free hit counter
কনফুসিয়াস : প্রাচীন চীনের একজন মানবতাবাদী দার্শনিক ও চিন্তাবিদ
জীবনী

কনফুসিয়াস : প্রাচীন চীনের একজন মানবতাবাদী দার্শনিক ও চিন্তাবিদ

কনফুসিয়াস হলেন প্রাচীন চীনের একজন মহান দার্শনিক। তার প্রকৃত নাম খুন ছিউ। কনফুসিয়াস হলো তাঁর সম্মানসূচক নাম। বর্তমানে তিনি এই সম্মানসূচক নামেই সর্বাধিক পরিচিত। চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং চীনা সভ্যতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন যে ব্যক্তি, চীনের অধিকাংশ মানুষ আজো যার দর্শন ও মতবাদকে এখনো জীবনের পথচলার প্রধান অঙ্গ হিসেবে মেনে চলেন তিনি হচ্ছেন মানবতাবাদী দার্শনিক কনফুসিয়াস। কনফুসিয়াস একাধারে ছিলেন একজন প্রভাবশালী চীনা দার্শনিক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

তিনি ছিলেন কনফুসিয়ান তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় ২,৫০০ বছর আগে প্রচারিত হয়েছেল তার এই তাত্ত্বিক মতবাদ। কিন্তু তা আজো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রাচীন এই দর্শনকে আবহমান চীনের সভ্যতা-সংস্কৃতির মূল নিয়ামক বলে মনে করেন অনেক ঐতিহাসিক। অনেকে আবার এই মতবাদকে নতুন এক ধর্মের প্রবর্তন হিসেবে ভাবতে চাইলেও বেশিরভাগ পন্ডিতই তার এই মতবাদকে দার্শনিক চিন্তাধারার ধারক ও বাহক হিসেবে মানেন।

কনফুসিয়াস
ছবি: roar.media

চীনাদের চিন্তাধারা ও তাদের সামাজিক আচার-আচরণেও এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। চীনের মানুষ এখনও নিজেদের সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন তার আদর্শ ও শিক্ষা। তার এই মতবাদ শুধু চীনা রাজনীতি বা সাংস্কৃতির গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আশেপাশের অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর মধ্যেও কনফুসিয়াসের দার্শনিক তত্ত্বের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল।

কনফুসিয়াসের জন্মগ্রহণ ও শৈশব :

কনফুসিয়াস জন্মেছিলেন আনুমানিক ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। তার বাবার নাম কং হি ও মায়ের নাম হান ঝেঙ। কনফুসিয়াস নামে পরবর্তীকালে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ছিল কঙ ফু তজু। লু নামে একটি ছোট প্রদেশের সরকারী কর্মচারী ছিলেন তার বাবা। তার শৈশব সম্পর্কে খুব একটা জানা যায় যায় না। তবে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় যে, তার শৈশবকাল কেটেছে অপরিসীম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। সেসময় চীন অনেকগুলো ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ফলে এক রাজ্যের সাথে অন্য রাজ্যের যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকতো।

কনফুসিয়াসের জন্মগ্রহণ ও শৈশব
ছবি: roar.media

এসব জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে সহায় সম্পত্তি হারাতে হয়েছিল কনফুসিয়াসের পরিবারকে। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান কনফুসিয়াস। শোনা যায়, স্কুলে যাবার বয়স হতেই কনফুসিয়াসের মা ছেলেকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিছুদিনের মধ্যেই কনফুসিয়াস শিক্ষক-ছাত্র সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। অসাধারণ মেধা এবং জ্ঞান অর্জনে তার প্রবল আগ্রহের কারণে তার সমসাময়িক ছাত্রদের থেকে তিনি ছিলেন অনেক এগিয়ে। স্কুলের পাঠ্য পুস্তকের বাইরে নানা বিষয়ে ছিল তার অগাধ জ্ঞান। পাশাপাশি ধর্ম-দর্শনে তার পান্ডিত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

কনফুসিয়াসের কর্মজীবন :

