free hit counter
জীবনী

ড. ইনামুল হক : একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক জয়ী দেশবরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

ইনামুল হক (২৯ মে ১৯৪৩ – ১১ অক্টোবর ২০২১) ছিলেন একজন বাংলাদেশি নাট্যকার। অভিনেতা, লেখক, নাট্যকার ও শিক্ষক। তিনি দীর্ঘকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

ইনামুল হক ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওবায়দুল হক ও মাতার নাম রাজিয়া খাতুন। তিনি ফেনী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ড. ইনামুল হক
কর্মজীবন

ইনামুল হক ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরে ১৯৭০ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৭৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। ইতোমধ্যে তার ১৮টি নাটক বিভিন্ন নাট্যপত্রে, বিশেষ ম্যাগাজিনে এবং বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ইনামুল হক-এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র, স্ট্রিন্ডবার্গ এর দু’টো নাটক, মহাকালের ঘোর সওয়ার, বাংলা আমার বাংলা ইত্যাদি।

অভিনয় জীবন

নটর ডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এই দলের হয়ে তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন, তার অভিনীত প্রথম নাটকটি ছিল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’।

দেশবরেণ্য অভিনেতা ড. ইনামুল হক

তার অভিনীত কিছু মঞ্চনাটক হল ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’। তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ছিল মুস্তফা মনোয়ার পরিচালিত ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’।[৫] তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০), এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫), আয়োময় (১৯৮৮), আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১), এবং বৃহন্নলা (২০১৪)।

তিনি টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র, স্ট্রিন্ডবার্গ এর দু’টো নাটক, মহাকালের ঘোর সওয়ার, বাংলা আমার বাংলা ইত্যাদি।

ইনামুল হক-এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:

নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র, স্ট্রিন্ডবার্গ এর দু’টো নাটক, মহাকালের ঘোর সওয়ার, বাংলা আমার বাংলা ইত্যাদি। একুশের বই মেলায় তার ‘নাট্য ত্রয়ী’ শিরোনামের একটি নাটকের বই প্রকাশিত হয়েছিল।

পারিবারিক জীবন

ড. ইনামুল হকের দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)।

পুরস্কার ও সম্মাননা

একুশে পদক (২০১২)
টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (২০১২)
স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭)

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক জয়ী ড. ইনামুল হক
মৃত্যু

ইনামুল হক ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর বিকেল চারটায় তাঁর বেইলী রোডের বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

সূত্র : বিজ্ঞাপন ব্লগস্পট, উইকিপিডিয়া