free hit counter
জীবনী

মাশরাফি বিন মুর্তজা : অধিনায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে উঠার গল্প

জনপ্রিয়তা’ সাধারণ মানুষের কাছে খুবই আকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। খুব কম মানুষই আছেন, যারা কিনা জনপ্রিয় হতে চান না। তবে বেশিরভাগ জনপ্রিয় মানুষদের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় থাকে। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে সব জনপ্রিয় মানুষই কোনো না কোনো কারণে অন্য আরেকদল মানুষের কাছে খুব ঘৃণিত থাকে। সমসাময়িক দুই গ্রেট খেলোয়াড়ের দিকে তাকালে বিষয়টা কিছুটা বুঝতে পারবেন। ‘মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো’- গোটা পৃথিবী জুড়েই এই দুজনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও, তাদের হেটারেরও কমতি নেই। আমাদের দেশের সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালও এর উদাহরণ। দেশব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও কিছু মানুষ সবসময়েই এদের সমালোচনা করে যেতে থাকে।

খুব কম মানুষই জন-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে পারে। খুব সম্ভবত মাশরাফি বিন মুর্তজা এই ঘরানার একজন মানুষ। গোটা বাংলাদেশে তিনি এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ বললেও হয়তো ভুল হবে না।

দলীয় যত খেলা আছে, তার মাঝে ক্রিকেটেই অধিনায়কের গুরুত্ব সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। মাঠে থাকা অবস্থাতেই মুহূর্তের মাঝে অধিনায়ককে নানা রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বোলিং পরিবর্তন, ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা বুঝে ফিল্ডিং পরিবর্তন, অফ ফর্মে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে সমর্থন দেওয়া, সব খেলোয়াড়ের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখা আর সাথে সাথে নিজের ফর্মের দিকে লক্ষ্য রাখা- কাজগুলো নিঃসন্দেহে কঠিন। মাঠের বাইরেও অধিনায়কের অনেক কাজ থাকে। দেখা গেল, অধিনায়ক নিজেই ফর্মের সাথে লড়াই করছেন, এমন অবস্থাতেই অন্য খেলোয়াড়ের ভুলত্রুটি নিয়েও তাকে কথা বলতে হয়।

এই কাজগুলো ঠিকভাবে করতে গেলে সবার কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ড্রেসিং রুমে সিনিয়র-জুনিয়র সবার কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষটি হলেন ‘কৌশিক’ নামের আড়ালের এই মাশরাফিই।

মাশরাফী বিন মর্তুজার জন্ম ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর। নড়াইলে নানাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নানাবাড়ীতে জন্ম আর সেখানেই বেড়ে ওঠা। কারণ স্কুল শিক্ষিকা নানীর ধারণা-বিশ্বাস ছিল মাশরাফীর মা সেসময় বাচ্চা-লালন পালনের উপযুক্ত না। মূলত মাশরাফীর মাকে কষ্ট থেকে বাঁচাতে এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মাশরাফীদের বাড়ি থেকে নানার বাসার দূরত্ব পাঁচ মিনিটেরও কম। তাই শিশু মাশরাফীর নানির কাছে থাকতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি। তার যখন ছয় মাস বয়স তখন তার পিতাকে চাকরি উপলক্ষ্যে নড়াইল ছেড়ে সস্ত্রীক ঢাকায় এসে বসবাস করতে হয়। তিনি ছিলেন বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা। বাবা-মা ঢাকায় এলেও মাশরাফী থেকে যান নানির কাছেই। ছেলেকে দেখতে মা পনেরো দিন পর পর নড়াইল আসতেন। এভাবে দুবছর টানাপোড়েনের পর মাশরাফীর বাবা চাকরি ছেড়ে নড়াইল এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ।

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন মাশরাফী। তাদের বাড়ির পাশেই ছিল স্কুল মাঠ। বড়রা সে মাঠে ক্রিকেট খেলতেন। স্কুলের মাঠে বড়দের ক্রিকেট খেলা দেখে দেখে মাশরাফীর ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। উইকেটকিপারের পাশে মাশরাফী দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু আহত হওয়ার ভয়ে বড়রা তাকে সরিয়ে দিত।

তারপরও উইকেটকিপারের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে চায় মাশরাফী। বড়রা সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দিলে তার মন খারাপ হয়। কিন্তু যার ক্রিকেট নিয়ে এত আগ্রহ তাকে তো কেউ আটকে রাখতে পারেনা।

মাশরাফী নাম যেভাবে এল:

১৯৮০ সালের দিকে ভারতের একটি অনুষ্ঠানে কৌশিক চ্যাটার্জি নামে একজন অনুষ্ঠান করতেন। ওই নামটার প্রেমে পড়ে যান মাশরাফীর মা হামিদা মর্তুজা। আর সেখান থেকে বড়ছেলের নাম রাখেন কৌশিক এবং তার চাচা রাখেন মাশরাফী বিন মোরসালিন।

কিন্তু বাধ সাধল অত বড় নাম নিয়ে। স্কুলের শিক্ষকরা বললেন, নামটা বড় হয়ে যায়। মাশরাফী ও মোরসালিন দুটাই ইসলামী নাম। তখন কী করা যায়, ওর কাকা বললেন, তাহলে মাশরাফী বিন মর্তুজা রাখেন। মাশরাফীর নামের সঙ্গে মোরসালিনও ছিল। দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার পর সেই মোরসালিন নিয়ে রাখা হয় তার ছোট ভাই মোরসালিন বিন মর্তুজা। মোরসালিন-মাশরাফি দুটি নামই পবিত্র কোরআনে আছে।

ছোটবেলায় যা হতে চেয়েছিলেন:

মাশরাফীকে নিয়ে বই ‘মাশরাফি’ এবং তার জীবন কাহিনী পড়ে যতটুকু জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। আজকের দেশসেরা এই বোলারের ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল ব্যাটসম্যান হওয়া। কারণ দ্রুত গতির বোলিং ছাড়াও মারকাটারি ব্যাটিং দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বহুবার।

এছাড়াও বাড়ির পাশেই স্কুল মাঠ হওয়াতে সুযোগ পেলেই সেখানে ছুটে যেতেন তিনি। কারণ তখন পড়াশুনা আর খেলাধুলা ছিল তার প্রধান কাজ। বড়রা সে মাঠে ক্রিকেট খেলতেন। স্কুলের মাঠে বড়দের ক্রিকেট খেলা দেখে দেখে মাশরাফীর ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। উইকেটকিপারের পাশে মাশরাফী দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু আহত হবে ভেবে বড়রা তাকে সরিয়ে দিত।

উইকেট কিপারের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে চায়। বড়রা সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দিলে তার মন খারাপ হয়। কিন্তু যার ক্রিকেট নিয়ে এত আগ্রহ তাকে তো কেউ আটকে রাখতে পারেনা। মাশরাফীকেও পারেনি। এরপর থেকেই বড়দের নজর কাটতে লাগলেন তিনি। তখনকার সময়ে খ্যাপ খেলার প্রবণতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বন্ধুদের সঙ্গে খ্যাপ খেলতে এই গ্রাম থেকে ওই গ্রাম এ জেলা থেকে ওই জেলায় খেলে বেড়াতেন তিনি। আজকে তিনি বাংলাদেশের সেরা বোলার হলেও ছোটবেলা থেকেই ব্যাটিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার।

যাদের অনুপ্রেরনায় ক্রিকেটার হওয়াঃ

নব্বইয়ের দশকে নড়াইলের ক্রিকেটার-সংগঠক শরীফ মোহাম্মদ হোসেন উঠতি তরুণদের যত্ন নিতেন। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সের মাশরাফীকে তার ক্লাব নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দেন। এ সময় থেকেই মাশরাফীর গতি দৃষ্টিগ্রাহ্য হতে শুরু করে। ১৯৯১-এর দিকে মাগুরায় বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের বিকেএসপি কোচ বাপ্পির সান্নিধ্যে এসে বোলিংয়ের অনেক মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। পরের বছর জাতীয় কোচ ওসমান খান নড়াইলে এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালাচ্ছিলেন। ওই সময় মাশরাফীর আমন্ত্রণ আসে খুলনায় খেলার জন্য। খুলনায় তার গতি ও সুইং হইচই ফেলে দেয়। সেই সূত্রে খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ এবং ঢাকায় আসা।

পরবর্তীতে সুযোগ পান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সেসময় তার বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের পরিচর্যায় পাল্টে যান মাশরাফী। অনুর্ধ্ব-১৯ দলে থাকতে মাশরাফী দারুন পারফরম্যান্সের কারণে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। এ নিয়ে সমালোচনা হয়। কারণ মাশরাফী ঢাকার কোন সিনিয়র ডিভিশন লিগেও খেলেননি। তবে সমালোচকদের মোক্ষম জবার বলিংয়ের মাধ্যমে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সিরিজে মাশরাফী এক ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তার নাম হয়ে যায় নড়াইল এক্সপ্রেস। এরপর ইনজুরি ছাড়া আর কেউ মাশরাফী বিন মর্তুজাকে আটকাতে পারেনি।

মাশরাফী বিন মর্তুজার প্রেম কাহিনী এবং বিয়ের সত্যিকারের অসাধরাণ গল্পই উঠে এসেছে তাকে নিয়ে লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘মাশরাফি’তে। সেখান থেকে হুবহু ঘটনাটি তুলে ধরা হল।

কৌশিক তখন জাতীয় দলের সঙ্গে কেনিয়ায়। হঠাৎ ঝন ঝন করে বসার ঘরের ফোনটা বেজে উঠলো। ল্যান্ডফোনে কলের আওয়াজ শুনে নাহিদ (মাশরাফির মামা) অনুমান করলেন, এটা কৌশিকের ফোন। ছুটে গিয়ে ফোন তুলতেই কোন ভদ্রতার ধার না ধেরে বলল, ‘মামা, আমি বিয়ে করব।’

নাহিদ মামা একটু থতমত খেয়ে গেলেন। ভাগনে দুনিয়ার সবকিছুতেই তার সঙ্গে পরামর্শ করে, গল্প করে। কিন্তু বিয়ে-প্রেম-সংসারের বিষয়ে তো তাদের সেভাবে কখনো কথা হয়নি। আজকালও তাদের এসব কথা বলতে কেমন সংকোচ লাগে।

জড়তা কাটিয়ে পাল্টা বললেন, ‘সে তো ভালো কথা। দেশে আয়। মেয়ে দেখি। ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দিতে হবে তো।’ মাশরাফির কণ্ঠে যেন ভুত ভর করেছে। জেদের ভরে বলে চলেছে, ‘মেয়ে ঠিক করা আছে। তুমি মামির সঙ্গে আলাপ করো। সে সব বলবে নে।’