কৈশোর পেরোতে-না-পেরোতেই জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে হয় তাকে। কখনো মেষপালক হিসেবে কাজ করেছেন পশু খামারে, কখনো কেরানিগিরি বা লাইব্রেরির চাকরি, আবার কখনো বা শহরের উদ্যানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনার দায়িত্বের কাজও করেছেন নিষ্ঠাভরে। কিন্তু পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলেননি কখনোই। অল্প বয়স থেকেই ছাত্রদের পড়াতে শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে বিবাহ হয় কনফুসিয়াসের। ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেন কিগুয়ান নামের এক নারীকে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান কঙ লি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কনফুসিয়াস মাতৃহারা হন।

রাজদরবারে চাকরির সুযোগ :

সেই সময় চীনের সমাজ ব্যবস্থায় জনগণের অবস্থান অনুযায়ী তাদের পেশার শ্রেণীবিন্যাস করা হতো। কনফুসিয়াসের সামাজিক অবস্থান এবং জ্ঞানের কারণে তিনি ছিলেন শী শ্রেণীভুক্ত, যারা ভদ্র-মধ্যবিত্ত-বিদ্বান হিসেবে সমাজের সম্ভ্রান্ত ও শাসক শ্রেণীর সাথে মেলামেশার সুযোগ পেতেন। এই সময় লু প্রদেশের শাসক ছিলেন চি চি। কসফুশিয়াসের জ্ঞান ও পান্ডিত্যের কথা জানতে পেরে রাজা কনফুসিয়াসকে তার সভায় আমন্ত্রন জানান। প্রথম পরিচয়েই কনফুসিয়াসের পান্ডিত্যে মুগ্ধ হন রাজা। দারিদ্রের কথা শুনে তিনি কনফুসিয়াসকে হিসাবরক্ষকের কাজে নিযুক্ত করলেন। কনফুসিয়াসের কর্মদক্ষতায় খুশি হয়ে রাজা তাকে আরো উচ্চতর পদে অধিষ্ঠিত করেন।

কনফুসিয়াস একজন জ্ঞানের আলোকবর্তিকা :

কনফুসিয়াস আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী না হলেও তার দৈহিক অপূর্ণতা তিনি তার মধুর ব্যবহার আর তার জ্ঞানের আলোকবর্তিকায় মুগ্ধ করেছেন তার কাছে আসা মানুষদের। আর উৎসুক মানুষও নিজেকে জ্ঞানের প্রদীপ্ত শিখায় আলোকিত করার জন্য তার কাছে আসতো শিষ্যত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে। কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন, নীতিজ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষা দান করতে পারলে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকে সবচেয়ে বেশি।

কনফুসিয়াস একজন জ্ঞানের আলোকবর্তিকা
ছবি: news.cgtn.com

তিনি তার ছাত্রছাত্রীদের ছয়টি বিদ্যার ওপর জোর দিতেন। ধনুর্বিদ্যা, হস্তলিপি, হিসাববিদ্যা, সঙ্গীত, রথ চালনা এবং সমাজের রীতিনীতি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে, আচার্য হিসেবে তার খ্যাতি ক্রমশ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রথমদিকে সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা তার কাছে শিক্ষা নিতে আসলেও পরে অভিজাত ঘরের ছেলেমেয়েরাও জ্ঞান লাভের জন্য কনফুসিয়াসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে। ধীরে ধীরে কনফুসিয়াস আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠতে লাগলেন। ঐ সময় ধীরে ধীরে অভিজাত শ্রেণীতে তিনি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। তার প্রভাব আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।

জ্ঞানের তৃষ্ণায় নিরন্তর ছুটে চলা:

এর মাঝেও কনফুসিয়াসের জ্ঞান অর্জনে কোনো খামতি ছিল না। প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তেন। যেখানেই দুষ্প্রাপ্য কোনো পুঁথির সন্ধান পেতেন, তা সংগ্রহের জন্য ছুটে যেতেন। সেসব পুঁথি শুধু সংগ্রহই করতেন না, গভীর আগ্রহে নিয়ে খুব মনযোগ সহকারে সেই পুঁথিগুলো পড়তেন এবং তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন।

