free hit counter
বিলগেটস ও তার বড় মেয়ে জেনিফার
জীবনী

মানবসেবায় বিলগেটস কন্যা জেনিফার বাবার পথেই হাঁটবেন

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার গেটস নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে মানবসেবায় কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, আমি বিশাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি মনে করি, এই সুযোগ ও শেখার বিষয়টি কাজে লাগিয়ে আমার আগ্রহের বিষয়গুলো সন্ধান করার ও পৃথিবীটাকে আরও ভালো জায়গা করে তোলার আশা করি।

বিল গেটস ও মেলিন্ডার তিন সন্তান। এর মধ্যে বড় কন্যা জেনিফার ক্যাথেরিন গেটস। জেনিফার ক্যাথারিন গেটস মধু স্বর্ণকেশী এবং নীল চোখ। তার উচ্চতা 5 ফুট 9 ইঞ্চি এবং তার শরীরের ওজন 54 কেজি। এরপর ররি জন গেটস ও ফিবি অ্যাডেল। ২৪ বছর বয়সী জেনিফার বিল গেটস ইতিমধ্যে নিজের ক্যারিয়ারের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। বিল গেটসের সন্তানেরা যে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি নিয়ে বেড়ে উঠবেন, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। বিল গেটসের মোট সম্পদ ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও সন্তানেরা তা থেকে খুব সামান্যই পাবেন। বিল গেটস দাতব্য কাজেই তার সম্পদ ব্যয় করবেন। এ জন্য সন্তানদের আগে থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বলে দিয়েছেন তিনি। ক্যাথেরিন ইতিমধ্যে তার লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলেছেন। জেনিফার তৈরি করে ফেলেছেন নিজের পরিচয়। তিনি একজন দক্ষ অশ্বারোহী।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তারকা ছেলেমেয়েদের অনেকেরই ঘোড়ায় চড়ার শখ দেখা যায়। এর মধ্যে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মেয়ে ইভ জবস, মাইকেল ব্লুমবার্গের মেয়ে জর্জিনা, ব্রুস স্প্রিংসটিনের মেয়ে জেসিকা, স্টিভেন স্পিলবার্গের মেয়ে ডেসট্রি অশ্বারোহী হিসেবে নাম করেছেন। তবে সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জেনিফারই এগিয়ে।

বিল গেটস কন্যা জেনিফারের বেড়ে ওঠা
বাবার বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকলেও গেটস এর সন্তানরা যেন খানিকটা পর্দার আড়ালেই ছিলেন। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত জেনিফারকে দেওয়া হয়নি মোবাইল ফোনও।জেনিফার একজন প্রতিষ্ঠিত অশ্বারোহী।

জেনিফার একজন প্রতিষ্ঠিত অশ্বারোহী

গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস এর বড় মেয়ে জেনিফার গেটস। সম্প্রতি সাইডলাইনস ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনিফার নিজের জীবন ও বড় হয়ে ওঠা নিয়ে কথা বলেন। জেনে নেয়া যাক মাইক্রোসফট এর সহপ্রতিষ্ঠাতা, বিলিওনিয়ার বাবার মেয়ে ২৪ বছর বয়সী জেনিফার গেটস সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

ছোটবেলায় নিজের চিকিৎসককে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মেডিকেলের পড়ালেখা শুরু করেন জেনিফার। বর্তমানে তিনি মাউন্ট সিনাই আইকান স্কুল অব মেডিসিনের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।জেনিফার ২০১৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান বায়োলজিতে ডিগ্রি নেন। পরবর্তী এক বছর তিনি অশ্বারোহণের প্রস্তুতি নিতে বিরতি নেন। জেনিফারের সবচেয়ে বড় আগ্রহের জায়গা হল অশ্বারোহণ। মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই অশ্বারোহণের প্রতি তার আগ্রহ গড়ে ওঠে। ইতোমধ্যেই জেনিফার স্টিভ জবসের মেয়ে ইভ জবসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। বাবা বিল গেটসও তাঁকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেন। মিয়ামি হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়ের শখ মেটাতে বিল গেটস ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করে ফ্লোরিডায় সম্পত্তিও কিনেছেন।বিল গেটসের প্রতিষ্ঠা করা শো জাম্পিং টিম প্যারিস প্যানথার্সের অশ্বারোহী ও ব্যবস্থাপক জেনিফার ও নাসার। জেনিফার একজন প্রতিষ্ঠিত অশ্বারোহী।২০১৭ তে ইউএস ইকুয়েস্ট্রিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় ঘোড়া অ্যালেক্স এর কথাও, ‘অ্যালেক্স খুবই চমৎকার-মিষ্টি, সহজেই চড়া যায়। আবার যে প্রয়োজন বুঝে গতিদানবও হতে পারে।’ ২০১৯ সালে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নস লিগের নবম স্থানে ছিল এ টিম।জেনিফার ও নাসার দুজনেই ‘প্যারিস প্যানথার’ নামক হর্সরাইডিং দলের আরোহী, এই শো জাম্পিং দলের প্রতিষ্ঠাতাও বিল গেটস।ঘোড়দৌড়ের পাশাপাশি জেনিফারের ভ্রমণের শখ রয়েছে। যখনই সময় পান ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি কুয়েত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এসব স্থানের ছবি পোস্ট করে রেখেছেন ইনস্টাগ্রামে।