‘কোথায় মেয়ে! কার মেয়ে! দেখতে ভালো তো?’‘অত আমি বলতি পারব না। তুমি মামিরে জিজ্ঞেস করো।’ ‘আচ্ছা জিজ্ঞেস করবো নে। তুই দেশে আয়। আমি মেয়ে দেখি।’ ‘অত টাইম নেই। বিশ্বকাপ সামনে। আমি বিয়ে করে তবে বিশ্বকাপে যাব। তুমি তাড়াতাড়ি যোগাড়যন্ত্র করবা সব।’ ‘কী বলিস বাবা! এত তাড়াতাড়ি হয় নাকি?’ ‘হবে। তুমি চাইলে হবে। আরেকটা কাজ আছে…’-এবার কৌশিকের কণ্ঠটা কেমন যেন আরও ভীতু ভীতু শোনাল। ‘কী?’ ‘বাবাকে রাজি করাতে হবে। আর মেয়েদের বাড়ি রাজি করাতে হবে। এটা তোমার কাজ।’

‘মানে কী! মানে কী!’- নাহিদ সাহেব কথা শেষ করারও সুযোগ পেলেন না। ওপাশ থেকে লাইন কেটে গেছে। নাহিদ সাহেব মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে এসে সোফায় বসে পড়লেন। এক গ্লাস পানি ঢক করে খেয়ে ফেললেন। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না, কী করতে হবে। আগে কৌশিকের মামিকে ডাকা দরকার, ‘কুহু। কুহু।’

কৌশিকের মামি সেই ভেতরের রান্নাঘরে। শুনতে পাচ্ছেন না। নাহিদ মামা নিজেই এগিয়ে গেলেন, ‘কুহু, কৌশিক বিয়ে করতে চায়।’ কৌশিকের মামি হাসেন, ‘ভালো কথা তো। ছেলে বড় হয়েছে। বিয়ে দিবা না?’ নাহিদ মামা আরও অসহায় হয়ে পড়েন, ‘সে তো দেবো; কিন্তু ও নাকি মেয়ে ঠিক করে ফেলেছে? তুমি জান নাকি কিছু? দেখেছ মেয়েকে?’

‘মেয়েকে তো তুমিও দেখেছো।’ ‘কী বলো, আমি কোথেকে দেখবো?’ কুহু মামি আরও রহস্যময় হাসি হাসেন, ‘রোজ তোমার সামনে থেকে যাতায়াত করে। তুমি ভাগনের পছন্দ বুঝতে পারলে না?’ ‘রহস্য করো না। কোন মেয়ে বলো।’ ‘আরে আমাদের সুমী। তুমি দেখো নাই।’ ‘বলো কী। সে তো পিচ্চি মেয়ে।’ ‘মেয়ে পিচ্চি নেই। তোমার কৌশিকের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ত। এখন দেখো কীভাবে বিয়ে দেবে।’

‘তাই তো! তাই তো!’ নাহিদ মামার প্রায় কেশহীন মাথায় চুল থাকলে আজ মনে হয় সেগুলো পড়ে যেতো। এ এক বিরাট দুশ্চিন্তা। এমনিতে দুলাভাইয়ের সঙ্গে সিরাজুল হক সাহেবের পরিবারের সম্পর্ক খারাপ না। আর ভদ্রলোক তো কয়েকবছর আগে মারা গেছেন। তার পরিবার, নড়াইলের অভিজাত একটা পরিবার। এ পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ার কারণ নেই।

কিন্তু সমস্যা হলো, এটা যে প্রেম! প্রেম শুনলেই তো দুই পরিবার বেঁকে বসবে। প্রেমের বিয়েতে কেউ কি রাজি হয় নাকি! সবচেয়ে বড় কথা এই প্রেম হলো কবে? চোখের সামনে ছেলে-মেয়ে দুটো ঘুরে বেড়ায়। নাহিদ মামা তো কখনও টের পাননি। কবে হলো প্রেম?

এবার আর বসে থাকা যায় ন। জায়গায় বসে হাঁক দিলেন, ‘দুখু, দুখু।’ ‘জি’। ‘ওই পাড়ার রাজু আর অসীমক ডেকে নিয়ে আয় তো। আগে বুঝি, পানি কত দুর গড়িয়েছে।’


পানি আসলে অনেক দুর গড়িয়েছে। অনেক আগে থেকেই গড়াচ্ছে। কবে, কখন এই পানি গড়ানো শুরু হয়েছে, সে কথা অবশ্য মাশরাফি বা সুমনা হক সুমি- কেউই বলতে পারেন না। এটা সিনেমা হলে ঘটনাগুলো মিলিয়ে আমরা একটা দৃশ্যকল্প তৈরী করে নিতে পারতাম।

কৌশিকের নানাবাড়ির সামনে থেকেই সদর রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে বই কোলে নিয়ে প্রতিদিন বিকালে প্রাইভেট পড়তে যায় সুমী। কৌশিকরা তখন রাস্তার পাশে মামার দোকানের সামনে বসে রাজা-উজির মারে। সেই সময়ই প্রেম হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু কৌশিকরা তখন এলাকার অ্যাংরি হিরো; মেয়েদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় কই!

সুমীদেরও তখন ছেলেদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় নেই। বিশেষ করে কৌশিকদের দিকে প্রেমভরা নয়নে তাকানোর তো কোনো কারণই নেই। তখন সময়টা হলো এলাকার বড় ভাই, স্কুলের সিনিয়র, এমনি গৃহশিক্ষকের প্রেমে পড়ার। অন্তত সুমীর বান্ধবীরা তাই পড়ছিল ঝটপট করে। সেখানে সুমী তো মন চাইলেও একই ক্লাসে পড়া কৌশিকের প্রেমে পড়তে পারে না।

যদিও প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় হো হো করে হাসতে থাকা কৌশিককে দেখে মাঝে মাঝে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে। ক্লাসে তো প্রায়ই যায় না। স্কুলে গিয়েই সুমী একবার ছেলেদের বেঞ্চের ওদিকে তাকায়। দেখে, কৌশিক নেই; কোথায় নাকি খেলতে গেছে। ফলে বাড়ির পাশের ছেলে, একই ক্লাসের ছেলে হওয়ার পরও দেখা মেলাই ভার সাহেবের।

