free hit counter
জীবনী

বিপিন রাওয়াত : বীরত্বের আরেক নাম

১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ উত্তরাখণ্ডের পৌড়ির এক গঢ়ওয়ালি রাজপুত পরিবারে জন্ম বিপিনের। তার পরিবারে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইতিহাস পুরুষানুক্রমিক। বাবা লক্ষ্মণ সিংহ রাওয়াত ছিলেন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল। সেই রীতি মেনেই সেনাবাহিনীতে যোগদান রাওয়াতের। শিমলার সেন্ট অ্যাডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যান পুনেতে। খড়কভাসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে। এরপর দেহরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে যোগ দেন সেনার ১১ গোর্খা রাইফেলস ব্যাটালিয়নে।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান। তিনি একজন সাবেক সেনাপ্রধান (চীফ অব দ্যা আর্মি স্টাফ)। ২৬তম সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি ২০১৬ এর ৩১ ডিসেম্বর জেনারেল দলবীর সিং সোহাগ এর কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব বুঝে নেন। ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবান বিপিনের স্থলে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এছাড়াও রাওয়াত ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ (DSSC), ওয়েলিংটন এবং ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ, ক্যানসাসের ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি কমান্ড অ্যান্ড জেনারেল স্টাফ কলেজে উচ্চতর কমান্ড কোর্সের স্নাতক ছিলেন। DSSC-তে থাকাকালীন, তিনি প্রতিরক্ষা স্টাডিজে এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট এবং কম্পিউটার স্টাডিজে ডিপ্লোমা করেছেন। ২০১১সালে, তিনি সামরিক-মিডিয়া কৌশলগত গবেষণার উপর গবেষণার জন্য চৌধুরী চরণ সিং ইউনিভার্সিটি, মিরাট দ্বারা ডক্টরেট অফ ফিলোসফিতে ভূষিত হন।

বিপিন রাওয়াত
পূর্ণ জীবনী

 

জন্ম মার্চ ১৯৫৮
পৌরী গাড়ওয়াল জেলা, উত্তরখণ্ড, ভারত
মৃত্যু ৮ ডিসেম্বর ২০২১ (বয়স ৬৩)
কন্নর, তামিলনাডু
আনুগত্য ভারত
সার্ভিস/শাখা ভারতীয় সেনাবাহিনী
কার্যকাল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৮ – ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯
পদমর্যাদা জেনারেল
ইউনিট
 ৫ম ব্যাটেলিয়ন, ১১ গোর্খা রাইফেলস
নেতৃত্বসমূহ সাউদার্ন কমান্ড
৩য় কোর
জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা ব্রিগেড
১৯ পদাতিক ডিভিশন (জম্মু-কাশ্মীরের উরি)
৫ম সেক্টর, রাষ্ট্রীয় রাইফেলস (সোপোর)
৫ম ব্যাটেলিয়ন, ১১ গোর্খা রাইফেলস
পুরস্কার উত্তম যুদ্ধ সেবা ম্যাডেল
অতি বিশিষ্ট সেবা ম্যাডেল
যুদ্ধ সেবা ম্যাডেল
সেনা ম্যাডেল
বিশিষ্ট সেবা ম্যাডেল

পূর্ব জীবনীএবং শিক্ষা

বিপিন ভারতের উত্তরখণ্ড প্রদেশের পৌরি গাড়ওয়াল জেলায় ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতাও তার মত সেনাবাহিনীর জেনারেল ছিলেন তবে সেনাপ্রধান ছিলেননা, তার পিতার নাম হচ্ছে লক্ষণ সিং রাওয়াত। রাওয়াত লেখাপড়া করেন ক্যামব্রিয়ান হল (দেহরাদুন), সিমলার সেন্ট এডওয়ার্ড স্কুল এবং অবশেষে ‘ভারতীয় সামরিক একাডেমী’তে, যেখান থেকে ভালো ফলাফল করে ‘সম্মানের তরবারী’ লাভ করেছিলেন। তিনি তামিলনাড়ুর ‘প্রতিরক্ষা সেবা স্টাফ কলেজ’ থেকে স্টাফ কোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট লেভেনওয়ার্থ থেকে ‘উচ্চতর আদেশ প্রশিক্ষণ’ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি তামিলনাড়ুর মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিরক্ষাবিদ্যায় এমফিল করেন।

