Image default
জীবনী

লোথার ম্যাথিউস – ফুটবল ইতিহাসের সেরা মিডফিল্ডার

জার্মান জাতীয় ফুটবল দলটি তার প্রযুক্তিগত এবং সুশৃঙ্খল খেলোয়াড়দের জন্য সর্বদা প্রসিদ্ধ। কিন্তু যাদের কিংবদন্তী বলা হয়। জার্মান ফুটবলে এই ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অন্যতম হলেন লথার ম্যাথিউস। ফিফা যখন ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার অ্যাওয়ার্ড চালু করলো, তখন এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলের সেরা মেধাবীদের সম্মানিত করা। ব্যালন ডি’অর যদিও তার আগে থেকেই দেওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার ছিল ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটির তরফ থেকে বছরের সেরা পারফর্মারদের জন্য সম্মাননা। ১৯৯১ সালে যখন প্রথম পুরস্কারের জন্য যাচাই-বাছাই চলছিলো, উঠে এসেছিলো অনেকেরই নাম। মিলানের মার্কো ব্যান বাস্তেন, মার্সেইয়ের জিন পিয়েরে প্যাপিন কিংবা ইন্টার মিলানের এন্দ্রেস ব্রেহমিসহ অনেকের নামই কমবেশি উচ্চারিত হচ্ছিলো। কিন্তু ব্রেহমিরই ক্লাব সতীর্থ, লোথার ম্যাথিউস, জিতে নিয়েছিলেন ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ারের অ্যাওয়ার্ড।

লোথার ম্যাথিউস
ব্যালন ডি অর হাতে লোথার ম্যাথিউস; Image Courtesy: Twitter

লোথার ম্যাথিউস সম্পর্কে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, “ম্যাথিউস আমার সেরা রাইভাল খেলোয়াড়।” অবশ্য ১৯৯১ সালে ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার এওয়ার্ড জেতার আগেই ১৯৯০ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি অর। অর্থাৎ ফুটবল বিশ্বের তৎকালীন সেরা দুটি পুরস্কারই জিতেছিলেন ম্যাথিউস। ১৯৯০ সালে ছিলেন জার্মানির অধিনায়ক। জার্মানিকে এনে দিয়েছিলেন ইতিহাসের তৃতীয় বিশ্বকাপ। এছাড়া ইন্টার মিলানের হয়ে পারফর্মেন্স ছিলো অবিশ্বাস্য। তাই তো তার হাতে পুরস্কারগুলো তুলে দিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। খেলার ধরনের জন্য তাকে বলা হতো ‘সম্পূর্ণ মিডফিল্ডার’ বা ‘পার্ফেক্ট মিডফিল্ডার’। ম্যাথিউসের খেলোয়াড়ি জীবনে সবচেয়ে সফল দশক ছিলো সম্ভবত ‘৯০ এর দশকটিই। ‘৯০ এর দশকের লোথার ম্যাথিউসের সাফল্য নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই হয়তো জানি। কিন্তু ‘৯০ এর সেই বিধ্বংসী ম্যাথিউস তৈরি হয়েছিল তার আগের দশকেই। প্রথম ফিফা প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার জয়ী লোথার ম্যাথিউসের ‘পার্ফেক্ট মিডফিল্ডার’ হয়ে ওঠার জার্নিটা ছিল অন্যরকম।

নক্ষত্র উত্থান

লোথার ম্যাথিউসর 21 মার্চ, 1961 সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন । ফুটবল খেলোয়াড়ের আদি শহর হলেন এরলজেন। বাভারিয়ার এই অঞ্চলটি তার অসংখ্য ক্রীড়া সরঞ্জাম সংস্থার জন্য সারা দেশে খ্যাতিমান। এই শিল্পেই বাবা-মা এবং মঠাউসের প্রায় সমস্ত আত্মীয় নিয়োগ করেছিলেন।

যাইহোক, লোথার একটি পৃথক পথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি সর্বদা ফুটবলের শখ ছিল, তবে তার বাবা-মা একটি বিশেষ শিক্ষার জন্য জোর দিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, জাতীয় দলের ভবিষ্যতের অধিনায়ক একটি সাজসজ্জা এবং অভ্যন্তর ডিজাইনার হতে শিখলেন।