তারপরও যখন স্কুলে আসে; যেভাবে বাঁদরামি করে, মেয়েদের টিপ্পনী কাটে, যেভাবে সবাইকে নিয়ে স্যারদের পেছনে লাগে, তাদের মনে হয় মাঝে মাঝে দস্যু ছেলেটা খারাপ না। কিন্তু সমস্যা হলো, সমবয়সী ছেলের প্রেমে পড়া ঠিক না! তাই মনে সবই ইচ্ছে হয়; কিন্তু প্রেমে আর পড়ে না সুমী।

সুমী প্রেমে না পড়লে কী হয়; মাশরাফি প্রেমে পড়ে। যার তার প্রেমে পড়ে। প্রায়ই প্রেমে পড়ে। প্রেমে পড়ে ইনজুরি হওয়ার কোন ব্যবস্থা থাকলে তার ইনজুরির তালিকা আরও দীর্ঘ হতো; ভাগ্যিস এই পড়ায় হাত-পা ভাঙে না। তাই স্কুলে, রাস্তায় যে মেয়েকে দেখে, তারই প্রেমে পড়ে যায়।

প্রেমে পড়া মানে অবশ্য ভালোবাসা না। সে বয়সে বাউন্ডুলে ছেলেদের আর যা হয় আর কী। সুন্দর চেহারা দেখলেই ভালো লাগে। মাশরাফি অবশ্য দাবি করেন, তিনি ক্লাস নাইন বা টেনে পড়া অবস্থায় খুব সিরিয়াস একটা প্রেমে পড়েছিলেন। উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষ শুরু করা অবধি নাকি সে প্রেম চলমানও ছিল।

ধরা যাক নাম তার অনামিকা; এতকাল পর ‘মাশরাফির সাবেক প্রেমিকা’ বলে কাউকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা অন্যায় হবে বলেই এই বিকল্প নাম খুঁজলাম। সেই প্রেমে হাবুডুবু খেতে খেতে মাশরাফি অনামিকাকে বিয়ে করে ফেলবেন বলেও ঠিক করে ফেলেছিলেন।

কিন্তু সে প্রেম টিকলো না। যাকে বলে ‘ব্রেকআপ’; কী এক কারণে তাই হয়ে গেলো। মাশরাফির দাবি, ওই প্রেমটা চালিয়ে গেলেও বিয়ে করা কঠিন হতো। বাসা থেকে কিছুতেই মানতো না। তাই ওই ব্রেকআপটা জরুরী ছিল। সদ্য প্রেম ভেঙে যাওয়ায় মাশরাফি তখন দেবদাসের মত ঘুরে বেড়ান। সময়টা সম্ভবত নিউজিল্যান্ড থেকে ইনজুরি নিয়ে ফেরার পরের প্রায় এক বছর বিরতির সময়। ওই সময়ের আগে আগে পুরনো প্রেমটা ভেঙে গেছে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে বৈরাগির মতো ঘুরে বেড়ান মাশরাফি। মাঝে মাঝে ক্র্যাচে ভর দিয়ে কলেজে যান; পরীক্ষা দিতে হবে বলে বাড়ির চাপ আছে। বাড়ির চাপ না থাকলে পরীক্ষাও দিত না; অর্থহীন মনে হয় সবকিছু।

প্রাণবন্ত ছেলেটা আর মেয়েদের দিকে ফিরেও তাকায় না। মাথা নীচু করে কলেজে আসে আর চুপচাপ চলে যায়। বিকেল হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। দেখে সুমীর মন খারাপ লাগে। কিছু বলতে পারে না- কৌশিক তো স্রেফ ক্লাসমেট; তাকে আর কী বলা যায়!

এদিকে মাশরাফির সামনে তখন নতুন আরেক সমস্যা। পরীক্ষা দেবে; প্রস্তুতি বলে কিছুই নেই। নোটপত্র লাগবে, সাজেশন লাগবে। কোথায় পাওয়া যায়। একদিন ক্লাসে পাশের ক্লাসে পাশের বাড়ির সুমীর সঙ্গে কথা হলো। সে বলল, তার কাছে সংক্ষিপ্ত সাজেশন এবং নোট আছে। চাইলে নিতে পারে মাশরাফী। সেদিনই কলেজ থেকে হেঁটে হেঁটে সুমীর সঙ্গে বাড়ি ফিরল। সেদিন বিকেলে আবার কী একটা ব্যস্ততা আছে। তাই নোট নিতে তাদের বাড়িতে আর ঢোকা হলো না। বলল, ‘সুমী, তোদের নম্বরটা দে। আমি পরে ফোন দিয়ে আসব।’

ফোন নাম্বারটা লিখে দিচ্ছে সুমী। তখনই হঠাৎ সুমীর মুখের দিকে তাকাল মাশরাফি। বুকটা ছড়াৎ করে উঠল। এতদিনের বন্ধু সুমী; ওর মুখটা এভাবে তাকিয়ে তো কখনও দেখেইনি। মুখটায় এত মায়া, মাশরাফীর জন্য যেন কত ভালোবাসা জমে আছে। একটু অবাক হয়ে চেয়ে রইল মাশরাফী। দৃষ্টিটা কীভাবে যেন টের পেয়ে গেলো সুমী। লাজুক চোখে ফিরে তাকাল সে।
এটাই কি সেই প্রেম!

