Image default
বাংলাদেশ

৭ জানুয়ারি আমাদের বাঁচা-মরার নির্বাচন: কাজী নাবিল

নির্বাচনি পথসভায় যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন (৭ জানুয়ারি) হচ্ছে আমাদের বাঁচা-মরার নির্বাচন। বাংলাদেশ কি বাংলাদেশ থাকবে, নাকি আবারও পাকিস্তান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কি অগ্রগতির পথে যাবে, নাকি আবার পেছনের দিকে যাবে। সে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সারা বাংলার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে এই নির্বাচনে।’

রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চাঁচড়া কাঁচাবাজারে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনকে সারা পৃথিবীর কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত যখন তাদের চক্রান্তে সফল হচ্ছে না, তখন তারা বারবার বিদেশে ছুটে যাচ্ছে। একের পর এক তারা চিঠি আনার চেষ্টা করছে। একের পর এক স্যাংশন আনার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের মানুষকে কীভাবে ক্ষতি করা যায় সেই কাজ তারা করে যাচ্ছে। আমাদের দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোকও তাদের মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করছে।’

বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসন আমলের ফিরিস্তি তুলে ধরে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘সেই সময় বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। তাদের শাসনকাল ছিল সিরিজ বোমার বাংলাদেশ, বাংলা ভাইয়ের বাংলাদেশ, গ্রেনেড হামলার বাংলাদেশ। সেই সময় বিচারক হত্যা হয়েছে, দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তারা স্লোগান দিতো, আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান। তারা দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি ঘটায়। সেই ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে, সেই অন্ধকারের কূপ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এনেছেন উন্নয়নের পথে, অগ্রগতির পথে, সমৃদ্ধির পথে। তিনি শুধু শহর না, গ্রামীণ পর্যায়েও দরিদ্র মানুষের জন্যে বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন। সে কারণে তিনি প্রায় ১৩০ প্রকার সামাজিক নিরাপত্তার জন্যে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন, জাতির জনকের হত্যার বিচার করেছেন। সে কারণে দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্ত ক্রিয়াশীল রয়েছে। কিন্তু সেই সব চক্রান্ত ছিন্ন করে, অনেক চড়াই –উতরাই পার করে এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। গত তিন বছরে কোভিড মোকাবিলা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সারা বিশ্বের টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনেক ভালো রেখেছেন। সংকট মোকাবিলায় টিসিবির মতো ব্যবস্থাও চালু করেছেন।’ তিনি আগামী নির্বাচনে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলকে একযোগে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এই সময়কালে যশোরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে কাজী নাবিল বলেন, ‘গত ১০ বছর আমি আপনাদের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ-স্বজন। এখানে এখনও কিছু রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। আপনাদের দোয়া ও আশীর্বাদ থাকলে আগামী মেয়াদে সেই সব কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করছি।’

পথসভায় এই প্রথম উপস্থিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। তার আগমনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। নেতৃবৃন্দ সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ফুলেল নৌকা দিয়ে বরণ করে নেন।

বক্তৃতাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘৭০ সালে নৌকায় ভোট দিয়েছি, এ যাবৎ দিয়ে আসছি। ৫৩ বছর পর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নৌকার বিপক্ষে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সঠিক আওয়ামী লীগাররা কখনোই নৌকা ব্যতীত অন্য কোনও প্রতীকে ভোট দিতে পারে না।’

কাজী নাবিল আহমেদকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজী নাবিল জিতলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হবে। তিনি ফেল করলে আন্তর্জাতিকভাবে দেখানো হবে যশোরের মানুষ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং আমরা চাই, যশোরের ছয়টি আসনে প্রধানমন্ত্রী যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হচ্ছেন। আমরা কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের জেতাতে চাই।’

প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন যশোর-৩ ও যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় ফরম সংগ্রহ করেন। কিন্তু এই দুটি আসনের কোথাও থেকে তার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি যশোর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে চেয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি আর এগোননি। দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পরও তিনি কিছুদিন নিশ্চুপ ছিলেন। আজ বিকালে তিনি কাজী নাবিল নাবিল আহমেদের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দিয়ে তার নীরবতা ভাঙলেন।

পথসভায় উপস্থিত ভোটারদের একাংশ

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, শহর আওয়ামী রীগের নেতা ফিরোজ খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক লুৎ-ফুল কবীর বিজু, শ্রমিক লীগের শ্রমিক কল্যাণ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হাজী সেলিম রেজা পান্নু, চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মাহপুজুর রহমান প্রমুখ।

পথসভা শেষে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলনসহ নেতৃবৃন্দ চাঁচড়া বাজার এলাকার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

বিকালের পথসভার আগে বেলা ১২টার দিকে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ যশোর জেলা ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কখনোই সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেননি। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়কালে দেশে কখনোই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনও ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে, ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সকলের।’ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে তিনি আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

Source link

Related posts

বেগমগঞ্জে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই

News Desk

৩০ হাজার মানুষের ভরসা একটিমাত্র বাঁশের সাঁকো

News Desk

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে দিন কাটলো নগরবাসীর

News Desk

Leave a Comment