লোথার ম্যাথিউস
দ্যা জার্মান ইঞ্জিন লোথার ম্যাথিউস ; ছবি : irabotee

ম্যাথিউস স্থানীয় ক্লাব “Herzogenaurach” বিভাগে ক্রীড়া জীবনে তার কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই, ছেলেটি দুর্দান্ত প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছিল, তবে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কারণে প্রায়শই রচনাটিতে না যায়। এমনকি পেশাদার খেলাধুলায়ও লোথার এই বৈশিষ্ট্যটি নিয়ে সবসময় সমস্যা ছিল। আস্তে আস্তে তিনি অঞ্চল এবং দেশের শিশুদের জাতীয় দলে অংশ নিতে শুরু করলেন।

যৌবনে লোথার তার ছোট সম্পর্কে খুব চিন্তিত ছিলেন। অসংখ্য অনুশীলন সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত তিনি কেবল ১.72২ মিটারে উন্নতি করতে পেরেছিলেন।

ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট, বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখ

মাত্র ১০ বছর বয়সে বাভারিয়ার ১.এফ সি হের্জোগিনারাউখের যুবদলে খেলে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লোথার ম্যাথিউস। তখন ‘৭০ এর দশক কেবল শুরু। ম্যাথিউসের জীবনের মোড়ঘোরানো মুহুর্ত সম্ভবত যখন তিনি বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখে খেলার জন্য ডাক পেলেন ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে, ১৮ বছর বয়সে। ’৭০ এর দশক তখন প্রায় শেষ। বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখ তখন জার্মানির সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোর একটি। এই ‘৭০ এর দশকেই দশকেই পাঁচবার বুন্দেসলিগা জেতে ডাই বরুশেনরা। এমনকী ১৯৭৭ সালে ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে উঠেছিলো মুনশেনগ্লাডবাখ।

মুনশেনগ্লাডবাখে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন ম্যাথিউস। লিগের ২৮ টি ম্যাচেই খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেবার সপ্তম অবস্থানে লিগ শেষ করে গ্লাডবাখ। গ্লাডবাখের সাথে ম্যাথিউসের প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে অবশ্য উয়েফা কাপে (বর্তমান ইউরোপা লিগ)। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশগ্রহণ করে গ্লাডবাখ। ফার্স্ট রাউন্ডে নরওয়ের ভাইকিংসকে খুব সহজেই হারিয়ে দেয় তারা। পরের রাউন্ডে খেলা পড়ে ইটালিয়ান পাওয়ারহাউজ ইন্টারমিলানের সঙ্গে। সেকেন্ড লেগের খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ৪-৩ গোলে হারিয়ে ইন্টার মিলানকে বিদায় করে দেয় গ্লাডবাখ। এরপর রোমানিয়ার ইউনিভার্সিটাটে ক্রাইওভা এবং ফ্রান্সের সেইন্ট এতিয়েনেকে দক্ষ হাতে সামাল দেয় অভিজ্ঞ জার্মানরা। অল জার্মান সেমিফাইনালে স্টুটগার্টের মুখোমুখি হয় ডাই বরুশেনরা।

বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখের হয়ে খেলার সময় লোথার ম্যাথিউস
বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখের হয়ে খেলার সময় লোথার ম্যাথিউস; ছবি : bundesliga.com

অল্পের জন্য এওয়ে ম্যাচে স্টুটগার্টের কাছে হেরে বসে গ্লাডবাখ। শেষ দিকে দুটো গোল খেয়ে বসায় ফাইনালের সমীকরণ কঠিন হয়ে ওঠে তাদের জন্য। পরের লেগের খেলা গ্লাডবাখের ঘরের মাঠে। আর এই ম্যাচেই নিজের জাত ভালোমতো চেনান লোথার ম্যাথিউস। দুর্দান্ত ডিফেন্সিভ পার্ফম্যান্স দিয়ে স্টুটগার্টের কি-ম্যান হান্সি মুলারকে মার্ক করে খেলেন, আটকে রাখেন পুরো ম্যাচজুড়ে। ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে গ্লাডবাখ। ফাইনালের প্রতিপক্ষ ফ্রাংকফুর্ট। অল জার্মান সেমিফাইনালের অন্য ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে হারায় তারা।

