free hit counter
জীবনী

মনোয়ার হোসেন ডিপজল জীবনী, উচ্চতা, বয়স, ফটো, পেশা, ফ্যামিলি, এবং সম্পূর্ণ প্রোফাইল

মনোয়ার হোসেন ডিপজল (জন্ম: ১৫ জুন, ১৯৫৮), বাংলাদেশী অভিনেতা, প্রযোজক, লেখক, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী। তিনি ১৫ জুন, ১৯৫৮ সালে ঢাকার মিরপুরের বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সক্রিয়। প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও চাচ্চু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ভালো চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ডিপজল বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের হয়ে স্থানীয় ঢাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর কমিশনার নির্বাচিত হন ১৯৯৪ সালে। তার বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা তার নামে (ডিপজল পরিবহন) বাস সার্ভিস চালু করেন।

ডিপজলের কর্ম জীবন

ডিপজল

ডিপজল ১৯৮৬ সালে টাকার পাহাড় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ডিপজলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা যিনি বাদশা ভাই নামে পরিচিত তিনি সান পিকচার্স এর ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। পরিচালনা করেন মনতাজুর রহমান আকবর। আকবরেরও এটি পরিচালিতো প্রথম ছবি। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বর্তমানে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

চলচ্চিত্র প্রযোজনা
মূল নিবন্ধ: অমি বনি কথাচিত্র
ডিপজল অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন।

ডিপজলের সম্পূর্ণ জীবনী তথ্য
পুরো নাম: মনোয়ার হোসেন ডিপজল
ডাক নাম: বিশু
পেশা: চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী
জন্ম তারিখ: ১৫ জুন ১৯৫৮
জন্মস্থান: মিরপুর, ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান
বয়স: (বয়স ৬৪)
ইঞ্চিতে উচ্চতা ৫ ফু ৭ ইঞ্চি
কি কারণে বিখ্যাত: চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
শিক্ষা এন/এ
ধর্ম: ইসলাম
লিঙ্গ: পুরুষ
রাশি: এন/এ
পিতা: ইলিয়াস উদ্দিন তালুকদার
মা: সোহরাব হোসেন
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
স্ত্রী রোমানা মনোয়ার
সন্তান ওলিজা
প্রতিষ্ঠান ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাহিম শুটিং স্পট,
এশিয়া সিনেমা হল,পর্বত সিনেমা হল,
জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২,
অমি বনি কথাচিত্র
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (১৯৯৪) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
আত্মীয় শাহাদাত হোসেন বাদশা (ভাই), আনোয়ার হোসেন আফজল (ভাই)
ডিপজলের  চলচ্চিত্রের তালিকা
বছর চলচ্চিত্র চরিত্র অভিনেতা কাহিনিকার প্রযোজক পরিচালক সহ-অভিনেতা
১৯৯৩ টাকার পাহাড় হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মিষ্টি
১৯৯৯ ভয়ংকর বিষু বিষু হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রিয়াজ, শাবনুর, চম্পা, সোহেল রানা
১৯৯৯ আম্মাজান কালাম হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ কাজী হায়াৎ মান্না, মৌসুমী, আমিন খান, শবনম
১৯৯৯ কে আমার বাবা হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, পপি
২০০০ কুখ্যাত খুনি তরফদার হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, মৌসুমী
২০০০ গুন্ডা নাম্বার ওয়ান মোকারম হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, শাহনাজ
২০০১
কঠিন বাস্তব বক্কর হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর আমিন খান, কেয়া
ঠেকাও মাস্তান দিপু সরদার হ্যা মালেক আফসারী শাকিব খান, আমিন খান,মুনমুন, সিমলা
২০০২ ঢাকাইয়া মাস্তান বিল্লাল মিশরি হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, মৌসুমী
২০০২ মেজর সাহেব হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, মৌসুমী
২০০২ ইতিহাস সোবহান হ্যাঁ কাজী হায়াৎ কাজী হায়াৎ, কাজী মারুফ, রত্না, মৌসুমি
২০০৩ কঠিন সীমার আকরাম হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, পপি
২০০৩ বউয়ের সম্মান ঢাকাইয়া মামুন হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মৌসুমী, মাসুম বাবুল, অমিত হাসান
২০০৪ বস্তির রানী সুরিয়া ইকবাল তারাশী হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর পপি, শাকিব খান, শাহনাজ
২০০৪ ভাইয়ের শত্রু ভাই বিটলা বিশু/বিশাল চৌধুরি হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মান্না, শাবনূর
২০০৬ কোটি টাকার কাবিন সুলতান হ্যাঁ হ্যাঁ এফ আই মানিক শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, রাজ্জাক, ফারুক
২০০৬ চাচ্চু চাচ্চু হ্যাঁ এফ আই মানিক শাকিব খান, অপু বিশ্বাস
২০০৬ দাদীমা সুলতান খান হ্যাঁ এফ আই মানিক শাকিব খান, অপু বিশ্বাস
২০০৯ কাজের মানুষ কাজের মানুষ/কাজু হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রেসি, রাজ্জাক
২০১০ রিকসাওয়ালার ছেলে রস্তম হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রেসি
২০১০ মায়ের চোখ জীবন হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রেসি, পূর্ণিমা, আমিন খান
২০১০ জমিদার হ্যাঁ শাহীন-সুমন রুবেল, শিমলা, পূর্ণিমা, রিয়াজ
২০১১ ছোট্ট সংসার সুলতান হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রেসি, তমা মির্জা, কাজী মারুফ
২০১২ মানিক রাতন দুই ভাই হ্যাঁ কাজী হায়াৎ রেসি, তমা মির্জা, কাজী মারুফ
২০১২ বাজারের কুলি হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর রেসি, নিপুন
২০১৭ দুলাভাই জিন্দাবাদ সুলতান/দুলাভাই হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর মৌসুমী, মিম, বাপ্পি চৌধুরী
২০২১ অমানুষ হলো মানুষ আবুল হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর জয় চৌধুরী, মৌ খান
২০২১ বাংলার হারকিউলিস হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর নাদিমুল ইসলাম, মৌ খান
২০২১
যেমন জামাই তেমন বউ
হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর
২০২১ ঘর ভাঙ্গা সংসার সুলতান হ্যাঁ হ্যাঁ মনতাজুর রহমান আকবর
২০২১
সৌভাগ্য (২০২১-এর চলচ্চিত্র)
হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ এফ আই মানিক মৌসুমী, কাজী মারুফ
ডিপজলের  রাজনীতি জীবন

মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ঢাকাই চলচ্চিত্রে সবাই এক নামে চেনেন এই খল অভিনেতাকে। আরও একটি পরিচয় তিনি দীর্ঘদিন ধারন করেছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের একাধিকবার নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। একটা সময় জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে রাজনীতিও করেছেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনেও তার বড় ভূমিকা থাকে। এসব কারণে অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ডিপজলের অংশগ্রহণ নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। শোনা যাচ্ছে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্যানেলে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই খল অভিনেতা। জায়েদ খানের প্যানেলের সভাপতি মিশা সওদাগর এবার ভোট করছেন না এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। এর বিপরীতে শক্ত প্যানেল দিচ্ছেন নায়ক শাকিব খান ও নায়িকা নিপুণ।

তবে ডিপজল নির্বাচন করার গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন। বলেছেন, শুধু শিল্পী সমিতি কেন, জীবনে আর কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবেন না।

‘আমি নির্বাচন করুম আর আমিই জানি না, এইডা কেমুন কথা? আমার সঙ্গে কেউ কথা না কইয়া খবর প্রকাশ করে ক্যামনে, আমার সঙ্গে কথা কইলেই তো জিনিসটা দিনের মতও পরিস্কার হইতো।’

কেন নির্বাচন করবেন না গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিপজল বলেন, আমার শরীর ভালো না। ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হয়েছে। চোখেও অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। শরীর এখনও ফিট হয় নাই। তাই এখন আর নির্বাচনের চিন্তা নেই। শিল্পী সমিতি শুধু না, কোনো নির্বাচনেই অংশ নেব না।

সংসদ নির্বাচন করার চিন্তা ছিল জানিয়ে ডিপজল বলেন, ভাবছিলাম সংসদ নির্বাচন করুম, কিন্তু এখন আর কোনো পরিকল্পনা নাই। আমার শরীরটা ভালো না। ভালো হইলেও নির্বাচন করুম না। আমার জন্য দোয়া করবেন।

নায়িকা পরীমনি আটকের ঘটনায় ডিপজলকে এফডিসিতে দেখা গিয়েছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন তিনি। পরীমনি প্রসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বক্তব্য দেন।

ডিপজলের খামারে কোটি টাকার কবুতর

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এখন খামারি। বাস্তব জীবনে তিনি এখন পশু-পাখির পরিচর্যায় ব্যস্ত। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নয়, কেবল শখের বসেই ডিপজল গড়ে তুলেছেন এই খামার বলে জানিয়েছেন।

সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার এই বাড়িতে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়বে এমন হাজার হাজার কবুতর আর পাখির মেলা। দেখে মনে হতে পারে কোনো পেশাদার পশু-পাখি খামারির বাড়ি। যা কিনা বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ডিপজলের বাড়ি।

ঘুরে দেখা মেলে বিভিন্ন দেশের ও জাতের প্রায় ৭-৮ হাজার কবুতর। পাংখি, আর্মি, রাণি, জুটপরি, সাফটিলা, চিলা, খাকি, ন্যাপটাসহ প্রায় ২০ জাতের কবুতর রয়েছে এখানে। দলবেঁধে থাকা এমন কবুতরের চমৎকার দৃশ্য যে কারো চোখ জুড়াবে।

রয়েছে ‘রেসার’ কবুতরও। যেগুলো অংশ নেয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। শুধু কবুতর নয়- রয়েছে বিভিন্ন দেশের ও জাতের এমন বাহারি রং এর পাখি। টিয়া, কাকাতুয়া, লরী, কাইশাপাখি, সেনেগাল, বাজিগরসহ অনেক প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

প্রায় সাড়ে তিনশ ছবিতে অভিনয় করা এই অভিনেতা জানান, শখ থেকেই তার এই খামার গড়ে তোলা, কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়। সেই ছোট বেলা থেকেই আমার কবুতর খামারের শখ। আর এই শখ থেকেই কবুতরের খামার গড়ে তোলা।

অনেক দামি দামি কবুতর আছে তার এই খামারে উল্লেখ করে ডিপজল আরও বলেন, ৫ লাখ টাকা দামের কবুতর আছে প্রায় ১০০টি। এছাড়াও গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি সবকিছু শখের বসেই পালন করেন বলেও জানান এই অভিনেতা।

বাড়ির আঙিনায় চোখে পড়বে একটি বড় গরুর খামারও। সেখানে বিভিন্ন জাতের গরু যেমন জার্সি, ফ্রিজিয়াম ,ব্রাহামা, সিন্ধি ও ভুট্টি। এসব খামার দেখাশুনার জন্য রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনেকেই একসাথে নানা প্রজাতির কবুতর দেখতে এখানে আসেন।

অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক ডিপজলের আরো বেশ কয়েকটি গরুর খামার রয়েছে। তিনি শখের বসে করলেও জানান কেউ চাইলেই কবুতর, পাখি কিংবা গরুর খামার করে সাবলম্বী হতে পারে।