কনফুসিয়াস জ্ঞানের তৃষ্ণায় নিরন্তর ছুটে চলা
ছবি: wikimedia.org

কনফুসিয়াসের যখর ত্রিশ বছর বয়স, তিনি উপলব্ধি করলেন প্রকৃত জ্ঞান অর্জন কেবল গ্রন্থ বা পুঁথিতে সীমাবদ্ধ হতে পারে না, বরং চারপাশের জগতেই ছড়িয়ে রয়েছে জ্ঞান অর্জনের সমস্ত উপকরণ। আর সেই জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি বেরিয়ে পড়লেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, শহরের অলিতে গলিতে।

সামাজিক চেতনাবোধের অভ্যুদয়:

এই ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়েই তিনি চীনের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে শুরু করেন। তখনকার দিনে অর্থনীতির কেন্দ্রে ছিলেন শাসক শ্রেণী ও বণিক সম্প্রদায়। দরিদ্রদের নানাভাবে ঠকিয়ে দেওয়ায় ছিল তাদের কাজ। দেশের আইন-কানুনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন না তারা। সারাদেশ জুড়ে কেবল অভাব-অনটন, রাজা এবং রাজ পুরুষদের নৈতিক অধঃপতন, দেশে-দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহের দামামা বেজেই চলেছে, কোথাও কোনো শান্তি-শৃঙ্খলার লেশমাত্র নেই। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে কনফুসিয়াস শুরু করলেন তার জেহাদ। কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন কোনো আইন বা দন্ডের দ্বারা সামাজিক এই বিশৃঙ্খলাকে দমন করা যাবে না। আইন যতই কঠিন হবে, ততই মানুষের আইন অমান্য করার স্পৃহা তীব্র হবে। একমাত্র মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। আর এই বিবেকবোধ ও নীতিবোধ মানুষের মাঝে জাগ্রত করতে হবে। ঘটাতে হবে ধর্মীয় চেতনাবোধের অভ্যুদয়। তার এই চেতনাবোধ তিনি ছড়িয়ে দিতে লাগলেন তার একান্ত ছাত্রদের মধ্যে। আর ছাত্রদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়তে লাগলো বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে।

রাজনীতিতে কনফুসিয়াসের ভূমিকা :

কনফুসিয়াসের রাজনৈতিক বিশ্বাসগুলিও একইভাবে আত্ম-শৃঙ্খলার ধারণার ভিত্তিতে ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে একজন নেতাকে নম্র থাকতে এবং তাঁর অনুগামীদের সহানুভূতি সহকারে আচরণ করার জন্য স্ব-শৃঙ্খলা অনুশীলন করা দরকার। এটি করার ক্ষেত্রে নেতারা ইতিবাচক উদাহরণ দিয়ে নেতৃত্ব দিতেন। কনফুসিয়াসের মতে, নেতারা তাদের বিষয়গুলিকে পুণ্য এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির একীকরণ শক্তি শিখিয়ে আইন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।

আইন প্রশাসক হিসেবে কনফুসিয়াসের ভূমিকা :

৫২ বছর বয়সে লু প্রদেশের প্রধান আইনরক্ষকের দায়িত্ব পান কনফুসিয়াস। কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন, মানুষের মাঝে যদি নৈতিক চরিত্রের উন্নতি না ঘটে, শুধুমাত্র আইন দিয়ে মানুষকে সংযত রাখা সম্ভব নয়। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সম্ভব নয়। তাই কনফুসিয়াস নিজেই আইন প্রণয়ন কর্মকর্তা ‍ও কর্মচারীদের মাঝে নীতিবোধ জাগাতে নানা উপদেশ দিতে থাকেন।

আইন প্রশাসক হিসেবে কনফুসিয়াসের ভূমিকা
ছবি: itibritto.com

“অপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে বিচারকরা যেন মানবিকতার কথা না ভোলেন কখনও,” বিচারবিভাগীয় কর্মচারীদের প্রতি এই ছিল তার প্রধান উপদেশ। “উদার ও ন্যায়পরায়ণ না হলে বিচারক হওয়া যায় না, মানুষকে ভাল না বাসলে তুমি তাকে সংশোধন করবে কী করে”, বলতেন তিনি।