ফাইনালের প্রথম লেগ দুপক্ষের জন্যই উন্মুক্ত ছিল। দুই দলই চেষ্টা করছিলো আগেভাগেই লিড নিয়ে নিতে। ফ্রাংকফুর্টই অচলাবস্থা ভাঙে প্রথমে। কিন্তু অভিজ্ঞ বরুশেনদের ম্যাচে ফেরত আসতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতে ফ্রাংকফুর্ট আবারও গোল দিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাম পা থেকে দারুণ এক শট নেন লোথার ম্যাথিউস। ডি বক্সের কোণ ঘেঁষে বল ঢুকে পড়ে জালে। সমতায় ফেরে গ্লাডবাখ। বেশ কিছুক্ষণ পর ক্রিশ্চিয়ান কুলিকের দ্বিতীয় এবং দলীয় তৃতীয় গোলের সুবাদে ৩-১ গোলে ফাইনাল জেতার লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে যায় গ্লাডবাখ।

স্বাভাবিকভাবেই, দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফাইনালে হতে পারে যেকোনো কিছুই। পুরো ম্যাচে গতিময় ড্রিবলিং, দুর্ধর্ষ ট্যাকলিং এবং ডিফেন্সচেরা পাস ও থ্রু দিয়ে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গ্লাডবাখকে লোথার ম্যাথিউস। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ম্যাচের ১০ মিনিট বাকি থাকতে ১৯ বছর বয়সী ফ্রেড স্কাউবের গোলের সুবাদে এওয়ে গোলের রুল অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রাংকফুর্ট। এই ফাইনালের হারের পরেই উয়েফা কাপে মুনশেনগ্লাডবাখের সেরা সময়ের ইতি ঘটে। তবে সে যাই হোক না, সেমি ফাইনাল এবং ফাইনালের ম্যাথিউসের অবিশ্বাস্য পার্ফম্যান্স নজর কেড়ে নেয় ফুটবলবোদ্ধাদের। এরই সুবাদে ১৯৮০ সালে জার্মানি জাতীয় দলে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জায়গা পেয়ে যান ম্যাথিউস।

লোথার ম্যাথিউস
বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখের হয়ে খেলার সময় লোথার ম্যাথিউসের উল্লাস ; ছবি : thesefootballtimes

তার আত্মবিশ্বাসী এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষামূলক খেলা সত্ত্বেও, অনেক বরুসিয়া ভক্ত এবং খেলোয়াড়রা ম্যাথিউসকে অপছন্দ করেছিলেন। কারণ ছিল তার খারাপ মেজাজ। তিনি অংশীদার এবং কোচদের সাথে অভদ্র হতে পারেন, প্রশিক্ষণ শিবিরের জন্য দেরী হতে পারেন, চাকার পিছনে মাতাল হতে পারেন।

কিছুই তাকে 1980 এর ইউরোর জন্য জার্মান জাতীয় দলের আবেদনে আসতে বাধা দেয়নি। সেই চ্যাম্পিয়নশিপ ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসাবে একজন ফুটবল খেলোয়াড়ের জন্য স্মরণ করা হয়েছিল। একমাত্র ম্যাচে তিনি মাঠে নামেন, জার্মানি হেরে যাওয়ার পথে। ম্যাথিউসের নির্দোষ খেলায় ধন্যবাদ, ডাচরা প্রায় গ্রুপ পর্বে জার্মানদের পরাজিত করেছিল।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপের হতাশা ও অন্যান্য বিতর্ক

১৯৮০ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশি(বর্তমান উয়েফা ইউরো) নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সাবস্টিটিউট হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন লোথার ম্যাথিউস। সেই ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় পায় জার্মানি। টুর্নামেন্টে তার খেলা বলতে গেলে ঐ অতটুকুই ছিলো। সেই বছর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে জার্মানি। মাত্র এক মৌসুমের ব্যবধানেই উয়েফা কাপ ফাইনাল খেলা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা প্রমাণ করে দিয়েছিলো, ম্যাথিউসের ফুটবলকে এখনো অনেক কিছু দেওয়া বাকি, মাত্র তো শুরু। এরপর ‘৮০ এর দশকে মুনশেনগ্লাডবাখ আর সেই আগের মত পার্ফম্যান্স ধরে রাখতে পারে নি ইউরোপের বড় আসর গুলোতে। গ্লাডবাখের হয়ে মোট চার মৌসুমে দুটি ম্যাচ ছাড়া সবগুলো ম্যাচে খেলেছিলেন ম্যাথিউস। ১৬২ টি ম্যাচে খেলে করেছিলেন ৩৬ টি গোল।