বিপিন রাওয়াত

সেনাজীবন

বিপিন কমিশন পান ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে, তার পিতার ইউনিট ৫/১১ গোর্খা রাইফেলসে। তার সব ধরনের যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিলো এবং তিনি ১০ বছর জঙ্গীবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত থেকেছিলেন। তিনি জম্মু-কাশ্মীর-এর উরিতে একটি কম্পানির অধিনায়কত্ব, পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরের একটি পদাতিক ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক, রাষ্ট্রীয় রাইফেলসে (আধা-সামরিক বাহিনী) একজন ব্রিগেড অধিনায়ক, ১৯তম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (সাউদার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চীফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনী প্রধান হওয়ার পূর্বে তিনি ‘ভাইস চীফ অব আর্মি স্টাফ’ (উপসেনাবাহিনীপ্রধান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন যে পদে তিনি ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ছিলেন। সেনাপ্রধান হওয়ার ক্ষেত্রে তার নাম আসে তার চেয়ে দুজন ঊর্ধ্বতন জেনারেলকে টপকিয়ে, তারা হলেন প্রবীণ বকশী এবং পি এম হারিয।

প্রতিরক্ষা প্রধান হওয়ার গল্প

বিপিন রাওয়াতকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারীতে। এই পদে তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা তাঁকে কাজের ব্যাপারে রিপোর্ট করে থাকেন। তিনি সিডিএস হওয়ার আগ পর্যন্ত চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান পদেও কাজ করেছেন। ২০২১ সালের ৮ই ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরে বিপিন রাওয়াতসহ ১৪ জনকে নিয়ে উড়েছিল হেলিকপ্টার। ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। এর পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বিপিন রাওয়াত ও তার পরিবার এবং তার স্টাফ রা এই হেলিকপ্টারে ছিলেন।

প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্র থেকে কে সুব্রহ্মণ্যমকে চেয়ারম্যান করে কারগিল রিভিউ কমিটি (KRC) গঠন করা হয়। কমিটি তার রিপোর্টে একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট পেশাদার সামরিক পদ সৃষ্টি করতে সুপারিশ করে যিনি নিযুক্ত হবেন সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে এবং তার ওপর দ্বায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সামরিক ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার। তারপর সিডিএস তৈরির ব্যাপারে সবরকম আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তৎকালীন নৌবাহিনীর প্রধানকে মনোনীতও করা হয়। কিন্তু শেষ জল ঘোলা হয়ে যায়। অন্য দুই বাহিনী প্রধানগণ বেঁকে বসেন। সামরিক অফিসারদের ভেতরেও ক্ষোভ দানা বাঁধে। চেইন অব কমান্ড এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এসব কারণে সরকার সেবারের মতো সিডিএস গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

২০১৬ সালে জেনারেল শেখাওয়াতের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি করা হয়। কমিটিকে সিডিএস পদের প্রয়োজনীয়তা এবং পদ সৃষ্টির ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট পেশ করার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। শেখাওয়াতের কমিটিও সিডিএস গঠনের পক্ষে মত দেয়। সিডিএস গঠন চূড়ান্ত হয়ে গেলে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে এ ব্যাপারে ২০১৯ এর শেষের দিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি করা হয়। দোভালের ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি যাচাই বাছাইয়ের পরে চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের নাম পেশ করে। বিপিন রাওয়াত তিন বাহিনী প্রধানের ভেতর ছিলেন সবচেয়ে প্রবীণ এবং স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান। বিপিন রাওয়াত নিযুক্ত হন ভারতের প্রথম সিডিএস হিসেবে। আরেকটি নিয়ম করা হয়– সিডিএসই হবেন চিফস অব স্টাফ কমিটির স্থায়ী চেয়ারম্যান। বিপিন রাওয়াত ১৯৭৮ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সার্ভিস প্রদান শুরু করেন। ৫/১১ গোর্খা রাইফেলস থেকে উঠে আসা এ অফিসারকে সরকার ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিন বছর মেয়াদে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করে। ২০১৯ এর ২৭ সেপ্টেম্বর চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় তাকে। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে অবসর নেন এবং পরের দিন ২০২০ এর ১ জানুয়ারি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদে নিযুক্ত হন। বিপিন রাওয়াতের বাবা লেফটেন্যান্ট জেনারেল লক্ষ্মণ সিং রাওয়াতও ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা।