অল্প কিছুদিনেই এর সুফল দেখা দিল রাজ্যে। সমগ্র চীন দেশেই লু রাজ্য ছিল একমাত্র রাজ্য যেখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন হতো না। সকলেই নির্ভয়ে, নিরাপদে নিজের দ্রব্য রাখতে পারতো। গভীর রাতেও পর্যটকরা নিরাপদে চলতে পারতো। আইনরক্ষকের দায়িত্ব এত ভালভাবে সম্পাদন করার পুরষ্কার হিসেবে কয়েক বছরের মধ্যেই তাকে ভার দেওয়া হয় লু প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীত্বের।

কনফুসিয়াসের পর্যটক জীবন:

মহাজনদের হাত থেকে দরিদ্র প্রজাদের বাঁচাতে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেঁধে দেন তিনি। এতে বেজায় চটে যান লু প্রদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, শেষপর্যন্ত তাদেরই বিরোধীতায় তাকে ছাড়তে হয় প্রধানমন্ত্রীত্বের পদ। তারপর থেকেই কনফুসিয়াসের শুরু হয় পর্যটকের জীবন।

কনফুসিয়াসের পর্যটক জীবন
ছবি: wikimedia.org

উত্তর চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে-ঘুরে মানুষের দুর্দশা দেখে বুঝতে পারেন যে, দেশবাসীর এই দুঃখ-দুর্শার মূলে রয়েছে দেশ শাসনের ব্যর্থতা। যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটানোর মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনার ব্যাপারে তিনি কাজ করে যেতে লাগলেন। জনসাধরণের মাঝে তিনি ছড়িয়ে দিতে থাকেন তার উপদেশ, এ কাজে তাকে সহায়তা করেন তার কয়েকজন ছাত্র ও অনুগামী।

মানবতার প্রতিভূ কনফুসিয়াস :

ছেলেবেলা থেকেই কনফুসিয়াস ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল, মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় কেঁদে উঠতো তার মন। আর তাই তিনি সবসময় বলতেন, “জীবন দিয়ে মানুষকে অর্জন করতে হবে সততা ও সারল্য, তাছাড়া ঈশ্বরের কাছে পৌঁছবার অন্য কোনো পথ নেই।” এই ছিল কনফুসিয়াসের শিক্ষার মূল কথা। ধর্মগুরু বলতে সাধারণত যা বোঝায়, কনফুসিয়াস আদৌ তা ছিলেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে যে উপদেশগুলো তিনি দিতেন তারই মধ্যে নিহিত থাকতো সমস্ত ধর্মের মূল কথা। মানুষকে ভালবাসো, মানুষকে বিশ্বাস করো, অসৎ হয়ো না, হিংসা করো না কাউকে, এই শিক্ষা কি আমাদের দেয় না পৃথিবীর সব ধর্মই?

কনফুসিয়াসের মূল্যবোধ :

তৎকালীন প্রাচীন চীনে পড়াশুনার সুযোগ পেতো শুধু অভিজাত পরিবারের সন্তানেরা। স্বশিক্ষিত কনফুসিয়াস এই প্রথা ভেঙে দেন। তিনি সমাজের সকল শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে শিক্ষাদান শুরু করেছিলেন। এক্ষেত্রে যে কোনো লোক শিক্ষার ফি হিসেবে অল্প কিছু খাবার বা অন্য দ্রব্য জমা দিলেই কনফুসিয়াসের ছাত্র হতে পারতেন। কনফুসিয়াস নিজের ছাত্রদের ভিতরে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ ও নৈতিক চিন্তাধারা প্রচার করেন। এবং তিনি এত গভীর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা দান করতেন যে, তিনি প্রায় তিন হাজার উল্লেখযোগ্য জ্ঞানী ব্যক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। “কনফুসিয়াস একজন বিদ্বান ব্যক্তি। তাঁর জীবদ্দশায় চীনের একীভূত রাজ্যগুলো ভেঙ্গে অনেক ছোট ছোট রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এই ভাঙনের ফলে তিনি তখনকার ‘লু’ রাজ্যের নাগরিক ছিলেন। উল্লেখ্য সেই আমলে লু রাজ্যের সংস্কৃতি সবচেয়ে সমৃদ্ধতর ছিল। কনফুসিয়াস লু রাজ্যের সে ঐতিহ্যকে একটি উচ্চতর স্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন” (ইন্টারনেট)