১৯৮২ সালের স্পেইন বিশ্বকাপ ছিল পশ্চিম জার্মানির তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতার দারুণ সুযোগ। পাওল ব্রেইটনার, হান্সি মুলার, কার্ল হেইঞ্জ রুমিনিগেদের নিয়ে গড়া দলটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল। এই বিশ্বকাপেও ম্যাথিউসের তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না আসলে। গ্রুপ পর্বে চিলির বিপক্ষে সাবস্টিটিউট হিসেবে খেলতে নামা ছাড়া কেবল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে পেনাল্টি শ্যুট আউটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে জার্মানি।

ফাইনালে জার্মানিকে খুব সহজেই ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ইতালি। ১৯৮৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ দলেরও সদস্য ছিলেন ম্যাথিউস। কিন্তু টুর্নামেন্টটা খুব হতাশাজনক ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য। পর্তুগাল এবং স্পেইনের কাছে হেরে গ্রুপ স্টেজ থেকেই বাদ পড়ে যায় জার্মানি।

তবুও, ১৯৮৪ সালই সম্ভবত ম্যাথিউসের ক্যারিয়ারের ‘মেক অর ব্রেক টাইম’। তাকে নিয়ে সেইসময় কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গোল ডিফারেন্স রুলের কারণে অল্পের জন্য সেই মৌসুমে বুন্দেসলিগার টাইটেল মিস করে মুনশেনগ্লাডবাখ। খুব ভালো খেলা সত্ত্বে স্টুটগার্ট ও হ্যামবুর্গের পিছনে, তৃতীয় হয়ে শেষ করে ডাই বরুশেনরা। তখনও অবশ্য বায়ার্ন মিউনিখের সাথে পোকাল কাপের ফাইনাল ম্যাচটা বাকি। পোকাল কাপের শিরোপা হাতছাড়া হয়ে গেলে ট্রফিলেস সিজন কাটাতে হবে গ্লাডবাখের। ফাইনাল ম্যাচের আগে আগে, লোথার ম্যাথিউস মিডিয়ার সামনে বলে বসেন যে তিনি আগামী মৌসুমেই বাভারিয়ায় যাচ্ছেন। ফাইনালের আগে ম্যাথিউসের এই ঘোষণা খুব একটা ভালোভাবে নিতে পারেনি গ্লাডবাখ বোর্ড। যেই দলের সাথে ফাইনালে খেলা সামনে, তাদের হয়েই পরের মৌসুমে দলের সেরা খেলোয়াড় খেলতে যাচ্ছেন, এই ঘোষনা দলের মনস্তত্ত্বে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ম্যাথিউসের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে পরবর্তীসময়ে। পোকাল কাপের সেই ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের সাথে খেলা পেনাল্টি শ্যুট আউটে গড়ায়। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচে পেনাল্টি নিতে আসেন লোথার ম্যাথিউস। পেনাল্টি মিস করেন ম্যাথিউস, বল চলে যায় বারের অনেকখানি ওপর দিয়ে। ৮-৭ ব্যবধানে গ্লাডবাখকে হারিয়ে পোকাল কাপ জিতে নেয় বায়ার্ন। ডাই বরুশেনের ভক্তরা আজও বিশ্বাস করেন, ম্যাথিউসের সেই পেনাল্টি মিস নেহায়েতই কাকতালীয় কোনো ব্যাপার নয়। সত্যি মিথ্যা যাচাই করা আজ আর সম্ভব নয়। তবে গ্লাডবাখের হয়ে ম্যাথিউসের বর্ণিল ক্যারিয়ারের সেখানেই সমাপ্তি ঘটে।