‘আজ কি কলেজে যাবি, সুমী?’ ‘যাব, তুই আসবি?’ ‘হ্যাঁ। তাহলে আসার সময় নোটটা নিয়ে আসিস।’ ‘শোন। নোটের ব্যাপার কী হয়েছে; ওই যে আমাদের ক্লাসের একটা মেয়ে আছে না, লম্বা মতো। সে তো আবার প্রেম করে যশোরের একটা ছেলের সঙ্গে। সেই ছেলে এসেছিল সেদিন…’ নোটের প্রয়োজন যেন একটা উপলক্ষ মাত্র। ফোনে এমন কত অর্থহীন কথা হয়। কত অর্থহীন চোখে চেয়ে থাকা। হঠাৎ করে কলেজ ব্যাপারটাকে খুব আকর্ষণীয় মনে হতে থাকে মাশরাফির। রোজই তার নোট আনতে যাওয়া চাই; নোট আনা হয় না। অনেক কিছুই হয়।

এই পর্যায়ে এসে আমরা একটা দোটানায় পড়ে গেলাম। আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না যে, সেই প্রেমের প্রস্তাবটা কে দিয়েছিল। প্রথম বেলায় নড়াইল গিয়ে জানা গেলো, সুমীই বুঝি কাউকে দিয়ে এই মহাজাগতিক খবরটা পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু সুমী-মাশরাফি একসঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে কথাটা শুনলেন। শুনেই মাশরাফি ‘রে রে’ করে উঠলেন, ‘নাহ। আমি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। আমাদের এক বন্ধু ছিল; কমন ফ্রেন্ড। ওকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।’

মাশরাফি জানতেন, এক প্রস্তাবেই কাজ হবে না। মেয়ে ‘ভাব নেওয়ার’ চেষ্টা করবে। তাই তিনিও নাকি খুব ভাব নিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সেই ভাবটা কী তা জানা গেলো না। দু’জনের হাসি দেখে অনুমান করা যায় শুধু, ভাবটা বিশেষ কিছু ছিল।

থাক না; কিছু কথা গোপনই থাক। এসব কথা গোপন থাকলেও, দুটো মন যে মিলে যাচ্ছে, সে খবর কী আর গোপন থাকে! আর কেউ টের না পাক, নড়াইলের বিখ্যাত বন্ধুবাহিনী কয়েকদিনের মধ্যেই ধরে ফেলে, কিছু একটা কোথাও হচ্ছে। ইদানীং মাশরাফি কেমন উড়ু উড়ু করে। নদীর চেয়ে রাস্তা তাকে বেশি টানে, বাগানের চেয়ে কলেজ তাকে বেশি ডাকে। ব্যাপারটা কী? একদিন বন্ধুরা ধরল খুব- কী ব্যাপার রে, কৌশিক! ইদানিং সুমীর সঙ্গে খুব গুজ গুজ করিস। ‘কিছু না, কিছু না’ বলেও পার পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত সবাইকে একটু রেখে-ঢেকে বলে দিতেই হলো। তকবে একেবারে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিল, কিছুতেই এই খবর, যেন ফাঁস না হয়। অন্তত নিজের পায়ের তলে মাটিটা একটু শক্ত না করে কাউকে কিছু জানাতে চায় না মাশরাফি। আড্ডা চলুক, চোখে চোখে কথা চলুক; কিন্তু ব্যাপারটার বিস্ফোরণ ঘটাতে একটু সময় চাই।


২০০৫ সালেরই এপ্রিল মাসের শেষ দিকের ঘটনা। পরের মাসে মাশরাফি দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড যাবে। আগামী সপ্তাহেই ঢাকা যেতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা আছে। জাতীয় দলের ক্যাম্প আছে। এর ফাঁকে অল্প কয়েকটা দিনের জন্য নড়াইল এসেছে মাশরাফি। আসার সময় এক গাদা জার্সি নিয়ে এসেছে। শুভেচ্ছা ক্লাবের ছোটদের জন্য, নতুন নতুন যারা দলে আসছে, তাদের জন্য ৪০-৫০টি জার্সি। সারাটা বিকেল ধরে সেই জার্সি বিলানো হলো। আস্তে আস্তে ভিড় ভেঙে গেলো। রাত হয়ে গেছে। বন্ধুরাও সব উঠছে।

রাজুকে একপাশে ডাক দিলেন মাশরাফি। ফিস ফিস করে বলল, ‘চুন্নু আর অসীমকে বল থেকে যেতে। তোদের তিনজনের সঙ্গে আলাপ আছে।’ তিন বন্ধু উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে। রাত গভীর হয়ে গেছে। চুন্নু জিজ্ঞেস করল, ‘কী হইছে কৌশিক?’
‘একটা ঝামেলা হইছে।’ ‘কী ঝামেলা?’ ‘আমার বিয়ে করতি হবে।’ ‘সে তো ভালো কথা। বাড়িতে কথা বল। সুমীদের বাসায় প্রস্তাব পাঠা। বিয়ে হোক।’ ‘নাহ, সে সময় নাই। বাড়ী থেকে কী করে কে জানে। আমাদের নিজেদেরই বিয়ে করতে হবে।’

তিনজনের মাথায় যেন বাজ পড়ল। তিনজনই বোঝানোর চেষ্টা করল, এটা ঠিক হবে না। কিন্তু কৌশিক কিছুতেই রাজি নয়। পরদিন পহেলা মে। মাশরাফির চাই, সেদিনই বিয়ে করতে হবে। এমনকি কাজীও নাকি সে ভেবে ফেলেছে। এলাকার বড় ভাই, মিঠু ভাই এখন কাজি। তাকে ডাকলেই চলবে। কিছুতেই একমত না রাজুরা। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির জেদের কাছে হার মানল তিন বন্ধু। ডেকে আনা হলো পরদিন মিঠু ভাইকে।