কনফুসিয়াস ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষ, নীতিবাদী ও মানবতাবাদী দার্শনিক। ব্যক্তি, সমাজ ও রাস্ট্রের কল্যাণ সাধনই ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র। তিনি তার পূর্ববর্তীদের নীতিশাস্ত্র অধ্যায়ন করে সেগুলির ভিত্তিতে নিজস্ব দর্শন প্রচার করে গেছেন। প্রাচীন কালে যখন মানুষ নানারকম দেব-দেবীর মহাত্ম্য আলোচনায় মুখর থাকত, অতিপ্রাকৃত নানা শক্তির বন্দনায় আনন্দ পেত, তখন তিনি মানুষের মহত্ব প্রচার করেন। সব ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কনফুসিয়াস পরিবারকেই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন পরিবারই নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক কেন্দ্র। পরিবারই সমাজ তথা রাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধন। সকলেই যদি তাদের নিজস্ব দায়িত্ব আর অপরের প্রতি করণীয়গুলো যথাযথভাবে পালন করে তবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখশান্তি নিশ্চিত হতে পারে।

কনফুসিয়াসের মূল্যবোধ
ছবি: roar.media

কনফুসিয়াস মতবাদে অসহিষ্ণুতার কোন স্থান নেই। এতে অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদকে আক্রমণ করা হয়নি। তার রাষ্ট্রীয় দর্শন অতি উদার। তার মতে রাষ্ট্র হলো একটি বিরাট পরিবার মাত্র। রাজাকে হতে হবে নীতিবান। তিনি কোন ক্রমেই ইশ্বরের প্রতিনিধি নন বরং তিনি জনগনের প্রতিনিধি। কনফুসিয়াস সেনাবাহিনীকে কম গুরুত্ব দিতেন। তার মতে, সেনাবাহিনী থাকবে বেসামরিক আমলাতন্ত্রের অধীনে। নারী-পুরুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন রক্ষনশীল মনোভাবের। তার মতে, পুরুষরা কাজ করবে বাইরে আর স্ত্রীর দায়িত্ব গৃহে।

কনফুসিয়াস পরলোকে বিশ্বাসী ছিলেন না। মৃত্যুপরবর্তী জীবনের চাইতে ইহজগতের ভাল-মন্দই ছিল তার বিচার্যা। মানুষের ভাগ্য কেন ইশ্বর গড়ে দিবেন এটা তিনি বিশ্বাস করতেন না। মানুষকে তার নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়তে হবে-এটাই ছিল তার মতাদর্শ। প্রচলিত অর্থে কনফুসিয়াস কোন ধর্ম প্রচারক ছিলেন না। তিনি সে দাবীও কখনওকরেননি। প্রচলিত কনফুসিয়াসবাদ তাই একটি দর্শন মাত্র। কনফুসিয়াসবাদের দর্শন আছে, শিক্ষাগ্রন্থ আছে, তবে কোন ধর্মগ্রন্থ নেই। তবে তার শিক্ষাতেও প্রার্থনার ব্যবস্থা ছিল। প্রাচীন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে তিনি বর্জন করেন নি। অমরত্বের যেই ধারণা কনফুসিয়াসবাদে প্রচলিত, তাও একধরনের মানবতাবাদ- “মৃত্যুর পর শেষ পর্যন্ত মানুষের সদগুণ আর সতকর্মই টিকে থাকে।” চীনে পরবর্তীকালে তাওবাদ, জৈন ও বৌদ্ধধর্মের প্রসারে কনফুসিয়াস মতবাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। কারন কনফুসিয়াসের শিক্ষার মাধ্যমে মতবাদগুলিতে প্রচারিত বিষয়ের সাথে চীনের মানুষ আগে থেকেই পরিচিত ছিল ।