ক্যারিয়ারে পরিবর্তন : বাভারিয়ায় যোগদান ও আরেকটি ফাইনাল হার

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে প্রথম মৌসুম থেকেই ভালো সময় যেতে থাকে ম্যাথিউসের। বায়ার্নের মিডফিল্ডের সবচেয়ে কার্যকরী খেলোয়াড় ছিলেন ম্যাথিউস। প্রথম তিন মৌসুমে ১১৩ ম্যাচে ৫৭ গোল করেন। একজন মিডফিল্ডারের জন্য এটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড। পোকাল কাপও জিতেছিলেন মিউনিখের হয়ে। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের ভক্তরা ঘরোয়া লিগের সাফল্যে খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। ইউরোপের বড় আসরগুলোয় বড় অর্জনের অভাবে নিয়মিতই সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠতো বায়ার্ন মিউনিখ। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে প্রথমবারের মত ইউরোপের বনেদি আসর, ইউরোপিয়ান কাপে (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) দারুণ পার্ফম্যান্স দেখাতে সক্ষম হয় লোথার ম্যাথিউস। শেষ ষোলয় অস্ট্রিয়া ভিয়েনকে ২-০ গোলে টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে আন্ডারলেখটের সাথে খেলতে নামে। দুটি ম্যাচেই মাঝমাঠ থেকে লোথার ম্যাথিউসের নির্দেশনায় নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে বায়ার্ন। দুই লেগ মিলিয়ে ৭-২ গোলে আন্ডারলেখটকে উড়িয়ে সেমিতে উঠে যায় বায়ার্ন।

বায়ার্নের হয়ে খেলছে লোথার ম্যাথিউস
বায়ার্নের হয়ে খেলছে লোথার ম্যাথিউস; ছবি : Picture Alliance/dp

সেমিফাইনাল ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের সত্যিকারের দুই হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়: বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদ। ১১ মিনিটের মাথায় গোল দিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ম্যাচজুড়ে শুধুই লোথার ম্যাথিউস। দুই বার পেনাল্টি পায় বায়ার্ন,দুইবারই পেনাল্টিতে গোল করেন লোথার ম্যাথিউস। ৪-১ গোলে প্রথম লেগে জয় পায় বায়ার্ন মিউনিখ। এরপর রিয়ালের মাঠে ১-০ গোলে হারলেও গোল ব্যবধানে ফাইনাল নিশ্চিত হয় বায়ার্নের।

ফাইনালে পোর্তোকে হারানো খুব সহজ একটা কাজ বলেই মনে হচ্ছিল। অনেকেই বায়ার্নকে আগাম চ্যাম্পিয়নের তকমা দিয়ে দিচ্ছিলেন। ফাইনাল ম্যাচেও সবকিছু পরিকল্পনামাফিকই চলছিলো। ম্যাচের ১১ মিনিট বাকি, ১-০ গোলে এগিয়ে বায়ার্ন। হঠাৎই অবিশ্বাস্য সেই ব্যাপার ঘটে গেলো। শেষ ১১ মিনিটেই দুই গোল করে শিরোপা ছিনিয়ে নিলো পোর্তো। এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরেকবার হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখের সাথে, ১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে। স্যার এলেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইঞ্জুরি টাইমে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে নেয়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ : আরেকটি স্বপ্নভঙ্গ

সেই মুনশেনগ্লাডবাখের হয়ে উয়েফা কাপের ফাইনালে ফ্রাংকফুর্টের কাছে হারের পর এবং ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে উয়েফা কাপের ফাইনালে পোর্তোর কাছে হারার আগে, মাঝে আরও একবার শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হয় লোথার ম্যাথিউসের। ট্রাজেডিটা ঘটেছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির স্কোয়াডে ‘অটোমেটিক চয়েস’ লোথার ম্যাথিউস। শেষ ষোলয় মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টিতে করা গোল এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে ৮৮ মিনিটের মাথায় করা সমতাসূচক গোল, যেটির জন্য পরে ম্যাচ ম্যাচটি পেনাল্টি শ্যুট আউটে গড়ায়, এই দুটি গোলের জন্য তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