তারপর…। নাহ এটাও গোপন ব্যাপার। ২০০৫ সালেল ১ মে, নড়াইলে কিছু একটা ঘটেছিল। যেটা আমরা জানতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করা যায়নি, হারিয়ে যাওয়া সেই নথি।


গোলাম মর্তুজা, রাজি নন। তার এক কথা, ‘মেয়ে ভালো। পরিবার ভালো। সবই বুঝলাম; কিন্তু প্রেম করে বিয়ে করবে কেন?’ এই হয়। এই মর্তুজা সাহেব নিজে দারুন এক প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন; কিন্তু বাবা হিসেবে ছেলের ব্যাপার সেটা মেনি নিতে একটু যেন আপত্তি। তার চেয়েও বেশি আপত্তি মেয়ের পরিবারের। মেয়ের পরিবারের যত না আপত্তি, তার চেয়ে বেশি তাদের আত্মীস্বজনের।

সুমীর বাবা মারা গেছেন সেই ছোটবেলায়। মা হোসনে আরা বেগমের পরিশ্রম আর অভিভাবকত্বেই মানুষ হয়েছে সুমী। আর্থিক কষ্ট না থাকলেও বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট ছিল ছোটবেলায়। মেয়েদের অবশ্য সেই কষ্ট পেতে দেননি মা। আত্মীয়স্বজন এসে মাকে বোঝায়, ‘ছেলে ক্রিকেট খেলে। কোথায় কী করে, তার কোনো ঠিক আছে! এমন ছেলের হাতে মেয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।’ সুমী বোঝানোর চেষ্টা করে। নিজের বিশ্বাসের কথা বলার চেষ্টা করে; কিন্তু কাজ হয় না।

পুরো ব্যাপারটা এক করতে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে নাহিদ মামার। মাশরাফি তো এক ফোন করেই খালাস। এখন দুই বাড়িকে রাজি করাতে প্রাণ যায়। তিনি ছোটাছুটি করছেন। কথায় বলে, লাখ কথা না হলে বিয়ে হয় না। নাহিদ মামা একাই মনে হয় কোটি কথা ব্যায় করে ফেলেছেন।

এদিকে কৌশিক দেশে চলে এসেছে। সে শুরু করল জেদাজেদি। দুই পরিবার রাজি না হলে সে নাকি নিজেই বিয়ে করে ফেলবে। কখনও না খেয়ে থাকে, কখনও কথা বলে না। আবার কখনও নিজের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেয়। এমন চলতেই থাকতো হয়তো। শেষ পর্যন্ত নাহিদ মামা দুই পরিবারে চরম ঘোষণাটা দিয়ে দিলেন, ‘আপনারা আপসে রাজি হলে ভালো কথা। নইলে আমি ওদের বিয়ে দিয়ে দেবো। পারলে আপনারা দুই পরিবার ঠেকাতে আসবেন।’

এই হুমকির পর আর কথার দরকার হলো না। সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো হাসি হাসি মুখে সবাই রাজি হয়ে গেলেন। বাড়ির সামনে বিশাল সাউন্ড বক্স বসে গেলো। চরম হট্টগোলের মধ্যে বেজে উঠলো সানাই।

বুক যার বাংলাদেশের হৃদয় :

জনপ্রিয়তা’ সাধারণ মানুষের কাছে খুবই আকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। খুব কম মানুষই আছেন, যারা কিনা জনপ্রিয় হতে চান না। তবে বেশিরভাগ জনপ্রিয় মানুষদের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় থাকে। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে সব জনপ্রিয় মানুষই কোনো না কোনো কারণে অন্য আরেকদল মানুষের কাছে খুব ঘৃণিত থাকে। সমসাময়িক দুই গ্রেট খেলোয়াড়ের দিকে তাকালে বিষয়টা কিছুটা বুঝতে পারবেন। ‘মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো’- গোটা পৃথিবী জুড়েই এই দুজনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও, তাদের হেটারেরও কমতি নেই। আমাদের দেশের সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালও এর উদাহরণ। দেশব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও কিছু মানুষ সবসময়েই এদের সমালোচনা করে যেতে থাকে।

খুব কম মানুষই জন-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে পারে। খুব সম্ভবত মাশরাফি বিন মুর্তজা এই ঘরানার একজন মানুষ। গোটা বাংলাদেশে তিনি এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ বললেও হয়তো ভুল হবে না।

দলীয় যত খেলা আছে, তার মাঝে ক্রিকেটেই অধিনায়কের গুরুত্ব সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। মাঠে থাকা অবস্থাতেই মুহূর্তের মাঝে অধিনায়ককে নানা রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বোলিং পরিবর্তন, ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা বুঝে ফিল্ডিং পরিবর্তন, অফ ফর্মে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে সমর্থন দেওয়া, সব খেলোয়াড়ের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখা আর সাথে সাথে নিজের ফর্মের দিকে লক্ষ্য রাখা- কাজগুলো নিঃসন্দেহে কঠিন। মাঠের বাইরেও অধিনায়কের অনেক কাজ থাকে। দেখা গেল, অধিনায়ক নিজেই ফর্মের সাথে লড়াই করছেন, এমন অবস্থাতেই অন্য খেলোয়াড়ের ভুলত্রুটি নিয়েও তাকে কথা বলতে হয়।

এই কাজগুলো ঠিকভাবে করতে গেলে সবার কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ড্রেসিং রুমে সিনিয়র-জুনিয়র সবার কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষটি হলেন ‘কৌশিক’ নামের আড়ালের এই মাশরাফিই।

জাতীয় দলের অধিনায়ক :

