াল, আরেকদিকে গাছ রোপণ

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানার ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে এখনো সরব এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকেরা। আলোচনা করে এ বিষয়ের সমাধান করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এ জন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

তার সঙ্গে আলোচনা করতে এ রিপোর্ট লেখার সময় (বুধবার দুপুর পৌনে তিনটা) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল অবস্থান করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এদিকে, পুলিশি প্রহরায় পুরোদমে চলছে মাঠে থানা ভবনের দেয়াল নির্মাণ। এমন প্রেক্ষিতে তেঁতুলতলা মাঠে বৃক্ষরোপণ করেছেন স্থানীয় প্রতিবাদী বাসিন্দারা।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীসহ বেশকয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমাদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছে। আমরা মাঠে গাছ লাগিয়ে দিলাম। বৈঠক শেষ হওয়ার পর মাঠে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে। তারপর দেয়াল লিখন করা হবে। মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মাঠে অবস্থান করব। বৈঠক থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাশেদা কে চৌধুরী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের যে দিকটা খোলা আছে সেদিকে পাঁচ ইঞ্চি গাঁথুনির চার ফুট উচ্চতার দেয়াল উঠে গেছে। একজন শ্রমিক বলেন, চার ফুট দেয়ালের উপর এক ফুটের মতো ১০ ইঞ্চির ঢালাই হবে। সেই ঢালাইয়ের ওপর দেওয়া হতে পারে কাঁটাতার বা কাঁচ। যাতে দেয়াল ডিঙিয়ে মাঠে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

 

মাঠের মধ্যে আছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় পোশাক পরিহিত ২০ জনের মতো পুলিশ সদস্য দেখা গেছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য মাঠের মধ্যে এবং আশপাশে রয়েছেন। মাঠের পাশে পুলিশের ২টি ভ্যান দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। এরইমধ্যে গত রোববার আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না মাঠে নির্মাণ কাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করলে তাকে ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের কলাবাগান থানায় ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়ে দুটি আলাদা বিবৃতি দেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

এ বিষয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজতে সবাইকে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও থানা ভবন করাটা অতীব জরুরি। কারণ থানা এখন ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন, কী করা যায়।