দেখতে দেখতে ফাইনাল এসে গেলো। প্রতিপক্ষ দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনাকে আটকানোর কঠিন কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ম্যাথিউস ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিলো না। ম্যাথিউস চেষ্টার কমতি রাখেন নি, কিন্তু তবুও তিনি আটকাতে পারেন নি ম্যারাডোনাকে। ২-২ গোলে ম্যাচের ফলাফল সমতায়ই ছিল। কিন্তু ৮৬ মিনিটের মাথায় ম্যারাডোনার সূক্ষ্ম পাস থেকে গোল করেন জর্জ বুচারাগা। সেইখানেই জার্মানির বিশ্বকাপের আশা ধূলিসাৎ হয়। টানা দ্বিতীয়বারের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মুখ দেখে জার্মানি

ইউরো ১৯৮৮, ট্রাজেডিই যেন নিয়তি

১৯৮৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেও ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেদারল্যান্ডসের সাথে পেনাল্টিতে গোল করে জার্মানিকে ম্যাচে এগিয়ে দেন ম্যাথিউস। ম্যাচের ১৫ মিনিট আগে রোনাল্ড কোয়েম্যানের পেনাল্টি আর মার্কী ভ্যান বাস্তেনের ট্যাপ ইন গোলে আরও একবার জার্মানি, বিশেষ করে লোথার ম্যাথিউস, শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ছিটকে যান। সেবারে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত ইউরো জিতেছিল ডাচরা।

দেশ বদল, নতুন চ্যালেঞ্জ ও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য

লোথার ম্যাথিউসের মতো দারুণ মেধাবী ও পরিশ্রমী একজন মিডফিল্ডারকে এভাবে দিনের পর দিন শিরোপা বঞ্চিত হতে দেখাটা সত্যিই কষ্টকর ছিল বটে।

দেশ ও ক্লাবের হয়ে বারবার এভাবে শেষ মুহুর্তে এসে ম্যাচ হারতে থাকায় ম্যাথিউসের প্রতি মানুষের মনোভাব তিক্ত হতে থাকে। মিউনিখে চার মৌসুম কাটানোর পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জাতীয় দলের সতীর্থ এন্দ্রেস ব্রেহমির সাথে ইন্টার মিলানে পাড়ি জমান লোথার ম্যাথিউস। সম্ভবত সেটিই ছিল ম্যাথিউসের জীবনের সবচেয়ে সাহসী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত। ইন্টার মিলানের হয়ে প্রথম মৌসুমেই আসে অভাবনীয় সাফল্য। ১১ পয়েন্টের ব্যবধানে স্কুদেত্তো জেতে ইন্টার মিলান। সেরি এ তখন ইউরোপের সেরা লিগ। ইতালিতে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইতালিয়ান্দের হার না মানা মানসিকতা আরও ভালোভাবে রপ্ত করেন ম্যাথিউস। বিশ্বের সেরা লিগে খেলে নিজেকে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ইন্টার মিলানের হয়ে চার মৌসুমে ১১৫ ম্যাচে ৪০ গোলের সমৃদ্ধ এক ক্যারিয়ার কাটান লোথার ম্যাথিউস। এরপর অবশ্য তিনি আবারও বায়ার্ন মিউনিখে ফিরে আসেন।

ইন্টারমিলানের হয়ে লোথার ম্যাথিউস
ইন্টারমিলানের হয়ে লোথার ম্যাথিউস; ছবি : Fifa.com

১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের জন্য লোথার ম্যাথিউসকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। আগেরবারের বিশ্বকাপের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছিলেন অনেক কিছুই। ইতালিতে ততদিনে কিছু ম্যাচ খেলা হয়েছিল বলে ইতালির মাঠগুলো চেনা হয়ে গিয়েছিলো লোথার ম্যাথিউসের। নিজের সমস্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগান, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সামনে থেকে সত্যিকারের অধিনায়কের মতো জার্মানিকে নেতৃত্ব দিয়ে যান লোথার ম্যাথিউস। যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ম্যাথিউসের জোড়া গোলের সুবাদে ৪-১ গোলে জয় তুলে নেয় জার্মানরা। প্রথম নক আউটে খেলা পড়ে নেদারল্যান্ডসের সাথে। নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৮৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নেয় জার্মানি।

 