২০০৯ সালের শুরুতে মাশরাফী অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সহকারী ছিলেন। পরবর্তীতে ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি মোহাম্মদ আশরাফুলের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি হাঁটুতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ঐ খেলায় বাংলাদেশ জয়লাভ করে কিন্তু মাশরাফী এই চোটের কারণে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠের বাইরে ছিলেন। উক্ত ম্যাচসহ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেন সাকিব আল হাসান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের সাথে হোম সিরিজে তিনি পুনরায় অধিনায়কত্ব পান। তবে এ বার তিনি শুধু একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য দায়িত্ব পান এবং এবারও তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও তিনি বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২০ সালের ৬ মার্চ সফররত জিম্বাবুয়ের সাথে তৃতীয় ওডিআই ম্যাচের পর ওডিআই দলের অধিনায়ক পদ থেকে সরে যান।শেষ ওডিআইয়ে জয় নিয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলা চালিয়ে যাবেন এমনটা তিনি নিশ্চিত করেন ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে। সতীর্থদের ভালবাসায় সিক্ত ৩৬ বছর বয়সী এই দল নেতা ৮৮টি ওয়ানডে খেলায় নেতৃত্ব দিয়ে ৫০টিতে জয় লাভ করে

অধিনায়ক থেকে মহানায়ক:

তোপধ্বনি বাজছিল অনেকদিন ধরে। মাশরাফি বিন মুর্তজার আকণ্ঠ নীরবতা ও খেলতে চাওয়ার ইচ্ছার সামনে সুরটা উচ্চকিত হয়নি। বাইরের দুনিয়ায় অবশ্য থেমে থেমে অস্ফূট স্বরে বেজেছে বিদায়ের রাগিনী।

কাউকে নায়ক হওয়ার সুযোগটা দেননি মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি’র মতো ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাটাও নিজের মতো করেই দিলেন। অনেকটা অনুমিত হলেও ৫ মার্চ সিলেটেই যে ঘোষণা আসছে, তার নিশ্চয়তা ছিল না। এদিন দুপুরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বলে দিয়েছেন, নেতার আসন থেকে সরে যাচ্ছেন। চায়ের দেশ সিলেট থেকে ক্রিকেট দুনিয়া জানল, অধিনায়ক মাশরাফির প্রস্থানের খবর।

৫ মার্চও (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ঢুকেছিলেন হাসিমুখে। পরিচিত মুখ দেখে হাসি আরও চওড়া হয়ে গেল। মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিল, কতটা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন মাশরাফি। কিন্তু চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গে ভোল পাল্টালো তার অবয়ব। পোডিয়ামে থাকা দুই মাইক টেনে বলে বসলেন,

‘ধন্যবাদ সবাইকে। আমি একটু কিছু বলতে চাই।’

এরপর লিখিত বক্তব্য পাঠ করা শুরু করেন মাশরাফি। সংবাদকর্মীরা নড়েচড়ে বসতেই দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের কন্ঠ থেকে ভেসে এলো,

‘কাল আমার অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ।’

তারপর সংবাদ সম্মেলন স্থায়ী হয়েছে আরও ৩০ মিনিট। সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে অনেক সেলফির আবদার মিটিয়েছেন। সেই পর্ব শেষ হতেই মনোযোগী ছাত্রের মতো যোগ দেন অনুশীলনে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অধিনায়ক মাশরাফির অধ্যায় শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিলেটের মাটিতে। স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নেয়া সেই অধ্যায় কতটা বর্ণিল ছিল, রোমন্থনের মাধ্যমেই যা চোখের সামনে ভেসে উঠতে পারে।

এক ম্যাচেই শেষ নেতৃত্বের প্রথম পর্ব

হাবিবুল বাশার সুমনের উত্তরসূরী হিসেবে অধিনায়ক হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৯ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর নেতৃত্ব হারান আশরাফুল। মূলত নটিংহ্যামে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারটাই কাল হয়েছিল আশরাফুলের জন্য। ৬ উইকেটে হারের ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৬ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করেছিলেন মাশরাফি। পরে বল হাতেও ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারের হাতেই পরে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেয় বিসিবি।

ওই বছর ৯ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্ট দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির যাত্রা শুরু হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে বোলিংয়ে নেমেই ইনজুরিতে পড়েন তিনি। নেতৃত্বের প্রথম পর্ব সেখানেই শেষ হয়। যদিও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওই টেস্টে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। এবং বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছিল খর্বশক্তির ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে।

ইংল্যান্ড জয় ও সাত ম্যাচের দ্বিতীয় পর্ব

মাশরাফির ইনজুরিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে আবারও নেতৃত্বে আসেন মাশরাফি। দ্বিতীয় পর্বটা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৭ ম্যাচ, যার শেষটা হয়েছিল সেই ইনজুরির করাল গ্রাসেই।

এই পর্বেও মাশরাফির অধিনায়কত্বের ‘মুন্সিয়ানা’ চাউর হয়নি বাংলার ক্রিকেটে। তবে ঠিকই বলার মতো অর্জন ছিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবার ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বের দ্বিতীয় পর্বে। ১০ জুলাই, ২০১০ সালে ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে পরাজিত করে টাইগাররা। পরে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সিরিজ শেষে দেশে ফিরে দল।

ওই বছর অক্টোবরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আবারও চোটে পড়েন মাশরাফি। যদিও সেবার তার নেতৃত্বে যতিচিহ্নটা পড়ে ২০১১ বিশ্বকাপের ঠিক আগে। বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রান নিতে গিয়ে পড়ে যান নড়াইল এক্সপ্রেস। তাতেই ছিটকে পড়েন বিশ্বকাপ থেকে। অনেক আলোচনা-শোরগোলের পরও দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। তখনই শেষ হয় অধিনায়ক মাশরাফির দ্বিতীয় পর্ব।

