free hit counter
করোনা বদলে দিচ্ছে নাটক নির্মাণের ধরন
বিনোদন

করোনা বদলে দিচ্ছে নাটক নির্মাণের ধরন

করোনার প্রভাবে যেমন কনটেন্ট নির্মাণের ধরন বদলে গেছে, তেমনি কনটেন্টের ভেতরেও এসেছে নানা পরিবর্তন। গত বছর করোনার শুরুতে শিল্পী ও কলাকুশলীরা করোনার বাস্তবতা মেনে নিয়ে নতুনভাবে কনটেন্ট নির্মাণের জন্য নানা নিরীক্ষা শুরু করেছিলেন। এ বছর এমন উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে কম।

পেশাদার কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে শ্যুটিং স্পটে অনেক বেশি সতর্কতা নতুন বাস্তবতা। আর সতর্ক থাকতে গিয়ে স্ক্রিপ্টেও পরিবর্তন এসেছে। পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে বেশি মানুষ দেখানো হতো সেসব দৃশ্য এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। কম সংখ্যক আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করা যায় এমন দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে চিত্রনাট্যকারদের। শুধু তাই নয়, জনসমাগমের স্থানগুলোও যাতে এড়িয়ে যাওয়া যায় সেভাবেই করা হচ্ছে শ্যুটিং প্ল্যান। আগে নাটকের লোকেশনগুলো থাকত ছড়ানো, করোনার কারণে এখন একটি বাসার মধ্যেই শেষ হচ্ছে নাটকের শ্যুটিং। আবার বাসার মধ্যে লোকেশনে বৈচিত্র্য আনতে বাসার রুম, বারান্দা, সিঁড়িঘর, ছাদ, গ্যারেজ আর সামনের রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিচালক সঞ্জয় সমাদ্দার বেশ কিছু নাটকের কাজ শেষ করে এনেছেন ঈদ কেন্দ্র করে। তিনি জানালেন ‘লকডাউনে’র আগেই কাজগুলো শেষ করেছেন। ‘লকডাউনে’র পরেও কিছু কাজ করবেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে সঞ্জয় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্ক্রিপ্ট, লোকেশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে। আগের মতো অনেক গল্পেই কাজ করতে পারি না। যেসব গল্পে অনেক লোক লাগে সেসব গল্প শুট করতে পারি না। আমার কাছে একটা গল্প ছিল যাতে অনেক লোকের দরকার ছিল সেটা বাদ দিতে হয়েছে। এমনকি করোনার পর থেকে চেষ্টা করছি যত কম সংখ্যক আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করা যায়।’

গত বছর করোনা সচেতনতামূলক প্রচুর কনটেন্ট তৈরি হলেও এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে সঞ্জয় বলেন, ‘গত বছর করোনার বিষয়টি নতুন ছিল। ফলে সবাই করোনার সচেতনতামূলক নানা ফিকশন তৈরি করেছে। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মোকাবিলা করছে মানুষ। ফলে সবকিছু এখন মানুষ জানে। এ কারণে হয়তো অনেকেই মনে করছেন এগুলোর আর দরকার নেই। তাই করোনা রিলেটেড কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে না।’

জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘করোনার ভেতরে আমি আসলে কোনোকিছু নির্মাণ করিনি। আমার সহকারীরা কিছু কাজ করেছে সেগুলো আমার তত্ত্বাবধানে রিলিজ হচ্ছে। যেহেতু নিজে কাজ করিনি, সে কারণে প্রভাব, পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে সবকিছুতেই একটা পরিবর্তন তো এসেছেই। আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাচ্ছে না। সবকিছুতেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা চলে এসেছে। এতে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আর করোনা রিলেটেড কনটেন্ট নিয়ে বলব, করোনা রিলেটেড কনটেন্ট হতেই পারে। দর্শকের চাহিদা বিবেচনায় রেখে অনেকেই নির্মাণ করেছেনও। কমবেশিএটা আসলে দর্শক চাহিদার ওপর নির্ভর করে।’ পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান বলেন, “প্রথমবার যখন করোনা এলো তখন তো করোনার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই ছিল। আউটডোরে শ্যুটিং করা যেত না। সেভাবেই স্ক্রিপ্ট রেডি করতে হতো। এই প্রভাবটা বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। তারপর যখন সবকিছু স্বাভাবিক হলো তখন সব আবার আগের মতোই হয়ে যায়। আর এবার ‘লকডাউনে’ আমি কোনো কাজ করিনি, ফলে এবারের বিষয়টা বলতে পারি না।”

করোনা রিলেটেড কনটেন্ট কম নির্মাণের বিষয়ে আরিয়ান বলেন, ‘গত বছর করোনা পরিস্থিতি নতুন ছিল। তখন সচেতনতা তৈরির জন্য অনেকেই করোনা রিলেটেড কনটেন্ট তৈরি করেছেন। তবে মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই করোনা ফেস করতে করতে বিরক্ত হয়ে গেছে। মানুষ তো তার বিরক্তি কাটাতেই বিনোদন মাধ্যমে হাজির হয়, সেখানেও যদি করোনা দেখে তাহলে সে হয়তো আরও বিরক্ত হতে পারে। তো এসব কারণে হয়তো এবার সেই ধরনের কনটেন্ট কম নির্মাণ হচ্ছে।

Related posts

করোনাযোদ্ধাদের খাবার দিচ্ছেন সালমান খান

News Desk

এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা

News Desk

বিধিনিষেধ : কোথাও কঠোর-কোথাও ঢিলেঢালা

News Desk