কোয়ার্টার ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের মাঝে দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেন লোথার ম্যাথিউস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির সেমিফাইনাল ম্যাচটি ইতিহাসের বিখ্যাত ম্যাচগুলোর একটি। ৯০ মিনিট ধরে মিডফিল্ডে ‘সলিড ফুটবল’ খেলে যান ম্যাথিউস। ইংলিশদের কাছ থেকে বারবার বল ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে খেলা শেষ হলে ম্যাচ পেনাল্টি শ্যুট আউটে গড়ায়। পেনাল্টিতেও একটি গোল করেন ম্যাথিউস। পেনাল্টি শ্যুট আউটে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে জার্মানি।

ইন্টারমিলানের হয়ে লোথার ম্যাথিউস
ইন্টারমিলানের হয়ে লোথার ম্যাথিউস ; ছবি : irabotee

নিয়তির পরিহাসে ফাইনালে জার্মানির প্রতিপক্ষ দল হিসেবে এবারও আর্জেন্টিনা। চার বছর আগের ফাইনাল ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তখন জার্মানির সামনে। তবে পুরো টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচের তুলনায়, ফাইনালটা কেমন যেন পানসে ছিল। দুই দলের বারবার ফাউলের পর ফাউল যেন দর্শকদের তিতিবিরক্ত করে তুলছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফাইনাল ম্যাচ এটি, যে ম্যাচে কীনা দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন। বিশ্বকাপের অন্যতম বাজে ফাইনাল এটি। শেষমেষ আন্দ্রেস ব্রেহমির পেনাল্টিতে গোলের সুবাদে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি।

লোথারের পুরো ক্যারিয়ারের অর্জন ও যেসব ক্লাবের এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন

জাতীয় দল=জার্মানি U21 দল(৭৯-৮৩)= ১৫ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২টি।

জার্মানি বি দল(৭৯-৮১)= ৪ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১টি

জার্মানি জাতীয় দল(৮০-২০০০)= জার্মানির রেকর্ড সংখ্যক ১৫০ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২৩টি

জাতীয় দলের হয়ে অর্জন

বিশ্বকাপ-১টি(৯০),রানার্স আপ-১৯৮২,১৯৮৬

ইউরো কাপ-১টি |(১৯৮০)

ইউ এর কাপ-১টি (১৯৯৩)

ক্লাবের হয়ে অর্জন

বরুশিয়া মনশেগ্লাডবার্খ(৭৯-৮৪)

ম্যাচ খেলেছেন ১৬২টি এবং গোল করেছেন ৩৬টি

অর্জনসমূহ

ইউয়েফা কাপ-রানার্স আপ(৭৯-৮০)

ডিএফবি পোকাল-রানার্স আপ(৮৩-৮৪)

বায়ার্ন মিউনিখ(৮৪-৮৮,৯২-২০০০)

ম্যাচ খেলেছেন মোট৩০২টি এবং গোল করেছেন ৮৫টি।

অর্জনসমূহ

বুন্দেসলিগা ৭টি(১৯৮৪–৮৫, ১৯৮৫–৮৬, ১৯৮৬–৮৭, ১৯৯৩–৯৪, ১৯৯৬–৯৭, ১৯৯৮–৯৯, ১৯৯৯–২০০০)

ডিএফবি পোকাল-৩বার(১৯৮৫–৮৬, ১৯৯৭–৯৮, ১৯৯৯–২০০০)

ডিএফবি সুপারকাপ-১বার-১৯৮৭

ফুজি কাপ-৪বার(১৯৮৭,১৯৮৮,১৯৯৪,১৯৯৫)

উইয়েফা কাপ-১বার(১৯৯৫-১৯৯৬)

ডিএফবি লিগাপোকাল-৩বার (১৯৯৭, ১৯৯৮,১৯৯৯)

উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ-রানার্স আপ-২বার(১৯৮৬–৮৭, ১৯৯৮-৯৯)

ইন্টার মিলান(৮৮-৯২)

ম্যাচ খেলেছেন ১১৫টি এবং গোল করেছেন ৪০টি।

অর্জনসমূহ

সিরি আ-১টি(১৯৮৮–৮৯)

ইতালিয়ান সুপারকোপা-১টি(১৯৮৯)