কনফুসিয়াস দর্শনে চৈনিক সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রথাগত বিভিন্ন আয়োজনের প্রায় পুরোটা জুড়েই ছিল ধর্মের বিশেষ প্রভাব। সেসব অনুষ্ঠানে মানুষ সামাজিক রীতিনীতি পালনের মাধ্যমেই তাদের উর্ধ্বতনের প্রতি একধরনের আনুগত্য প্রকাশ করতো এবং একই সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবদান প্রকাশ করতো তাদের অধস্তনের প্রতি।
কিন্তু কনফুসিয়াসের নৈতিক দর্শনের কোনোকিছুই ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত না হলেও তার লেখাগুলোর অধিকাংশই ছিল বিভিন্ন আদব-কায়দা এবং শিষ্টাচারের উপদেশে পরিপূর্ণ। তিনি সর্বদা মানুষকে এ সকল সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি উৎসাহিত করতেন। কারণ তিনি দেখতেন একমাত্র এসব আচার-অনুষ্ঠানে মানুষ প্রকৃতপক্ষেই সততা এবং নিষ্ঠার সাথে যার যার দায়িত্ব পালন করাকে। তৎকালীন চীনে অপরাধের শাস্তি দেয়া হতো ধর্মীয় বিধান অনুসারে। কিন্তু কনফুসিয়াস এ ব্যাপারে আরও উদার চিন্তা-ভাবনা করতেন। তিনি বলেন, “যা তুমি অন্যের কাছ থেকে আশা করো না, তা তুমি অন্যের সাথে করো না”।

তিনি মনে করতেন আইনের শাসন দিয়ে মানুষকে শৃঙ্খলিত করা যায় না। কারণ আইন যত কঠোর, মানুষের তা ভঙ্গ করবার ইচ্ছা আরও বেশি প্রবল। অনেক ক্ষেত্রে হয়ত মানুষ আইনের দ্বারা ভীত হয়ে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু এতে করে তার আত্মার উন্নয়ন ঘটবে না। কিন্তু মানুষ যখন ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পেরে আত্মার উন্নয়ন ঘটাবে, তখন মানুষ নিজে থেকেই অপরাধের পথ ছেড়ে দিয়ে নৈতিক জীবনযাপন করতে শুরু করবে।
কনফুসিয়াস জীবিত অবস্থায় চীনের অধিকাংশ রাজ্য তার রাজনৈতিক দর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কেননা এতে সে সময়কার চৈনিক অভিজাত পরিবারগুলো তাদের ক্ষমতা রক্ষা নিয়ে ব্যাপক শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল কনফুসিয়াসের নৈতিক দর্শন সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে তাদের শোষণের সুযোগ কমে যাবে।

কনফুসিয়াসের স্মরণীয় ১০ টি উক্তি :

১। ভুল করায় লজ্জিত হয়ে তাকে অপরাধে রূপান্তরিত করো না।
২। প্ৰতিশোধের পথে যাওয়ার আগে দুটি কবর খুঁড়ে রেখে – একটি নিজের জন্য, অপরটি শত্রুর জন্য।
৩। আমি শুনি এবং ভুলে যাই, আমি দেখি এবং স্মরণ করি, আমি করি এবং বুঝি।
৪। নিজেকে শ্রদ্ধা কর, তাহলে অন্যেরাও তোমাকে শ্রদ্ধা করবে।
৫। যে কোনো পরিস্থিতিতে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের চর্চা করলে নিখুঁত সদগুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এগুলো হলো- গাম্ভীর্য, আত্মার উদারতা, আন্তরিকতা, ঐকান্তিকতা ও দয়া।
৬। যা সঠিক তা দেখেও কিছু না করা হলো সাহস বা নীতির অভাব।
৭। আঘাতকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রতিদান দাও, আর দয়ার প্রতিদান দাও দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে ।
৮। গুণী মানুষের প্রথম অগ্ৰাধিকার হলো বাধা আসলে তা অতিক্রম করা; সাফল্যের বিবেচনা পরে,
৯। তিনিই একজন পরিপূর্ণ মানুষ যিনি লাভের ক্ষেত্রে ন্যায্যতার কথা বিবেচনা করেন, বিপদে নিজের জীবন
বিসর্জন দিতে প্ৰস্তুত থাকেন এবং যতো পুরোনোই হোক অতীত সমঝোতার কথা ভুলে যান না।
১০। উত্তম মানবকে ক্ষুদ্র বিষয় দিয়ে বিচার করা যাবে না, কিন্তু বড় বিষয়ের দায়িত্ব দিয়ে তার উপর নির্ভর করা
যাবে। ক্ষুদ্র মানবকে বড় বিষয়ের দায়িত্ব দিয়ে বিশ্বাস করা যাবে না, কিন্তু ক্ষুদ্র বিষয়ের মাধ্যমে তাকে চেনা যাবে।