নিজের ব্যক্তিগত বিষয় জনসাধারণকে জানাতেও কার্পণ্য নেই জেনিফারের।
২০১১ সালেই বিল গেটস গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তার সন্তানরা তার সম্পত্তির অণুমাত্র পাবে। সন্তানরা নিজে প্রতিষ্ঠিত হোক এমনটাই তিনি চান।

২০২০ এর জানুয়ারিতে নিজের ইনস্টাগ্রামে মিশরীয় অশ্বারোহী নায়েল নাসারের সঙ্গে বাগদানের কথা জানান জেনিফার। পোস্টে লিখেছিলেন, ‘একসঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর জন্য উন্মুখ হয়ে আছি আমি।’

মা-বাবার মতো জেনিফার গেটসও নিজের অর্থবিত্ত ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করতে চান। সাইডলাইনসকে জেনিফার বলেন, “আমি অনেক প্রাচুর্য এবং সব রকম সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বড় হয়েছি। আমার মনে হয় এসব সুবিধা থেকে আমি বুঝতে শিখেছি কোনটা আমার প্যাশন এবং তা নিয়ে কাজ করে পৃথিবীটাকে আরেকটু সুন্দর করে তুলতে চাই।”

বিয়ের-অনুষ্ঠানে-নায়েল-ও-জেনিফার
বিয়ের-অনুষ্ঠানে-নায়েল-ও-জেনিফার

সম্প্রতি জমকালো আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার গেটসের। নিউইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির নর্থ সালেম শহরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জেনিফারের বর নায়েল নাসার অশ্বারোহী।বিয়েতে মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার ভেরা ওয়াংয়ের নকশা করা পোশাক পরেন জেনিফার। বিয়ের পোশাকটি ছিল ফুলহাতা। সঙ্গে লম্বা ওড়না। পুরোটাই এমব্রয়ডারির কাজ করা। খুব বেশি গয়না পরেননি জেনিফার। পায়ে ছিল বিলাসবহুল অ্যাকুয়াজ্জুরা ব্র্যান্ডের হিল। নায়েল পরেছিলেন সাদা শার্টের সঙ্গে কালো টাক্সেডো ও বো টাই।

বিয়ের পোশাকে জেনিফার
বিয়ের পোশাকে জেনিফার

১৪২ একরের পারিবারিক খামারবাড়িতে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন প্রায় ৩০০ জন। বিল ও মেলিন্ডা গেটস মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।মেয়ে ও জামাইয়ের বিয়ের ছবি টুইট করে বিল গেটস লিখেছেন, ‘জেন ও নায়েল, বিয়েতে তোমাদের আনন্দ দেখে যে আমি কত খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। তোমরা জীবনে যা কিছু অর্জন করেছ, তা নিয়ে আমি গর্বিত।’টুইটে আনন্দ প্রকাশ করেছেন মেলিন্ডা গেটসও। তিনি টুইটে বলেন, ‘জেন ও নায়েলের ভালোবাসা উদ্‌যাপন করাটা ছিল দারুণ আনন্দের। বিশেষ এই দিনে নিরাপদে আমরা যে সবাই এক হওয়ার সুযোগ পেয়েছি, সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।’বিল গেটসের মেয়ের ঠিকানা বদলের সাক্ষী ছিলেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা, সেলুলয়েডের দুনিয়ার জাঁদরেল অভিনেতা-অভিনেত্রী। শত হলেও নাসার ঘরে যাচ্ছে জেনিফার গেটস।

খাওয়া-দাওয়ার ঢালাও ব্যবস্থা। এত পদ রান্না হয়েছিল যে অনেকে ভেবেই উঠতে পারছিলেন কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবেন। মেয়ের ঠিকানা বদল হলে বাবাদের মন কিছুটা হলেও ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু বিল গেটসের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। মেয়েকে নিয়ে নেচেছেন। কার গানের ছন্দে সেটাও তো বলতে হয়। এল্টন জনের গানের তালে তাল মিলিয়ে নাচছিলেন বিল।গোটা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার বিখ্যাত সংস্থা মার্সি ব্লামের হাতে।

জেনিফারের মোট অর্থ উপার্জন $ 20 মিলিয়ন। অশ্বারোহী হিসাবে, তার উপার্জন বছরে প্রায় 2 মিলিয়ন ডলার।
তার একটি পাঁচ মিলিয়ন ডলার কার্নেগি হিল কনডমিনিয়াম রয়েছে যা তার বাবা-মা কিনেছিলেন।এটি সেই কনডমিনিয়াম যা পূর্বে কারমেলো এবং লা লা অ্যান্টনিতে ছিল ।জেনিফার ক্যাথারিন গেটসের ইনস্টাগ্রামে 339k-র বেশি অনুগামী রয়েছে। তবে তিনি টুইটার এবং ফেসবুকে সক্রিয় নন।