উইয়েফা কাপ-১টি(১৯৯০–৯১)

মেট্রোস্টারস(২০০০)

ম্যাচ খেলেছেন ১৬টি এবং গোল করেছেন ০ টি।

অর্জন-এম এল এস ইস্টার্ণ ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপ-১টি(২০০০)

ম্যাথিউসের ব্যাক্তিগত অর্জনসমূহ

ক্লাব ও দেশের অর্জনের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত অনেক পুরস্কার নিজের ঝুলিতে ভরেছেন এই জার্মান লিজেন্ড।’৯১সালে হয়েছেন ফিফা ফুটবলার অব দা ইয়ার যা জার্মানির কোনো ফুটবলার সেই সম্মাননা অর্জন করতে পারে নি ।৫বার অংশ নিয়েছেন বিশ্বকাপে যা ছেলেদের ফুটবলে কোনো একক খেলোয়াড়ের জন্যে রেকর্ড।জার্মানদের হয়ে খেলেছেন রেকর্ড ১৫০ ম্যাচ।আর বিশ্বকাপে খেলা মোট ২৫ম্যাচের রেকর্ড তো আছেই এবং আশা করা যায় তা অক্ষতই থাকবে।

আসুন দেখে নিই তার ব্যাক্তিগত অর্জনসমূহ

উইয়েফা ইউরো টিম অফ দ্য টুর্নামেন্ট-১৮৮৮

ফিফা ওয়াল্ড কাপ সিলভার বল-১৯৯০

ফিফা ওয়াল্ড কাপ অল স্টার টিম-১৯৯০

ওনজে ডি অর-১৯৯০

জার্মানি ফুটবলার অফ দি ইয়ার-১৯৯০,১৯৯৯

গোল অব দি ইয়ার জার্মানি-১৯৯০,১৯৯২

ওয়াল্ড সকার এওয়ার্ড ফুটবলার অব দি ইয়ার-১৯৯০

আই এফ এফ এইচ এস ওয়াল্ডস বেস্ট প্লেয়ার-১৯৯০

ব্রাভো ওট্টো-ব্রোঞ্জ এওয়ার্ড -১৯৯০

ব্যালন ডি অর-১৯৯০

ফিফা ওয়াল্ড প্লেয়ার অব দি ইয়ার-১৯৯১

গোল্ডেন পাইরেট-১৯৯১

ফিফা বিশ্ব একাদশ-১৯৯৬,১৯৯৭,২০০১

ফিফা ১০০

গোল্ডেন ফুট-২০১২

এছাড়াও তিনি জার্মানির মিউনিখ হতে ২০০১ সালে বাভারিয়ান অর্ডার অব মেরিট এওয়ার্ড পান।

সব কথার শেষ কথা

যদিও ‘৯০ এর বিশ্বকাপ কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যমাঠের মূল চালিকাশক্তি হিসেবেই লোথার ম্যাথিউসকে অনেকে মনে রাখবেন। কিন্তু লোথার ম্যাথিউসের ক্যারিয়ারের ভিতটা তৈরি হয়েছিল মূলত বরুশিয়া মুনশেনগ্লাডবাখেই। ডাই বরুশেনদের হয়ে ১৯৮০ সালের উয়েফা কাপ ফাইনালে হার থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হয়ে ওঠা, মাঝের বছরগুলো নিঃসন্দেহে লোথার ম্যাথিউসের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বারবার হেরে গিয়েও হাল ছাড়েননি কখনো। নিজেকে শাণিত করে তুলেছেন বারংবার। এই সময়টাতেই সময়ের ঘাত-প্রতিঘাতে, জীবনের উত্থান-পতন সামলে ‘পার্ফেক্ট মিডফিল্ডার’ হয়ে উঠেছিলেন লোথার ম্যাথিউস।

Related posts

গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা : আর্জেন্টিনার এক পারফেক্ট নাম্বার নাইনের কথা

News Desk

রুনা লায়লা জীবনী,বয়স, স্বামী, পরিবার এবং আরও অনেক কিছু

News Desk

বাংলার ছেলে অরিজিৎ সিং এর বলিউডে সুপার স্টার হয়ে ওঠার গল্প

News Desk

Leave a Comment