কনফুসিয়াসের মৃত্যু :

খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭৯ (মতান্তরে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭৮) অব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কনফুসিয়াস মন্দির :

তাঁর মৃত্যর প্রায় দুই বছর পর লু রাজ্যের রাজা কনফুসিয়াসের বসতবাড়ীটিকে একটি মন্দিরে পরিণত করেন। এর ভিতরে কনফুসিয়াসের কাপড়-চোপড় আর অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা হয়। স্থানীয় লোকের কনফুসিয়াসকে দেবতা জ্ঞানে পূজা শুরু করে। ফলে কালক্রমে এই বাড়িটা কনফুসিয়াস মন্দিরে পরিণত হয়। এবং প্রতি বছর দূর দূরান্ত থেকে এই মন্দিরে বহু লোক কনফুসিয়াসকে পূজা করার জন্য আসতেন।

ছিন রাজবংশের রাজা রনসেন কর্তৃক নির্মিত মন্দির :

প্রথম দিকে এই মন্দিরটিতে মাত্র তিনটি ঘর ছিল। পরে কনফুসিয়াসের প্রতিষ্ঠিত লু দলের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে চীনের ঐতিহ্যিক সংস্কৃতিতে পরিণত হলে, বিভিন্ন আমলের রাজারা এই মন্দিরকে সম্প্রসারিত করেন। যার ফলে কনফুসিয়াসের ভবন একটি বিরাটাকারের স্থাপত্যের সংগ্রহশালায় পরিণত হয়। আঠার শো শতাব্দীর প্রথম দিকে ছিন রাজবংশের রাজা রনসেন কনফুসিয়াসের ভবনে বড় ধরনের সংস্কার করেন। এর ফলে এটি একটি নান্দনিক রূপ পায়। বর্তমান এই ভবনের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজারাধিক মিটার। এর আয়তন প্রায় এক লক্ষ বর্গমিটার। ভবনটিতে রয়েছে প্রায় ৫০০টি ঘর।