বিপিন রাওয়াতকে সিডিএস হিসেবে নিযুক্ত করার পরে দেশ-বিদেশ থেকে সংবর্ধনাসূচক বার্তা প্রেরণ ও প্রকাশ করা হয়। বিরোদী দল কংগ্রেস সিডিএস পদ সৃষ্টিকে শুভকর হিসেবে দেখলেও সেখানে সদ্যসাবেক সেনাপ্রধানের অধিষ্ঠানকে খুব ভালোভাবে দেখেনি। তারা এ পদে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছিল। কংগ্রেস দলীয় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং বিপিন রাওয়াত অফিসে বসার আগেই টুইটারে তাকে অভিনন্দন জানান। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট এবং ব্রিটিশ দূতাবাস থেকেও অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদটির পদমর্যাদা, বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বাহিনীর প্রধানের সমানই কিন্তু পদটিকে বিশেষায়িত করা হয়েছে ‘ফার্স্ট অ্যামং অল’ হিসেবে। অর্থাৎ, তিন বাহিনী প্রধান এবং সিডিএস কাজ করবেন এক পদমর্যাদায় কলিগ হিসেবে কিন্তু সিডিএস থাকবেন তালিকায় সবার উপরে। আমাদের দেশের সচিব এবং সিনিয়র সচিবের মতো অনেকটা!

বাহিনী প্রধানগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রের ব্যাপারে সরাসরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং কমান্ডিং ক্ষমতাও থাকবে তাদের হাতে। সিডিএস শুধু সমন্বয়ের কাজটি করবেন। সিডিএসের র‍্যাংক ব্যাজ এবং পতাকার প্রতীক বানানো হয়েছে তিন বাহিনীর প্রতীকের সমন্বয়ে। সিডিএসের ইউনিফর্ম হবে যে বাহিনী থেকে তিনি আসবেন সে বাহিনীরই ইউনিফর্ম। অর্ডার অব প্রেসিডেন্স বা পদমর্যাদার ক্রমে সিডিএস এর অবস্থান হবে ১১ এর ‘এ’ তে। ১১ নম্বরে আছে লেফটেন্যান্ট গভর্নরগণ, অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারি। আর ১২ নম্বরে

১৯৮৭ সালের চীন-ভারত সংঘর্ষ

আছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। ১১ ও ১২ এর মাঝে ১১ এর ‘এ’ তে স্থান দেওয়া হয়েছে সিডিএসকে।

১৯৮৭ সালের চীন-ভারত সংঘর্ষ

১৯৮৭সালে সুমডোরং চু উপত্যকায় মুখোমুখি হওয়ার সময়, রাওয়াতের ব্যাটালিয়নকে চীনা গণমুক্তি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছিল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পরে বিতর্কিত ম্যাকমোহন লাইন বরাবর প্রথম সামরিক সংঘর্ষ ছিল এই স্থবিরতা।