তৃতীয় পর্ব: অধিনায়ক থেকে মহানায়ক

মাশরাফির ক্যারিয়ার শেষের ছবিটা তখন অনেকের চোখে ভাসছিল। বাংলাদেশ দলও তখন দুর্বিপাকে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধুঁকতে বাংলাদেশকে টেনে তুলতে মাশরাফির হাত ধরে বিসিবি। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে হুট করেই মুশফিককে সরিয়ে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেয়া হয় তার কাঁধে, এমনকি তৎকালীন সময়ে টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক তামিমকে সুযোগ না দিয়েই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে দু’টি ম্যাচ হারলেও দলের ভেতরের বয়ে চলা ঝড় থামিয়ে মাঠে একাত্ম হওয়ার নজির দেখিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। তারপর কিছুটা বিরতি ছিল।

আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে হোয়াইটওয়াশ হওয়া, চারদিকে মুশফিকের নেতৃত্বের সমালোচনা, পরাজয়ের মিছিল যেন টালমাটাল করে তুলে দেশের ক্রিকেটকে। খাদের কিনারে চলে যাওয়া দলকে টেনে তুলতে আবারও মাশরাফির দ্বারস্থ হয় বিসিবি। নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে ওয়ানডের অধিনায়কত্বেও ফেরেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেই নতুন দিগন্তে পথ চলার শুরু।

ততদিনে দলকে সামলানো, সতীর্থদের জাগিয়ে তোলা, তাদের সেরাটা বের করে আনা, সবার প্রেরণার উৎস হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়ে গেছেন মাশরাফি।

২০১৫ বিশ্বকাপ ও সোনালী অধ্যায়

২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে লড়তে হয়েছে। তারপরও ইংল্যান্ডকে অসীম হতাশায় ডুবিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। আর বিশ্বকাপের পর নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান দেশের ক্রিকেটকে। দেশের মাটিতে একের পর এক দৈত্য বধের গল্প লিখতে শুরু করে টাইগাররা। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু সোনালী সেই অধ্যায়। ওয়াকার ইউনিসের শিষ্যদের ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ, পরে টি-টোয়েন্টিতেও দাপটের সঙ্গে হারায় বাংলাদেশ। পাকিস্তান পাত্তাই পায়নি স্বাগতিকদের কাছে। পাকিস্তানকে ভূপাতিত করার পরও থামেনি অগ্রযাত্রা।

জুনে পরাক্রমশালী ভারতকে মাটিতে নামিয়ে আনে মাশরাফির দল। মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতকে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। এই সিরিজেই ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজ সগৌরবে আবির্ভাব বাণী শুনান। কোচ হাথুরুসিংহে, নির্বাচকদের বাধা সত্ত্বেও ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে মুস্তাফিজকে খেলান মাশরাফি। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে মাত করেন এই বাঁহাতি পেসার। ভারতকে সিরিজ হারানোর পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উত্থান প্রতিষ্ঠা পায় বিশ্ব মিডিয়ায়। অধিনায়ক মাশরাফিও মহানায়কের আসনে আসীন হতে শুরু করেন।

তার নেতৃত্বের রসায়ন, ক্রিকেটার হিসেবে ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাত অস্ত্রোপচারের পরও বল হাতে দুর্নিবার চেষ্টা, দেশকে সাফল্যের রথে চড়ানোর গল্প চড়াতে থাকে সর্বত্র।
জুলাইয়ে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারের তিক্ততা উপহার দেয় বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়ার পরও নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জিতে লাল-সবুজের দল। ওই বছর নভেম্বরে আবারও জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে উত্তরণ ঘটে বাংলাদেশের। সাত নম্বরে উঠে আসে দল। ২০১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

এশিয়ার সেরা অধিনায়ক মাশরাফি

সেপ্টেম্বরে আরব আমিরাতের মরুর বুকে এশিয়া কাপে আবারও শির উঁচু করে দাঁড়ায় টাইগাররা। ইনজুরির কারণে তামিম, সাকিব ছিটকে পড়েন টুর্নামেন্ট থেকে। জোড়াতালির দলটা নিয়েই ফাইনালে উঠে আসেন মাশরাফি। ফাইনালে আবারও ভারতের দেয়ালে প্রতিহত হয় বাংলাদেশের ট্রফির স্বপ্ন। শেষ ওভারে ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে ফেরে বাংলাদেশ দল। ফাইনাল হারলেও টুর্নামেন্ট সেরা অধিনায়কের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মাশরাফি। রমিজ রাজা, শোয়েব আখতাররা বলেছিলেন, এখন এশিয়ার সেরা অধিনায়ক বাংলাদেশের কাপ্তানই। ‘ক্যাপ্টেন অব এশিয়া কাপ’র তকমাও পেয়েছিলেন তিনি।

ওই বছরের শেষ দিকে হোম সিরিজে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে মাশরাফির দল।

রাজনৈতিক জীবন

মাশরাফী ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।কোন দেশের যে কোন খেলার জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকাবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এবং বিজয়ী হওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটিই প্রথম। যদিও পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার উদাহরণ বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নতুন নয়। ক্রিকেটারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার আগেই শ্রীলঙ্কার ২০১০ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ঐ নির্বাচনে বিজয়ীও হন।

তিনি ১১ নভেম্বর, ২০১৮ আওয়ামী লীগ ব্যানারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মাশরাফী নড়াইল-২ আসনের হয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৮ অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে ২৭১২১০ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Bednet steunen 2023