কনফুসি্য়াস মন্দির
ছবি: justgola.com

চীনের সামন্ত সমাজের সবোর্চ্চ স্থাপত্যের শৈলী অর্থাৎ রাজকীয় প্রাসাদের স্থাপত্যের শৈলী অনুসরণ করে কনফুসিয়াসের মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মন্দিরের ভিতরে নয়টি পূজার ঘর, আর নয়টি উদ্যান আছে। প্রধান পূজার ঘরের ভিতরে আবার নয়টি ছোট ঘর আছে। উল্লেখ্য নয় নম্বর ঘরটি হলো একক অঙ্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্ক। এই কারণে চীনের সামন্ত সমাজে নয় অঙ্ককে রাজার অঙ্ক বলা হতো। ভুল বা ইচ্ছা করে সাধারণ মানুষদের কেউ যদি নয় অঙ্ক ব্যবহার করতো, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো। তবে কনফুসিয়াসের মন্দিরের ব্যতিক্রম ছিল। কনফুসিয়াসের মন্দিরের প্রধান পূজার কক্ষের সামনে পাঁচটি দরজা নিমির্ত হয়। সামন্ত সমাজের নিয়ম অনুযায়ী, কেবল রাজকীয় প্রাসাদের স্থাপত্যে পাঁচটি দরজা নির্মাণ করা যেতো। কনফুসিয়াসের মন্দিরের কেন্দ্র স্থাপত্য ডাজেন হলের উচ্চতা ৩০ মিটার। পূর্ব-পশ্চিম বরাবর এর প্রস্থ প্রায় পঞ্চাশ মিটার। ভবনের ছাদ চকচকে সোনালি টালি ব্যবহার করা হয়েছে। দেখতে পেইচিংএর রাজকীয় প্রাসাদের তেইহো ভবনের মত মনে হয়। উল্লেখ্য এই ভবনটিকে চীনের তিনটি বড় প্রাচীন প্রাসাদগুলোর মধ্য অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। ডাজেন হলের্ সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো- হলের সামনের দশটি ড্রাগন-বেষ্টিত একটি পাথরের স্তম্ভ। এ স্তম্ভটির উচ্চতা ৬ মিটার। প্রায় এক মিটার ব্যাস পাথর দিয়ে এই স্তম্ভ তৈরি এবং সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম খোদাই করা হয়েছে। এই মন্দিরে প্রায় দু’হাজার চীনের বিভিন্ন রাজবংশ আমলের পাথর ফলক রয়েছে যাদের মধ্যে ৫০টিরও বেশি পাথর ফলকে রাজার অভিলেখন থাকে। এ থেকে বুঝা যায়, চীনের সামন্ত সমাজে কনফুসিয়াসের মযার্দা খুব বেশী।

কনফুসিয়াস প্রাসাদ :

কনফুসিয়াসের মন্দিরের কাছেই রয়েছে কনফুসিয়াস প্রাসাদ। সন আর সোং আর কিন রাজবংশ আমলে (খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ –ত্রয়োদশ শতাব্দী) নিমির্ত হয়। এটা হল চীনের সামন্তকালের অভিজাত শ্রেণির বসতবাড়ির মতো করে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আয়তন প্রায় ৫০হাজার বর্গমিটার। এই প্রাসাদে বিভিন্ন ধরনের ঘর প্রায় ৫শো কক্ষ আছে। প্রাসাদের সামনের অংশ অফিসের কাজে ব্যবহৃত হয়। আর পিছনের অংশ রয়েছে বসবাসের উপযোগী ঘর। প্রধান হলের স্থাপত্যে মিন আর ছিন রাজবংশ আমলের শৈলী দেখা যায়। এই প্রাসাদে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিলপত্র, বিভিন্ন আমলের কাপড়চোপড় , আসবাবপত্র ইত্যাদি। এখানে কনফুসিয়াসের বংশধররা বসবাস করেন।

কনফুসিয়াস সমাধিস্থান :

এর পাশেই রয়েছে কনফুসিয়াসের সমাধিস্থান। এখানে কনফুসিয়াস এবং তাঁর বংশধরদের সমাধি রয়েছে। বতর্মানে এটা হল পৃথিবীতে সবচেয়ে সুদীর্ঘকাল আর সবচেয়ে ব্ড় আকারের পরিবারিক সমাধিস্থান। প্রায় ২৫০০ বছর ধরে এই সমাধিস্থান ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় দুই বগর্কিলোমিটার জায়গায় মোট এক লক্ষটি কনফুসিয়াসের বংশধরের সমাধি আছে।

কনফুসিয়াস  সমাধিস্থান
ছবি: roar.media

কনফুসিয়াসের মন্দির, কনফুসিয়াসের সমাধিস্থান এবং কনফুসিয়াসের প্রাসাদ জুড়ে রয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি প্রাচীন গাছ। ১৯৯৪ সালে ‘কনফুসিয়াসের মন্দির, কনফুসিয়াসের সমাধিস্থান আর কনফুসিয়াসের প্রাসাদ ইউনেস্কোর বিশ্ব সংস্কৃতি উত্তরাধিকার তালিকাভূক্ত করা হয়।

সূত্র: বিবিসি, রোয়ার মিডিয়া , অনুশীলন