কঙ্গোতে জাতিসংঘের মিশন

MONUSCO কমান্ড করার সময়, রাওয়াতের সত্যিই একটি অসাধারণ সফর ছিল। DRC-তে মোতায়েন করার দুই সপ্তাহের মধ্যে, ব্রিগেড পূর্বে একটি বড় আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছিল যা শুধুমাত্র উত্তর কিভুর আঞ্চলিক রাজধানী, গোমাই নয়, সমগ্র দেশের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। পরিস্থিতি দ্রুত প্রতিক্রিয়ার দাবি করে এবং উত্তর কিভু ব্রিগেডকে শক্তিশালী করা হয়, যেখানে এটি৭০০০ টিরও বেশি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দায়ী, যা মোট MONUSCO বাহিনীর প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধিত্ব করে। একই সাথে CNDP এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক গতিশীল অভিযানে নিযুক্ত থাকাকালীন, রাওয়াত (তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার) কঙ্গোলিজ আর্মিকে (এফএআরডিসি) কৌশলগত সহায়তা, স্থানীয় জনগণের সাথে সংবেদনশীলকরণ কর্মসূচি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা নিশ্চিত করার জন্য বিশদ সমন্বয় সাধন করেছিলেন। এবং দুর্বল জনসংখ্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করার সময় মামলার কার্যক্রমে একসাথে কাজ করেছে। অপারেশনাল টেম্পোর এই ব্যস্ত সময়টি পুরো চার মাস স্থায়ী হয়েছিল এবং এই সময়ে রাওয়াত, তার সদর দফতর এবং তার আন্তর্জাতিক ব্রিগেড, অপারেশনাল স্পেকট্রাম জুড়ে সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। ব্রিগেড যে সাফল্য অর্জন করেছিল তার ব্যক্তিগত নেতৃত্ব, সাহস এবং অভিজ্ঞতা ছিল মুখ্য। গোমা কখনই পড়েনি, পূর্ব স্থিতিশীল হয়েছিল এবং প্রধান সশস্ত্র দল আলোচনার টেবিলে অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং তারপর থেকে এফএআরডিসিতে একীভূত হয়েছে। ১৬ মে ২০০৯ তারিখে লন্ডনের উইল্টন পার্কে একটি বিশেষ সম্মেলনে জাতিসংঘের সকল মিশনের মহাসচিব এবং ফোর্স কমান্ডারদের বিশেষ প্রতিনিধিদের কাছে শান্তি প্রয়োগের সংশোধিত সনদ উপস্থাপন করার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।

কঙ্গোতে জাতিসংঘের মিশন

২০১৫ তে মিয়ানমারে হামলা

২০১৫ সালের জুনে, মণিপুরে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ওয়েস্টার্ন সাউথ ইস্ট এশিয়া (UNLFW) এর জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় আঠারোজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী আন্তঃসীমান্ত স্ট্রাইকের সাথে প্রতিক্রিয়া জানায় যেখানে প্যারাসুট রেজিমেন্টের ২১তম ব্যাটালিয়নের ইউনিট মিয়ানমারের একটি NSCN-K ঘাঁটিতে আঘাত করেছিল। ২১ পাড়া ডিমাপুর ভিত্তিক III কর্পসের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের অধীনে ছিল, যেটি তখন রাওয়াতের নেতৃত্বে ছিল।

মিয়ানমারে হামলার ব্রিফিংয়ে বিপিন রাওয়াত

চীন সম্পর্কে মন্তব্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১-এ নতুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে সিডিএস-এর ক্ষমতার একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময়, জেনারেল রাওয়াত পশ্চিমা সভ্যতা এবং ইরানের মতো দেশগুলির সাথে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়ে ‘সভ্যতার সংঘর্ষ’ তত্ত্বকে স্পর্শ করেছিলেন। এবং তুরস্ক।

মৃত্যু

8 ডিসেম্বর, ২০২১-এ, রাওয়াত, তার স্ত্রী এবং অন্যান্যরা ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিল এমআই-১৭হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন যেটি সুলুর এয়ারফোর্স বেস থেকে ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ (DSSC), ওয়েলিংটনে যাওয়ার পথে তামিলনাড়ুর কুনুরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। যেখানে রাওয়াত একটি বক্তৃতা দেবেন। রাওয়াত এবং তার স্ত্রী এবং অন্য ১১জনের মৃত্যু পরে ভারতীয় বিমান বাহিনী নিশ্চিত করেছিল।

পুরস্কার-সম্মাননা

২৬ তম সেনাপ্রধান হিসেবে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর জেনারেল দলবীর সিং সোহাগের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক জিতে নিয়েছেন রাওয়াত। যথা— উত্তম সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল, যুদ্ধ সেবা মেডেল, সেনা মেডেল এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেল।

  • উত্তম যুদ্ধ সেবা ম্যাডেল
  • অতি বিশিষ্ট সেবা ম্যাডেল
  • যুদ্ধ সেবা ম্যাডেল
  • সেনা ম্যাডেল
  • বিশিষ্ট সেবা ম্যাডেল

মৃত্যু

বিপিন রাওয়াত ৮ ডিসেম্বর ২০২১ তামিলনাড়ু-কর্ণাটক সীমানায় নীলগিরিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান ।  মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৩ বছর ।

বিপিন রাওয়াত
Bednet steunen 2023